6 সপ্তাহের সময়টা অনেক নতুন বাবা-মায়ের জন্য একটু ধাক্কা দেয়ার মতো হয়। শিশুটি এখনও একদম ছোট, কিন্তু হঠাৎ করে মনে হয় ও যেন কিছুটা বেশি জেগে থাকে, বেশি সচেতন, একটু যেন… মানুষ হয়ে উঠছে। এই সময় থেকে সাধারণত কিছু স্পষ্ট শিশুর মাইলস্টোন চোখে পড়তে শুরু করে, আর আপনিও ভাবতে থাকেন: এটাই কি স্বাভাবিক? 6 সপ্তাহের শিশু আসলে কী কী পারে? আমি কী কী লক্ষ করব?
এখানে 6 সপ্তাহের কাছাকাছি সময়ে শিশুর ডেভেলপমেন্টে সাধারণত কী কী বদল আসে, প্রতিদিন আপনি কী দেখতে পারেন আর কখন ডাক্তারের বা স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে কথা বলা ভালো হয়, তা নিয়ে সহজভাবে কথা বলা হল। প্রতিটি শিশু আলাদা, তবু বেশ কিছু সাধারণ 6 সপ্তাহের মাইলস্টোন আছে, যেগুলোর দিকে বেশির ভাগ শিশু ধীরে ধীরে এগোয়।
এই বয়সে শিশুর শরীর বেশ দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রথম সপ্তাহের ছবি এখন দেখলে মনে হতে পারে, ও অনেকটাই কম «নবজাতক» আর কিছুটা বেশি গোলগাল লাগছে।
এই সময়ের বড় শারীরিক মাইলস্টোনগুলোর একটি হল মাথা নিয়ন্ত্রণ।
প্রায় 6 সপ্তাহের কাছাকাছি সময়ে:
আপনি টামি টাইমে লক্ষ্য করতে পারেন, আপনার 6 সপ্তাহের শিশু বিছানা বা ম্যাটে সামান্য চাপ দিয়ে বুকটা একটু ওপরে তুলছে, মাথা এক-দু’ সেকেন্ডের জন্য উঠছে আবার নেমে যাচ্ছে। 6 সপ্তাহের টামি টাইম হিসেবে এটাকেই আমরা স্বাভাবিক অগ্রগতি বলি।
6 সপ্তাহের শিশুর মাথা নিয়ন্ত্রণ ভালো করতে কিছু টামি টাইম পরামর্শ:
অনেক 6 সপ্তাহের শিশু টামি টাইম একদমই পছন্দ করে না, কান্না করে, এটা খুব স্বাভাবিক। একবারে এক-দু’ মিনিট দিয়েও শুরু করতে পারেন, দিনে ক’বার করে, ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। অল্প সময় হলেও ঘাড় আর কাঁধ শক্ত হতে সাহায্য করে, আর সামগ্রিক নবজাতকের ডেভেলপমেন্ট–এ বেশ কাজ দেয়।
6 সপ্তাহের কাছাকাছি কিছু শিশু পেটের ওপর শুয়ে কনুইয়ের ভর দিয়ে সামান্য উঠতে শুরু করে। খুব বেশি না, তবে দেখা যায়:
একভাবে ভাবলে, আপনার শিশু আসলে পরীক্ষা করছে:
উপরের অংশের এই প্রথম দিককার শক্তি তৈরি হওয়াই পরে গড়িয়ে যাওয়া, বসা, হামাগুড়ি আর দাঁড়ানোর ভিত্তি।
এই বয়সে আপনার শিশুটি যদি এখনও কনুই ভর দিয়ে খুব একটা না ওঠে, তাতেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। 6 সপ্তাহের মাইলস্টোন হচ্ছে দিকনির্দেশনা, পরীক্ষার প্রশ্ন না। প্রতিদিন একটু টামি টাইম আর নিরাপদ ফ্লোর প্লে দিলেই ভালো।
শুরুর দিকে নবজাতকরা হঠাৎ চমকে উঠে হাত-পা ঝাঁকিয়ে দেয়, সেটা নিশ্চয়ই দেখেছেন। 6 সপ্তাহের দিকে এসে বেশির ভাগ শিশুর হাত পায়ের নড়াচড়া কিছুটা বেশি মসৃণ হয়।
আপনি লক্ষ্য করতে পারেন:
শিশুর হাত পা নড়াচড়া 6 সপ্তাহে এইভাবে বদলানো মানে ওর স্নায়ুতন্ত্র ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে, আর নিজের শরীরের ওপর সামান্য হলেও নিয়ন্ত্রণ আসছে।
