৯ সপ্তাহে আপনার শিশুর বিকাশ: টামি টাইম, দৃষ্টি, সামাজিকতা ও প্র্যাকটিক্যাল যত্ন

৯ সপ্তাহে শিশুর বিকাশ: লক্ষণ, খেলাধুলা ও যত্ন

৯ সপ্তাহে আপনার শিশুর মধ্যে একদিন থেকে আরেকদিনেই যেন অনেক পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে। একসময় যে নবজাতকটি বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে থাকত, সে এখন বেশি সময় জেগে থাকে, মুখভঙ্গি করে এবং আশপাশের মানুষ ও জিনিসপত্রের প্রতি আগ্রহ দেখায়। ডায়াপার বদলানোর সময় কিংবা মেঝেতে কয়েক মিনিট শোয়ানোর মতো সাধারণ মুহূর্তও তাই বেশ আনন্দের হয়ে উঠতে পারে।

‘৯ সপ্তাহ’ শুনলে মনে হতে পারে, এই বয়সে সব শিশুর একইভাবে বেড়ে ওঠার কথা। আসলে শিশুর বিকাশের গতি একেকজনের একেক রকম। কোনো ৯ সপ্তাহের শিশু এরই মধ্যে কিছু দক্ষতা দেখাতে পারে, আবার অন্য শিশুর একটু বেশি সময় লাগতে পারে। নিচের বিষয়গুলো ৯ সপ্তাহের শিশু বিকাশ সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দেবে, এগুলো কোনো পরীক্ষা নয় যে শিশুকে সবগুলোতেই পাস করতে হবে।

শারীরিক বিকাশ

টামি টাইমে শরীর আরও শক্ত হচ্ছে

৯ সপ্তাহে টামি টাইম করার সময় আপনার শিশু কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় একটু উঁচু হয়ে, বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শরীর ঠেলে তুলতে পারে। দুই হাতের কনুই ও বাহুতে ভর দিয়ে বুকের কিছুটা অংশ মেঝে থেকে উঠিয়ে ফেলতে পারে। মাথা তুলে চারপাশে তাকিয়ে কয়েক মুহূর্ত সেই ভঙ্গিতে থাকার পর ক্লান্ত হয়ে পড়াও স্বাভাবিক।

ছোট শিশুর জন্য এটি বেশ পরিশ্রমের কাজ। একবারে দীর্ঘ সময় না করিয়ে দিনে কয়েকবার অল্প অল্প করে টামি টাইম করান। শক্ত ও পরিষ্কার মেঝেতে কয়েক মিনিটই যথেষ্ট হতে পারে। আপনি শিশুর সামনে মুখোমুখি শুয়ে কথা বলতে পারেন, অথবা তার সামনে পছন্দের কোনো খেলনা রেখে মাথা তুলতে উৎসাহ দিতে পারেন।

অনেক শিশু এখনও টামি টাইম পছন্দ করে না। এর অর্থ এই নয় যে সে পিছিয়ে আছে। ঘুম থেকে ওঠার কিছুক্ষণ পর চেষ্টা করতে পারেন, তবে খাওয়ানোর পরপরই নয়। শিশু বিরক্ত বা খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লে থামুন।

মাথা নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বাড়ছে

৯ সপ্তাহে মাথা নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়ে ভালো হলেও এখনও পুরোপুরি স্থির হয় না। বুকের সঙ্গে ঠেস দিয়ে বা শরীর ভালোভাবে ধরে কোলে নিলে শিশু কয়েক সেকেন্ড মাথা সোজা রাখতে পারে। তবে ক্লান্ত থাকলে কিংবা ভঙ্গি বদলানোর সময় মাথা এখনও দুলতে পারে।

ঢেঁকুর তোলানোর সময়, কোলে নেওয়ার সময় বা আপনার হাঁটুর ওপর ঠেস দিয়ে বসালে মাথার ওপর একটু বেশি নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করতে পারেন। তবু শিশুকে তোলা বা বহন করার সময় মাথা ও ঘাড় অবশ্যই ভালোভাবে ধরে রাখুন। আগামী কয়েক মাসে ধীরে ধীরে মাথা নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হবে।

