আপনার ঘর ভরে বেবি জিনিস না থাকলেই আপনি খারাপ মা বাবা হবেন, এমনটা একদমই না। সত্যি কথাই বলি।
আপনি যদি এখন গর্ভবতী হন আর একের পর এক ৫০ আইটেমের „নবজাতকের জিনিসপত্র তালিকা” দেখে মাথা ঘুরে যায়, মনে হয় এত কিছু রাখবই বা কোথায় - এই লেখা আপনার জন্য।
এটা খুব বাস্তবধর্মী, ঝামেলাহীন এক নবজাতক কেনার চেকলিস্ট। বাড়তি ফ্যাশন নেই, অপরাধবোধ নেই, «এই ৩০ হাজার টাকার গ্যাজেট না কিনলে আপনার বাচ্চা ঘুমাবে না» ধরনের ভয় দেখানোও নেই। শুধু প্রথম ২ থেকে ৩ মাসে বাংলাদেশে বা আমাদের উপমহাদেশে বাস্তবে যেটুকু লাগে, কোনগুলো ভালো থাকলে বাড়তি সুবিধা, আর কোনগুলো পরে কিনলেই চলে - তা পরিষ্কার করে দেওয়া আছে।
এটাকে ধরে নিয়ে আপনার নিজের নবজাতক বাড়ি আসার চেকলিস্ট বানিয়ে নিন, আর বাকি মার্কেটিং কোলাহলে নিশ্চিন্ত মনে „না, দরকার নেই” বলতে শিখুন।
Tier 1: অবশ্যই লাগবে এমন Newborn Essentials
নবজাতকের বেসিক চাহিদা খুব সোজা - সুরক্ষা, খাওয়া, ঘুম, পরিষ্কার ও গরম থাকা। টাকা বা জায়গা যদি সীমিত হয়, আগে এই অংশের বেবি জিনিসগুলো ঠিক করুন।
1. কার সিট
সংখ্যা: ১টি
আপনি যদি কখনও প্রাইভেট কার, উবার, রাইড শেয়ার, বাসা থেকে হসপিটাল যাওয়ার অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়িতে কোথাও যান - বিশেষ করে হাসপাতালে থেকে বাচ্চাকে প্রথম দিন বাসায় আনার সময় - একটি সঠিকভাবে ফিট করানো বেবি কার সিট থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ বা ভারতীয় রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনার হার কম না, তাই এটার বিষয়টা হেলাফেলা করবেন না।
কিনে নেওয়ার টিপস:
- নতুন কিনুন, নিরাপত্তার জন্য। পুরোনো কার সিট সাধারণত না নেওয়াই ভালো, যদি না একদম কাছের আত্মীয় বা খুব বিশ্বাসযোগ্য কারও হয় এবং আপনি নিশ্চিত থাকেন যে কখনও এক্সিডেন্টে ছিল না, পড়ে ভাঙেনি, বা লম্বা সময় রোদে-নমে নষ্ট হয়নি। ভেতরের ক্ষতি বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
- আপনার গাড়ির মডেল মিলিয়ে দেখুন। এখন অনেক শোরুমেই আপনাকে সিট ফিট করে দেখিয়ে দেয়। নিজের গাড়ি নিয়ে গিয়ে আগে বসিয়ে দেখে নিন, সিট বেল্ট ঠিক মতো লাগে কি না।
- শুরুতেই খুব ঝামেলাপূর্ণ না নিলেও চলে। একেবারে বেসিক ইনফ্যান্ট কার সিট, যা একটানা গাড়িতেই লাগানো থাকে, সেটাই যথেষ্ট। শুরুতেই বড় ট্রাভেল সিস্টেম বা ঘোরানো বেস না নিলেও হবে, পরে প্রয়োজন হলে ভাববেন।
- আগে থেকেই প্র্যাকটিস করুন। বাচ্চা আসার আগে একটা পুতুল বা গোটানো তোয়ালে দিয়ে কয়েকবার বেল্ট লাগানোর অনুশীলন করে নিন। হাস্যকর মনে হলেও, পরে ক্লান্ত অবস্থায় জরুরি সময়ে অনেক উপকার হবে।
আপনার যদি লাইফস্টাইলে একদমই গাড়ি ব্যবহার না থাকে, সবই যদি হেঁটে, রিকশা বা পাবলিক বাসে সেরে ফেলেন, সেক্ষেত্রে শুধু „ধরলাম লাগতে পারে” ভেবে বেবি কার সিট কেনার দরকার নেই।
2. নিরাপদ ঘুমের জায়গা
নবজাতকের আসলে লাগে নিরাপদ, সমতল, শক্ত একটু জায়গা, যেখানে সে ঘুমাবে। ব্যাস। দামী ফার্নিচার অপরিহার্য কিছু না।