এই সময় আপনি যা করতে পারেন:
এসবই খেলাধুলা, আবার একই সাথে আপনি বুঝতেও পারবেন 6 সপ্তাহের শিশুর ডেভেলপমেন্ট কোন পর্যায়ে আছে।
প্রায় 6 সপ্তাহের মধ্যে বেশির ভাগ শিশুর ওজন জন্মের সময়ের চেয়ে গড়ে প্রায় ১ থেকে ১.৫ কেজি পর্যন্ত বেড়ে যায়। কারও একটু বেশি, কারও কম। ওজন একেবারে সমান হারে বাড়ে না, কখনও কয়েকদিন অনেক বেশি খায়, আবার কখনও কিছুটা শান্ত থাকে।
বাংলাদেশে সাধারণত শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্সরা খেয়াল রাখেন:
আপনার 6 সপ্তাহের শিশু যদি জন্মের পর থেকে মোটামুটি ১–১.৫ কেজির মতো বাড়িয়ে থাকে, সেটা সাধারণ 6 সপ্তাহের শিশুর বেড়ে ওঠা হিসেবে বেশ ভালোই ধরা হয়। যদি কমও হয়, অনেক সময় শুধু বুকের দুধের ল্যাচ ঠিক আছে কি না, ফর্মুলার পরিমাণ, কিংবা কতবার খাওয়ানো হচ্ছে, সেগুলো একটু ঠিক করে নিলেই হয়। নিজেরা আন্দাজ না করে নির্দ্বিধায় শিশু বিশেষজ্ঞ বা ল্যাকটেশন কাউন্সেলরের সাথে কথা বলুন - খুব অনেক বাবা মা–ই এই সহায়তা নেন।
একটা জিনিস এড়িয়ে চলাই ভালো, সেটা হল নিজের 6 সপ্তাহের শিশুর ওজন আর অন্য কারও শিশুর ওজনের সাথে তুলনা করা। সব শিশু এক রকম হয় না, কারও গড়ন ছোট, কারও বড়। একদিনের ওজনের সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ওজনের ধারাবাহিক বাড়ার ধরণ কেমন।
এই ক’সপ্তাহে শিশুর দৃষ্টিশক্তি খুব দ্রুত বদলায়। জন্মের সময় যা দেখার ক্ষমতা ছিল, 6 সপ্তাহের দিকে এসে তা বেশ উন্নত হয়।
6 সপ্তাহের কাছাকাছি অনেক বাবা মা খেয়াল করেন, শিশু এখন একটি জিনিস চোখ দিয়ে অনেক বেশি মসৃণভাবে অনুসরণ করতে পারে।
যেমন:
এই «মাঝখান পেরিয়ে» বা মিডলাইন ক্রস করে অনুসরণ করা মানে, শুধু একপাশ নয়, সামনে মাঝ বরাবর দিয়ে অন্য পাশেও চোখ নিয়ে যেতে পারছে। ভবিষ্যতে হাত বাড়িয়ে ধরা, খেলনা ধরার মতো সমন্বয় দরকার এমন কাজের জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি শিশুর মাইলস্টোন।
এই অংশের 6 সপ্তাহের শিশুর দৃষ্টি বাড়াতে পারেন এভাবে:
সব সময়ই যে অনুসরণ করবে এমন নয়, দু’তিন সেকেন্ড দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিতেও পারে। এই বয়সে খুব ছোট সময়ের «খেলা»ই যথেষ্ট।
নবজাতকরা প্রথমে প্রায় ২০–২৫ সেমি দূর পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো দেখতে পায়। মানে কোলে থাকা অবস্থায় স্তন বা বোতল আর আপনার মুখই মূল ফোকাস।
প্রায় 6 সপ্তাহে এসে অনেক শিশু একটু ৩০–৪০ সেমি দূর পর্যন্ত ভালো ফোকাস করতে পারে। আপনি দেখতে পারেন:
চেঞ্জিং টেবিল বা বিছানার পাশে কালো-সাদা প্যাটার্ন, সাদাকালো কার্ড বা সিম্পল ছবি লাগিয়ে রাখতে পারেন, যেন ডায়াপার পাল্টানোর সময় ওর একটু দেখার অনুশীলন হয়, আপনাকেও আলাদা সময় বের করতে হয় না।
এই বয়সে অনেক শিশু মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে:
