নতুন বাচ্চা ঘরে আসার প্রথম ক’টা সপ্তাহ সত্যিই ঝড়ের মতো কেটে যায়। আপনি ঘুমহীন অবস্থায় সব শিখছেন, আপনার নবজাতক মায়ের গর্ভের বাইরে বাঁচতে শিখছে, আর কখনও একটা অদ্ভুত আওয়াজ, কখনও হালকা রঙ পাল্টে গেলেই বুক ধড়ফড় করতে থাকে।
কিছুটা দুশ্চিন্তা ভালো, এতে বাচ্চা নিরাপদ থাকে। কিন্তু সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে থাকলে আপনি ভেঙে পড়বেন, কাজে আসবে না। এই গাইডটা সেই মাঝখানের জায়গায় রাখার মতো - শান্ত, স্পষ্ট একটা রেফারেন্স, যেটা আপনি দ্রুত দেখে নিতে পারেন যখন মনে হয়, «এটা কি স্বাভাবিক?» বা «এখনই কি ডাক্তারকে ফোন করা দরকার?».
এই লেখায় মূল ফোকাস হল নবজাতক কখন ডাক্তারকে কল করবেন, অর্থাৎ জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে কোন কোন লক্ষণ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে। উদাহরণ দেওয়ার সময় মূলত বাংলাদেশ/ভারতের প্রেক্ষাপট ভেবে লেখা হয়েছে, তবে নবজাতকের বেশির ভাগ বিপদজনক লক্ষণই সারা পৃথিবীতেই একই।
কখনো যদি মনে হয় কিছু একটা ঠিক মিলছে না, বা আপনার ভেতরের অনুভূতি জোরে বলে যে «কি যেন গড়বড়», সেই অনুভূতিকে হালকা করে নেবেন না। কাছের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, স্ত্রীরোগ/মিডওয়াইফ/দাইমা, কমিউনিটি ক্লিনিক/উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বা আপনার এলাকার জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করুন। অবস্থা গুরুতর মনে হলে সরাসরি নিকটস্থ হাসপাতালের ইমারজেন্সি/জরুরি বিভাগে চলে যান। নবজাতক নিয়ে প্রশ্ন করলে কোনও ডাক্তারই বিরক্ত হন না।
নিচের লক্ষণগুলো নবজাতকের ক্ষেত্রে “দেখি দেখি, আরেকটু দেখে নেই” ধরনের নয়। এগুলোর কোনোটাই স্বাভাবিক ধরে অপেক্ষা করা উচিত না। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া, বা বাচ্চা খুব অসুস্থ দেখালে একদম দেরি না করে জরুরি বিভাগে যান, স্থানীয় জরুরি নম্বরে কল করুন (বাংলাদেশে ৯৯৯, ভারতে ১০২/১০৮)।
নবজাতক নিজের শরীরের তাপমাত্রা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। জ্বর বা তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া অনেক সময় সংক্রমণের সবচেয়ে প্রথম সাইন হয়।
তাই শিশুর তাপমাত্রা ৩৮° কখন উদ্বেগজনক - এটা জানা জরুরি।
অবিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন যদি আপনার বাচ্চার -
নবজাতকের জ্বর মানেই ধরে নেওয়া হয় সংক্রমণ হতে পারে, আর এ বয়সে অনেক বাচ্চাকেই হাসপাতালে এনে পরীক্ষা করা লাগে। আবার খুব কম তাপমাত্রাও সংক্রমণ, রক্তে সুগার কমে যাওয়া ইত্যাদির সাইন হতে পারে।
কিছু ব্যবহারিক কথা:
অনেক মা-বাবা বলেন, «বাচ্চা খুব গরম লাগছে» বা «কী যেন অদ্ভুত ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে»। শুধু হাতে ধরে আন্দাজ না করে তাপমাত্রা মেপে নিন। ৩৬–৩৭.৫°C এর বাইরে গেলে দেরি না করে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, ডিউটি ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। এটাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায় শিশুর জ্বর কখন ডাক্তার দেখাবেন বোঝার।
খুব ছোট বাচ্চারা সাধারণত ২–৩ ঘন্টা পরপর খেতে চায়, দিন-রাত মিলিয়ে। মাঝে মাঝে একটু ঘুমঘুম, কম খাওয়ার ফিড থাকতেই পারে, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু একটার পর একটা, টানা বারবার খেতে না চাওয়া স্বাভাবিক নয়।
ডাক্তার বা দাইমাকে কল করবেন যদি:
মা-বাবা যখন বলেন, «শিশু খেতে চাইছে না কি করব», তখন ডাক্তারদের মাথায় আসে হয়তো বাচ্চার ডিহাইড্রেশন হচ্ছে, রক্তে সুগার কমে গেছে, বা অন্য কোনও অসুখের শুরু হতে পারে।
আপনি বুকের দুধ দিন, ফর্মুলা দিন, বা দুটোই মিলিয়ে দিন - নিয়ম একই। এমনকি বাচ্চা বুক ধরছে কিন্তু দু-চারবার টেনে সাথে সাথে ঘুমিয়ে যাচ্ছে, বারবার এমন হলে সেটাও দেখিয়ে নেওয়া ভালো। এতে হয়তো ল্যাচিং বা পজিশনের সাহায্য লাগতে পারে, আবার মাঝে মাঝে তা অসুস্থতার ইঙ্গিতও হতে পারে।
বাচ্চার একটু দুধ উঠেই পড়া, কাঁধে দুধ লেগে থাকা, ডেকের পর হালকা উগরে দেওয়া - এগুলো সবই নবজাতকের স্বাভাবিক ব্যাপার। জীবনযাত্রার অংশ বললেই চলে।
কিন্তু চিন্তার বিষয় হবে যদি:
এটা স্রেফ একটু দুধ উগরে দেওয়ার থেকে আলাদা। শিশুর বমি কখন বিপদজনক জানতে হলে এই পার্থক্যটা বোঝা জরুরি। টানা, জোরে বমি মানে কখনো কখনো অন্ত্রের সমস্যা, ইনফেকশন, বা দুধে অ্যালার্জি/অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি থাকতে পারে।
আপনি যদি বুঝতে না পারেন এটা সাধারণ স্পিট-আপ নাকি বমি, তাহলে মোবাইলে ১৫–২০ সেকেন্ডের একটা ভিডিও করে রাখুন। ডাক্তারের কাছে গেলে খুব কাজে লাগবে।
নবজাতকের প্রস্রাব কতটা হচ্ছে, সেটা তার সামগ্রিক অবস্থা বোঝার সবচেয়ে সহজ লক্ষণগুলোর একটি। অনেক মা-বাবা গুগলে সার্চ করেন «নবজাতক প্রস্রাব কম কবে উদ্বেগজনক» - এটা একদমই যথার্থ দুশ্চিন্তা।
মোটামুটি হিসাবটা এরকম:
শুধু বুকের দুধ খেলে অনেক সময় ২–৩ দিন লাগতে পারে দুধ পুরোপুরি নামতে, তাই প্রথম দিনগুলো একটু কমও হতে পারে। তবে ৪র্থ–৫ম দিন থেকে সাধারণত এই প্যাটার্ন ধরা পড়ে।
ডাক্তার/মিডওয়াইফকে ফোন করবেন যদি:
কম প্রস্রাব মানে হতে পারে বাচ্চা যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে না, ডিহাইড্রেশন হচ্ছে, বা অন্য কোনও সমস্যা আছে। দ্রুত সাহায্য নিলে খুব সহজে সমাধান হয়, তাই দেরি করবেন না।
নবজাতকের ক্ষেত্রে রক্ত মানেই ধরে নেওয়া হয় এটা জরুরি বিষয়, তা যত কমই হোক।
তাড়াতাড়ি চিকিৎসা নিন যদি দেখেন:
কখনো কখনো সামান্য রক্ত আসতে পারে মলদ্বারের খুব ছোট ফাটল থেকে, যা মারাত্মক না-ও হতে পারে। কিন্তু শুরুতেই ধরে নেওয়া যাবে না যে এটা কিছু না। বাচ্চার পায়খানায় রক্ত কি করবেন - তার প্রথম ধাপই হল দ্রুত ডাক্তার দেখানো।
আপনি যদি মনে করেন রক্ত দেখেছেন, ডায়াপারটা ফেলে না দিয়ে রেখে দিন, চাইলে একটা ছবি তুলে রাখুন। ডাক্তারের পক্ষে বুঝতে সুবিধা হবে।
এখানে বমির রঙ খুব গুরুত্বপূর্ণ।
দু’ধরনের বমিই বুঝাতে পারে অন্ত্র থেকে বাইল উলটে উঠে আসছে, অর্থাৎ ভেতরে কোথাও ব্লক বা সিরিয়াস সমস্যা থাকতে পারে। নবজাতকের হলুদ বা সবুজ বমি তাই যতক্ষণ না প্রমাণিত হয় যে ক্ষতি নেই, ততক্ষণ এটাকে ইমারজেন্সি ধরাই নিরাপদ।
আপনার বাচ্চা যদি হলুদ বা সবুজ বমি করে, বিশেষ করে একবার না, কয়েকবার হয়, তাহলে:
নবজাতকরা অনেক ঘুমায় - দিনে ১৮–২০ ঘণ্টাও স্বাভাবিক। কিন্তু এই ঘুমের মাঝেও তাকে নিয়মিত খাওয়ার জন্য সহজে জাগানো যায়, আর সে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখায়।
চিন্তার কারণ যদি:
অনেক সময় মা-বাবা খুশি হয়ে বলেন, «আমার বাচ্চা তো খুব ভালো ঘুমায়, সারাক্ষণ ঘুমায়»। কিন্তু যদি সে খাওয়ার সময়ও জাগে না, দুধ ঠিকমতো না খায়, মুখের রঙ ফ্যাকাসে বা অস্বাভাবিক হয়, তাহলে এটা ভালো ঘুম না, বিপদের সাইন হতে পারে। ইনফেকশন, রক্তে সুগার কমে যাওয়া ইত্যাদি কারণে এমন হয়।
দ্বিধা করবেন না, তাড়াতাড়ি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
বাচ্চারা কান্না করবেই। সন্ধ্যার দিকে একটু বেশি কান্না, “কোলিক টাইম”, বা বিরক্তি অনেক বাচ্চারই থাকে, যা নরমাল রেঞ্জের মধ্যেই পড়ে। পার্থক্য হচ্ছে, এই কান্না একসময় থামে, আর আপনি কোনো না কোনোভাবে তাকে একটু হলেও শান্ত করতে পারেন।
দ্রুত সাহায্য চাইবেন যদি:
এভাবে অবিরাম, থামানো যাচ্ছে না এমন কান্না কখনো কখনো পেটের মারাত্মক ব্যথা, ইনফেকশন, বা অন্য কোনও সিরিয়াস সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি হঠাৎ একদিন থেকে এমন শুরু হয়।
আর একটা কথা - আপনি যদি নিজে মনে করেন আর সহ্য করতে পারছেন না, মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে, একদম ঠিক আছে বাচ্চাকে নিরাপদভাবে তার খাটে বা বাসিনেটে শুইয়ে রেখে, দুই মিনিটের জন্য পাশের ঘরে গিয়ে গভীর শ্বাস নিন। তারপর ফোনে সঙ্গী, আত্মীয় বা কোনো হেল্পলাইনে কথা বলুন। কখনোই রাগের মাথায় বাচ্চাকে ঝাঁকাবেন না, এটা প্রাণঘাতী হতে পারে।
বাচ্চার রঙ হঠাৎ পাল্টে গেলে যে ভয় লাগে, সেটা যৌক্তিক। অনেক সময় এটাই সিরিয়াস সমস্যার সাইন।
জরুরি সাহায্য নিন (৯৯৯, ১০২/১০৮ বা স্থানীয় জরুরি নম্বরে কল, সরাসরি হাসপাতাল) যদি লক্ষ্য করেন:
এগুলো মানে হতে পারে রক্তে অক্সিজেন কম, বা হার্ট/ফুসফুসের সমস্যা। নবজাতকের হাত-পা একটু নীলচে, চিটচিটে বা দাগদাগে দেখাতে পারে, বিশেষ করে ঠান্ডায়, সেটার অনেকটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঠোঁট আর জিহ্বা নীল মানে একেবারেই অবহেলা করার মতো নয়।