যে অপশনগুলো আমাদের দেশে নিরাপদ ঘুমের গাইডলাইনের সঙ্গে যায়:
- কাঠের বা লোহার বেড/কট, সঙ্গে নতুন, শক্ত ম্যাট্রেস
- বেডের পাশে লাগানো কো-স্লিপার/সাইড কট (সেফটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে বানানো)
- দোলনা বা মোড়া টাইপ দোলনা এড়িয়ে সমতল মশারির ভেতর খাটের একপাশে ছোট কট বা মোটা পাটির উপর নতুন ম্যাট্রেস
মিনিমাম যা লাগবেই:
- ১টি নিরাপদ ঘুমের জায়গা (কট / ক্রিব / শক্ত ম্যাট্রেস)
- ওই ম্যাট্রেসের জন্য ২টি ফিটেড চাদর
- ১টি ওয়াটারপ্রুফ ম্যাট্রেস প্রটেক্টর
কিনে নেওয়ার টিপস:
- অবশ্যই নতুন ম্যাট্রেস। কারও পুরোনো কট বা খাট নিলেও, ম্যাট্রেসটা নতুন নিন। চারপাশে দুই আঙুলের বেশি ফাঁক যেন না থাকে।
- অতিরিক্ত সাজসজ্জা এড়িয়ে চলুন। বেড বাম্পার, বালিশ, রঙিন নরম খেলনা, পুরু রেজাই, স্লিপ পজিশনার - দেখতে যতই সুন্দর লাগুক, নিরাপত্তা বাড়ায় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ায়। নবজাতকের জন্য সমতল, ফাঁকা ঘুমের জায়গাই সবচেয়ে নিরাপদ।
- দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করলে কট বেড ভালো। অনেক কট আছে যেগুলো পরে টডলার বেডে পরিণত হয়। বাজেট কম হলে আপাতত সাধারণ কট আর নতুন ম্যাট্রেস নিলেই চলবে।
- অল্পদিনের জিনিস ধার নিন। মশারিসহ ছোট কট, কো-স্লিপার টাইপ ক্রিব ইত্যাদি সাধারণত ৩-৬ মাসের বেশি চলে না, এগুলো আত্মীয়-বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিলে বেশ সুবিধা।
মার্কেটিং আপনাকে বোঝাবে „নার্সারি ডেকর” নাকি নবজাতকের জন্য অপরিহার্য। আসলে আপনার বাচ্চার একদমই পরোয়া নেই দেয়াল কোন রঙের।
3. ডায়াপার আর ওয়াইপস
প্রথম এক-দুই সপ্তাহের জন্য আনুমানিক পরিমাণ:
- ডিসপোজেবল ডায়াপার: ছোট সাইজ (নবজাতক / ২-৫ কেজি) ১ থেকে ২ প্যাকেট (মোট ৫০-৮০টা মতো)
- বা কাপড়ের ডায়াপার ব্যবহার করলে: ২০ থেকে ২৪টা কাপড়ের ডায়াপার + লাইনার
- ওয়াইপস: ১টা বড় মাল্টিপ্যাক, যেন সুগন্ধি ছাড়া হয়
বা কটন আর হালকা গরম পানি (অনেক ডাক্তার নবজাতকের জন্য এটা-ই সাজেস্ট করেন)
নবজাতক সাধারণত দিনে গড়ে ৮ থেকে ১২বার ডায়াপার ভেজায়। ধীরে ধীরে কমে আসবে।
কিনে নেওয়ার টিপস:
- অনেক বেশি নবজাতক সাইজ মজুত করবেন না। অনেক বাচ্চাই ওজন ধরে রাখলে তাড়াতাড়ি পরের সাইজে চলে যায়। কেউ কেউ জন্ম থেকেই বড় সাইজে যায়। তাই ১-২ প্যাকেট নিয়ে দেখে তারপর আগাবেন।
- ব্র্যান্ড নিয়ে খুব ভয়ের কিছু নেই। আমাদের দেশে সুপারশপের বা লোকাল ব্র্যান্ডের ডায়াপারও অনেক সময় দামী ইমপোর্টেড ব্র্যান্ডের মতোই ভালো থাকে। আগে ছোট প্যাকেট নিয়ে ট্রাই করে নিন।
- সাধারণ, সুগন্ধি ছাড়া প্রোডাক্ট নিন। নবজাতকের স্কিন খুব সেনসিটিভ থাকে। সুগন্ধি, অ্যালকোহল ইত্যাদি যত কম, তত ভালো।
- পরে বাল্কে কিনুন। কোন ব্র্যান্ড, কোন সাইজ আপনার বেবির জন্য ভালো মানাচ্ছে বুঝে গেলে তখন বড় প্যাক বা কার্টন নিয়ে রাখতে পারেন।
এই অংশটা একবার কিনে শেষ হয়ে যাবে না, নিয়মিত চলবে। তাই নবজাতকের জিনিসপত্র তালিকা বানানোর সময় পুরো মাসের বদলে প্রথম এক সপ্তাহ-দশদিনের হিসাবই আগে রাখুন।
