প্রথম আট সপ্তাহ অনেক মা-বাবার কাছেই যেন ঘুমহীন এক ঘোরের মতো কাটে। বারবার দুধ খাওয়ানো, ডায়াপার বদল, কাপড় ধোয়া আর ঠান্ডা হওয়ার আগেই এক কাপ চা শেষ করার চেষ্টা। তারপর হঠাৎ একদিন, আপনার দিকে তাকিয়ে শিশুটি হাসে। সত্যিকারের হাসি, শুধু ঘুমের মধ্যে মুখ বেঁকানো নয়। অনেকের কাছেই এই মুহূর্তটি সময়কে থামিয়ে দেয়।
দুই মাসে শিশুর পরিবর্তন বেশ দ্রুত হয়। সে এখনও পুরোপুরি আপনার ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু হাসপাতাল বা বাসা থেকে নিয়ে আসা সেই ঘুমকাতুরে নবজাতকটি আর ঠিক আগের মতো নেই। হাত-পায়ের ঝাঁকুনিময় নড়াচড়া ধীরে ধীরে মসৃণ হচ্ছে, চোখ দিয়ে চারপাশের জিনিস খুঁজে দেখতে শিখছে, আর আপনার কথা শুনে কুঁকুঁ শব্দ, হাসি কিংবা আনন্দের লাথি দিয়ে সাড়া দিচ্ছে।
প্রতিটি শিশুর বিকাশের গতি আলাদা। তাই ২ মাসের মাইলস্টোনকে পরীক্ষা বা তুলনার মাপকাঠি না ভেবে সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে দেখুন। কোনো শিশু একদিকে দ্রুত এগোয়, অন্যদিকে একটু বেশি সময় নেয়। সময়ের আগে জন্মানো শিশুর ক্ষেত্রে সংশোধিত বয়স ধরে বিকাশ বিচার করা হয়। কোনো সন্দেহ থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরামর্শ নিন।
রাত তিনটায় কোলে অস্থির শিশুকে নিয়ে যদি আপনি খুঁজে থাকেন, “বাচ্চা ২ মাসে কি করে?”, তাহলে জেনে রাখুন, আপনি একা নন। এই বয়সে শিশু আশপাশের মানুষ ও পরিবেশের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত হতে শুরু করে, যা মা-বাবার কাছে খুবই আপন মনে হয়।
আপনার শিশুর মধ্যে হয়তো লক্ষ্য করবেন:
নবজাতক ২ মাস লক্ষণ বলতে খাওয়া, ঘুম আর গর্ভের বাইরের জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখনও দিনের বড় অংশ। তবে ২ মাসের শিশুর বিকাশে এখন পারস্পরিক সাড়াও যোগ হয়। আপনি শুধু তার যত্নই নিচ্ছেন না, তার সঙ্গে সম্পর্কও গড়ে উঠছে।
শিশুর শরীর নীরবে অনেক কাজ করে চলেছে। ঘাড়, কাঁধ, হাত ও শরীরের মাঝের অংশের পেশি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। জন্মের পরের প্রতিক্রিয়াজনিত নড়াচড়াগুলোও একটু একটু করে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
৮ সপ্তাহ বয়সের একটি আনন্দের মাইলস্টোন হলো মাথা নিয়ন্ত্রণের শুরু। পেটের ওপর শোয়ানোর সময়, অর্থাৎ টামি টাইমে, অনেক শিশু প্রায় ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত মাথা তুলতে পারে এবং কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখতে পারে। তারপর আবার গাল মাদুরে ঠেকে যেতে পারে। এটিও অগ্রগতি।
