একটি শিশু সোজা হয়ে বসতে শেখার আগেই বেসিনেটের জন্য লম্বা বা ভারী হয়ে যেতে পারে। তাই বেসিনেট থেকে স্ট্রলার কবে বদলাবেন, এর উত্তর শুধু নির্দিষ্ট বয়স দিয়ে দেওয়া যায় না। সাধারণত শিশুর মাথা ভালোভাবে স্থির রাখতে পারলে, বেসিনেট ছোট বা ভারী হয়ে গেলে, অথবা প্রস্তুতকারক অনুমতি দিলে বেসিনেট থেকে স্ট্রলার সিটে যাওয়ার কথা ভাবা যায়। বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রে এটি ৩ থেকে ৪ মাসের দিকে হতে পারে। তবে আপনার শিশু প্রস্তুত মনে হলেও স্ট্রলার সিটটি সেই বয়সের জন্য নিরাপদ কি না, সেটিই আগে দেখতে হবে।
২-ইন-১ ও ৩-ইন-১ সিস্টেমে এই পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখেই নকশা করা হয়। একই ফ্রেমে প্রথমে বেসিনেট, পরে স্ট্রলার সিট এবং কখনও গাড়ির বেবি সিট লাগানো যায়। তবু ব্যবহারবিধি অবশ্যই পড়ুন। দেখতে একই রকম হলেই কোনো সিট তিন মাসের শিশুর জন্য নিরাপদ হয়ে যায় না।
এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় যাচাই করা দরকার। সবগুলো শর্ত একসঙ্গে পূরণ নাও হতে পারে, তবে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনাই সবসময় চূড়ান্ত।
শিশুর মাথা নিয়ন্ত্রণ কবে আসে, সেটি অনেক অভিভাবকের প্রশ্ন। সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাসের দিকে শিশু মাথা স্থির রাখতে শেখে। মাথা সামনে বা পাশে বারবার ঢলে পড়বে না, এমন নিয়ন্ত্রণ থাকলেই স্ট্রলার সিট ব্যবহারের কথা ভাবা যায়। এই বয়সে শিশুর একা বসতে পারা জরুরি নয়। বেশিরভাগ শিশুই তখনও নিজে বসতে পারে না।
স্ট্রলার চলার সময় মাথা স্থির রাখতে পারাই এখানে মূল বিষয়। রাস্তার ছোট ধাক্কায় যদি মাথা বারবার দুলে যায়, তাহলে অপেক্ষা করুন। অথবা এমন স্ট্রলার সিট বেছে নিন যা পুরোপুরি বা প্রায় সমতল করা যায় এবং মাথা ও ঘাড়ে যথেষ্ট সহায়তা দেয়।
তিন মাসের শিশুকে ৯০ ডিগ্রি সোজা করে বসানো ঠিক নয়। এই বয়সে পুরোপুরি বা প্রায় সমতল অবস্থায় শোয়ানোর সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক। পৃথিবী দেখতে আগ্রহী মনে হলেই শিশুকে জোর করে সোজা করে বসাবেন না।
শুধু ক্যালেন্ডারের বয়স নয়, শিশুর অবস্থাও দেখুন। বেসিনেট বদলানোর সময় হতে পারে যদি শিশু:
অনেক বেসিনেটের ওজন সীমা প্রায় ৯ কেজি হলেও মডেলভেদে তা কমবেশি হয়। নির্ধারিত সীমায় পৌঁছে গেলে শিশু মাত্র চার মাসের হলেও বেসিনেট তার জন্য আর উপযুক্ত নয়।
বেসিনেট দেখতে বড় মনে হলেই তার বেসিনেট ওজন সীমা বেশি হবে, এমন নয়। ব্যবহারবিধি বা প্রস্তুতকারকের ওয়েবসাইটে সঠিক সীমাটি দেখে নিন।
স্ট্রলারের মডেল অনুযায়ী বয়স ও ওজনের নির্দেশনা আলাদা হয়। কোনো স্ট্রলার সিট নিচু, প্রায় সমতল অবস্থায় জন্মের পর থেকেই ব্যবহারের অনুমতি দেয়। আবার কোনোটি ছয় মাসের আগে ব্যবহার করা যায় না। সাধারণত স্ট্রলার সিটের ওজন সীমা বেসিনেটের তুলনায় অনেক বেশি, প্রায় ১৫ থেকে ২২ কেজি হতে পারে। তবে এই সীমা দেখে বোঝা যায় না যে শিশুকে কখন থেকে সিটে বসানো নিরাপদ।
