নবজাতক একনে: শিশুদের মুখে লাল ফোটা কবে শুরু হয়, কেন হয় ও কীভাবে যত্ন নেবেন

নবজাতক একনে - গালে লাল ফোটা কেন, কী করবেন ও যত্ন

বাচ্চার গাল ভরা ছোট ছোট লাল ফোটা হঠাৎ চোখে পড়লে, মায়ের বা বাবার মনে সেটা কিন্তু একদমই ছোট লাগে না। ডায়াপার বদলাতে গিয়ে দেখলেন, একদিন তো গালটা একদম পরিষ্কার, পরের দিনই পুরো মুখ জুড়ে দানা! অনেকের মাথাতেই তখন ঘুরে একগুচ্ছ প্রশ্ন -
“আমি কি কিছু ভুল করলাম?”, “এটা কি অ্যালার্জি?”, “কারও থেকে সংক্রমণ হল নাকি?”

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উত্তর হয় - না।
সাধারণত এটা হয় নবজাতক একনে, যা প্রায় সব সময়ই নিরীহ আর অস্থায়ী।

এখন দেখা যাক আসলে আপনার শিশুর ত্বকে কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে, কী করবেন আর কী একদমই করবেন না, আর কখন ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে যাওয়া দরকার।


নবজাতক একনে কী?

নবজাতক একনে, অনেকেই বলেন শিশুর একনে বা ইনফ্যান্ট একনে, এটা খুব সাধারণ এক ধরনের শিশুর ফুসকুড়ি। দেখতে সাধারণত এমন হয় -

  • ছোট ছোট লাল ফোটা
  • মাঝখানে সাদা দানা সহ লাল ফুসকুড়ি, দেখতে একদম শিশুর মুখে পিম্পলের মতো
  • অনেক সময় ত্বক ছুঁলে একটু খসখসে বা দানাদার লাগে

সবচেয়ে বেশি দেখা যায় -

  • গালে
  • নাকে
  • কপালে

কখনও কখনও একটু দেখা যেতে পারে -

  • থুতনির কাছে
  • বুকের ওপরে বা উপরের পিঠে

মনে যদি প্রশ্ন আসে, “শিশুর একনে আসলে কী?” তাহলে একে ভাবতে পারেন টিনএজারদের একনের খুব হালকা আর অস্থায়ী ভার্সন, তবে ত্বকটা এখানে খুব নরম, একদম নতুন জন্মানো শিশুর।

নবজাতক একনে কিন্তু -

  • ক্ষতিকর না
  • সংক্রামক না (তাই “শিশুর একনে কি ছোঁয়াচে?” - এর উত্তর স্পষ্টভাবে না)
  • সম্পূর্ণ সুস্থ বাচ্চাদের মধ্যেই খুবই সাধারণ

এটা আপনার কোনো ভুলের কারণে হয় না, আর সাধারণত শিশুর এতে কোনও অস্বস্তিও হয় না।


শিশুর একনে কখন শুরু হয়?

অনেক বাবা-মা অবাক হন, কারণ জন্মের পর কয়েকদিন বা এক-দুই সপ্তাহ বাচ্চার ত্বক একদম ঝকঝকে থাকে, হঠাৎ কিছুদিন পর মুখে দানা দানা ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

সাধারণ সময়সূচি একটু এরকম -

  • শুরু হয় সাধারণত: বয়স ২ থেকে ৪ সপ্তাহ এর ভেতরে
  • সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে: প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ এর মধ্যে
  • ধীরে ধীরে কমতে থাকে: এরপরের কয়েক সপ্তাহ জুড়ে

অনেক সময় প্রথমে গালে দু-একটা ছোট দানা দেখা যায়, তারপর কয়েক দিনের মধ্যে একটু বেশি হতে পারে। মাঝে মাঝে দেখলে মনে হয় যেন হঠাৎ অনেক বেড়ে গেল, তাই না জেনে দেখলে একটু দুশ্চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক।

যদি আপনার মনে প্রশ্ন থাকে “নবজাতক একনে কখন শুরু হয় আর নবজাতক একনে কখন যায়?”, তাহলে সহজ করে বললে -
প্রথম মাসে শুরু হয়, দ্বিতীয় মাসে বেশি চোখে পড়ে, আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তৃতীয় বা চতুর্থ মাসের মধ্যে প্রায় পুরোটা মিলিয়ে যায়।


নবজাতক একনে কেন হয়?