কিছু শিশুকে পেটের ওপর থাকলে কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে বুক সামান্য উঁচু করতে দেখা যায়। কয়েক মুহূর্তের জন্য কনুই কাঁধের নিচে রেখে সে চারপাশ দেখার চেষ্টা করে। পরে গড়ানো, বসা এবং হামাগুড়ি দেওয়ার জন্য এই শক্তিই কাজে লাগবে।
২ মাসের শিশুর টামি টাইম দীর্ঘ বা নিখুঁত হওয়া জরুরি নয়। দিনে কয়েকবার অল্প অল্প করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। চেষ্টা করতে পারেন:
টামি টাইমে সব সময় শিশুর পাশে থাকুন। ঘুমের সময় অবশ্যই তাকে চিৎ করে শুইয়ে দিন।
শুরুর দিনগুলোতে শিশুর হাত-পা হঠাৎ চমকে ওঠার মতো নড়তে দেখা যায়। দুই মাসে সেই নড়াচড়া অনেকের ক্ষেত্রেই কিছুটা মসৃণ হয়। আপনি কাছে এসে কথা বললে সে ছন্দে ছন্দে পা ছুড়তে পারে। হাতও বড় বড় ভঙ্গিতে নেড়ে আনন্দ প্রকাশ করতে পারে।
২ মাসের শিশুর মুভমেন্ট এখনও পুরোপুরি সমন্বিত নয়। তবু ইচ্ছার আভাস দেখা যায়। হাত মুখের দিকে এগোয়, পা আপনার কোলের ওপর ঠেলা দেয়, ঝোলানো খেলনার দিকে হাত বাড়িয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এই ছোট্ট চেষ্টাগুলো দেখতেও দারুণ মিষ্টি।
নবজাতকের শক্ত করে বন্ধ রাখা মুঠো ধীরে ধীরে শিথিল হয়। শিশু শান্ত থাকলে তাকে হাত খোলা রাখতে দেখা যেতে পারে। আঙুল আঁকড়ে ধরার জন্মগত প্রতিক্রিয়া কমতে শুরু করলেও আপনার আঙুল সে এখনও বেশ জোরেই ধরতে পারে।
খুব শিগগিরই সে খেলনার দিকে হাত ছোঁড়ার বা মাথার ওপর ঝোলানো কিছুতে অনিচ্ছাকৃতভাবে টোকা দেওয়ার চেষ্টা করবে। এখনও সে বুঝতে পারে না যে তার হাতের কারণেই খেলনাটি নড়েছে, তবে সেই বোঝাপড়াও আসছে।
কিছু শিশুর জন্মের সময়ের তুলনায় দিনে জেগে থাকার মোট সময় প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এর মানে এই নয় যে তাকে সারাদিন নানা কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। বরং খাওয়া ও ঘুমের মাঝখানে শান্তভাবে জেগে থাকার ছোট ছোট সময় বাড়ে।
২ মাসের ঘুম ও খাবার এখনও অনেকটাই অনিয়মিত থাকতে পারে। দিনে বারবার ছোট ঘুম, রাতে দুধ খাওয়ার জন্য ঘন ঘন জেগে ওঠা খুব স্বাভাবিক। কেউ কেউ রাতে একটু দীর্ঘ সময় ঘুমাতে শুরু করে, আবার অনেকে করে না। দুই অবস্থাই স্বাভাবিক হতে পারে।
ঘড়ির চেয়ে শিশুর সংকেত দেখুন। হাই তোলা, শূন্যে তাকিয়ে থাকা, মুখ ঘষা, বিরক্ত হওয়া বা মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ঘুমের প্রস্তুতির লক্ষণ হতে পারে।
এই বয়সে শিশুর দেখার জগৎ দ্রুত খুলতে থাকে। শিশু দৃষ্টি ২ মাসে প্রথম কয়েক সপ্তাহের তুলনায় পরিষ্কার হয়, আর মুখ, বৈপরীত্যপূর্ণ নকশা ও নড়াচড়ার প্রতি কৌতূহল বাড়ে।
অনেক শিশু এখন মুখ, খেলনা বা সাদা-কালো ছবি ধীরে ধীরে এক পাশ থেকে অন্য পাশে গেলে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত চোখে অনুসরণ করতে পারে। আগে যেখানে মাঝপথে দৃষ্টি হারিয়ে ফেলত, এখন পুরোটা পথ তাকিয়ে থাকার চেষ্টা করে।
