নবজাতক ও ছোট শিশুর শ্বাসে অদ্ভুত শব্দ - কারণ, কখন ডাক্তারের প্রয়োজন এবং ঘরোয়া উপায়
রাত দুইটায় খাটে শুয়ে থাকা শিশুর নাক দিয়ে হঠাৎ অদ্ভুত শব্দ বেরোলে নতুন বাবা-মায়ের ঘুম উড়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। কখনও নাক ডাকার মতো আওয়াজ, কখনও ফুঁফুঁ শব্দ, আবার কখনও এমন জোরে শ্বাসের শব্দ হয় যে মনে হয় এত ছোট্ট শরীর থেকে এটি কীভাবে আসছে! আপনি যদি ভাবেন, শিশুর শ্বাসে এত শব্দ কেন, তাহলে জেনে রাখুন, আপনি একা নন।
ছোট শিশুদের শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিকভাবেই বেশ শব্দযুক্ত হতে পারে। তাদের শ্বাসনালি খুব সরু, শ্বাস নেওয়ার ছন্দ এখনও পুরোপুরি স্থির হয়নি, আর সামান্য সর্দি বা কফও অনেক জোরে শোনা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব শব্দ ক্ষতিকর নয়। তবে কিছু শব্দ শ্বাসকষ্টের ইঙ্গিত দিতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কোনটি স্বাভাবিক, আর কোনটি বিপদের লক্ষণ, তা জানা থাকলে উদ্বেগ কিছুটা কমে।
শিশুদের শ্বাসে এত অদ্ভুত শব্দ হয় কেন
নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুরা বড়দের মতো শ্বাস নেয় না। জন্মের পর তাদের শ্বাসতন্ত্র দ্রুত বদলাতে ও মানিয়ে নিতে থাকে। এ সময় শ্বাসের গতি ও শব্দে ওঠানামা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
কয়েকটি সাধারণ কারণে শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাস তুলনামূলক জোরে, কর্কশ বা অনিয়মিত শোনাতে পারে:
- শ্বাসনালি খুব সরু: গলার পেছনে সামান্য শুকনো শ্লেষ্মা, দুধ উঠে আসা বা থুতু জমলেও বেশ শব্দ হতে পারে।
- নাকের পথ সরু: জীবনের প্রথম কয়েক মাস শিশুরা মূলত নাক দিয়েই শ্বাস নেয়। নাক সামান্য বন্ধ থাকলেও নাক টানা, ঘড়ঘড় বা নাক ডাকার মতো শব্দ হতে পারে।
- শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে না পারা: শিশুরা নাক ঝাড়তে বা গলা পরিষ্কার করতে পারে না। ফলে সর্দি-কাশির কফ জমে থেকে শব্দ করে।
- শ্বাস নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনও পরিণত নয়: বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে ছোট শিশুর শ্বাস কখনও দ্রুত, কখনও ধীর হতে পারে।
- শ্বাসনালির নরম টিস্যু: কিছু শিশুর স্বরযন্ত্রের উপরের অংশের টিস্যু স্বাভাবিকের চেয়ে নরম থাকে। এই অবস্থাকে লারিঞ্জোম্যালাসিয়া বলা হয়।
শুধু শব্দ শুনে ভয় পাওয়ার আগে শিশুর সামগ্রিক অবস্থা দেখুন। জেগে থাকলে কি সে স্বাভাবিকভাবে সাড়া দিচ্ছে? দুধ খাচ্ছে? ঠোঁট ও শরীরের রং গোলাপি আছে? শ্বাসের ফাঁকে কি আরামেই থাকে? এসব লক্ষণ সাধারণত আশ্বস্ত করে।
নতুন বাবা-মাকে যে স্বাভাবিক শব্দগুলো বেশি চিন্তায় ফেলে
নাক ডাকা ও নাক টানার শব্দ
শিশুর স্নরিং বা নাক ডাকার মতো শব্দ নবজাতক বয়সে খুবই পরিচিত। নাকের ছিদ্র ছোট বলে সামান্য সর্দি, শুষ্ক বাতাস বা ঘুমের ভঙ্গির কারণেও প্রতিটি শ্বাস বেশ জোরে শোনা যেতে পারে।
দুধ খাওয়ানোর পরে, চিৎ হয়ে শোওয়ার সময় বা ঠান্ডা লাগলে নাক টানার শব্দ বাড়তে পারে। অনেক সময় নাক বন্ধের মতো শোনালেও বাইরে তেমন সর্দি দেখা যায় না।