4. বেসিক কাপড়চোপড়
নবজাতকের জন্য আলাদা ডিজাইনার ওয়ার্ডরোবের দরকার নেই। ওরা খুব দ্রুত বড় হয়, বারবার দুধ উল্টে দেয়, আর সারাক্ষণ ধোয়া-শুকোনো লেগেই থাকে।
সোজা, ব্যবহারিক, বারবার বদলানো যায় - এই ভাবনায় কিনুন। প্রথম ২-৩ মাসের জন্য শিশুর কাপড় কী কিনব ভেবে ঘাবড়ানোর দরকার নেই, নিচের মতো হলেই যথেষ্ট।
মেইন আইটেম:
- ৫-৭টা বডিস্যুট (হাফ/ফুল হাতা, নিচে বোতাম থাকে, ডায়াপারের ভেতর ঢুকিয়ে পরানো যায়)
- ৫-৭টা স্লিপস্যুট/জাম্পস্যুট (টু-টো সেলাই, সামনের দিকে চেন বা বাটন)
- ২-৩টা টুপি (নরম সুতি, শুধু বাইরে যাওয়ার সময় বা জন্মের পরের প্রথমদিকের দিনগুলোয়)
- ৫-৭ জোড়া মোজা (যদি স্লিপস্যুটে ইনবিল্ট পা না থাকে)
- ২টা কার্ডিগান বা পাতলা সোয়েটার (লেয়ার করে পরানো যায়, ঘুমের সময় মোটা হুডি দেবেন না)
মৌসুমভেদে:
- গরমকালে: ১-২টা হালকা কটন ফ্রক/ওয়ানপিস বা পাতলা পোশাক বাড়তি রাখুন
- শীতকালে: ১টা গরম প্রামস্যুট বা মোটা পুরো শরীর ঢাকার জামা, শুধু বাইরে বেরোনোর জন্য। ঘুমের সময় মোটা জামায় ঘেমে যাবে, তাই এড়িয়ে চলুন।
কিনে নেওয়ার টিপস:
- নবজাতক সাইজ খুব বেশি কিনবেন না। অনেকে ০-১ মাস সাইজ কয়েক দিনের মধ্যে ফিট করে না। তাই
- অল্প কিছু নিন নবজাতক/০-১ মাস সাইজে
- বেশির ভাগ রাখুন ০-৩ মাস সাইজে
- নিউট্রাল রঙ বেছে নিন। সাদা, ধূসর, হালকা প্রিন্ট এগুলো একে অপরের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায়, পরের বেবির জন্যও রেখে দেওয়া যায় বা অন্যকে দিয়ে দেওয়া যায়।
- চেন (জিপার) অনেক আরামদায়ক। রাত ৩টায় অসংখ্য ছোট বোতাম আটকানোর চেয়ে সামনের দিকের চেন অনেক কম কষ্ট।
- হ্যান্ড-ডাউন নিতে লজ্জা করবেন না। কাজিন বা বন্ধুর পুরোনো ধোয়া কটন অনেক সময় নতুনের চেয়ে নরম আর আরামদায়ক হয়, আর আপনার বাজেটও বেঁচে যায়।
আপনার ড্রয়ার যদি বাচ্চা আসার আগেই উপচে পড়ে, ধরে নিন আপাতত যথেষ্টই আছে।
5. সোয়াডল আর স্লিপ স্যাক
সোয়াডল দেওয়া বাধ্যতামূলক কিছু না, কিন্তু কম্পল ছাড়া নিরাপদ ঘুমের জন্য কিছু গোছানো লেয়ার খুব কাজে লাগে।
সংখ্যা:
- ২-৩টা সোয়াডল কম্বল বা ভেলক্রো/চেন লাগানো প্রি-সোয়াডল
- ২টা স্লিপ স্যাক (সাধারণত ০-৩ মাস সাইজ, রুমের তাপমাত্রা অনুযায়ী টগ ঠিক আছে কি না দেখে নিন)
কিনে নেওয়ার টিপস:
- টগ (TOG) দেখে নিন। আমাদের দেশে অনেক সময় ঘরের তাপমাত্রা ২০-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। তাই খুব মোটা কম্বল বা স্লিপ স্যাক না নিয়ে, মাঝারি পাতলার দিকে থাকুন। অনেক ব্র্যান্ড তাপমাত্রা অনুযায়ী কী পরাতে হবে, সেটা গাইডলাইন দিয়ে রাখে।
- একসাথে বেশি কিনবেন না। সব বাচ্চা সোয়াডল পছন্দ করে না, কেউ কেউ পা-হাত ছুড়ে ফেলে। আগে ১-২টা নিয়ে ট্রাই করুন, পরে দরকার হলে বাড়ান।
- ঘুমের জন্য আলগা কম্বল কমিয়ে দিন। আলগা কাপড় বা ভারী কম্বল crib/কটে রাতের ঘুমের সময় না দিলেই ভালো। কোলে নেওয়া, বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, বা প্রামে দেওয়ার সময় ব্যবহার করুন।
