বাচ্চাকে প্রথম বাড়ি নিয়ে আসার পর কয়েকটা সপ্তাহ যেন ঝড়ের মতো কেটে যায়। খাওয়ানো, ডায়াপার বদলানো, রাতে ঘুম ভাঙা, নিজের শেষ গোসলটা কবে দিয়েছেন তাও ঠিক মনে পড়ে না। এরই মধ্যে কেউ একজন বলে বসে, «টামি টাইম শুরু করো!» শুনেই মনে হয়, ব্যস্ত রুটিনে যেন আরেকটা নতুন কাজ যোগ হলো।
একটু থামুন, শ্বাস নিন। টামি টাইম আসলে মোটেও জটিল কিছু না, আর চাইলেই এটা দিনের সবচেয়ে মিষ্টি মুহূর্তগুলোর একটাও হয়ে উঠতে পারে।
এই গাইডে থাকছে টামি টাইম কী, কেন দরকার, টামি টাইম কখন শুরু করবেন, টামি টাইম কতক্ষণ করবেন এবং কিভাবে করলে বাচ্চা আর আপনি দুজনেই উপভোগ করবেন, এমনকি আপনার মনে যদি এখনই হয় যে বাচ্চা একেবারে পছন্দই করছে না।
সহজ করে বললে টামি টাইম মানে হলো, শিশু জেগে থাকা অবস্থায় তাকে পেটের উপর উল্টে শুইয়ে রাখা, আর আপনি কাছ থেকে দেখে রাখছেন।
ব্যস, এতটুকুই।
এর জন্য আলাদা দামি ম্যাট, ঝকমকে খেলনা, কিছুই লাগে না।
আপনি সোফায় হেলান দিয়ে শুয়ে আছেন, আপনার বুকের উপর নবজাতক পেটের দিকে শুয়ে, জেগে আছে - এটাও কিন্তু পুরোপুরি নবজাতকের জন্য টামি টাইম। আবার মেঝেতে একটা পরিষ্কার চাদর বা প্লে ম্যাট বিছিয়ে তার উপর বাচ্চাকে পেটে শুইয়ে আপনি পাশে বসে থাকলেন, এটাও ঠিক টামি টাইম।
মোট কথা, তিনটা জিনিস ঠিক আছে কিনা দেখুন:
ঘুমানোর সাথে এর পার্থক্যটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ বেশির ভাগ দেশে ডাক্তাররা পরামর্শ দেন, আকস্মিক শিশুমৃত্যু (SIDS) কমাতে শিশুকে সব সময় চিত হয়ে শুইয়ে ঘুম পাড়াতে। তাই মনে রাখুন, ঘুমের সময় পিঠে, খেলার সময় পেটে - মানেই টামি টাইম।
অনেকেই শোনেন টামি টাইম উপকারিতা অনেক, কিন্তু কী কী সেটা ঠিক পরিষ্কার করে কেউ বোঝায় না। সহজ ভাষায় ভেঙে বলি।
শিশুকে পেটের দিকে শুইয়ে রাখলে সে স্বাভাবিকভাবেই মাথা তুলতে, এদিক ওদিক ঘুরাতে চেষ্টা করে। এই ছোট্ট চেষ্টাতেই কাজ হয় অনেকগুলো মাংসপেশিতে:
এই শক্তিগুলোই পরে দরকার হয় যখন বাচ্চা:
মানে, টামি টাইম আসলে একধরনের নমনীয় ঘাড় শক্ত করার ব্যায়াম আর পুরো শরীরের হালকা ব্যায়াম। শিশুর ঘাড় ও কাঁধ শক্ত করা, ভবিষ্যতে সঠিকভাবে নড়াচড়া শেখা - সব কিছুর একটা বেসিক প্রস্তুতি তৈরি করে এই টামি টাইম।
আজকাল বাচ্চারা অনেক বেশি সময় পিঠে ভর দিয়ে পরে থাকে - ঘুম, দোলনা, কার সিট, প্রাম, বাউন্সার, সব কিছুতেই পিঠের উপর চাপ পড়ে। এক দিকের একই জায়গায় বেশি চাপ পড়লে মাথার পেছনটা বা এক পাশ একটু চ্যাপ্টা হয়ে যেতে পারে, যাকে বলা হয় প্লাজিওসেফালি।
নিয়মিত টামি টাইম করলে সেই চাপের জায়গা বদলে যায়। অর্থাৎ মাথার পেছনের দিকে সারাক্ষণ ভর না পড়ে কিছুটা সময় পেটের দিকে থাকে, ফলে শিশুর মাথা চ্যাপ্টা হওয়ার ঝুঁকি কমে, অর্থাৎ সহজ ভাষায় প্লাজিওসেফালি প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
বাংলাদেশ ও ভারতের বহু শিশু বিশেষজ্ঞ, এবং আন্তর্জাতিক গাইডলাইনেও, প্রতিদিনের রুটিনে নিয়মিত টামি টাইম যোগ করতে বলা হয় মাথার ঠিকঠাক আকার বজায় রাখার জন্য।