অনেক সময় মনে হয়, «এ আমাকে না দেখে বারবার ওদিকেই তাকাচ্ছে কেন?» আসলে এখন ওদের মস্তিষ্ক বেশি ভালোভাবে ধরতে পারে কিনারা আর কনট্রাস্ট - গাঢ়-হালকা ভেদ যেখানে স্পষ্ট। তাই সেগুলোই বেশি টানে।
এটা একেবারে স্বাভাবিক নবজাতকের ডেভেলপমেন্ট এর অংশ, আর তাই প্রথম দিককার হাই কনট্রাস্ট বই আর খেলনাগুলোর এত কদর।
এই সময়ের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত শিশুর মাইলস্টোন অনেক সময় একটা – সামাজিক হাসি।
প্রথম সপ্তাহ থেকেই হয়তো আপনি ঘুমের মধ্যে হালকা «হাসি»র মতো মুখভঙ্গি দেখেছেন। এগুলো সাধারণত রিফ্লেক্স, ইচ্ছাকৃত হাসি না। প্রায় 6 সপ্তাহের দিকে এসে সেই হাসি:
এই প্রথম স্পষ্ট 6 সপ্তাহের শিশুর হাসি অনেক বাবা-মায়ের জন্য অসম্ভব আবেগের মুহূর্ত। এর মানে আপনার শিশু ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছে, আপনি ওর কাছে «বিশেষ», আপনার কাছে ও নিরাপদ আর আরামদায়ক বোধ করে।
প্রত্যেক শিশু কিন্তু ঠিক 6 সপ্তাহেই হাসবে এমন বাধ্যতামূলক কিছু নেই। কেউ একটু আগে, কেউ ৭–৮ সপ্তাহের দিকেও প্রথম সামাজিক হাসি দেয়। যদি এখনও হাসি না দেখে থাকেন, কিন্তু আপনার শিশু:
তাহলে এটাও খুবই ইতিবাচক শিশুর ডেভেলপমেন্টের লক্ষণ।
শুরুর দিকে বেশির ভাগ শিশু সবচেয়ে বেশি হাসে প্রধান কেয়ারগিভারের দিকে। তবে 6 সপ্তাহের কাছাকাছি এসে অনেকেই:
এটাই খুব সহজ, তবু একেবারে সত্যিকারের সামাজিক যোগাযোগের অনুশীলন। ছোট্ট মানুষটা বুঝতে শিখছে, ও যখন কিছু করে, মানুষজন প্রতিক্রিয়া দেয়, ওরও আবার তাতে সাড়া দেয়ার সুযোগ আছে।
আপনার 6 সপ্তাহের শিশু যখন আপনাকে দেখে খুশি হয়, তখন শুধু ঠোঁট না, প্রায় গোটা শরীরই যেন সঙ্গে যোগ দেয়।
সাধারণ লক্ষণ:
এই পুরো শরীর দিয়ে আনন্দ দেখানোও এক ধরনের প্রাথমিক ভাষা। সময়ের সাথে এই বড় বড় নড়াচড়া একটু মেপে আসবে, কিন্তু এখন এটাই ওর «আমি তোকে দেখে খুব খুশি» বলার ভঙ্গি।
আপনি প্রতিক্রিয়ায়:
এই ছোট ছোট আলাপ আর চোখাচোখি, ভবিষ্যতের ভাষা আর আবেগের নিরাপত্তা গড়ে তোলে নীরবে।
6 সপ্তাহে কান্নাই এখনও সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা, কিন্তু ধীরে ধীরে অন্য রকম শব্দও আসতে শুরু করে।
এই সময় থেকে অনেক শিশু কুং কুং, আ, উ, গু জাতীয় আওয়াজ তুলতে শুরু করে। যেমন:
সাধারণত এগুলো হয় যখন:
এই প্রথম কু শব্দগুলোই ভবিষ্যতের ভাষার শুরুর ধাপ। ও কেমন করে গলা দিয়ে বাতাস বের করলে কী শব্দ হয়, নিজে নিজে সেই পরীক্ষা করছে।
কু শব্দ বাড়াতে চাইলে:
শুরুতে হয়তো আপনাকে একটু অদ্ভুতই লাগবে, «ওহু… আহা… গু…» দিয়েই যেন কথা বলছেন। কিন্তু এই এগিয়ে-পিছিয়ে সাড়া দেওয়া, প্রাথমিক যোগাযোগ শেখার সবচেয়ে সহজ উপায়।
6 সপ্তাহের দিকে এসে অনেক শিশু এক ধরনের «রিদম» শিখে ফেলে:
এখানে আপনার «থেমে থাকা»টাই আসল। আপনি যদি একটানা বলে যান, ওর নিজে থেকে শব্দ করার ফাঁক পায় না। আপনি ছোট করে একটি বাক্য বলুন, তারপর একটু চুপ থাকুন, বেশির ভাগ সময়ই ওর কাছ থেকে কোনও না কোনও সাড়া পাবেন।
