দুই মাসের শিশুকে নিয়ে প্রথম কয়েকবার বাইরে হাঁটতে বের হওয়া অনেকটা ছোটখাটো অভিযানের মতো মনে হতে পারে। ডায়াপার, খাওয়ানোর সময়, হঠাৎ বৃষ্টি নামার আশঙ্কা, আর শিশুর মেজাজ কখন বদলে যাবে সেই ভাবনা তো থাকেই। তবু দরজা পেরিয়ে বাইরে যেতে পারলেই দেখবেন, শিশুর সাথে হাঁটা দিনের সবচেয়ে শান্তির সময়গুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। আপনার জন্য ঘরবন্দি ভাব কাটানোর সুযোগ, আর শিশুর জন্য দুলুনির মধ্যে আরামদায়ক ঘুম ও নতুন আলো-ছায়া দেখার অভিজ্ঞতা।
এই বয়সে অনেক দূর হাঁটা বা কঠোর রুটিন মেনে চলার দরকার নেই। লক্ষ্য একটাই, শিশুকে নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে কিছুটা সময় বাইরে রাখা।
দুই মাস বয়সী শিশুর জন্য জমজমাট কোনো বেড়ানোর প্রয়োজন নেই। কাছের পার্কে একটু ঘোরা, পাড়ার গাছপালাওয়ালা রাস্তা ধরে হাঁটা, বা ২০ মিনিটের নিরিবিলি স্ট্রোলার রাইডই যথেষ্ট।
শিশুকে বাইরে নেওয়ার উপকার শুধু ঘুরে আসার আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়।
ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে খোলা বাতাস সাহায্য করে। দিনের প্রাকৃতিক আলো শিশুর শরীরের দিন-রাতের ছন্দ তৈরি হতে ধীরে ধীরে সহায়তা করে। জন্মের পর শিশুরা স্বাভাবিকভাবে দিন আর রাতের পার্থক্য বোঝে না। সকাল ও দুপুরের উজ্জ্বল আলো, তারপর সন্ধ্যার নরম ও শান্ত পরিবেশ তাদের শরীরঘড়িকে নিয়মে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে।
শিশুর ভিটামিন ডি নিয়েও সচেতন থাকা দরকার। তবে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে সরাসরি রোদে রাখা ঠিক নয়, বিশেষ করে দুপুরের কড়া রোদে। বাংলাদেশে শিশুর ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট লাগবে কি না, তা শিশুর খাদ্যাভ্যাস, মায়ের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে। বুকের দুধ খাওয়া শিশুর ক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলাই ভালো।
নতুন মায়েদের জন্যও হাঁটা উপকারী। রাতভর ঘুম না হলে বা মন ভার লাগলে মোবাইল হাতে নিয়ে বিছানায় বসে থাকার চেয়ে একটু বাইরে হাঁটা মাথা হালকা করতে পারে। ধীরগতির এই সময়টুকুতে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। চাইলে গান শুনুন, পডকাস্ট শুনুন, না হয় শুধু আকাশের দিকে তাকান। নতুন মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এমন ছোট বিরতিও অনেক কাজ করে।
আর বেশির ভাগ শিশুই চলন্ত স্ট্রোলার পছন্দ করে।
চাকার মৃদু দুলুনি, দূরের গাড়ির শব্দ, পাখির ডাক, আলো বদলানোর দৃশ্য অনেক শিশুকে শান্ত করে। বিকেলের কান্নাকাটি কমাতে শিশুকে নিয়ে একটু হাঁটতে বের হওয়া অনেক পরিবারের কার্যকর উপায়।
অনেক অভিভাবক জানতে চান, নবজাতক বা দুই মাস বয়সী শিশুকে কতক্ষণ বাইরে রাখা যায়। সুস্থ দুই মাসের শিশুর জন্য মিনিট ধরে বেঁধে দেওয়া কোনো নিয়ম নেই।
আবহাওয়া আরামদায়ক হলে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট দিয়ে শুরু করা ভালো। শিশু পেট ভরে খেয়েছে, আরামে আছে, শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক এবং শান্তভাবে ঘুমাচ্ছে, তাহলে কিছুটা বেশি সময়ও বাইরে থাকা যায়। ভালো সাপোর্টযুক্ত প্রাম বা স্ট্রোলারে অনেক শিশুই বেশ কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেয়।