পায়ের নড়াচড়া আরও সক্রিয় হচ্ছে

এই বয়সে শিশুর পা বেশ ব্যস্ত হয়ে উঠতে পারে। চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে, খুশি হলে বা স্বস্তিতে থাকলে ৯ সপ্তাহে পায়ের কিক আগের চেয়ে জোরালো হতে দেখা যায়। দুই পা প্রায় একইভাবে নড়াচড়া করাও লক্ষ্য করতে পারেন, আগে হয়তো এক পা অন্যটির তুলনায় বেশি নড়ত।

ডায়াপার বদলানোর সময়, আপনার কণ্ঠ শুনলে বা রঙিন খেলনা দেখলে শিশু পা ছুড়তে পারে। জেগে থাকা অবস্থায় নজরদারির মধ্যে চিৎ হয়ে অবাধে নড়াচড়া করার সুযোগ দিন। সম্ভব হলে খুব আঁটসাঁট পোশাক পরাবেন না, বিশেষ করে জেগে থাকার সময়ে।

দৃষ্টি ও দেখার আগ্রহ

চোখ দিয়ে জিনিস অনুসরণ করা সহজ হচ্ছে

৯ সপ্তাহে শিশুর ভিশন উন্নত হওয়ার একটি সুন্দর লক্ষণ হলো, চোখ দিয়ে চলন্ত জিনিস অনুসরণ করা আগের চেয়ে মসৃণ হওয়া। ধীরে ধীরে ডানে-বাঁয়ে সরানো খেলনার দিকে শিশু তাকিয়ে থাকতে পারে। মুখ থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দূরে হালকা কোনো খেলনা ধরুন। শিশু খেলনাটিতে মনোযোগ দিলে সেটি ধীরে ধীরে এক পাশ থেকে অন্য পাশে সরান।

খুব দ্রুত খেলনা নড়ালে শিশু সেটি চোখের আড়াল করে ফেলতে পারে এবং অন্যদিকে তাকাতে পারে। এতে চিন্তার কিছু নেই। তার চোখ ও মস্তিষ্ক এখনও একসঙ্গে দেখার অভ্যাস করছে।

আপনি কথা বলার সময় শিশুকে আপনার মুখের দিকে গভীরভাবে তাকাতেও দেখতে পারেন। মানুষের মুখ তার কাছে এখনও সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্যগুলোর একটি। আপনার চোখ, ঠোঁট ও বদলে যাওয়া মুখভঙ্গি দেখার মতো অনেক কিছুই তাকে দেয়।

রং চেনার ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে

জন্মের পর শিশুরা কালো-সাদা বা গাঢ়-হালকা বৈপরীত্যের নকশার দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়। প্রায় ৯ সপ্তাহে চোখের রং শনাক্তকারী কোষগুলো ধীরে ধীরে পরিণত হতে থাকায় রঙিন জিনিসও তার নজরে আসতে শুরু করে। এখন শুধু কালো-সাদা নকশা নয়, লাল, সবুজ বা নীল রঙের জিনিসেও সে আগ্রহ দেখাতে পারে।

উজ্জ্বল লাল কাপড়, সবুজ নরম খেলনা বা নীল ছবির বই তার চোখে পড়তে পারে। শিশুর জন্য দামি কোনো সেনসরি খেলনা কেনার প্রয়োজন নেই। রঙিন গামছা, কাপড়ের বই, ছবির বই কিংবা আপনার নকশাদার পোশাকও তার জন্য যথেষ্ট আকর্ষণীয় হতে পারে।

এটি দৃষ্টিশক্তি বিকাশের একেবারে শুরুর সময়। আপনার মতো করে সব রং সে দেখছে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। ক্লান্তি, ক্ষুধা এবং ঘরের আলো অনুযায়ী তার দেখার আগ্রহও কমবেশি হতে পারে।

কাছের জিনিসে মনোযোগ দেওয়া

সাধারণত ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দূরের জিনিস শিশুর সবচেয়ে পরিষ্কার দেখতে সুবিধা হয়। কোলে নেওয়া বা দুধ খাওয়ানোর সময় আপনার মুখ ও তার মুখের মধ্যে যে দূরত্ব থাকে, সেটিও প্রায় একই। তাই আপনার মুখ তার সবচেয়ে পছন্দের দৃশ্য হওয়াটা স্বাভাবিক।