ভালো মানের ২টা স্লিপ স্যাক অনেক সময় পুরো নবজাতক পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া জিনিসের মধ্যে পড়ে।
6. ফিডিং সরঞ্জাম
আপনি বুকের দুধ, ফর্মুলা দুধ, বা দুটোর মিশ্রণ যা-ই ভাবুন না কেন, খাওয়ানো নিয়ে অনেক কথা চলবে। কিন্তু তাই বলে শপিং মলে যা আছে সব কিনতে হবে, এমন নয়।
যদি বুকের দুধ খাওয়ানোর প্ল্যান থাকে
মিনিমাম:
- ২-৩টা নার্সিং ব্রা
- ১-২ প্যাকেট ব্রেস্ট প্যাড (ওয়াশেবল বা ডিসপোজেবল)
- মাসলিন কাপড় / বার্প ক্লথ (পরের সেকশনে আছে)
ঐচ্ছিক কিন্তু দরকার হলে উপকারি:
- অল্প সাইজের নিপল ক্রিম
- রিইউজেবল ব্রেস্ট প্যাড
বাচ্চা জন্মানোর আগেই দামী ইলেকট্রিক পাম্প কিনতেই হবে, এমন কিছু নেই। অনেক মায়ের ক্ষেত্রেই ফ্রি-ফ্লোতে ভালো চলে যায়।
যদি পরে দেখেন এক্সপ্রেস করে ফ্রিজে জমিয়ে রাখতে চান, বা অফিসে যেতে হবে, তখন পাম্প কিনে বা ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের দেশে অনেক ল্যাকটেশন কনসালট্যান্ট বা হসপিটালেও রেন্টাল পাম্পের অপশন থাকে।
যদি ফর্মুলা খাওয়ানোর প্ল্যান থাকে
মিনিমাম:
- ৬-৮টা বেবি বোতল, নবজাতকের জন্য স্লো-ফ্লো নিপলসহ
- ১ টিন ফর্মুলা পাউডার, যেটা আপনি ডাক্তার বা নিজের রিসার্চে ঠিক করেছেন
- ১টা বোতল ব্রাশ
- স্টেরিলাইজ করার ব্যবস্থা
- ইলেকট্রিক বা মাইক্রোওয়েভ স্টেরিলাইজার
- বা বড় হাঁড়ি/পাত্রে ফুটানো
- বা ঠান্ডা পানিতে স্টেরিলাইজিং ট্যাবলেট + ঢাকনাযুক্ত টব
কিনে নেওয়ার টিপস:
- অনেক ব্র্যান্ড একসাথে কিনবেন না। কোন ফর্মুলা আপনার বাচ্চাকে মানাবে, সেটা আগে না জেনে মজুত করে রাখলে পরে বদলানো ঝামেলা হয়। শুরুতে ১ টিন নিয়েই দেখুন।
- খুব ছোট বোতলের সেট এড়িয়ে যান। একবারে ১২০-১৫০ মিলি ধারণক্ষম বোতল নিন। শুরুতে কম খাবে, কিন্তু দ্রুতই বেশি খেতে শুরু করবে।
- রেডি-ম্যাড ফর্মুলা কার্টন কাজে লাগে। হসপিটালের ব্যাগে বা প্রথম কয়েকদিন হাতের কাছে ২-৩টা ছোট কার্টন রাখলে বেশ স্বস্তি পাবেন।
খেয়াল রাখুন - আপনি যেভাবেই বাচ্চাকে খাওয়ান না কেন, „ভালো মা” হওয়ার মাপকাঠি এটা না। এটা শুধু আপনার নবজাতক কেনার চেকলিস্টের এক অংশ, রিপোর্ট কার্ড না।
7. বার্প ক্লথ আর মাসলিন
এগুলো boring লাগতে পারে, কিন্তু বাস্তবে ভয়ংকর কাজের।
সংখ্যা:
- ৮-১২টা মাসলিন স্কয়ার বা বার্প ক্লথ
ব্যবহার করবেন:
- বাচ্চা দুধ উল্টে দিলে কাঁধে, বিছানায়, নিজের গায়ে
- কট/ক্রিবের চাদরের উপর পাতলা করে বিছিয়ে, যাতে বারবার পুরো চাদর না ধুতে হয়
- জরুরি অবস্থায় দ্রুত চেঞ্জিং ম্যাট হিসেবে
- হালকা কভার হিসেবে, প্রামে বা বাসার বাইরে
কিনে নেওয়ার টিপস:
- একটু বড় সাইজ (প্রায় ৭০×৭০ সেমি বা তার বেশি) নিলে কাজে লাগার ক্ষেত্রও বাড়ে।
- সাদা বা হালকা রঙ নিলে ব্লিচ করে পরিষ্কার করা সহজ হয়।
- পুরোনো/সেকেন্ড হ্যান্ড মাসলিন একদম ঠিক আছে, শুধু গরম পানিতে ভালোমত ধুয়ে নিন।
অনলাইনে যতই ঝকমকে বেবি জিনিস দেখুন না কেন, বাস্তবে এ মাসলিনই আপনার ডেইলি লাইফসেভার হয়ে দাঁড়াবে।