শিশুর আচরণই হোক আপনার মূল নির্দেশনা।
নিচের পরিস্থিতিতে কম সময় হাঁটা ভালো হতে পারে:
নবজাতক বা ২ মাসে শিশুকে বাইরে নেওয়া শুরু করতে ১০-১৫ মিনিটও যথেষ্ট। ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। কোনো কোনো দিন বাড়ির গেট পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসাও সাফল্য। সেটাও হিসাবের মধ্যে রাখুন।
বাংলাদেশে বসন্ত বা শরতের আবহাওয়া সাধারণত বাইরে যাওয়ার জন্য আরামদায়ক। তবে সকালটা ঠান্ডা লাগলেও দুপুরে গরম পড়ে যেতে পারে, আবার হালকা বাতাসও শিশুর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
বসন্তে শিশুকে নিয়ে হাঁটতে গেলে মোটা একটি পোশাকের বদলে কয়েক স্তরে হালকা পোশাক পরানো সুবিধাজনক। সুতির বডিস্যুট বা জামা, পাতলা ফুলহাতা পোশাক, হালকা কার্ডিগান এবং প্রামে একটি চাদর রাখলে প্রয়োজনমতো খুলে বা পরিয়ে দেওয়া যায়। ঘুমন্ত শিশুকেও পুরোপুরি না জাগিয়ে এ কাজ করা সম্ভব।
সাধারণভাবে বলা হয়, বড়দের তুলনায় শিশুর গায়ে এক স্তর হালকা কাপড় বেশি থাকতে পারে। তবে এটি কেবল একটি ধারণা। আপনি দ্রুত হাঁটলে গরম লাগবে, কিন্তু প্রামে শুয়ে থাকা শিশুর শরীর ঠান্ডা লাগতে পারে।
হাত-পা ছুঁয়ে শিশুর আরাম বোঝার চেষ্টা করবেন না। ছোটদের হাত-পা ঠান্ডা লাগলেও তারা স্বাভাবিক থাকতে পারে। বুক, পিঠের ওপরের অংশ বা ঘাড়ের পেছনটা ছুঁয়ে দেখুন।
হঠাৎ বৃষ্টির জন্য সঙ্গে ঠিকমতো লাগানো স্ট্রোলার রেইন কভার রাখা খুব কাজে দেয়। বর্ষার শুরু, শরৎ কিংবা বসন্ত, যেকোনো সময় আকাশ পরিষ্কার দেখে বেরিয়েও বৃষ্টিতে পড়তে পারেন।
আপনার স্ট্রোলার বা প্রামের মডেলের উপযোগী রেইন কভার ব্যবহার করুন। বৃষ্টি থেমে গেলে সেটি খুলে দিন, যাতে ভেতরে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে। বৃষ্টি বা বাতাস আটকাতে প্রামের ওপর মসলিন কাপড়, চাদর বা ওড়না ঢেকে দেবেন না। এতে ভেতরে গরম জমতে পারে এবং বাতাস চলাচল কমে যায়।
অনেক সময় তাপমাত্রা খুব কম না হলেও বাতাস শিশুর জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও ঝোড়ো হাওয়ায় ঠান্ডা লাগতে পারে, বিশেষ করে স্থির হয়ে শুয়ে থাকা শিশুর।
সম্ভব হলে গাছপালা, দেয়াল বা বাড়িঘরঘেরা রাস্তা বেছে নিন। খোলা মাঠ, লেকের পাড় বা উন্মুক্ত সড়কে বাতাস বেশি লাগতে পারে। স্ট্রোলারের উইন্ড কভার ব্যবহার করুন, দরকার হলে নিচের অংশে চাদর দিন এবং হাঁটার মাঝেও শিশুকে দেখে নিন। এটাই বাতাস ও বৃষ্টিতে শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার সহজ উপায়।
গরমের সকালে শিশুকে নিয়ে হাঁটতে বেশ ভালো লাগতে পারে। রাস্তায় ভিড় কম থাকে, বাতাস তুলনামূলক নরম থাকে। তবে গ্রীষ্মে সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো শিশুকে অতিরিক্ত গরম ও সরাসরি রোদ থেকে বাঁচানো।
হাঁটার সময় ঠিক করুন দিনের তাপমাত্রা ও রোদের তীব্রতা দেখে। সাধারণত সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
সকালের দিকে বা বিকেল গড়িয়ে বের হওয়া আরামদায়ক। খাওয়ানোর পর শিশুর ঘুমের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে অনেক সময় বাইরে থাকা সহজ হয়।