কথা বলার সময় সে আপনার চোখ থেকে ঠোঁটের দিকে তাকাতে পারে। কথা বলার ক্ষমতা তৈরি হওয়ার অনেক আগেই এই মুহূর্তগুলো যোগাযোগ শেখার ভিত্তি তৈরি করে। একটু থামুন, হাসুন এবং শিশুকে আপনার দিকে তাকানোর সময় দিন। অনেক সময় শব্দ করা খেলনার চেয়ে এমন শান্ত মুখোমুখি থাকা তার কাছে বেশি আনন্দের।

সামাজিক ও মানসিক বিকাশ

সামাজিক হাসি আরও স্পষ্ট হচ্ছে

ঘন ঘন ও পরিচিত মানুষকে দেখে হাসা ৯ সপ্তাহের শিশুর মাইলস্টোনগুলোর মধ্যে অন্যতম পরিচিত একটি লক্ষণ। পরিচিত মুখ দেখলে, পছন্দের কণ্ঠ শুনলে বা খেলাধুলার আভাস পেলে শিশু হাসতে পারে। কখনও অপরিচিত কাউকেও দেখে হাসবে, বিশেষ করে সে যদি ঘুমিয়ে না থাকে এবং স্বস্তিতে থাকে।

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মুখে হাসির মতো ভঙ্গি করার সঙ্গে এই হাসি এক নয়। শিশু এখন মানুষ, কণ্ঠস্বর এবং আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে শুরু করছে। একই মজার গান বা মুখভঙ্গি বারবার করে হাসি পেলে আপনিও নিশ্চয়ই তা উপভোগ করবেন।

প্রতিবার ডাকলেই শিশু হাসবে, এমন নয়। এক মিনিটে সে গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকতে পারে, পরের মিনিটে ক্লান্ত হয়ে কোনো সাড়া নাও দিতে পারে। ফোনে ভিডিও করার সময় সাড়া না পেলেও দুশ্চিন্তা করবেন না। কয়েক দিনের সামগ্রিক আচরণ দেখুন।

কু কু শব্দে বৈচিত্র্য আসছে

এই বয়সে শিশুর কু কু শব্দ আরও দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় হতে পারে। শুধু ‘আ’ শব্দের বদলে সে ‘আআ-গু’ বা ‘উউ-ঈ’-এর মতো একাধিক স্বরধ্বনি করতে পারে। আপনার উত্তর শোনার জন্য কিছুক্ষণ থেমে আবার শব্দ শুরু করাও সম্ভব।

শিশুর এই শব্দের জবাব দেওয়া তার প্রাথমিক যোগাযোগে সহায়তা করে। সে যে শব্দ করেছে, তা নকল করুন, সঙ্গে দু-একটি কথা বলুন এবং আবার তার উত্তর দেওয়ার জন্য একটু সময় রাখুন। এভাবেই কথোপকথনের পালা বদলের ছন্দ সে ধীরে ধীরে শিখবে।

খাটে শান্তভাবে শুয়ে থেকেও শিশু চিৎকারের মতো তীক্ষ্ণ শব্দ, গড়গড় আওয়াজ, দীর্ঘশ্বাস বা ছোট ছোট স্বরধ্বনি করতে পারে। তার শব্দভান্ডার এখনও ছোট, তবে তা দ্রুত বাড়ছে।

পরিচিত মানুষ চিনতে পারা

৯ সপ্তাহে অনেক শিশু মা-বাবা বা নিয়মিত যত্ন নেওয়া মানুষকে মুখ, কণ্ঠস্বর ও গন্ধ দিয়ে চিনতে পারে। আপনার কণ্ঠ শুনে সে সেদিকে ফিরতে পারে, আপনার কোলে দ্রুত শান্ত হতে পারে, কিংবা অপরিচিত কেউ ঘরে এলে তার আচরণ বদলে যেতে পারে।