এই জায়গাটাতেই সাধারণত বাবা-মা বেশি চিন্তা করেন।
“আমি কি ভুল খাবার খেলাম?”, “নতুন সাবান ব্যবহার করার জন্য?”, “কাপড় ধোয়ার পাউডারের জন্য?” - এমন অনেক ভাবনা ঘোরে মাথায়।

সাধারণ নবজাতক একনে-র ক্ষেত্রে উত্তরে প্রায় সব সময়ই - না।

নবজাতক একনে কারণ মূলত দুটো:

1. মায়ের হরমোন এখনো শিশুর শরীরে ঘুরে বেড়ায়

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরের হরমোন প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর শরীরে যায়, এই হরমোন শিশুর বেড়ে উঠায় সাহায্য করে। জন্মের পরও কিছুদিন এ হরমোনগুলোর প্রভাব শিশুর শরীরে থাকে।

এই হরমোন শিশুর ত্বকের তেল গ্রন্থি বা সেবেসিয়াস গ্ল্যান্ডকে একটু বেশি সক্রিয় করে দিতে পারে। ত্বকে তেলের আধিক্য থেকে ছোট ছোট পিম্পলের মত দানা, মানে এই শিশুর মুখের ত্বকে দানা দেখা দেয়।

এটা কোনোভাবেই আপনি থামাতে পারবেন না, আবার এটা স্তনপান করানোর জন্য অথবা আপনি কী খাচ্ছেন তার জন্যও হয় না। একে ভাবুন জন্মের পর শিশুর শরীরের নিজেকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর অংশ হিসেবে।

2. অপরিণত সেবেসিয়াস (তেল) গ্রন্থি

গর্ভের ভেতর থেকে বেরিয়ে বাইরের হাওয়ায় আসার পর শিশুর ত্বক একদম নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। এই সময় শিশুর সেবেসিয়াস গ্ল্যান্ড গুলো -

  • শুরুতে বেশ সক্রিয় থাকে
  • এখনো ঠিকঠাকভাবে তেল তৈরি নিয়ন্ত্রণ করতে শেখেনি

মায়ের হরমোনের প্রভাব আর এই অপরিণত তেল গ্রন্থি, দুই মিলেই শিশুর একনে হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

যা থেকে নবজাতক একনে হয় না:

  • ময়লা ত্বক বা খারাপ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
  • নোংরা বিছানা বা জামাকাপড়
  • আপনি চকোলেট, ঝাল, দুধ বা অন্য কিছু খেয়েছেন বলে
  • সাধারণ অ্যালার্জি (অ্যালার্জির ফুসকুড়ি সাধারণত খুব চুলকায় আর দেখতে আলাদা হয়)

এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, এটা আপনার দোষ না। নিজেকে দোষারোপ না করে বরং কীভাবে নরমভাবে শিশুর ত্বকের যত্ন নেয়া যায়, সেটাই ভাবা ভালো।


নবজাতক একনে কেমন দেখায় দিন-দিন?

অনেক মা বলেন - “সকালবেলা খুব হালকা ছিল, বিকেলে দুধ খাওয়ানোর পর দেখি অনেক বেশি লাল!”
এটা খুবই স্বাভাবিক।

নবজাতক একনে কেমন দেখায় সাধারণত:

  • লাল বা হালকা গোলাপি ছোট ছোট ফোটা
  • মাঝেমাঝে টুকটুক সাদা মাথা সহ দানা
  • একেক জায়গা একেক রকম, কোথাও বেশি লাল, কোথাও কম

আপনি লক্ষ্য করতে পারেন কিছু অবস্থায় ফুসকুড়ি বেশি চোখে পড়ে:

  • যখন বাচ্চা বেশি গরম লাগে বা ঘেমে যায়
  • জোরে কাঁদলে
  • মুখের চারপাশে দুধ গড়িয়ে বা উগরে পড়ার পর
  • টাইট জামা বা কম্বলে ঘষা লাগলে

এই ফুসকুড়ি অনেক সময় হঠাৎ খুব লাল হয়ে ওঠে, আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিছুটা নরমাল হয়ে যায়। এই ওঠানামা খুব স্বাভাবিক, মানে এই না যে ভেতরে সংক্রমণ হয়েছে বা খুব বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে।