টামি টাইমের সময় ধীরে ধীরে শিশুর আচরণে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়, যেমন:
এই সব ছোট ছোট কাজ মিলেই পরে গড়ে ওঠে:
পাশাপাশি, চিত হয়ে সব সময় সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে থাকার বদলে বাচ্চা নতুন কোণ থেকে ঘর দেখে, আপনার মুখ অন্যভাবে দেখতে পায়, সামনে রাখা খেলনা, ম্যাট বা চাদরের টেক্সচার আলাদা করে টের পায়। বাইরে থেকে যতটা ছোট ব্যাপার মনে হয়, বাচ্চার মস্তিষ্ক আর বিকাশের জন্য এগুলো কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর প্রথম দিক থেকেই চাইলে আপনি টামি টাইম শুরু করতে পারেন।
শুনতে খুব তাড়াতাড়ি লাগতে পারে, কিন্তু শুরুর দিককার নবজাতকের জন্য টামি টাইম আসলে অনেক নরম, অনেক বেশি আদুরে ধাঁচের। একদম ব্যায়াম ভাবার দরকার নেই, বরং বুকের কাছে জড়িয়ে রাখা ভাবুন।
জীবনের প্রথম এক-দু সপ্তাহে বুকের উপর টামি টাইম করলেই ভালো শুরু হয়ে যায়:
এটাও কিন্তু পুরোপুরি টামি টাইম হিসেবে ধরা হয়। শুরুতে নবজাতক খুব একটা মাথা তুলতে না-ও পারে, আপনার গায়ে মুখ গুঁজে আরাম করে থাকবে - তাতেও সমস্যা নেই, এভাবেই শুরু।
দিন বাড়ার সাথে সাথে আর আপনার আত্মবিশ্বাস একটু বাড়লে, খুব অল্প সময়ের জন্য বাচ্চাকে মেঝেতে পরিষ্কার ও শক্ত পৃষ্ঠে (প্লে ম্যাট, চাদর) পেটে শুইয়ে দেখতে পারেন, অবশ্যই সব সময় একদম পাশে থেকে।
মনেই যদি প্রশ্ন আসে টামি টাইম কখন শুরু করবো, উত্তর হলো - আপনি যত তাড়াতাড়ি মানসিকভাবে প্রস্তুত বোধ করবেন, প্রথম দিকের দিনগুলো থেকেই একটু একটু করে শুরু করতে পারেন। লক্ষ্য রাখুন, অল্প অল্প, বার বার।
নতুন বাবা-মায়েরা খুব স্বাভাবিকভাবেই জানতে চান:
আপনার শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য দেখে ধরে নেওয়ার জন্য এখানে একটা ব্যবহারিক গাইড দিলাম।
শুরুতে যদি বাচ্চা মোটে ৩০ সেকেন্ডও সামলাতে পারে, তাতেই হবে। ধীরে ধীরে সেখান থেকে সময় বাড়ানো যায়। আসল কথা, ছোট ছোট অনুশীলনই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।
অনেক বাচ্চাই তখন দিনে মোট ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো টামি টাইম সামলে নিতে পারে। একটানা একবারে বসিয়ে দেওয়ার দরকার নেই, বরং একদম উল্টো।
পুরোটা সময়কে ভাগ করে নিন:
বাচ্চা যত শক্তিশালী আর আরামদায়ক বোধ করবে, একেকটা সেশনের দৈর্ঘ্য একটু একটু করে বাড়াতে পারবেন।
সবচেয়ে বড় কথা, সব সময় বাচ্চার সিগন্যাল শুনুন। যদি কাঁদতে কাঁদতে খুব বিরক্ত হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গেই তুলে নিন, আদর করুন। আগে আরাম, পরে অনুশীলন। আবার একটু পরে, মুড ভালো হলে নতুন করে চেষ্টা করলেই হয়।
অনেকের মাথায় টামি টাইম মানেই ছবি ভেসে ওঠে - ছোট্ট নবজাতককে মেঝেতে পেটে শুইয়ে রাখা, আর সে মুখ বাঁকা করে পড়ে আছে। বুঝতেই পারি কেন তখন ব্যাপারটা ভয়ের আর চাপের মনে হয়।
কিছু সহজ টামি টাইম টিপস জানলে পুরো বিষয়ই অনেক নরম আর ফ্লেক্সিবল হয়ে যায়।
নবজাতকের জন্য টামি টাইম শুরু করার সবচেয়ে সহজ আর আরামদায়ক পজিশনগুলো যেন এটি:
আপনার শরীরের উষ্ণতা, হার্টবিটের শব্দ, আর কাছ থেকে আপনার মুখ - সব মিলিয়ে বাচ্চার কাছে এটা সাধারণত খুবই আরামদায়ক লাগে।
এটাও খুব সহজ আর ব্যবহারিক একটা ভঙ্গি:
ডায়াপার বদলের পর, বা ক্যারিয়ারে তোলার আগে ছোট্ট একটা টামি টাইম সেশন করাতে চাইলে এই পজিশন বেশ সুবিধাজনক।
মেঝেতে দেওয়ার সময় এভাবে চেষ্টা করে দেখতে পারেন:
তোয়ালে সামান্য উঁচু ভর দেয় বলে অনেক বাচ্চার জন্য মাথা তোলা আর আশপাশ দেখা সহজ হয়।
চাইলে আরও করতে পারেন:
যে ভঙ্গিটাই বেছে নিন না কেন, মনে রাখবেন টামি টাইমের সময় কখনই বাচ্চাকে একা ফেলে যাবেন না।
টামি টাইম যদি প্রতিবার যুদ্ধের মতো মনে হয়, তাহলে বাচ্চা তো কষ্ট পায়ই, আপনিও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে যাবেন। সামান্য কিছু পরিবর্তন অনেক সময় পুরো অভিজ্ঞতাটাই বদলে দিতে পারে।
উপর থেকে বসে বা দাঁড়িয়ে বাচ্চার দিকে শুধু তাকিয়ে না থেকে, চেষ্টা করুন একদম তার চোখের সামনে চলে আসতে। পাশ ফিরে বা উল্টে শুয়ে পড়ুন, যাতে আপনার মুখ তার খুব কাছে থাকে। চোখে চোখ রাখুন, হাসুন, মজার মজার মুখভঙ্গি করুন। খেলনার চেয়ে বাচ্চারা মানুষের মুখই বেশি পছন্দ করে।
মানে, তার কাছে আপনি-ই সবচেয়ে বড় খেলনা আর বিনোদন।
অতিরিক্ত অনেক খেলনার দরকার নেই। কিছু ছোট্ট আইডিয়া:
খেলনাগুলো একদম সামনে নয়, একটু পাশ ঘেঁষে রাখুন, যেন সে মাথা ঘুরিয়ে দেখতে উৎসাহ পায়। ধীরে ধীরে এক পাশ থেকে আরেক পাশে সরালে চোখ দিয়ে ট্র্যাক করতে শিখবে।
আপনার কণ্ঠস্বর বাচ্চার কাছে খুব পরিচিত আর স্বস্তিদায়ক। তাই টামি টাইমের সময়:
এভাবে সময় কাটানো মানে শুধু টামি টাইম না, একই সঙ্গে বাচ্চার ভাষা শেখার আগের ধাপগুলোও তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে শুরুর দিকে সময় কম হলেও, অভিজ্ঞতা যেন ভাল থাকে - এটাকে অগ্রাধিকার দিন। খুশি আর শান্ত মুডে ২ মিনিট টামি টাইম হওয়া, কাঁদতে কাঁদতে ১০ মিনিট টেনে নেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি ভালো।
সম্ভব হলে প্রতিটা সেশনের শেষটা যেন ইতিবাচক হয়। দেখবেন বাচ্চার বিরক্তি একটু বাড়ছে, এমন সময়েই তুলে নিয়ে একবার জড়িয়ে ধরুন, বুঝিয়ে দিন যে আপনি ওর কথা শুনছেন।
অনেক বাচ্চাই শুরুতে টামি টাইমে একটু কান্নাকাটি করে, অসন্তুষ্ট হয়। এতে ধরে নেওয়ার কিছু নেই যে আপনি ভুল করছেন।
আপনার মনে যদি হয়, বাচ্চা টামি টাইম একদম সহ্যই করতে পারছে না:
প্রথমে বুকের উপর থেকেই শুরু করুন
বেশির ভাগ শিশু মেঝের চেয়ে বুকের উপর টামি টাইমকে অনেক বেশি পছন্দ করে। আপনার গন্ধ, উষ্ণতা আর কাছের দূরত্ব ওদের নিরাপদ বোধ করায়।
সেশন খুব ছোট রাখুন
প্রথম দিকে ভাবুন ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট, তারপরই তুলে নিন। বাচ্চা একটু একটু করে অভ্যস্ত হলে কয়েক সেকেন্ড করে বাড়ান।
ঠিক সময় বেছে নিন
ভালোভাবে ঘুমিয়ে উঠে আর পেট মোটামুটি ভরা, কিন্তু একদম টাটকা ভরা না - এমন সময় বেছে নিন। খুব ক্ষুধার্ত, খুব ঘুম পেয়েছে বা সারাদিনে অনেক বেশি স্টিমুলেশন পেলে তখন টামি টাইম করালে আরও বিরক্তি বাড়বে।
হালকা দোল বা নড়াচড়া ব্যবহার করুন