শিশুর জন্য তৈরি নরমাল স্যালাইন নাকের ড্রপ বা স্প্রে সর্দি নরম করতে সাহায্য করে। দরকার হলে খুব আলতোভাবে ন্যাসাল অ্যাসপিরেটর বা বাল্ব সিরিঞ্জ ব্যবহার করা যায়। তবে বারবার সাকশন করলে নাকের ভেতরের পর্দা জ্বালা করতে পারে, ফুলেও যেতে পারে।
মাঝেমধ্যে হালকা নাক ডাকা সাধারণত চিন্তার বিষয় নয়। কিন্তু প্রতি রাতেই যদি খুব জোরে শব্দ হয়, শ্বাসের মধ্যে বিরতি দেখা যায়, অথবা শিশু ক্লান্ত দেখায় ও ঠিকমতো খেতে না পারে, তাহলে নিয়মিত চেকআপেই শিশু বিশেষজ্ঞকে জানান।
নবজাতকের বিরতিযুক্ত শ্বাসপ্রশ্বাস
ছোট শিশুদের একটি অদ্ভুত কিন্তু অনেক সময় স্বাভাবিক শ্বাসের ধরন হলো নবজাতকের বিরতিযুক্ত শ্বাসপ্রশ্বাস। শিশুটি কয়েকবার স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়ার পর ১০ সেকেন্ডের কম সময় থেমে থাকতে পারে, তারপর কিছুক্ষণ দ্রুত শ্বাস নিয়ে আবার আগের ছন্দে ফিরে যায়।
এটি এমন হতে পারে:
- কয়েকটি স্বাভাবিক শ্বাস
- অল্প সময়ের বিরতি, সাধারণত ১০ সেকেন্ডের কম
- কয়েকটি দ্রুত শ্বাস
- আবার স্বাভাবিক গতি
নবজাতকদের ঘুমের সময় এই ধরনটি বেশি দেখা যায়। মস্তিষ্কের শ্বাস নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয় না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি সাধারণত কমে যায়।
সেকেন্ড গুনে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুকে দেখুন। বিরতিটি ছোট হলে, শিশুর গায়ের রং স্বাভাবিক থাকলে, সে ঢিলে হয়ে না গেলে এবং নিজে থেকেই আবার নিয়মিত শ্বাস নিতে শুরু করলে সাধারণত ভয় নেই। তবে ১০ সেকেন্ডের বেশি শ্বাস বন্ধ থাকা, ঠোঁট নীলচে হওয়া, শরীর নিস্তেজ হয়ে যাওয়া বা শিশুকে জাগাতে কষ্ট হওয়া জরুরি চিকিৎসার কারণ।
ঘুমের মধ্যে গ্রান্টিং
মাঝেমধ্যে শিশু ঘুমে গ্রান্টিং বা গোঁ গোঁ শব্দ করা একেবারেই স্বাভাবিক হতে পারে। নবজাতকের ঘুম খুব হালকা হয়। ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা গা মোচড়ায়, কুঁকড়ে যায়, চিঁ চিঁ করে, চাপ দেওয়ার মতো শব্দ করে, এমনকি ছাগলছানার ডাকের মতো আওয়াজও করতে পারে।
কখনও হজমের কারণেও এমন হয়। পেটের গ্যাস বের করা বা পায়খানা করার সময় নবজাতক বেশ জোরে চাপ দেয়। পায়খানা নরম থাকলে এটিকে সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য বলা যায় না।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শব্দটি কত ঘন ঘন হচ্ছে। মাঝে মাঝে, বিশেষত ঘুমের সময় বা পায়খানার সময় গোঁ গোঁ করা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে গ্রান্টিং হলে তা আলাদা বিষয়, শ্বাসকষ্টের লক্ষণও হতে পারে।
শিশুর হিক্কি
শিশুর হিক্কি অত্যন্ত সাধারণ এবং প্রায় সব সময়ই নিরীহ। ফুসফুসের নিচে থাকা ডায়াফ্রাম নামের পেশিটি তখনও পুরোপুরি পরিণত নয়, তাই সহজেই সংকুচিত হয়ে হিক্কি ওঠে।
দুধ খাওয়ার পর, তাড়াহুড়ো করে বাতাস গিলে ফেললে, কান্না করলে বা পেট ভরে গেলে হিক্কি হতে পারে। কারও কারও প্রতিদিন হয়, আবার অনেক শিশুর কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতি ফিডের পরই হয়।