নবজাতক একনে হলে যা একদম করবেন না

শিশুর ত্বকে সামান্য কিছু দানা দেখলেও আমরা খুব স্বাভাবিকভাবেই “এটা ঠিক করে দিই” - এমন প্রবল ইচ্ছে অনুভব করি। কিন্তু নবজাতক একনে-র ক্ষেত্রে বেশি কিছু করতে গেলেই বেশি খারাপ হয়।

যেগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি:

  • কোনো দানা বা ফোসকা চেপে ধরা, ফাটানোর চেষ্টা করবেন না

    • এতে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
    • ব্যাকটেরিয়া ঢুকে সংক্রমণ, এমনকি দাগও পড়তে পারে
  • প্রাপ্তবয়স্কদের একনে নিয়ন্ত্রণের কোন কেমিক্যাল ব্যবহার করবেন না

    • যেমন স্যালিসিলিক অ্যাসিড, বেনজয়েল পেরক্সাইড, রেটিনয়েড, শক্তিশালী টোনার
    • এগুলো শিশুর ত্বকের জন্য অনেক বেশি ঝালাই, জ্বালা আর শুষ্কতা তৈরি করতে পারে
  • ত্বক ঘষাঘষি করবেন না

    • খসখসে তোয়ালে, স্ক্রাব, ঝাঁঝালো স্পঞ্জ একদম না
    • ঘষাঘষিতে লালভাব, জ্বালা আরও বেড়ে যায়
  • মুখে ভারী বা তেলতেলে ক্রিম, তেল বা বাম লাগানো এড়িয়ে চলুন

    • খুব ঘন ক্রিম, নারকেল তেল, জলপাই তেল ইত্যাদি অনেক সময় ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে
    • ফলে ফুসকুড়ি আরও বেশি চোখে পড়ে
  • এলোমেলো সব “প্রাকৃতিক” ঘরোয়া রেসিপি ব্যবহার করবেন না

    • লেবুর রস, টুথপেস্ট, এসেনশিয়াল অয়েল ইত্যাদি শিশুর ত্বকে একদমই নিরাপদ না

মনে রাখবেন, কোনো পণ্যের ব্যাপারে সন্দেহ হলে সহজ নিয়ম -
যদি সেটা বড়দের একনের জন্য বানানো হয়, শিশুর মুখের কাছে আনবেন না।


যা করতে হবে: নরম যত্ন আর ধৈর্য

ভালো খবর হলো, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নবজাতক একনে প্রতিকার কী - এর উত্তর খুবই সহজ। বেশির ভাগ সময় কোনো ওষুধ, বিশেষ ক্রিম, প্রেসক্রিপশন কিছুই লাগে না।

করতে পারেন যা যা:

1. নরমভাবে মুখ ধোয়া

  • হালকা গরম গরম পানি ব্যবহার করুন, একদম গরম নয়
  • দিনে একবার বা দুবার শিশুর মুখ ধুয়ে দিন
  • প্রয়োজনে খুব মৃদু, গন্ধবিহীন বেবি ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন, না হলে শুধু পানি হলেই চলে
  • নিজের পরিষ্কার হাত অথবা খুব নরম কাপড় ব্যবহার করুন, কোনো ধরনের ঘষাঘষি নয়

2. মুছতে গিয়ে ঘষা নয়, আলতো চাপ

  • ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে পানি শুষে নিন
  • ঘষলে দানাগুলো আরও লাল হয়ে যেতে পারে

3. মুখ যতটা সম্ভব ভারী পণ্যমুক্ত রাখা

  • তেলতেলে অয়েন্টমেন্ট, পেট্রোলিয়াম জেলি টাইপের ঘন ক্রিম বা তেল মুখে না লাগানোই ভালো
  • বাচ্চার অন্য জায়গায় ত্বক খুব শুষ্ক থাকলে, কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার উপযোগী তা নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন

4. দুধ গড়ানো আর লালা থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা

মুখের চারপাশে বারবার দুধ গড়ালে বা লালা লেগে থাকলে শিশুর মুখে ফুসকুড়ি আরও লালচে আর জ্বালাযুক্ত দেখাতে পারে।

  • আস্তে আস্তে গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে দুধের অবশিষ্টাংশ মুছে দিন
  • তারপর আলতো করে শুকিয়ে দিন
  • নরম মসলিন কাপড় বা ছোট বিথ ব্যবহার করলে গলা আর বুকে বারবার ভেজা থাকা কম হবে