পরিচিত মানুষকে চেনা সবসময় হাসি দিয়ে প্রকাশ পায় না। শ্বাসের গতি বদলে যাওয়া, নড়াচড়া থেমে যাওয়া, মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা বা উত্তেজনায় পা ছোড়াও এর লক্ষণ হতে পারে। শিশুর সামাজিক আচরণও একেক রকম। কেউ গভীরভাবে তাকিয়ে থাকে, আবার কেউ নানা শব্দ করে ও হাত-পা নেড়ে আনন্দ প্রকাশ করে।

বারবার কোলে নেওয়া, খাওয়ানো, সান্ত্বনা দেওয়া এবং কথা বলার মতো দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিশু নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে। এই পরিচিতি তার জন্য যেমন স্বস্তিদায়ক, আপনার জন্যও তেমন আশ্বস্ত হওয়ার বিষয়।

নড়াচড়ার দক্ষতা

হাত খুলছে এবং কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে

এই বয়সে হাতের নড়াচড়া ও সমন্বয় ধীরে ধীরে ভালো হতে থাকে। শান্ত ও জেগে থাকা সময়ে শিশুর হাত শক্ত করে মুঠো করা না থেকে কিছুটা খোলা থাকতে পারে। হাত নিজে থেকেই মুখের কাছে চলে যাওয়ার বদলে এবার সে ইচ্ছা করে হাত মুখে নিতে শুরু করতে পারে।

মুখে হাত নেওয়া শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। সে নিজের হাত কোথায় আছে এবং কীভাবে হাতকে নির্দিষ্ট জায়গায় নেওয়া যায়, তা শিখছে। আঙুল চোষা, ঠোঁট ঘষা বা অল্প সময়ের জন্য দুই হাত একসঙ্গে ধরাও দেখা যেতে পারে।

কাছাকাছি ঝোলানো খেলনার দিকে হাত বাড়িয়ে আঘাত করার চেষ্টা করতে পারে। প্রতিবার ঠিক জায়গায় হাত পৌঁছাবে না, অনেকটা দূরেও হাত চলে যেতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। আসল বিষয় হলো, খেলনাটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং চোখে দেখা জিনিসের সঙ্গে হাতের নড়াচড়ার মিল ঘটানোর চেষ্টা করছে।

হালকা ও মজবুতভাবে তৈরি খেলনা ব্যবহার করুন এবং শিশুর দেখার মতো সহজ দূরত্বে রাখুন। ঘুমের জায়গায় কোনো খেলনা আলগাভাবে রেখে যাবেন না। খেলার সময় শিশুর ওপর নজর রাখুন।

শুরুর নড়াচড়া এখনও এলোমেলো

এই বয়সে নড়াচড়া হঠাৎ হঠাৎ এবং কিছুটা অসংলগ্ন দেখাতে পারে। শিশু এক হাতে খেলনার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে পরক্ষণেই দুই হাত নাড়তে পারে, আবার হঠাৎ আগ্রহ হারিয়েও ফেলতে পারে। আপনার আঙুল কিছুক্ষণ ধরে রাখলেও খেলনা নির্ভরযোগ্যভাবে ধরতে এখনও তার সময় লাগবে।

এগুলো ৯ সপ্তাহের শিশু লক্ষণ ও পরিবর্তন-এর স্বাভাবিক অংশ। অনেক সময় কোনো দক্ষতা একদিন দেখা যায়, কয়েক দিন আর দেখা যায় না, পরে আরও নিয়মিতভাবে ফিরে আসে। শিশুর বিকাশে এমন ওঠানামা স্বাভাবিক।

আচরণের ধরন ও জেগে থাকার সময়

জেগে থাকার সময় কিছুটা দীর্ঘ হচ্ছে

৯ সপ্তাহে শিশুর জেগে থাকার সময় সাধারণত আগের তুলনায় বাড়ে। বিশেষ করে দিনের প্রথম দিকে সে একটানা ৬০ থেকে ৯০ মিনিট জেগে থাকতে পারে। এই সময়ে চারপাশে তাকানো, মানুষের কথা শোনা, টামি টাইম করা, দুধ খাওয়া এবং মুখোমুখি সময় কাটানোর পর আবার ঘুমের প্রয়োজন হতে পারে।