শিশু আরামদায়ক ও জেগে থাকলে আপনার মুখটি ধীরে ধীরে ডান থেকে বামে নড়ান। দেখবেন তার চোখ আপনাকে অনুসরণ করছে, কখনও মাথাটাও ঘোরাচ্ছে। এর জন্য দামি খেলনার দরকার নেই।
দুই মাস বয়সে অনেক শিশু মা-বাবা বা নিয়মিত যত্ন নেওয়া মানুষের মুখ চিনতে শুরু করে। আপনাকে দেখলে সে গভীরভাবে তাকিয়ে থাকতে পারে, মুখ উজ্জ্বল দেখাতে পারে, কিংবা অপরিচিত কারও চেয়ে আপনার কোলে সহজে শান্ত হতে পারে।
এটি শুধু অস্পষ্টভাবে চেনা নয়। আপনার চোখের গড়ন, মুখের অভিব্যক্তি, গায়ের গন্ধ ও কণ্ঠস্বর সে মনে রাখতে শিখছে। তার ছোট্ট পৃথিবীতে আপনি সবচেয়ে পরিচিত মানুষদের একজন হয়ে উঠছেন।
এখন শিশুর চোখে পছন্দ-অপছন্দের ইঙ্গিতও দেখা যায়। গাঢ় নকশা, সহজ আকৃতি, মুখের ছবি ও উচ্চ বৈপরীত্যের বই তাকে বেশি টানে। সাদামাটা দেয়ালের চেয়ে ডোরাকাটা কাপড় বা আপনার নকশাদার ওড়নার দিকে সে বেশি সময় তাকিয়ে থাকতে পারে।
রংও সে ধীরে ধীরে স্পষ্ট দেখতে শুরু করে। উজ্জ্বল লাল, হলুদ ও নীল তার নজর কাড়তে পারে। ঘরভর্তি ঝলমলে খেলনা লাগবে না, রঙিন গামছা, ছবির বই বা জানালার বাইরের গাছপালাই তার জন্য যথেষ্ট।
জন্মের পর থেকেই শিশু শুনতে পায়, তবে দুই মাসে তার প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি বোঝা যায়। আপনার কণ্ঠস্বর তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের পরিচিত শব্দ, বড় ভাইবোনের হাসি কিংবা নিয়মিত শোনা গানও তার মনোযোগ টানতে পারে।
অনেক ২ মাসের বাচ্চা শব্দের দিকে, বিশেষ করে মানুষের কণ্ঠের দিকে, মাথা ঘোরানো শুরু করে। খাটের এক পাশ থেকে কথা বললে সে সেদিকে তাকাতে পারে, অথবা ঘরে কেউ ঢুকলে সাড়া দিতে পারে।
পরিচিত ও অপরিচিত কণ্ঠের পার্থক্যও সে বুঝতে শুরু করে। পরিচিত কারও গলা শুনে কান্না থামতে পারে, মুখ শান্ত হতে পারে বা আনন্দে শরীর নড়তে পারে। অপরিচিত কণ্ঠে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সে কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে থাকতে পারে।
কিছু শিশু গান শুনলে চুপ করে মন দিয়ে শোনে। লোরি, নরম সুরের গান, রেডিওর পরিচিত অনুষ্ঠান বা আপনার নিজের গলায় গাওয়া গানও তার ভালো লাগতে পারে। সুর একদম ঠিক হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভাববেন না। আপনার শিশুর কাছে আপনার কণ্ঠটাই সবচেয়ে আপন।
টেলিভিশন, মোবাইল, স্পিকার বা ইয়ারফোনের শব্দ কম রাখুন। শিশুর কান সংবেদনশীল, তাই নরম ও শান্ত শব্দই যথেষ্ট।
এই মাসটি অনেক মা-বাবার স্মৃতিতে আলাদা জায়গা করে নেয়। ২ মাসের শিশুর হাসি সাধারণত এ সময় বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং মনে হয়, সে যেন সত্যিই আপনাকে বলছে, “আমি তোমাকে চিনেছি।”