Tier 2: থাকলে জীবন সহজ, না থাকলেও চলে
এই জিনিসগুলো থাকলে নবজাতকের সাথে রুটিন একটু আরামদায়ক হয়, কিন্তু একটাও না থাকলে আপনি খারাপ বাবা মা হবেন না। বাজেট আর জায়গা অনুযায়ী বেছে নিন।
এটাকে ভাবুন আপনার „যদি সম্ভব হয়” বেবি গিয়ার লিস্ট হিসেবে।
1. বেবি বাথ টব
সংখ্যা: ১টা, বা না কিনে সিঙ্ক/সাধারণ বাথটাবে সাপোর্ট দিয়ে গোসল করাতে পারেন।
কেন ভালো লাগে: ছোট জায়গায় পানি কম লাগে, বাচ্চা ঠান্ডা কম পায়, আর আপনার পিঠের উপর কম চাপ পড়ে।
কিনে নেওয়ার টিপস:
- একেবারে সিম্পল প্লাস্টিক টবই যথেষ্ট। গ্যাজেট, ডিজিটাল থার্মোমিটার, গান বাজে এমন দামী টবের দরকার নেই।
- অনেকেই প্রথম দিকটা বড় প্লাস্টিকের বালতি বা ধোওয়ার টবকেই বেবি টব হিসেবে ব্যবহার করেন, সাপোর্ট দিয়ে দিলে একদমই ঠিক আছে।
2. বাউন্সার বা রকার
সংখ্যা: ১টা
এটা মূলত নিরাপদ একটা জায়গা, যেখানে সাময়িকভাবে বাচ্চাকে রাখতেই পারবেন - আপনি যদি বাথরুমে যান, চা বানান, বা দুই মিনিট হাত ফাঁকা রাখতে চান।
কিনে নেওয়ার টিপস:
- একটু ফ্ল্যাট-টাইপ, ভালো সাপোর্টওয়ালা বাউন্সার নিন।
- জ্বলে ওঠা আলো, তুমুল মিউজিক, খুব বেশি ঝাঁকুনি - এসব অনেক সময় দরকারের চেয়ে বেশি স্টিমুলেট করে। সিম্পল, মজবুত বাউন্সার অনেকদিন চলে।
- সেকেন্ড হ্যান্ড বা ধার নেওয়ার জন্য দারুণ একটা আইটেম, শুধু সেফটি স্ট্যান্ডার্ড আর ফ্রেম/বেল্ট ঠিক আছে কি না দেখে নিন।
3. হোয়াইট নয়েজ মেশিন
সংখ্যা: ১টা (না চাইলে মোবাইলের ফ্রি অ্যাপেও হতে পারে)
অনেক বাচ্চা ফ্যানের শব্দ, বৃষ্টি, সমুদ্রের গর্জনের মতো একঘেয়ে সাউন্ডে ভালো ঘুমায়। আবার কারও একদমই লাগে না।
কিনে নেওয়ার টিপস:
- আগে মোবাইলের ফ্রি অ্যাপ দিয়ে ট্রাই করে দেখুন। কাজ দিলে পরে চাইলে আলাদা মেশিন কিনতে পারেন।
- অনেক জোরে রাখবেন না। আপনার কানে যেমন বিরক্তিকর লাগে, বাচ্চার কানেও ঠিক তাই।
4. ন্যাপি/ডায়াপার ব্যাগ
সংখ্যা: ১টা
আলাদা „চেঞ্জিং ব্যাগ” কিনতেই হবে এমন না। আপনার যদি আগেই একটা ভালো ব্যাকপ্যাক বা বড় টোট ব্যাগ থাকে, সেটাই ব্যবহার করতে পারেন। তবে এমন একটা ব্যাগ যেখানে ডায়াপার, ওয়াইপস, বাড়তি জামা, বোতল, ছোট তোয়ালে - এগুলো গোছানোভাবে রাখা যায়, সেটা বেশ উপকারী।
কিনে নেওয়ার টিপস:
- ব্যাকপ্যাক টাইপ নিলে দুই হাত ফাঁকা থাকে, বাচ্চা কোলে নিতেও সুবিধা।
- ভেতরটা ওয়াইপ করা যায়, এমন লাইনিং নিলে পরিষ্কার রাখা সহজ।
- যদি আগে থেকেই ভালো ব্যাকপ্যাক থাকে, শুধু ভেতরে রাখার জন্য একটা ছোট অর্গানাইজার/চেঞ্জিং পাউচ নিলেই হয়।
5. বেবি স্ট্রোলার বা প্রাম
সংখ্যা: আপনার লাইফস্টাইল অনুযায়ী ১টা
আপনি যদি প্রচুর হাঁটাচলা করেন, বাচ্চাকে নিয়ে মার্কেটে যান, ডাক্তারের কাছে, পার্কে - তাহলে একটা ভালো স্ট্রোলার দ্রুতই „অনার্ভারসাল” জিনিস মনে হবে। আবার পুরোটা সময় যদি গাড়িতে চলাফেরা হয়, বেশি সময় বেবিওয়্যারিং করেন, তাহলে শুরুতেই কিনতেই হবে, এমন না।
কিনে নেওয়ার টিপস:
- সম্ভব হলে শোরুমে গিয়ে ভাঁজ করে দেখা, তোলা, ঘোরানো - এগুলো নিজের হাতে ট্রাই করুন। আপনার বিল্ডিংয়ে উঠতে নামতে পারবেন কি, লিফট না থাকলে সিঁড়ি দিয়ে তুলতে সহজ কি না, গাড়ির বুটে ঢোকে কি না - এগুলো আগে দেখে নিন।
- সেকেন্ড হ্যান্ড বেবি স্ট্রোলার অনেকেই দিয়ে থাকে। ফ্রেম, চাকা আর বেল্ট ঠিক থাকলে, একটু ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। ক্যারিকট থাকলে ভেতরের ম্যাট্রেস নতুন নিলে ভালো।
- অনেক বড় ট্রাভেল সিস্টেম দেখতে সুন্দর আর „অল ইন ওয়ান” মনে হলেও, বাস্তবে আমাদের গলিপথ, রিকশা, বাসের ভিড়ে বিশাল ঝামেলা হতে পারে। অনেক পরিবারের জন্য সাধারণ, হালকা, ফ্ল্যাট রিক্লাইন করা যায় এমন বাগি-টাই সবচেয়ে কাজের।
6. বেবি মনিটর
সংখ্যা: ১টা, আপনার বাসার সাইজের উপর নির্ভর
ছোট ফ্ল্যাট, একঘরে থাকেন, জানালার বাইরে বেশি আওয়াজ নেই - এমন হলে প্রথমদিকে বেবি মনিটর একদমই না নিলেও চলে। বড় বাসা, এক ঘর থেকে আরেক ঘরে গেলে শব্দ পরিষ্কার না পাওয়া, কিংবা বারান্দায় বা ছাদে একটু সময় কাটান - এমন হলে কাজে লাগতে পারে।
কিনে নেওয়ার টিপস:
- শুধু অডিও (শব্দ শোনা) মনিটরই অধিকাংশ নবজাতকের জন্য যথেষ্ট।
- ভিডিও মনিটর পরে কাজে লাগে, যখন বাচ্চা গড়াগড়ি দেওয়া, উঠে বসা, খাট থেকে নামার চেষ্টা করা শিখে। চাইলে সেটা পরে কিনতে পারেন, একেবারে শুরুতে না নিলেও হয়।
7. নার্সিং পিলো
সংখ্যা: ১টা (পুরোটাই আপনার পছন্দের উপর)
অনেক মা বলেন এটা ছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানো কল্পনাই করতে পারেন না, আবার কারও কাছে একেবারে বাড়তি মনে হয় - সাধারণ বালিশ দিয়েই পুরো কাজ সেরে ফেলেন।
কিনে নেওয়ার টিপস:
- আগে বাসার সাধারণ বালিশ, কুশন দিয়ে পজিশন ঠিক করে দেখুন। বারবার পিছলে যায়, বা আপনার কোমর-পিঠে খুব চাপ পড়ে মনে হলে তখন একটা ভালো, শক্ত U-শেপড নার্সিং পিলো নেওয়া যায়।
- এগুলো আকারে বড়, তাই সেকেন্ড হ্যান্ডে খুব কম দামে পাওয়া যায়। শুধু কাভারটা ভালো করে ধুয়ে বা নতুন করে নিয়ে নিন।
8. চেঞ্জিং ম্যাট বা চেঞ্জিং টেবিল
সংখ্যা: ১টা পোর্টেবল ম্যাট যথেষ্ট
পুরো আলাদা চেঞ্জিং টেবিল কিনতেই হবে, এমন না। আমাদের দেশে বেশিরভাগ পরিবারই যা করে:
- ফোমের চেঞ্জিং ম্যাট মেঝেতে বিছিয়ে ডায়াপার বদলায়
- বা ড্রয়ারের ওপর, টেবিলের ওপর রেখে (তবে কখনওই হাত ছাড়বেন না)
কিনে নেওয়ার টিপস:
- ওয়াইপ-ক্লিন সারফেস থাকা খুব জরুরি, যাতে প্রস্রাব-পায়খানা লাগলেও সহজে পরিষ্কার হয়।
- একটা ছোট, ভাঁজ করা যায় এমন ম্যাট নিলে বাইরে কোথাও যাওয়ার সময়, বা ঘরের ভেতর এক ঘর থেকে আরেক ঘরে নেওয়ার সময়ও কাজে লাগে।
Tier 3: আপাতত অপেক্ষা করুন (বা না কিনলেও হবে)
অনলাইনের „নবজাতকের জিনিসপত্র তালিকা” বা „নতুন মা চেকলিস্ট” এ যেগুলো সবচেয়ে বেশি ঝলমলে ভাবে দেখানো হয়, তার অনেকে প্রথম এক-দুই মাস একদমই কাজে আসে না। কিছু জিনিস পরে দরকার হবে, কিছু কখনোই বিশেষ লাগে না।
1. টয়/খেলনা
নবজাতকের জন্য আলাদা খেলনা আসলে বড়দের তৃপ্তির জন্য বেশি, বাচ্চার জন্য কম। এই বয়সে ওরা এখনো আপনার মুখ, ফ্যানের ঘোরাঘুরি, জানালার আলো - এগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকে।