নবজাতকের শ্বাসকষ্ট সব সময়ই ইমারজেন্সি হিসেবে ধরতে হবে।
দ্রুত জরুরি বিভাগে যান বা ৯৯৯/১০২/১০৮ এ ফোন করুন যদি দেখেন:
অনেক বাবা-মা বলেন, «বাচ্চা নাক ডাকায়», «নবজাতকের নাক সবসময় বন্ধ, একটু শব্দ করে শ্বাস নেয়» - এগুলো অনেক সময় পুরোপুরি স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে যে বিষয়টা দেখা হয়, সেটা হল শ্বাস নিতে কত কষ্ট হচ্ছে আর বাচ্চার সামগ্রিক অবস্থা কেমন। ঠিকমতো খাচ্ছে কিনা, রঙ স্বাভাবিক কিনা, কোলে নিলে কিছুটা শান্ত হচ্ছে কিনা।
দ্বিধা থাকলে শ্বাস নেওয়ার সময়ের একটা ভিডিও করে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখাতে পারেন। তবে আপনার ভেতরের কণ্ঠ যদি বলে «না, এটা মোটেও ভালো লাগছে না», তাহলে কোনো অপেক্ষা না করে সরাসরি ইমারজেন্সিতে যান। নবজাতক কখন জরুরি সেবা দরকার - এতে আপনার ইন্সটিংক্টও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বাচ্চার মাথার ওপরে যেটা নরম দেবে যাওয়া জায়গা থাকে, ওটার নাম ফন্টানেল। স্বাভাবিক অবস্থায় এটা একটু নরম, সামান্য ভেতরের দিকে থাকে।
একই দিনেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন যদি দেখেন:
ফুলে থাকা ফন্টানেল মানে হতে পারে মাথায় চাপ বেড়েছে, মেনিনজাইটিসসহ কিছু মারাত্মক সংক্রমণ। খুব বসে গেলে সেটাও ডিহাইড্রেশনের ইঙ্গিত। দুটোই পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
নবজাতকের নাড়ির কেঁটে রাখা অংশটা কয়েক দিন ধরে শুকিয়ে, কালো হয়ে, শেষে নিজে থেকেই পড়ে যায়। এই সময়টায় কিছু অদ্ভুত দেখালেও বেশির ভাগই স্বাভাবিক। সামান্য খোসা, একদম গোড়ার চারপাশে খুব হালকা লালচে ভাব থাকতেই পারে।
কিন্তু তাড়াতাড়ি চিকিৎসা নিন যদি:
এ ধরনের ইনফেকশন নবজাতকের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে যেতে পারে। আগে টের পেলে খুব সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকেই ভালো হয়ে যায়, তাই একটু হলেই ভালো হয়ে যাবে ভেবে দেরি করবেন না।
সব অদ্ভুত লক্ষণই অসুখের সাইন নয়। নবজাতকরা এমন অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত আচরণ করে, যেগুলো প্রথমবারের মা-বাবার কাছে ভয়ংকর লাগলেও বাস্তবে প্রায় সবই স্বাভাবিক।
আপনি যদি সন্দেহে থাকেন, তবু প্রশ্ন করবেন - সেটাই নিরাপদ। কিন্তু এগুলোই সেই ক্ল্যাসিক বিষয়, যেগুলোতে অভিজ্ঞ নার্স/মিডওয়াইফরা হেসে বলেন, «হুম, একদম স্বাভাবিক»।
নবজাতকের হেঁচকি এতই সাধারণ যে গর্ভের ভেতরেও তারা হেঁচকি তোলে, অনেক মা পেটের ভেতরে ছোট ছোট ধকধক হিসেবে টের পান।
সাধারণত হেঁচকি:
চিকিৎসার দরকার হয় না। চাইলে সামান্য দুধ খাওয়াতে পারেন, সোজা করে কোলে নিয়ে একটু ধরে রাখুন, বা একদমই কিছু না করে অপেক্ষা করুন। বেশির ভাগ সময় কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজে নিজে থেমে যায়।