জেগে থাকার সময় বাড়া আনন্দের হলেও কখন ঘুম পাড়াতে হবে, তা বুঝতে কখনও অসুবিধা হতে পারে। খেলনা দেখে খুশি থাকা শিশু হঠাৎ অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে কাঁদতে শুরু করতে পারে। দূরে তাকিয়ে থাকা, মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, হাই তোলা, মুখে হাত ঘষা বা হঠাৎ বিরক্ত হয়ে ওঠা ঘুমের লক্ষণ হতে পারে।

প্রতিটি মিনিট নানা কাজে ভরিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। শান্তভাবে কোলে থাকা বা জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকাও শিশুর সঙ্গে সময় কাটানোর অংশ।

দিনের ছন্দ সম্পর্কে পছন্দ তৈরি হচ্ছে

শিশুর দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে আলাদা আচরণ দেখা দিতে পারে। সকালে হয়তো সে সজাগ চোখে তাকায় ও আনন্দে পা নাড়ে, আবার বিকেলের দিকে বেশি কান্নাকাটি করে। কেউ কেউ সন্ধ্যায় অস্থির থাকে, অন্যরা ঘুম থেকে ওঠার পর বেশি হাসিখুশি থাকে।

এই ধরনগুলো শিশুর প্রয়োজন বোঝার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবে এগুলো কোনো স্থায়ী সময়সূচি নয়। খাওয়ানো, বেড়ে ওঠা, ঘুম, বাড়িতে অতিথি আসা কিংবা ঘরের পরিবেশ বদলালেও আচরণে প্রভাব পড়ে। ফোনে ছোট করে লিখে রাখলে কখন শিশু খায়, ঘুমায় বা ক্লান্ত হয়, তা বোঝা সহজ হতে পারে।

৯ সপ্তাহের শিশুর ঘুম ও খাওয়া নিয়ে ভাবার সময় একেবারে নির্দিষ্ট রুটিনের বদলে ধীরে তৈরি হওয়া ছন্দের দিকে নজর দিন। প্রতিদিন একই রকম না হলেও শিশুর সংকেত বুঝে তার প্রয়োজন অনুযায়ী সাড়া দেওয়া যায়।

কখন পরামর্শ নিতে হবে

শিশুর বিকাশে স্বাভাবিকভাবেই অনেক পার্থক্য থাকে। তবে কোনো শেখা দক্ষতা স্পষ্টভাবে হারিয়ে গেলে, সবসময় শরীরের এক পাশ অন্য পাশের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবহার করলে, দুই পা নড়াতে না পারলে, অথবা মুখ, কণ্ঠস্বর কিংবা আলোতে খুব কম সাড়া দিলে শিশু বিশেষজ্ঞ, নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন। আপনার শিশুকে আপনি সবচেয়ে ভালো চেনেন, তাই কোনো প্রশ্ন মনে এলে তা জানানো উচিত।

এখানে বলা ৯ সপ্তাহের শিশুর মাইলস্টোনগুলো সাধারণ প্রবণতা মাত্র। এগুলো কোনো তালিকা, রোগ নির্ণয়ের উপায় বা অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করার মাপকাঠি নয়। কেউ আগে হাসি ও কু কু শব্দে সাড়া দেয়, আবার কেউ শরীর শক্ত করার দিকে বেশি মনোযোগী থাকে। টামি টাইমে বুক একটু ওপরে তোলা, চোখের দৃষ্টি স্থির হওয়া, খেলনার দিকে খোলা হাত বাড়ানো কিংবা আপনাকে দেখলে সেই বিশেষ হাসি, এই ছোট পরিবর্তনগুলোই উদযাপন করুন।

বাস্তবে নবজাতক বিকাশ এমনই, ধীরে ধীরে এগোয়, সবসময় একই গতিতে হয় না এবং প্রতিদিনই নতুন কোনো আনন্দের চমক নিয়ে আসে।


এই বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং এটি আপনার ডাক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের পরামর্শের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে আপনাকে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

Erby — নবজাতক ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য বেবি ট্র্যাকার

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।
Erby

Erby — মোবাইল অ্যাপ

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।