ব্যবহারবিধিতে যদি ছয় মাস থেকে ব্যবহারের কথা লেখা থাকে, তাহলে সেটিই অনুসরণ করুন। ব্র্যান্ডের অনুমোদিত নবজাতক ইনসার্ট এবং প্রায় সমতল করার ব্যবস্থা থাকলে বিষয়টি আলাদা হতে পারে। ফুটমাফ, কুশন বা নিজের হাতে বানানো অতিরিক্ত আস্তরণ কোনো সাধারণ সিটকে নবজাতকের উপযোগী করে তোলে না।
শিশুকে তাড়াতাড়ি বদলানোর জন্য কোনো পুরস্কার নেই। বর্তমান প্র্যামে শিশু আরামে থাকলে, বেসিনেটের ওজন সীমার মধ্যে থাকলে এবং নিরাপত্তার সমস্যা না থাকলে অপেক্ষা করাই ভালো। অনেক বেসিনেট ছয় মাস পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য, আর কিছু শিশু আরও কিছুদিন পরিচিত সমতল জায়গাতেই আরাম পায়।
সেরা স্ট্রলার মানেই সবচেয়ে দামি বা সবচেয়ে বেশি আনুষঙ্গিক সুবিধাযুক্ত মডেল নয়। আপনার প্রতিদিনের চলাফেরা, বাড়িতে রাখার জায়গা এবং একা ওঠানামা করানোর সক্ষমতার সঙ্গে যে মডেলটি মানানসই, সেটিই ভালো।
পূর্ণ আকারের বেবি স্ট্রলার প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য। সাধারণত এতে থাকে:
তবে গাড়ির ডিকি বা ছোট বাসার করিডরে এগুলো বেশ জায়গা নেয়। পূর্ণ আকারের মডেলের ওজন সাধারণত ৯ থেকে ১৪ কেজি হয় এবং ভাঁজ করার পরও কিছুটা ভারী ও বড় থাকে। এক হাতে শিশু আর অন্য হাতে সিঁড়ি দিয়ে স্ট্রলার তোলা বেশ কষ্টকর হতে পারে।
প্রতিদিন হাঁটা, গণপরিবহন ব্যবহার, ভাঙাচোরা ফুটপাত কিংবা দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য এই ধরনের স্ট্রলার অনেক সময় বাস্তবসম্মত পছন্দ। বাড়ির নিচতলায় রাখার জায়গা থাকলে এবং বাড়ি থেকেই হাঁটা শুরু করলে অতিরিক্ত ওজনটুকু মেনে নেওয়া সহজ হয়।
হালকা মডেলের ওজন সাধারণত ৫ থেকে ৭ কেজি। এগুলো দ্রুত ভাঁজ করা যায়, কম জায়গা নেয় এবং ভ্রমণ, বাজারে ছোটখাটো কাজ বা দাদা-দাদির ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক।
তবে এর সীমাবদ্ধতা আছে। অনেক ছাতা-ধরনের স্ট্রলার ছয় মাসের আগে ব্যবহারযোগ্য নয়, কারণ সিট যথেষ্ট নিচু বা সমতল করা যায় না। সাসপেনশন সাধারণত সাধারণ মানের হয়, ঝুড়ি ছোট এবং ভাঙা ফুটপাতে ফ্রেম কম স্থিতিশীল লাগতে পারে।
দ্বিতীয় স্ট্রলার হিসেবে এগুলো দারুণ। কিন্তু তিন মাসের শিশুর জন্য এটি বেছে নেওয়ার আগে নিশ্চিত হন যে প্রস্তুতকারক জন্মের পর থেকেই ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে এবং সিটটি সত্যিই সমতল বা প্রায় সমতল হয়।
ট্রাভেল সিস্টেমে শিশুর গাড়ির সিট সরাসরি স্ট্রলারের ফ্রেমে লাগানো যায়। অল্প দূরত্বের গাড়ি ভ্রমণের পর সামান্য হাঁটার ক্ষেত্রে এটি খুব সুবিধাজনক। ঘুমন্ত শিশুকে গাড়ির সিট থেকে না তুলেই সরানো যায়।