নিশ্চিন্তে অপেক্ষা করতে পারেন:
- ঝুনঝুনি, সফট টয়
- অনেক ঝুলপালা দেওয়া প্লে জিম
- অ্যাক্টিভিটি বোর্ড, মিউজিকাল টয়
একটা সাদা-কালো কনট্রাস্ট কার্ড, আপনার মুখ, বা দেয়ালের ছায়া - এগুলোর কাছে কোনো দামী খেলনারই জেতার সুযোগ নেই এই সময়টায়। আর আত্মীয়রা গিফট দিতে গেলেও ৮০% সময় খেলনাই দিয়ে থাকে, ওখান থেকেও যথেষ্ট জমে যাবে।
2. বই
নবজাতকের জন্য আলাদা করে ২০টা বেবি বুক কিনে এখনই তাক ভরিয়ে রাখার দরকার নেই।
বাচ্চার সঙ্গে কথা বলা, গল্প করা দারুণ ব্যাপার, কিন্তু সেটা করতে চাইলে পড়তে পারেন:
- আপনি যা পড়ছেন নিজের জন্য, সেই বই
- কোনো ম্যাগাজিন
- ফোনের নিউজ আর্টিকেল
৩ মাসের পর থেকে বোর্ড বুক, কালারফুল ছবি - এগুলো ধরাধরি, চিবোনো, উল্টানো শুরু হবে। তখন ২-৪টা কিনে ধীরে ধীরে বাড়ান। প্রথম মাসে ছোট লাইব্রেরি বানিয়ে ফেলতে চাপ নেবেন না।
3. হাই চেয়ার
হাই চেয়ার লাগবে যখন আপনার বাচ্চা সলিড ফুড/ভাত খাওয়া শুরু করবে, সাধারণত প্রায় ৬ মাসের সময় থেকে। মানে জন্মের পর কম করেও অর্ধেক বছর ওটা শুধু জায়গা দখল করেই থাকবে।
অপেক্ষা করুন যতক্ষণ না:
- বাচ্চা গা সোজা করে বসতে পারে, অন্তত সাপোর্ট নিয়ে
- আপনি বুঝতে পারেন ডাইনিং টেবিলের চারপাশে আসলে কতটা জায়গা আছে
- আপনি ভালো করে ভেবে নেন বেবি-লেড উইনিং, পিউরি, কীভাবে খাওয়াবেন, সিটিং পজিশন কী চাই
ততদিনে অনেক সময় কারও কাছ থেকে সেকেন্ড হ্যান্ড হাই চেয়ার পাবেন, বা ভালো অফারে কিনতে পারবেন।
4. প্লে ম্যাট
পরিষ্কার মেঝে + চাদর = প্লে ম্যাট।
শুরুতে টুকটাক টামি টাইম বা পিঠের ওপর শোয়ানো - এসবের জন্য পাতলা চাদর বা দু-ভাঁজ করা বিছানার কভার যথেষ্ট। পরে যখন বাচ্চা গড়াগড়ি খাওয়া, হামাগুড়ি দেওয়া শুরু করবে, তখন একটু পুরু ম্যাট দরকার হয়, যাতে ধাক্কা কম লাগে, পরিষ্কার করাও সহজ হয়।
আপনি চাইলে:
- আগে দেখুন বাচ্চা আসলে কতটা সময় মাটিতে খেলতে পছন্দ করে
- ঘরের সাইজ অনুযায়ী বড়/ছোট কী সাইজের প্লে ম্যাট দরকার হতে পারে, তা বুঝে তারপর কিনুন
5. জুতা
নবজাতকের জুতা ১০০% ফ্যাশন, কোনো কাজের না। পা গরম রাখতে মোজা বা নরম বুটি যথেষ্ট, শক্ত জুতা শুধু বারবার খুলে পড়ে যাবে, হারিয়েও যাবে।
যা আসলেই দরকার:
- পা গরম রাখার জন্য মোজা
- ইচ্ছে হলে নরম বুটি, কিন্তু এগুলোও বাধ্যতামূলক না
ঠিকমতো জুতা তখনই লাগে, যখন বাচ্চা বাইরে হেঁটে বেড়াতে শুরু করবে, সাধারণত ১ বছর বা তার পরের দিকে। প্রথমদিকে তাও নরম সোলের আরামদায়ক জুতা নিলেই ভালো।
আপনার নবজাতক কেনার চেকলিস্ট যেন মাথা খারাপ না করে দেয়, কীভাবে দেখবেন
বেবি ইন্ডাস্ট্রি এখন বিশাল। আপনার অস্থিরতা, ভয়, অপরাধবোধ - এগুলো থেকেই ওদের বিজনেসের বড় অংশ চলে। এই কথাটা মনে রাখলে অনলাইন-অফলাইনে ২০০ আইটেমের নবজাতকের জিনিসপত্র তালিকা দেখলেও শান্ত থাকা সহজ হয়।
কিছু সহজ গাইডলাইন রাখুন:
১. শুধু „নবজাতক” না, ভাবুন ০-৩ মাস ধরে