5. অপেক্ষা করা

এটাই সবচেয়ে কঠিন অংশ।
“এক রাতেই কীভাবে শিশুর একনে দূর করব?” - এর আসলে তেমন কোনো শর্টকাট নেই।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে:

  • ধীরে ধীরে নিজে থেকেই কমে যায়
  • বিশেষ কোনো ক্রিম বা ওষুধ লাগেই না
  • আপনার ডায়েট বদলানোরও প্রয়োজন হয় না, যদি না অন্য কোনো কারণে ডাক্তার আপনাকে বলে থাকেন

নিজেকে ভাবতে পারেন, আপনি কেবল শিশুর ত্বককে বাড়তি জ্বালা আর ঘষা থেকে বাঁচাচ্ছেন, বাকি কাজ শিশুর শরীর নিজেই করছে।


নবজাতক একনে কতদিন থাকে?

অনেকেরই জানতে ইচ্ছে করে, শিশুর একনে কতদিন থাকে বা “কবে পুরোপুরি যাবে”?

সাধারণভাবে যা দেখা যায়:

  • শুরু হয় প্রায় ২ থেকে ৪ সপ্তাহ বয়সে
  • ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের দিকে বেশি নজরে আসে
  • এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে হালকা হতে থাকে
  • বেশির ভাগ শিশুর ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৪ মাস বয়সের ভেতরেই প্রায় পুরোপুরি সেরে যায়

কিছু শিশুর আবার ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় পরিষ্কার হয়ে যায়। আবার কারও কারও হালকা দানা একটু বেশি দিন থাকতে পারে।

যতক্ষণ পর্যন্ত:

  • বাচ্চা খাওয়া, ঘুম, আচরণ সব মিলিয়ে ভালো আছে
  • ফুসকুড়ি থেকে পুঁজ পড়ছে না
  • ত্বক খুব বেশি ফেটে যাচ্ছে না বা জ্বালা ধরার মতো লাল ফোলা না

ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণত নরম যত্ন আর অপেক্ষা - এইটুকুই যথেষ্ট।


শিশুর একনে নিয়ে কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যদিও বেশির ভাগ শিশুর ত্বক সমস্যা হিসেবে এই ইনফ্যান্ট একনে একদম নিরীহ, তারপরও কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দরকার।

বাংলাদেশে হলে নিকটস্থ শিশু বিশেষজ্ঞ, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, বা সরকারি হাসপাতালের শিশু বিভাগে যেতে পারেন। জরুরি না হলেও প্রশ্ন থাকলে ১৬২৬৩ (সরকারি স্বাস্থ্য হটলাইন) এ ফোন করে দিকনির্দেশনাও নিতে পারেন।

যে সব পরিস্থিতিতে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করাই ভালো:

  • ফুসকুড়ি শুধু গাল, নাক, কপাল ছাড়িয়ে পুরো শরীরে খুব বেশি ছড়িয়ে পড়ছে
  • দানাগুলো খুব লাল, ফোলা বা গরম গরম মনে হচ্ছে
  • হলদে পুঁজ, ঘা, মোটা খোসা বা ভেজা ভেজা ক্ষত দেখা যাচ্ছে
  • বাচ্চা খুব চিন্তিত, অস্বস্তিতে বা ব্যথা পাচ্ছে বলে মনে হয়
  • ৩ থেকে ৪ মাস পার হয়ে গেলেও কোনো উন্নতি হচ্ছে না, বরং আরও বাড়ছে
  • খুব স্পষ্ট হোয়াইটহেড, ব্ল্যাকহেড, বা গভীর শক্ত গাঁটের মত দানা দেখা যাচ্ছে, যা বড়দের একনের মত লাগে

এসব ক্ষেত্রে হতে পারে:

  • ইনফ্যান্টাইল একনে - এটা একটু বড় বয়সে শুরু হয়, একটু বেশি সময় ধরে থাকতে পারে
  • একজিমা বা অন্য কোনো শিশুর ত্বক সমস্যা, যার জন্য আলাদা চিকিৎসা দরকার
  • কোনো ধরনের ত্বকের সংক্রমণ যা ওষুধ ছাড়া সেরে উঠবে না

ডাক্তার দেখে সহজেই বুঝে নিতে পারবেন এটা এখনো সাধারণ নবজাতক একনে, নাকি আলাদা কেয়ার দরকার। কোনো প্রশ্ন নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, শিশুর ত্বকের ফুসকুড়ি নিয়ে ডাক্তাররা প্রতিদিনই অসংখ্য বাবা-মায়ের প্রশ্ন শোনেন।


নবজাতকের মিলিয়া আর একনে: পার্থক্য কোথায়?