তবে এই সুবিধারও সীমা আছে। গাড়ির বেবি সিট গাড়িতে ভ্রমণের জন্য তৈরি, সারাদিন ঘুমানোর জন্য নয়। একটানা দুই ঘণ্টার বেশি শিশুকে গাড়ির সিটে রাখবেন না। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর শিশুকে বের করে দিন। বিশ্রামের জন্য সমতল বেসিনেট বা সঠিকভাবে হেলানো স্ট্রলার সিট বেশি উপযুক্ত।
গাড়ির সিট লাগানো অবস্থায় ট্রাভেল সিস্টেম বেশ ভারী হতে পারে। পুরো সেটটি গাড়িতে তোলার সময় কোমর বা পিঠে চাপ পড়ছে কি না, দোকানেই পরীক্ষা করে দেখুন।
জগিং স্ট্রলারে সাধারণত তিনটি চাকা, শক্তিশালী সাসপেনশন এবং সামনে সোজা করে লক করার সুবিধা থাকে। দৌড়ানোর সময় সামনের চাকা স্থির থাকলে ভারসাম্য ভালো থাকে। বড় চাকা ঘাস, পার্কের পথ ও অসমান রাস্তায়ও সুবিধা দেয়।
যারা সত্যিই শিশুকে নিয়ে দৌড়াবেন, তাদের জন্য এটি ভালো পছন্দ। তবে প্রতিদিনের সাধারণ ব্যবহারের জন্য সবসময় সুবিধাজনক নয়। আকারে বড় হওয়ায় দোকানে ঘোরানো কঠিন হতে পারে, আর সামনের চাকা লক করা থাকলে সরু জায়গায় মোড় নেওয়া অসুবিধাজনক। অনেক মডেলেই ছয় থেকে নয় মাসের আগে দৌড়ানোর অনুমতি থাকে না। এ ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলুন।
শোরুমে পাঁচ মিনিট দেখে স্ট্রলার কেনা ঠিক নয়। সিটটি সব অবস্থায় বসিয়ে দেখুন, ফ্রেম ভাঁজ করুন এবং ঝুড়িতে হাত পৌঁছায় কি না পরীক্ষা করুন। অনলাইনে চমৎকার মনে হওয়া কোনো স্ট্রলার ব্যবহার শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
তিন মাসের শিশুর জন্য পুরোপুরি বা প্রায় সমতল করা যায়, এমন সিট বেছে নিন। শুধু “বহু অবস্থায় হেলানো যায়” লেখা দেখবেন না, বাস্তবে সিট কতটা নিচু হয় তা পরীক্ষা করুন।
ভালো সিটে থাকা উচিত:
সবচেয়ে নিচু অবস্থাতেও হারনেস সঠিকভাবে আটকানো যাচ্ছে কি না দেখুন। গভীর সিট এবং ঢিলে হারনেস নবজাতকের উপযোগী হেলানোর বিকল্প নয়।
বড়, বাড়ানো যায় এমন ছাউনি এবং UPF 50+ কাপড়ের মডেল খুঁজুন। জিপ দিয়ে বাড়তি অংশ খোলা যায় এমন ছাউনি সূর্যের দিক বদলালে কাজে লাগে। ছোট জানালা থাকলে ছাউনি না সরিয়েই শিশুকে দেখা যায়।
বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও দরকার। জালের প্যানেল গরমের সময় সিটের ভেতরটা বদ্ধ ও অস্বস্তিকর হওয়া কমায়। গরম দিনে ছাউনির ওপর চাদর বা কাপড় ঢেকে দেবেন না, এতে ভেতরে তাপ আটকে যেতে পারে।
শিশুর মেরুদণ্ড এখনও বিকাশমান থাকায় সাসপেনশন আরাম ও নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে। স্প্রিং সাসপেনশন ভাঙা ফুটপাত, ইটের রাস্তা ও পার্কের পথে সাধারণত ভালো কাজ করে। বড় ধাক্কা শোষণ করে এবং শিশুর শরীরে ঝাঁকুনি কম পৌঁছায়।