অনেক বাচ্চাই জন্ম থেকে ৩ কেজি বা তার বেশি হয়, কারও কারও জন্মের ওজন ৪ কেজির কাছাকাছি। ওদের ক্ষেত্রে একেবারে ছোট সাইজের জামা-কাপড়, ডায়াপার, স্লিপ স্যাক খুব অল্পদিনই ফিট করে।
ক্লথ আর স্লিপ স্যাকের ক্ষেত্রে:
- হালকা কিছু রাখুন একেবারে নবজাতক সাইজে
- বেশির ভাগ বাজেট রাখুন ০-৩ মাস সাইজে
২. ধার নিন, হ্যান্ড-ডাউন নিন
আমাদের সমাজে সাধারণত কোন না কোন আপু, খালা, ভাবি, চাচাতো বোন থাকেই, যার ঘরে একটা না একটা কার্টন ভর্তি শিশুর জিনিসপত্র পড়ে থাকে - দেওয়ার জন্য মানুষ খুঁজছে।
ধার/হ্যান্ড-ডাউনের জন্য ভালো ক্যান্ডিডেট:
- বাউন্সার
- বেবি বাথ টব
- ছোট কট/মশারির কাঠামো (শুধু নিজের নতুন ম্যাট্রেস নেবেন)
- প্লে ম্যাট
- নার্সিং পিলো
শুধু দুটো জিনিসে আপস করবেন না:
- কার সিট (পুরো ইতিহাস ১০০% না জেনে)
- নিয়মিত ব্যবহারের ম্যাট্রেস
এই দুটো ছাড়া বাকি প্রায় সবই সেফলি ধার নেওয়া বা সেকেন্ড হ্যান্ডে নেওয়া যায়।
৩. কম দিয়ে শুরু করুন, দরকার হলে পরে বাড়ান
এখন প্রায় সব অনলাইন শপেই নেক্সট ডে ডেলিভারি আছে, সুপারশপেও বেশিরভাগ শিশুর জিনিসপত্র পাওয়া যায়। মানে আপনি জঙ্গলবাসী না, শহরেই আছেন।
কোনো আইটেম লিস্টে রাখব কি না বুঝতে না পারলে নিজেকে প্রশ্ন করুন:
- আকস্মিক দরকার হলে এটা কি আমি ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে সহজে পেতে পারব?
- প্রথম ৪ সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চার এটা লাগবে, এমন নিশ্চিত কোনো কারণ আছে?
- এটা কি সত্যিই কোনো বাস্তব সমস্যা সল্ভ করছে, নাকি শুধু ভয় দেখিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা?
সৎ উত্তর যদি হয় „আসলে ঠিক জানি না”, তাহলে আপাতত অপেক্ষা করুন। খুব প্রয়োজনে ভবিষ্যতের আপনি রাত ৩টায়ও অনলাইন অর্ডার করে ফেলবেন, বিশ্ব শেষ হয়ে যাবে না।
ছোট্ট রিক্যাপ: নবজাতকের জন্য কি কি লাগে
ফ্রিজে লাগিয়ে রাখার মতো একদম সংক্ষিপ্ত নবজাতক বাড়ি আসার চেকলিস্ট চাইলে, এটুকু রাখুন।
অবশ্যই লাগবে এমন শিশুর জিনিসপত্র:
- ১টা বেবি কার সিট (যদি কখনও গাড়িতে চলাচল করেন)
- ১টা নিরাপদ স্লিপ স্পেস (খাট/কট/ক্রিব) + নতুন শক্ত ম্যাট্রেস + ২টা ফিটেড চাদর + ১টা ওয়াটারপ্রুফ প্রটেক্টর
- অন্তত এক সপ্তাহের জন্য ডায়াপার আর শিশুর ডায়াপার ও ওয়াইপস / কটন + গরম পানি
- ৫-৭টা বডিস্যুট, ৫-৭টা স্লিপস্যুট, ২-৩টা টুপি, কয়েক জোড়া মোজা, ২টা কার্ডিগান
- ২-৩টা সোয়াডল বা পাতলা কম্বল, ২টা স্লিপ স্যাক
- ফিডিং বেসিকস
- বুকের দুধ হলে: ২-৩টা নার্সিং ব্রা, ব্রেস্ট প্যাড
- ফর্মুলা হলে: ৬-৮টা বোতল, ১ টিন ফর্মুলা, বোতল ব্রাশ, স্টেরিলাইজ করার একটা উপায়
- ৮-১২টা মাসলিন/বার্প ক্লথ
বাকি সবকিছু আলোচনাযোগ্য।
আপনার লিস্ট যদি অনেক „কম” মনে হয় আর কেউ মন্তব্য করে, মনে রাখুন: বাচ্চার আসল দরকার খুব সীমিত - ভালোবাসা, দুধ, আর নিরাপদ ঘুমের জায়গা। বাকিটা অপশনাল, আর অনেকটাই শুধু জোরে জোরে মার্কেটিং।
সরল রাখতে পারার অধিকার আপনার আছে। বেশিরভাগ সময়, আপনার ভবিষ্যতের, ঘুমের অভাবে হাঁপিয়ে ওঠা নিজেই আপনাকে এর জন্য ধন্যবাদ জানাবে।