এটাই হল খুব প্রাথমিক কথোপকথনের পালা বদল, যা আপনি সহজেই দিনের ভেতর জুড়ে দিতে পারেন। যেমন:
ধীরে ধীরে আপনার শিশু শিখে যাবে, কথা বলা মানে এক জনের বলা, অন্যজনের শোনা, তারপর আবার সাড়া দেওয়া।
6 সপ্তাহের শিশু নিয়ে জীবন প্রথম সপ্তাহের মতো একেবারে অগোছালো থাকে না, তবু বেশ টাইট আর ক্লান্তিকরই লাগে। ঘুম, খাওয়া আর কান্নার ধরণ প্রায়ই বদলায়, কী স্বাভাবিক বোঝা কঠিন হয়।
বেশির ভাগ 6 সপ্তাহের শিশু একটানা প্রায় ৪৫ থেকে ৭৫ মিনিট ভালোভাবে জেগে থাকতে পারে, তারপর আবার ঘুমের দরকার হয়। এই সময়ের মধ্যে খাওয়ানোও ধরা হয়।
ঘুম পেতে শুরু করলে লক্ষণগুলো:
অনেক দেরি করে ফেললে, মানে অনেক বেশি ঘুম পেলে:
ঘড়ি ধরে সবকিছু করার দরকার নেই, তবে এই ওয়েক উইন্ডোর ধারণাটা মাথায় থাকলে, কখন একটু কোলে নিয়ে শান্ত ঘরে নিয়ে যাওয়া উচিত বুঝতে সুবিধা হয়।
এই বয়সে অনেকেই সহজ একটা ধারা অনুসরণ করেন:
6 সপ্তাহের পরে অনেক বাবা মা খেয়াল করেন, শিশু এখন:
এর মানে এই না যে এখনই কড়া রুটিন বসাতে হবে। বেশির ভাগ 6 সপ্তাহের শিশু এখনও নির্দিষ্ট «শিডিউল» মানার জন্য খুব ছোট। তবু আপনি আলগাভাবে এক ধরনের ছন্দ টের পাবেন।
অনেকে কয়েকদিন ডায়েরিতে বা মোবাইল অ্যাপে খাওয়া আর ঘুমের সময়গুলো লিখে রাখেন। এতে নিজেই প্যাটার্ন ধরতে পারেন, আর কোনও সমস্যা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের সাথে কথা বলার সময়ও কাজে লাগে।
বাংলাদেশে অনেক পরিবারই লক্ষ্য করে, বিকেল থেকে রাতের দিকে বাচ্চা হঠাৎ যেন অনেক বেশি অস্থির হয়ে যায়। প্রায় ৫টা থেকে ১০টার মধ্যে এই সময়টায়:
এটাকেই অনেকেই হালকা করে «উইচিং আওয়ার» বলেন। গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ কান্নার পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে থাকে, প্রায় 6–8 সপ্তাহের দিকে গিয়ে চূড়ায় ওঠে, তারপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
কিছু জিনিস অনেক সময় কাজে দেয়:
যদি কখনও খুব বেশি চাপ মনে হয়, সেটা একদম স্বাভাবিক। শিশুকে নিরাপদভাবে খাটে বা পালঙে শুইয়ে এক-দু’ মিনিট পাশের ঘরে গিয়ে নিজেকে সামলে নিন, পানি খান, গভীর শ্বাস নিন। সম্ভব হলে সঙ্গী, মা-বাবা, আত্মীয় কাউকে কিছু সময়ের জন্য কোলে নিতে বলুন।
কান্না যদি আপনার কাছে অস্বাভাবিক বেশি মনে হয়, বা আপনার মনে হয় কিছু একটা ঠিক নেই, বা আপনি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়ছেন, তাহলে দেরি না করে নিকটস্থ শিশু বিশেষজ্ঞ, কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ১৬২৬৩ / ১০৬৫৫ জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার হেল্পলাইনের পরামর্শ নিন।
বাংলাদেশে অনেক পেডিয়াট্রিশিয়ান বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় 6 সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলোআপ ভিজিট বা চেকআপ করে থাকেন। কেউ কেউ একে «৬ সপ্তাহের ভ্যাকসিনের আগে/পরে চেকআপ»ও বলেন।