হিক্কি শিশুর কষ্ট দেয় না, সাধারণত আলাদা চিকিৎসাও লাগে না। ভয় দেখানো, শ্বাস আটকে রাখা বা ঘরোয়া কোনো কৌশল প্রয়োগের দরকার নেই। দুধ খাওয়ানোর পর কিছুক্ষণ সোজা করে কোলে রাখা, অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানো এবং হালকা ঢেকুর তুলিয়ে দিলে কখনও কখনও কমে। বেশির ভাগ সময় নিজে থেকেই থেমে যায়।
শ্বাসের যেসব শব্দে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে
কোনো শব্দ নিয়ে সন্দেহ হলে মোবাইলে ছোট একটি ভিডিও বা অডিও রেকর্ড করে রাখুন। শিশু বিশেষজ্ঞ বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেখালে চিকিৎসকের বুঝতে সুবিধা হবে। অনেক শিশুই আবার চেম্বারে ঢুকলেই সেই শব্দ করা বন্ধ করে দেয়!
শ্বাস নেওয়ার সময় চিকন, তীক্ষ্ণ শব্দ
শ্বাস নেওয়ার সময় চিকন বাঁশির মতো, কিঁ কিঁ বা কর্কশ শব্দকে স্ট্রাইডর বলা হয়। শিশু কাঁদলে, দুধ খেলে, চিৎ হয়ে শুলে বা উত্তেজিত হলে শব্দটি বেড়ে যেতে পারে।
অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এর কারণ লারিঞ্জোম্যালাসিয়া। এ অবস্থায় স্বরযন্ত্রের ওপরের নরম টিস্যু শ্বাস টানার সময় ভেতরের দিকে ঢুকে যায়। শুনতে ভয় লাগলেও হালকা লারিঞ্জোম্যালাসিয়া অনেক ক্ষেত্রে বয়সের সঙ্গে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়, সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে শ্বাসনালি শক্ত হলে সমস্যা কমে।
সম্ভাব্য লারিঞ্জোম্যালাসিয়া লক্ষণ হলো:
- বিশেষ করে কান্নার সময় শ্বাস টানলে তীক্ষ্ণ শব্দ হওয়া
- চিৎ হয়ে শুলে শব্দ বেড়ে যাওয়া
- দুধ খাওয়ার সময় শ্বাসে শব্দ হওয়া
- বারবার দুধ উঠে আসা বা রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা
- শিশুকে সোজা করে ধরলে বা শান্ত থাকলে শব্দ কমে যাওয়া
লারিঞ্জোম্যালাসিয়া প্রায়ই গুরুতর নয়, তবু দীর্ঘদিন স্ট্রাইডর থাকলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি। সমস্যা বেশি হলে দুধ খাওয়া, ওজন বাড়া বা শরীরে অক্সিজেনের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। খাওয়ার সময় বারবার দম আটকে যাওয়া, ওজন না বাড়া, শ্বাস বন্ধের বিরতি বা ঠোঁট নীল হয়ে গেলে দ্রুত সাহায্য নিন।
দীর্ঘস্থায়ী ফুঁফুঁ বা বাঁশির মতো শব্দ
শিশুর শ্বাসে ফুঁফুঁ শব্দ সাধারণত শ্বাস ছাড়ার সময় বেশি শোনা যায়। এটি নাক বন্ধের ঘড়ঘড় শব্দ থেকে আলাদা, অনেকটা বাঁশি বা সুরেলা শিসের মতো লাগতে পারে। এমন শব্দ বোঝাতে পারে যে নিচের শ্বাসনালি সরু হয়ে গেছে।
শিশু হাঁপানি শব্দটি অনেকেই শুনে ফেলেন, কিন্তু খুব ছোট শিশুর ক্ষেত্রে শুধু শব্দ শুনে হাঁপানি নির্ণয় করা যায় না। ভাইরাসজনিত ব্রঙ্কিওলাইটিস, ঠান্ডাজনিত বুকের সংক্রমণ বা শ্বাসনালির জ্বালার কারণেও ফুঁফুঁ শব্দ হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।