স্ট্রোলারের নিজস্ব ছাউনি, ভালোভাবে লাগানো প্যারাসল বা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ইউভি শেড ব্যবহার করতে পারেন। তবে ছাউনির নিচে শিশুর ঘাম হচ্ছে কি না, তা বারবার পরীক্ষা করুন।
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর ত্বক খুব সংবেদনশীল। সামান্য সময়ের রোদেও ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে। এই বয়সে সানস্ক্রিনকে প্রধান সুরক্ষা হিসেবে না ধরে ছায়া, পোশাক এবং সঠিক সময় বেছে নেওয়াই নিরাপদ।
হালকা রঙের, ঢিলেঢালা ও বাতাস চলাচল করতে পারে এমন সুতির পোশাক পরান। মাথা ঢাকার জন্য নরম কিনারাওয়ালা টুপি কাজে আসতে পারে, যদিও দুই মাসের অনেক শিশুই টুপি খুলে ফেলাকে নিজের বিশেষ দায়িত্ব মনে করে।
স্ট্রোলারের ওপর পাতলা চাদরও পুরো ঢেকে রাখবেন না। বাইরে থেকে পাতলা মনে হলেও ভেতরে দ্রুত তাপ জমে যেতে পারে। এটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রোলার কভার টিপস।
গরমের দিনে শিশুর খাওয়ার চাহিদা কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। বুকের দুধ খেলে স্বাভাবিক নিয়মেই দুধ দিন। ফর্মুলা খেলে প্রয়োজনমতো প্রস্তুত ফিড বা নিরাপদে ফিড তৈরি করার উপকরণ সঙ্গে রাখুন।
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য সাধারণত আলাদা পানি প্রয়োজন হয় না, যদি না চিকিৎসক বিশেষভাবে পরামর্শ দেন। বুকের দুধ বা ফর্মুলাই তাদের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ করে।
শিশুর অতিরিক্ত গরম লাগার লক্ষণগুলো দেখুন:
এমন হলে দ্রুত ছায়ায় যান, এক স্তর কাপড় খুলে দিন, দুধ খাওয়ান এবং শিশুর অস্বস্তি না কমলে বাসায় ফিরে আসুন। গ্রীষ্মে শিশুর হাঁটা টিপস মানার সবচেয়ে বড় কথা হলো, শিশুর আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া।
বাংলাদেশে শীত সাধারণত অল্প সময়ের হলেও ভোর, রাত ও কুয়াশার সময় ঠান্ডা বেশ অনুভূত হতে পারে। নিরাপদ আবহাওয়ায় শীতে শিশুর হাঁটা টিপস মেনে বাইরে যাওয়া সম্ভব, আর তাজা বাতাস ঘরের বন্ধভাবও কাটায়।
প্রামে হাঁটার জন্য উষ্ণ ফুটমাফ বা আরামদায়ক চাদর সুবিধাজনক। ঘরের জন্য উপযোগী পোশাকের ওপর আবহাওয়া অনুযায়ী ফ্লিসের জ্যাকেট, উলের হালকা স্তর বা গরম স্যুট পরানো যেতে পারে।
ভালো ফিটিংয়ের ফুটমাফ শরীর গরম রাখে, কিন্তু মুখের কাছে আলগা বিছানা বা চাদর জমতে দেয় না। চাদর ব্যবহার করলে সেটি শিশুর নিচের অংশে ভালোভাবে গুঁজে দিন এবং কাঁধের নিচে রাখুন।
স্ট্রোলারে বাতাস ঠেকানোর ব্যবস্থা করা যায়, তবে বাতাস ঢোকার পথ একেবারে বন্ধ করা যাবে না। পুরো প্রাম চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা নিরাপদ নয়। এতে শিশুকে দেখা যায় না এবং বাতাস চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়।
ঠান্ডা হাত দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। বুক, পেট বা ঘাড়ের পেছনটা ছুঁয়ে দেখুন। শিশুর শরীর আরামদায়ক উষ্ণ থাকবে, কিন্তু ঘামঘামে বা স্যাঁতসেঁতে নয়।
শরীর গরম ও ভেজা লাগলে এক স্তর কাপড় কমান। বুক ঠান্ডা লাগলে আরেকটি হালকা স্তর যোগ করুন।
মাঝারি শীতে দুই মাসের শিশুর জন্য ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা যথেষ্ট হতে পারে। কুয়াশা ঘন হলে, ঠান্ডা বাতাস বেশি হলে, বৃষ্টি পড়লে বা রাস্তা পিচ্ছিল থাকলে বাইরে না যাওয়াই ভালো। শিশুর নিরাপত্তার চেয়ে হাঁটা জরুরি নয়।