এই ভিজিটে সাধারণত ডাক্তার বা দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী:
এই সময় 6 সপ্তাহের মাইলস্টোন নিয়ে সব প্রশ্ন করাই ভালো। যেমন:
অনেক দেশে, যেমন ভারতে ও শ্রীলঙ্কায়, জন্মের পরই নবজাতকের শ্রবণ স্ক্রিনিং করা হয়, বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এসব সুবিধা বাড়ছে, বিশেষ করে বড় হাসপাতালগুলোতে। কখনও কখনও শুরুতে পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না, বা রিপোর্ট পরিষ্কার না এলে আবার করার প্রয়োজন হয়।
আপনার শিশু যদি জন্মের সময় কোনও শ্রবণ পরীক্ষা না করে থাকে, আর এখন 6 সপ্তাহের দিকে এসেছে, তাহলে পরের চেকআপে এটা নিয়ে কথা বলুন। শিশুর ভালো শোনার ক্ষমতা ভবিষ্যতের ভাষা, কথা বলা, আর সামাজিক দক্ষতার ভিত্তি।
যদি আপনি নিশ্চিত না হন, শিশুর শ্রবণ পরীক্ষা হয়েছে কি না:
বেশির ভাগ 6 সপ্তাহের শিশু কিছু না কিছু সাধারণ মাইলস্টোন ঠিকই দেখায়, কিন্তু এক সঙ্গে সব «টিক চিহ্ন» দেয় না। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
তবু 6–8 সপ্তাহের মধ্যে যদি আপনি লক্ষ্য করেন:
তাহলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞ, নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। এখন আপনি ওর সাথে সবচেয়ে বেশি সময় কাটান, তাই আপনার অনুভূতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এবার সব মিলিয়ে একবার দেখে নেওয়া যাক, সাধারণভাবে 6 সপ্তাহের শিশুর ডেভেলপমেন্ট কেমন হতে পারে। মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশু নিজেদের মতো সময় নেয়।
শারীরিক
দৃষ্টি
সামাজিক
যোগাযোগ
আচরণ
আপনার 6 সপ্তাহের শিশু যদি এর কিছু লক্ষণ দেখায়, দিন যেতে যেতে একটু একটু করে এগিয়ে চলে, আর আপনাকে আগের চেয়ে বেশি তাকিয়ে দেখে, তাহলে সাধারণত ধরে নেওয়া যায় 6 সপ্তাহের শিশুর বেড়ে ওঠা ভালো ছন্দেই আছে।
আর যদি আপনার মনে একটু সন্দেহও জাগে, বা আপনি শুধু আরেক জোড়া «বিশেষজ্ঞ চোখ» চান, সেটাই স্বাভাবিক। এর জন্যই তো শিশু বিশেষজ্ঞ, কমিউনিটি ক্লিনিক আর স্বাস্থ্যকর্মীরা আছেন।
আপনি এক নতুন মানুষকে চিনতে শিখছেন। ওও ধীরে ধীরে আপনাকে চিনছে। 6 সপ্তাহ পেরিয়ে আপনি হয়তো এখনও ক্লান্ত, শরীর ঠিকমতো সুস্থ হয়নি, বুকের দুধ বা ফর্মুলা, ঘুম - সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নতুন যুদ্ধ। এই সবকিছুর মাঝেও আপনার শিশুটি, নীরবে নিজের শিশুর মাইলস্টোন গুলো একে একে পার করে যাচ্ছে।
খুব শিগগিরই হয়তো একদিন হঠাৎ সেই প্রথম পরিষ্কার 6 সপ্তাহের শিশুর হাসি আপনার দিনটাই বদলে দেবে। আর ওই এক মুহূর্তে রাত জেগে খাওয়ানো আর সন্ধ্যার কান্নাগুলো একটু হলেও দূরে সরে যাবে।
এই সময়টুকুর জন্য এই ছোট্ট নতুন মায়ের গাইড 6 সপ্তাহ মনে রাখুন, আর নিজের অনুভূতিতেও ভরসা রাখুন।