নবজাতকরা হাঁচি দেয় খুব ঘন ঘন। তাদের নাক খুবই ছোট আর সংবেদনশীল, একটু ধূলা, দুধের গন্ধ, এমনকি নিজের নাকের ভেতরের মিউকাস পরিষ্কার করতেও তারা হাঁচি দেয়।
যদি শুধু হাঁচি হয়, আর সাথে:
তাহলে এটাকে সাধারণত নাক পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ধরা হয়, ঠান্ডা লাগার নির্ভরযোগ্য সাইন নয়।
বাচ্চা কাঁদার সময় থুতনি কাঁপা, বা হাঁটু, হাতের পাতায় হালকা কাঁপুনি অনেক সময় দারুণ ভয়ের মতো লাগে। কিন্তু বেশির ভাগ নবজাতকের ক্ষেত্রেই এটা কেবল স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি পরিণত না হওয়ার একটা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
এগুলো সাধারণত স্বাভাবিক, যদি:
কিন্তু যদি দেখেন আপনি ধরে রাখার পরও কাঁপুনি থামে না, একই জায়গায় ছন্দময় ঝাঁকুনি হচ্ছে, বা এর সাথে চোখ উল্টে যাচ্ছে বা স্থির হয়ে যায়, তখন দ্রুত ইমারজেন্সি সাহায্য নিন। ওটা খিঁচুনি হতে পারে। তবে শুধু কখনো সখনো থুতনি কাঁপা, বিশেষ করে কাঁদার সময়, খুবই কমন এবং সাধারণত ক্ষতিহীন।
নবজাতকের রক্ত সঞ্চালন সিস্টেম এখনও পুরোপুরি পরিণত হয় না। তাই একটু ঠান্ডা লাগলেই আপনি দেখতে পারেন:
যদি বাচ্চার বুক আর মুখের রঙ স্বাস্থ্যকর গোলাপি থাকে, আর অতিরিক্ত একটা কাপড়, কম্বল, কোলে নেওয়া, বা স্কিন-টু-স্কিন করলে কয়েক মিনিটের মধ্যে গায়ের দাগ হালকা হয়ে আসে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটা স্বাভাবিক।
দুশ্চিন্তা করবেন যদি:
এই ক্ষেত্রে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সারাক্ষণ আপনি-ই তো বাচ্চার পাশে থাকেন। রাত তিনটায় ওর ছোট ছোট আওয়াজ, ভোরের মুখে গায়ের হালকা রঙ, ওর স্বাভাবিক কান্না আর অস্বাভাবিক কান্নার পার্থক্য - এগুলো আপনি যেভাবে ধরতে পারবেন, বাইরে থেকে আসা কেউই প্রথম দেখায় পারবে না।
তাই যদি ভিতরে কোথাও বারবার বাজতে থাকে, «কিছু একটা ঠিক নেই», আর আপনি সেই অনুভূতি ঝেড়ে ফেলতে না পারেন, সেটাই যথেষ্ট কারণ:
আপনি বাড়াবাড়ি করছেন না, আপনি দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে আচরণ করছেন।
এই লেখাটা সেভ করে রাখতে পারেন, সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বা বিশ্বস্ত হেলথ সাইটগুলোর তথ্য ফোনে বুকমার্ক করে রাখতে পারেন। ধীরে ধীরে আপনি নিজেই বুঝে যাবেন, কোন নবজাতক লক্ষণ আসলে স্বাভাবিক বৈচিত্র, আর কোনগুলো সত্যিকারের সতর্কবার্তা। সেই আত্মবিশ্বাস সময়ের সাথে বাড়বে, একদিনে না হলেও ধীরে ধীরে।
ততদিন পর্যন্ত আশেপাশের পেশাদারদের ওপর ভরসা করুন, প্রশ্ন করুন, দ্বিধা করবেন না। এটাই তাদের কাজ, আর আপনার বাচ্চার নিরাপত্তার জন্য এটুকু বাড়তি সতর্ক থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।