খুব ছোট শিশুর নতুন করে ফুঁফুঁ শব্দ শুরু হলে, শব্দটি না কমলে বা সঙ্গে কাশি থাকলে চিকিৎসককে দেখানো ভালো। সাধারণ সর্দিতেও শ্বাসে শব্দ হতে পারে, তাই নিজে থেকে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করবেন না। বরং দেখুন, শিশুটি কি স্বস্তিতে শ্বাস নিচ্ছে, নাকি প্রতিটি শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
শিশুর কাশি, কখন স্বাভাবিক আর কখন নয়
মাঝেমধ্যে শিশু কাশি দেওয়া স্বাভাবিক। মুখে লালা জমলে, নাকের সর্দি গলায় নামলে, বা দুধ খাওয়ার সময় সামান্য দুধ ভুল পথে গেলে শিশু কাশি দিয়ে তা পরিষ্কার করে। ফিডের সময় এক-দুবার কাশি সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়।
তবে কয়েক দিনের বেশি কাশি থাকলে, বিশেষ করে খুব অল্প বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বাচ্চার কাশি কেন হয় তার কারণ হতে পারে ভাইরাল সংক্রমণ, রিফ্লাক্স, নাকের সর্দি গলায় পড়া বা বুকের এমন কোনো সমস্যা যার পরীক্ষা দরকার।
কাশির ধরন খেয়াল করুন। দুধ খাওয়ার সময়ই কি কাশি বেশি হয়? রাতে বাড়ে কি? কাশির পরে বমি হচ্ছে, শিশু দুধ খেতে চাইছে না, নাকি অস্বাভাবিক ঘুমঘুম লাগছে? এসব তথ্য চিকিৎসককে কারণ বুঝতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে নবজাতকের কাশি হলে অবহেলা না করাই ভালো।
ঘেউ ঘেউ ধরনের কাশি
সিল মারা বা কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ের মতো কর্কশ কাশি ক্রুপের লক্ষণ হতে পারে। সাধারণত ভাইরাসের কারণে স্বরযন্ত্র ও শ্বাসনালির আশপাশ ফুলে গেলে এমন হয়। নাক দিয়ে পানি পড়ার পর শুরু হতে পারে এবং রাতে কাশি বেশি শোনায়।
শিশুকে শান্ত রাখুন, সোজা করে কোলে ধরুন এবং ঘর যেন খুব গরম না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। গরম পানির ভাপ সরাসরি শিশুর মুখে দেবেন না, এতে দগ্ধ হওয়ার ঝুঁকি আছে। কাশির সঙ্গে বিশ্রামের সময়ও শ্বাসে তীক্ষ্ণ শব্দ, বাড়তে থাকা অস্থিরতা বা দুধ খেতে সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
প্রতিটি শ্বাসে গ্রান্টিং
এটি ঘুমের মধ্যে মাঝে মাঝে হওয়া গোঁ গোঁ শব্দের মতো নয়। প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে গ্রান্টিং, বিশেষ করে শ্বাস ছাড়ার সময়, শিশু শ্বাসনালি খোলা রাখার চেষ্টা করছে এমন ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি তীব্র শ্বাসকষ্টের লক্ষণ হতে পারে।
জেগে বা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় প্রতিবার শ্বাসে যদি এই শব্দ হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। পরের ঘুমের পর কমে কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করবেন না।
বিপদের লক্ষণ: কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন
শিশুর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। শ্বাসকষ্টকে ঘরে বসে দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করা নিরাপদ নয়। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা গেলে স্থানীয় জরুরি সেবায় ফোন করুন - বাংলাদেশে ৯৯৯, ভারতে ১১২ - অথবা দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান:
- শিশু শান্ত অবস্থায় প্রতি মিনিটে ৬০ বারের বেশি শ্বাস নিচ্ছে