হাঁটুর উপর পেটে শুইয়ে রেখে আলতো দোলানো, বা খুব সাবধানে আপনার হাতে ধরে এক্সারসাইজ বলের উপর সামান্য এগিয়ে-পিছিয়ে করা, অনেক সময় বাচ্চাকে শান্ত রাখে।
পৃষ্ঠ বা বিছানা বদলে দেখুন
কেউ কেউ শক্ত ম্যাট পছন্দ করে, কারও আবার নরম চাদর ভালো লাগে। প্লে ম্যাট, ভাঁজ করা কম্বল বা নতুন টেক্সচারের চাদর দিয়ে একদিন করে ট্রাই করে দেখতে পারেন।
সবচেয়ে জরুরি, জোর করবেন না। বাচ্চা যদি খুব বেশি কাঁদে বা অস্বস্তি হয়, সঙ্গে সঙ্গে তুলে নিন, বুকের কাছে নিন, একটু শান্ত হোক। অন্য সময়, অন্য ভঙ্গিতে, আরও ছোট সময়ের জন্য আবার চেষ্টা করা যাবে।
টামি টাইমে বাচ্চা কাঁদলে আপনি খারাপ মা বা বাবা হয়ে গেলেন না। বরং দুজনেই শেখার পথে আছেন।
কিছু কিছু পরিস্থিতিতে টামি টাইম এড়িয়ে চলা ভালো:
একদম খাওয়ানোর পরপরই
পেট ভরা অবস্থায় পেটে শুইয়ে দিলে অস্বস্তি লাগতে পারে, বমি বা দুধ উগরে দেওয়ার সম্ভবনাও বাড়ে। তাই ফিডের পর কিছুটা সময় বিরতি দিয়ে তারপর শুরু করুন।
যখন বাচ্চা খুব ক্লান্ত বা খুব ক্ষুধার্ত
তখন টামি টাইম মানে তার জন্য আলাদা আরেকটা ঝামেলা, মিনি-ওয়ার্কআউটের শক্তি থাকেই না।
যদি বাচ্চা জ্বরে ভুগছে বা অসুস্থ
তখন অগ্রাধিকার হবে শুধু আরাম দেওয়া। এ সময় টামি টাইমের জন্য আলাদা করে চাপ দেবেন না, আপনার শিশু বিশেষজ্ঞ বা নিকটস্থ হাসপাতাল/স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরামর্শ মেনে চলুন।
বাচ্চার যদি আগে থেকেই কোনো নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা, খুব বেশি রিফ্লাক্স, পেশির টোন নিয়ে সন্দেহ, বা অন্য কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা থাকে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্ট বা কমিউনিটি ক্লিনিকের ডাক্তারদের কাছ থেকে টামি টাইম কিভাবে করবেন সে বিষয়ে ব্যক্তিগত পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
টামি টাইম খুব উপকারী, এটা ঠিক। এর মাধ্যমে বাচ্চার পেশি শক্ত হয়, নড়াচড়া শেখার ভিত্তি তৈরি হয়, প্লাজিওসেফালি প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে। আর সবচেয়ে বড় কথা, এটা আপনার আর আপনার শিশুর জন্য প্রতিদিনের একান্ত কাছের সময় হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু এটাকে কোনো পরীক্ষার মতো ভাবার দরকার নেই, যেখানে আপনি পাস বা ফেল করবেন।
কিছু দিন আপনি ঠিকই পারবেন, দিনে ২ থেকে ৩ বার শিশুর টামি টাইম করাতে। আবার কিছু দিন যেন কেবল খাওয়ানো, ডায়াপার আর ঘুমের দৌড়াদৌড়িতেই কেটে যাবে, রাতের দিকে হঠাৎ মনে পড়বে, «আহা, আজ তো টামি টাইমই করালাম না!» - এই অনুভূতিটা প্রায় সব বাবা-মায়েরই হয়।
গুরুত্বপূর্ণ হলো:
এভাবে একটু একটু করে চালিয়ে যেতে থাকলে, আপনি টের না পেলেও বাচ্চা আস্তে আস্তে অনেকটা এগিয়ে যাবে। একদিন হঠাৎ দেখবেন, সে পেটে ভর দিয়ে সুন্দর করে কনুইয়ের উপর ভর করে মাথা উঁচু করে রেখেছে, কিংবা নিজেই টামি থেকে গড়িয়ে চিত হয়ে গেছে, তখন আপনার মনে হবে, «আরে, এটা তো কবে শিখে ফেললে তুমি!»
এই নীরব, প্রতিদিনের ছোট ছোট অগ্রগতিই আসলে টামি টাইমের আসল জাদু।