নতুন বাবা-মা অনেক সময় নবজাতক মিলিয়া আর একনে গুলিয়ে ফেলেন, কারণ দুটোতেই ছোট সাদা ফোঁটা দেখা যায়।

দুটোকে আলাদা করার কিছু সহজ দিকনির্দেশনা:

মিলিয়া

  • দেখতে হয় একদম সূক্ষ্ম সাদা বিন্দুর মতো
  • বেশি দেখা যায় নাকের ওপর, গালে, চোখের আশেপাশে
  • আসলে এগুলো হয় ছোট্ট ছিদ্র বন্ধ হয়ে ভেতরে কেরাটিন (ত্বকের প্রোটিন) আটকে যাওয়ার কারণে
  • আশেপাশের ত্বক সাধারণত লাল বা ফোলা থাকে না
  • এগুলো কখনোই লাল পিম্পলের মতো হয়ে যায় না
  • একদমই ক্ষতিকর না আর সংক্রামকও না

নবজাতক একনে

  • লাল বা গোলাপি ছোট ছোট দানা, মাঝে কখনো সাদা অংশ থাকতে পারে
  • চারপাশের ত্বক অনেক সময় একটু লালচে বা দাগ দাগ দেখা যায়
  • একটু বেশি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, কিছু জায়গা বেশি জ্বালাযুক্ত দেখায়
  • গরম লাগলে, কাঁদলে বা মুখে দুধ গড়ালে ফুসকুড়ি বেশি ভরাট বা লাল দেখাতে পারে

দুটোর ক্ষেত্রেই মিল একটাই -
দুটোই নিরীহ, তেমন কোনো শক্ত চিকিৎসা লাগে না, আর সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই সেরে যায়।
যত্নের মূল কথা একই - নরমভাবে ধোয়া, কোনো দানা চেপে না ধরা, আর একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা।


শেষ কথাটা, একটু নিশ্চিন্ত হবার জন্য

আপনি যদি বসে বসে বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে এই সব শিশুর মুখে লাল ফোটা নিয়ে মন খারাপ করেন, আপনি একা নন। প্রায় সব বাবা-মাই একবার না একবার শিশুর একনে দেখে ভয় পেয়ে যান, তারপর ডাক্তার বা নার্স থেকে শুনে স্বস্তি পান যে এটা খুবই সাধারণ।

সংক্ষেপে মনে রাখার জন্য:

  • নবজাতক একনে খুব সাধারণ, এটা আপনার কোনো ভুলের জন্য না, আর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে না
  • সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহে শুরু, ৬ থেকে ৮ সপ্তাহে বেশি, আর ৩ থেকে ৪ মাসে প্রায় মিলিয়ে যায়
  • এটা মায়ের হরমোন আর অপরিণত তেল গ্রন্থির প্রভাব, ময়লা ত্বক বা আপনার খাবারের জন্য নয়
  • নরম যত্ন, গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া, ভারী কিছু না লাগানো আর একটু ধৈর্য - এটাই মূল নবজাতক একনে প্রতিকার
  • ত্বক খুব ফুলে গেলে, পুঁজ হলে, বাচ্চা কষ্ট পেতে লাগলে, বা ৪ মাস পেরিয়েও উন্নতি না হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন

শিশুর প্রথম বছর জুড়েই তার ত্বকে নানা রকম পরিবর্তন হতে থাকবে। শিশুর ত্বকে সাদা ফোটা, লাল ফুসকুড়ি - সব মিলিয়ে এটা কেবল একটা ছোট্ট পর্ব। এখন যতই চোখে বড় মনে হোক না কেন, কয়েক মাস পর পেছনে তাকিয়ে দেখবেন, এই একনেগুলো নিজেরাই চলে গেছে, আর বাচ্চা তখনও ঠিক ততটাই সুন্দর, যেমনটা সে এখন আছে।


এই বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং এটি আপনার ডাক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের পরামর্শের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে আপনাকে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই প্রবন্ধগুলি আপনার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে

Erby — নবজাতক ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য বেবি ট্র্যাকার

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।
Erby

Erby

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।