ফোম সাসপেনশন হালকা ও তুলনামূলক সস্তা। মসৃণ ফুটপাত বা শপিং মলের মেঝেতে এটি ভালোই চলে, কিন্তু অসমান রাস্তায় বেশি ঝাঁকুনি দিতে পারে। সম্ভব হলে দোকানেই স্ট্রলারটি কার্ব বা খানিকটা খসখসে জায়গার ওপর ঠেলে দেখুন। অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে কি না এবং হাতলে কতটা কম্পন অনুভূত হচ্ছে, খেয়াল করুন।
বাতাসভরা চাকা অসমান রাস্তায় মসৃণ চলাচল দেয়। তবে এতে নিয়মিত বাতাস দিতে হয়, আর হঠাৎ চাকা ফুটো হলে সমস্যা হতে পারে। ব্র্যান্ডের সঙ্গে পাম্প ও অতিরিক্ত টিউব পাওয়া যায় কি না জেনে নিন।
ফোমভরা চাকায় ফুটো হওয়ার আশঙ্কা নেই এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রায় লাগে না। শহরের ব্যবহারে এগুলো বেশ সুবিধাজনক, যদিও খুব খারাপ রাস্তায় বাতাসভরা চাকায় যতটা মসৃণ চলবে, ততটা নাও হতে পারে।
চাকার উপাদানের পাশাপাশি আকারও গুরুত্বপূর্ণ। বড় পেছনের চাকা সাধারণত ছোট ট্রাভেল স্ট্রলারের চাকার চেয়ে কার্ব, নুড়ি ও অসমান পথ ভালোভাবে সামলায়।
বড় ঝুড়ি তখনই কাজে লাগে, যখন তাতে সহজে হাত ঢোকানো যায়। সিট পুরোপুরি হেলানো অবস্থায়ও ঝুড়ি ব্যবহার করা যায় কি না পরীক্ষা করুন, কারণ এই সময়েই সাধারণত ডায়াপার ব্যাগ বা অন্যান্য জিনিস দরকার হয়। চেঞ্জিং ব্যাগ ঢুকবে কি? সিট বা ফ্রেমের কোনো অংশ মুখ আটকে দিচ্ছে কি?
কিছু ঝুড়ি দেখতে বড় হলেও সিট আপনার দিকে ঘোরানো থাকলে ব্যবহার করা কঠিন হয়। দুই দিকেই সিট ঘুরিয়ে পরীক্ষা করে তারপর কিনুন।
এক হাতে ভাঁজ করা যায় এমন স্ট্রলার একা শিশুর দেখাশোনা করা অভিভাবকের জন্য বেশ সুবিধাজনক। শিশুকে কোলে নিয়ে, হাতে ব্যাগ বা পানীয় থাকলেও স্ট্রলার গুছাতে হতে পারে। দোকানে এক হাতেই প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করুন, বিক্রয়কর্মীর সাহায্য না নিয়ে করতে পারলে আরও ভালো।
শুধু ওজন নয়, ভাঁজ করার পরের মাপও দেখুন। ১০ কেজির একটি স্ট্রলার যদি সুন্দরভাবে ছোট হয়ে যায়, তাহলে সেটি ৭ কেজির কিন্তু লম্বা ও অস্বস্তিকরভাবে ভাঁজ হওয়া মডেলের চেয়ে ব্যবহারিক হতে পারে।
অভিভাবকদের উচ্চতা আলাদা হলে সামঞ্জস্য করা যায় এমন হাতল খুব কাজে আসে। হাতল ধরলে যেন কুঁজো হতে বা কাঁধ উঁচু করে রাখতে না হয়। কয়েক মিটার হাঁটুন। দশ সেকেন্ডে আরামদায়ক লাগা স্ট্রলার ৪৫ মিনিট হাঁটার পর অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
আপনি যদি ৩ মাসের শিশুর জন্য সেরা স্ট্রলার খুঁজে থাকেন, তাহলে রং, কাপ হোল্ডার বা অতিরিক্ত অর্গানাইজারের আগে শিশুর শরীরের সাপোর্ট ও বসার অবস্থান দেখুন।
আপনার তালিকায় থাকা উচিত:
সাধারণত ছয় মাসের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত শিশুকে অভিভাবকের দিকে মুখ করে রাখা সুবিধাজনক। এতে শিশুকে নজরে রাখা সহজ হয় এবং সে আপনার মুখ দেখে আশ্বস্ত থাকে। বাইরের দিকে মুখ করে বসানো পরে করা যায়, যখন শিশু বেশি সজাগ থাকবে এবং শরীরের নিয়ন্ত্রণও ভালো হবে।