নবজাতক অবস্থায় ঘুমের মধ্যে যে ক্ষণিকের হাসি দেখা যায়, সামাজিক হাসি তার চেয়ে আলাদা। আপনি হাসলেন, সেও হাসল। আপনি মজার শব্দ করলেন, তার পুরো মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেল।
সব শিশু ঠিক আট সপ্তাহেই হাসবে, এমন নয়। কেউ একটু আগে, কেউ একটু পরে হাসতে শুরু করে। শিশু যদি মুখের দিকে তাকায়, সজাগ থাকে এবং ধীরে ধীরে সাড়া বাড়ায়, তাহলে তাকে নিজের সময় দিন।
কিছু শিশু দুই মাসেই উত্তেজনায় চিৎকার বা হাসির মতো শব্দ করতে পারে, যদিও জোরে খিলখিল হাসি সাধারণত একটু পরে আসে। খেলতে খেলতে হালকা শ্বাসের সঙ্গে হাসির শব্দ, বা মজার মুখভঙ্গিতে আনন্দের চেঁচামেচি শুনতে পারেন।
তার পুরো শরীরও যেন কথোপকথনে অংশ নেয়:
দেখতে এলোমেলো লাগলেও এগুলোই ২ মাসে শিশুর সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও যোগাযোগের অংশ।
শিশু পরিচিত মানুষদের প্রতি আলাদা টান দেখাতে পারে, বিশেষ করে মা-বাবা ও নিয়মিত দেখাশোনা করা ব্যক্তির প্রতি। আপনার কোলে দ্রুত শান্ত হওয়া, গলা শুনে স্বস্তি পাওয়া, সকালে নিয়মিত কথা বলার সময়ে বেশি হাসা এসবের উদাহরণ।
এতে শিশুকে “অতিরিক্ত আদর” দেওয়া হচ্ছে না, কিংবা সে “বেশি আঁকড়ে ধরছে” এমনও নয়। সে নিরাপদ সম্পর্ক তৈরি করছে। বিশ্বস্ত একজন বড় মানুষের কাছে নিরাপত্তা পেলে চারপাশের জগত দেখার সাহসও বাড়ে।
দুই মাস বয়সে শিশুর কোনো শব্দভাণ্ডার নেই, কিন্তু সে যোগাযোগ করছে ঠিকই। তার আওয়াজ, মুখভঙ্গি, শরীরের নড়াচড়া এবং কান্না, সবকিছুরই অর্থ আছে।
অনেক শিশু এ সময় “উ”, “আ”, “এ” ধরনের নরম স্বরধ্বনি নিয়মিত করতে শুরু করে। ডায়াপার বদলানোর সময়, খেলনার নিচে শুয়ে থাকলে বা ঘুম থেকে ওঠার পর আপনি কাছে গেলে এসব শব্দ শোনা যায়।
কখনও কুঁকুঁ শব্দের মাঝে ব্যঞ্জনধ্বনির আভাসও আসে, যেমন “গু” বা “ম্ম”। এখনও তা শব্দ নয়, তবে কথা বলার অনুশীলন শুরু হয়ে গেছে।
শিশুর সঙ্গে কথা বলুন, তারপর একটু থামুন। সে কুঁকুঁ শব্দে, হাত-পা নেড়ে বা বড় বড় চোখে তাকিয়ে জবাব দিতে পারে। এই পালা করে সাড়া দেওয়াই ভবিষ্যতের কথোপকথনের শুরু।
তার করা শব্দ অনুকরণ করুন, তারপর আবার তার প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করুন। প্রথমে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু সে যখন আবার সাড়া দেবে, তখন সত্যিই মনে হবে আপনারা গল্প করছেন।
এই সময়ে অনেক মা-বাবা কান্নার ফারাক ধরতে শুরু করেন। ক্ষুধার কান্না, ঘুমের ক্লান্তির কান্না, কোলে ওঠার আবদার কিংবা ভেজা ডায়াপারের বিরক্তি, ধীরে ধীরে আলাদা মনে হতে পারে।
প্রতিটি কান্নার মানে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা সম্ভব নয়। কারও পক্ষেই সব সময় তা হয় না। তবে দিন যেতে যেতে কিছু পরিচিত ধরন তৈরি হয়। নিজের পর্যবেক্ষণের ওপর ভরসা রাখুন।