সেসব দিনে ঘরের ভেতরেই কিছুটা হাঁটাহাঁটি করা যায়। কাছের শপিং মল, শিশু-বান্ধব লাইব্রেরি বা খোলা জানালার পাশে দিনের আলোতে কিছু সময় কাটানোও কাজে দেয়।
সবচেয়ে ভালো ডায়াপার ব্যাগ মানেই সবচেয়ে বড় ব্যাগ নয়। এমন ব্যাগই ভালো, যাতে পার্কের মাঝখানে হঠাৎ ডায়াপার বদলানোর প্রয়োজন হলে দরকারি জিনিস হাতের কাছে পাওয়া যায়।
বেশির ভাগ সময় সঙ্গে রাখুন:
নিজের জন্যও পানি ও হালকা নাশতা নিন। অনেক নতুন মা শিশুর সব জিনিস গুছিয়ে নিলেও নিজের নাশতার কথা ভুলে যান। নতুন মা টিপস হিসেবে এটি ছোট হলেও দরকারি অভ্যাস।
দুটিই ভালো বিকল্প হতে পারে। কোনটি ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করবে আবহাওয়া, হাঁটার সময়কাল এবং সেদিন শিশুর মেজাজের ওপর।
দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রাম বা পুরোপুরি শোয়ানো যায় এমন স্ট্রোলার বেশি আরামদায়ক। শিশু সমতলভাবে শুতে পারে, শান্তিতে ঘুমাতে পারে, আর ডায়াপার ব্যাগ, রেইন কভার বা নিজের পানির বোতল রাখার জায়গাও পাওয়া যায়।
নবজাতককে স্ট্রোলারে নেওয়ার সময় নিশ্চিত করুন, সেটি লাই-ফ্ল্যাট ক্যারিকট বা নবজাতকের জন্য অনুমোদিত রিক্লাইন সেটিংয়ে আছে। শিশুর ঘুমের জায়গায় আলগা খেলনা, মোটা বালিশ, ভারী বিছানা বা মুখ ঢেকে ফেলতে পারে এমন কিছু রাখবেন না।
ছোট দূরত্বে যাওয়া, বড় সন্তানের স্কুলে যাওয়া-আসা বা স্ট্রোলারে রাখলেই কান্না করে এমন শিশুর জন্য ক্যারিয়ার দারুণ কাজে দেয়। শীতে মায়ের শরীরের উষ্ণতা শিশুকে আরাম দিতে পারে।
এরগোনমিক ক্যারিয়ার ব্যবহার করুন, যাতে শিশুর মুখ সব সময় দেখা যায়, থুতনি বুকের সঙ্গে লেগে না থাকে এবং শ্বাস নেওয়ার পথ খোলা থাকে। নিরাপদে ক্যারিয়ার ব্যবহারের জন্য TICKS নিয়মটি মনে রাখতে পারেন:
ক্যারিয়ারে থাকলে মা ও শিশু দুজনের শরীরের উষ্ণতা একে অন্যকে গরম রাখে। তাই প্রামের তুলনায় শিশুর গায়ে এক স্তর কম কাপড় লাগতে পারে। মাঝেমধ্যে ঘাড় ও বুক ছুঁয়ে দেখে নিন।
খাটে ২০ মিনিট ঘুমিয়ে জেগে ওঠা শিশু যদি স্ট্রোলারে গভীর ঘুম দেয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দুলুনির ছন্দ, একটানা শব্দ এবং আরামদায়ক শোয়ার ভঙ্গির কারণে অনেক শিশু বাইরে হাঁটার সময় ভালো ঘুমায়।
শিশুকে ঘুম পাড়াতে হাঁটতে বের হওয়া নিয়ে অপরাধবোধের দরকার নেই। প্রথম দিকের অনিয়মিত দিনগুলোতে এটি বেশ বাস্তবসম্মত একটি উপায়।
কেউ কেউ শিশুকে খাওয়ানো ও ডায়াপার বদলানোর পর বের হন। আবার কেউ চোখ কচলানো, হাই তোলা বা অস্থিরতার লক্ষণ দেখলেই হাঁটার প্রস্তুতি নেন। কিছুদিন পরই আপনি নিজের শিশুর ছন্দ বুঝতে শুরু করবেন। হয়তো সকালের হালকা কোলাহলে সে ঘুমায়, হয়তো প্রতিদিন বিকেল ৩টার দিকে স্ট্রোলারে উঠলেই চোখ বুজে আসে।
শিশুর যত্ন নিতে বাইরে হাঁটার নিয়ম খুব জটিল নয়। আবহাওয়া দেখে নিন, প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে নিন, শিশুকে উপযুক্ত পোশাক পরান এবং পরিকল্পনা বদলানোর জায়গা রাখুন। পাঁচ মিনিটের হাঁটাও হাঁটা। রাস্তার মোড় থেকেই ফিরে আসতে হলেও সেটি ব্যর্থতা নয়।
আপনি আপনার শিশুকে বুঝতে শিখছেন, আর শিশু চিনছে বাইরের পৃথিবীকে। একেকটা রাস্তা, একেকটা প্রাম-ন্যাপ আর একেক দফা তাজা বাতাসের সঙ্গে।