- প্রতি শ্বাসে পাঁজরের ফাঁক, বুকের নিচের অংশ বা গলার গোড়ার চামড়া ভেতরের দিকে ঢুকে যাচ্ছে, যাকে বুক দেবে যাওয়া বলা হয়
- শ্বাস নেওয়ার সময় নাকের পাখা বারবার ফুলে উঠছে
- ঠোঁট, জিহ্বা বা মুখ নীলচে, ধূসর বা অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে
- প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে গ্রান্টিং হচ্ছে
- শ্বাসকষ্টের জন্য শিশু দুধ খেতে পারছে না
- শিশু অস্বাভাবিক নিস্তেজ, খুব ঘুমঘুম, জাগানো কঠিন বা স্বাভাবিকের চেয়ে কম সাড়া দিচ্ছে
- শ্বাস বন্ধের বিরতি ১০ সেকেন্ডের বেশি, অথবা বিরতির সময় গায়ের রং বদলে যাচ্ছে
অতিরিক্ত সতর্ক মনে হওয়ার ভয় করবেন না। সম্ভাব্য শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাসে শব্দ কখন উদ্বেগজনক তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে দ্রুত পরীক্ষা করানোই নিরাপদ। রং বদলে গেলে বা স্পষ্টভাবে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে আগে সাহায্য নিন, পরে প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন।
মৃদু শ্বাসের শব্দ হলে ঘরে কী করতে পারেন
শিশু মোটামুটি ভালো থাকলে এবং সামান্য নাক বন্ধ বা নবজাতকসুলভ স্বাভাবিক শব্দ হলে কয়েকটি সহজ উপায় আরাম দিতে পারে:
- দুধ খাওয়ানোর পর কিছুক্ষণ শিশুকে সোজা করে কোলে রাখুন।
- নাক বন্ধ থাকলে স্যালাইন ড্রপ দিন, প্রয়োজন হলে খুব আলতোভাবে সাকশন করুন।
- একবারে বেশি দুধ খেতে কষ্ট হলে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ান।
- ঘর আরামদায়ক ঠান্ডা রাখুন এবং ধোঁয়ামুক্ত রাখুন। শিশুর আশপাশে কেউ ধূমপান করবেন না।
- ঘুমের সময় সব সময় শিশুকে চিৎ করে, শক্ত ও সমতল বিছানায় শোয়ান।
- গদি উঁচু করা, বালিশ, কুশন বা স্লিপ পজিশনার ব্যবহার করবেন না। এগুলো শিশুর ঘুমের জন্য নিরাপদ নয়।
কানে শোনা শব্দের চেয়ে চোখে দেখা অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যে নবজাতকের শ্বাসে শব্দ হচ্ছে, কিন্তু সে স্বাভাবিকভাবে দুধ খাচ্ছে, ওজন বাড়ছে, গোলাপি দেখাচ্ছে ও আরামে আছে, সে হয়তো শুধু শব্দ করে শ্বাস নেয়। অন্যদিকে, শব্দ কম হলেও দ্রুত শ্বাস, বুক দেবে যাওয়া বা দুধ না খাওয়া থাকলে দ্রুত নজর দেওয়া দরকার।
ক্লান্ত বাবা-মায়ের জন্য শেষ কথা
শিশুরা নাক টানা, কিঁ কিঁ শব্দ, হিক্কি, নাক ডাকা এবং ঘুমের মধ্যে গোঁ গোঁ করা সহ অবাক করার মতো নানা শব্দ করে। ছোট্ট শ্বাসনালি ও এখনও বিকাশমান শ্বাসতন্ত্রের কারণেই বেশির ভাগ শব্দ হয়। নবজাতকের বিরতিযুক্ত শ্বাসপ্রশ্বাস, মাঝেমধ্যে নাক ডাকা, শিশুর হিক্কি এবং ঘুমের মধ্যে অল্প গ্রান্টিং অনেক সময় স্বাভাবিক।
তবে দীর্ঘস্থায়ী ফুঁফুঁ শব্দ, শ্বাস টানার সময় তীক্ষ্ণ আওয়াজ, না কমা কাশি, ঘেউ ঘেউ কাশি এবং প্রতিটি শ্বাসে গ্রান্টিং অবহেলা করা ঠিক নয়। আপনার শিশুর স্বাভাবিক শব্দ আপনি সবচেয়ে ভালো চেনেন। কিছু যদি আলাদা, বেশি জোরে বা কষ্টকর মনে হয়, পরামর্শ নিন। এটি আতঙ্ক নয়, দায়িত্বশীল অভিভাবকত্ব।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।