এই বয়সে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ মানে ধাঁধা মেলানো নয়। বরং বারবার ঘটতে থাকা ঘটনা, দৃশ্য ও অনুভূতির মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া।
দুধের বোতল বা বুক দেখলে কি শিশু উত্তেজিত হয়? আপনি যে চেয়ারে বসে সাধারণত দুধ খাওয়ান, সেখানে বসলেই কি সে হাত-পা নাড়াতে থাকে? তাহলে সে হয়তো রুটিন আগে থেকে আন্দাজ করতে শিখছে।
বোতল দেখেই মুখ খোঁজা, পা ছোড়া বা খুশিতে অস্থির হওয়া তার প্রাথমিক স্মৃতি ও প্রত্যাশার লক্ষণ। ছবি বা দৃশ্যের সঙ্গে পেট ভরে দুধ খাওয়ার আরামকে সে মিলিয়ে ফেলছে। যে শিশু এখনও নিজের মাথা পুরোপুরি সামলাতে পারে না, তার জন্য এটিও বড় শেখা।
এখন শিশুর নিজের হাতই যেন সবচেয়ে আকর্ষণীয় খেলনা। সে হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে, মুখের সামনে ধরে বা মুখে দেওয়ার চেষ্টা করে। কখনও ভুল করে নাকে বা মুখে হাতের ধাক্কা লাগলে চমকে যায়, আবার চেষ্টা করে।
নিজের হাত আবিষ্কার ২ মাসের শিশুর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই হাতই পরে ধরা, টানা, ছোঁয়া, অনুসন্ধান করা এবং নিজেকে শান্ত করার কাজে লাগবে।
এই ২ মাসের মাইলস্টোন তালিকাকে শিশুর অগ্রগতির একটি ছবি হিসেবে দেখুন, নম্বর দেওয়ার তালিকা হিসেবে নয়। কিছু দক্ষতা সে এখন দেখাতে পারে, কিছু আবার আগামী কয়েক সপ্তাহে আসবে।
শিশু শব্দে সাড়া না দিলে, চোখে চোখ না রাখলে, খাওয়াতে সমস্যা হলে, শরীর খুব শক্ত বা অস্বাভাবিক ঢিলে মনে হলে, কিংবা দৃষ্টি ও শ্রবণ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন। নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক বা শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও পরামর্শ নিতে পারেন। নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন, আপনার শিশুকে আপনি সবচেয়ে ভালো চেনেন।
সামনের কয়েক সপ্তাহে শিশুর ব্যক্তিত্ব আরও স্পষ্ট হবে। তৃতীয় মাসে টামি টাইমের সময় বাড়তে পারে, মাথার নিয়ন্ত্রণ শক্ত হতে পারে, খেলনার দিকে আরও উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে হাত বাড়াতে পারে এবং “আলাপ” আরও জমে উঠতে পারে। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে হাসা, আঙুল নিয়ে মগ্ন থাকা, বা আপনার সবচেয়ে বেসুরো গানেও সত্যিকারের হাসি দেওয়া, সবই দেখা যেতে পারে।
নবজাতকের প্রথম দিনগুলো ইতিমধ্যেই বদলে যাচ্ছে। শিশু দেখছে, শুনছে, শিখছে এবং পরিবারের ছন্দের সঙ্গে নিজেকে মেলাচ্ছে। হ্যাঁ, তার এখনও প্রচুর দুধ, ঘুম আর আদর দরকার। তবে সে ধীরে ধীরে আপনাকে জানাতেও শুরু করেছে, সে আসলে কেমন।