সিটের মাপ ঠিক করার জন্য আলগা কুশন, বালিশ বা মোটা কম্বল যোগ করবেন না। স্ট্রলারটি যেভাবে বিক্রি করা হয়েছে, সেভাবেই যদি আপনার শিশুকে ঠিকমতো সাপোর্ট না দেয়, তাহলে অন্য মডেল বেছে নিন।
বাংলাদেশের বাজারে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রায় ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা দামের মধ্যে ভালো মানের স্ট্রলার পাওয়া যেতে পারে। এই বাজেটে সাধারণত মজবুত ফ্রেম, মোটামুটি ভালো সাসপেনশন, ব্যবহারযোগ্য ছাউনি, উল্টানো যায় এমন সিট এবং নির্ভরযোগ্য ভাঁজ করার ব্যবস্থা মেলে।
শিশুর খাট, গাড়ির সিট ও শীতের পোশাক একসঙ্গে কিনতে হলে সস্তা স্ট্রলার আকর্ষণীয় মনে হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিদিন ব্যবহারে দুর্বল সাসপেনশন, খারাপ ব্রেক, ভাঁজ করতে সমস্যা এবং পাতলা কাপড় দ্রুত বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য চাপেই ফ্রেম বেঁকে গেলে সেটি সতর্ক সংকেত।
৪০,০০০ টাকা বা তার বেশি দামের প্রিমিয়াম স্ট্রলারে সুন্দর কাপড়, আকর্ষণীয় নকশা, হালকা উপাদান বা পরিচিত ব্র্যান্ড থাকতে পারে। এসব সুবিধা ভালো লাগলেও নিরাপত্তা বা আরামের উন্নতি সবসময় দামের সমানুপাতিক হয় না। অনেক সময় অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় মূলত নকশা, ব্র্যান্ডের মর্যাদা ও ফিনিশিংয়ের জন্য।
ভালো অবস্থার ব্যবহৃত স্ট্রলারও বুদ্ধিমান কেনাকাটা হতে পারে। মজবুত ফ্রেম, সচল ব্রেক, নিরাপদ হারনেস, ফাটলহীন কাঠামো এবং সোজাভাবে ঘোরা চাকা আছে কি না দেখুন। মডেলটির রিকল বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ইতিহাস পরিষ্কার কি না এবং খুচরা যন্ত্রাংশ এখনও পাওয়া যায় কি না যাচাই করুন। ব্যবহারবিধি নেই এবং বয়স বা মডেলের তথ্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, এমন পুরোনো স্ট্রলার কিনবেন না।
বর্তমান বেসিনেট বা প্র্যাম যদি শিশুর জন্য আরামদায়ক থাকে, বেসিনেটের ওজন সীমার মধ্যে থাকে এবং কোনো নিরাপত্তা সমস্যা না থাকে, তাহলে তাড়াহুড়ো করে বদলানোর দরকার নেই। শিশু তিন বা চার মাসের হলেই যে সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রলার সিটে বসাতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।
শিশুর মাথা স্থিরভাবে নিয়ন্ত্রণে এলে, বেসিনেট ছোট হয়ে গেলে অথবা প্রস্তুতকারকের নির্দেশনায় সময় হলে স্ট্রলার সিটে বদলান। তার আগে সমতল ও পরিচিত ঘুমের জায়গাই শিশুর জন্য বেশি আরামদায়ক হতে পারে।
বদলানোর পর প্রথমবার অল্প সময়ের জন্য বাইরে বের হন। কয়েক মিনিট পরপর হেলানোর অবস্থান, হারনেস, মাথার ভঙ্গি এবং শিশুর গরম লাগছে কি না দেখুন। শিশুর আচরণ থেকেই অনেক কিছু বোঝা যাবে। ভালো স্ট্রলার প্রতিদিনের কাজ সহজ করবে, প্রতিটি হাঁটাকে কঠিন পরীক্ষায় পরিণত করবে না।