২ মাসের শিশুর জন্য সহজ খেলাধুলো ও উন্নয়নমূলক অনুশীলন

২ মাসের শিশুর খেলাধুলো - টামি টাইম, রিচিং ও পরামর্শ

দুই মাস বয়সে আপনার শিশুর আনন্দের জন্য খুব বেশি আয়োজন লাগে না। মায়ের বুকের ওপর শুয়ে আপনার কণ্ঠের কম্পন অনুভব করা, ঝুনঝুনির মৃদু শব্দ শুনে চমকে তাকানো, সামনে পরিচিত মুখ নড়াচড়া করতে দেখা, এসবই তার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। কয়েক মিনিটের বাচ্চার খেলাও এ সময় বেশ বড় ঘটনা।

শুরুর দিকের এই শিশুর খেলা কোনো নির্দিষ্ট মাইলফলক তাড়াতাড়ি অর্জনের জন্য নয়। এটি নড়াচড়া, দেখা, শোনা আর আপনজনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সহজ সুযোগ। কোনো দিন শিশু বেশ সজাগ হয়ে আপনার সঙ্গে গুঁগুঁ শব্দে কথা বলতে চাইবে। আবার কোনো দিন দুধ খাওয়া, একটু আদর আর ছোট্ট একটি গানই তার জন্য যথেষ্ট। দুটিই স্বাভাবিক।

দুই মাস বয়সে খেলার ধরন কেমন হয়

এই বয়সে শিশুরা চারপাশের জগত সম্পর্কে ধীরে ধীরে বেশি সচেতন হতে শুরু করে। তারা আগের চেয়ে মন দিয়ে মুখের দিকে তাকায়, পরিচিত কণ্ঠের দিকে মাথা ঘোরাতে পারে, ছোট ছোট গুঁগুঁ আওয়াজ করে এবং টামি টাইমে অল্প সময়ের জন্য মাথা তুলতে চেষ্টা করে।

২ মাসের বাচ্চার উন্নয়নে খেলাধুলার উদ্দেশ্যগুলো আসলে খুবই সহজ:

  • টামি টাইম ও সহায়তা দিয়ে নড়াচড়ার মাধ্যমে শিশুর ঘাড় ও ওপরের শরীরের পেশি মজবুত করা
  • মুখ, বৈপরীত্যপূর্ণ রং, নড়াচড়া ও সহজ জিনিসের মাধ্যমে শিশুর দৃষ্টিশক্তিকে উদ্দীপিত করা
  • কথা বলা, গান গাওয়া, ঝুনঝুনি এবং ঘরের স্বাভাবিক শব্দের মাধ্যমে শ্রবণশক্তির অনুশীলন করানো
  • পালা করে শব্দ ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাথমিক সামাজিক যোগাযোগ গড়ে তোলা
  • হাত, পা, পেট ও শরীরের নড়াচড়া সম্পর্কে শিশুর সচেতনতা বাড়ানো

এ বয়সে একটানা দীর্ঘ সময় খেলার দরকার নেই। দিনে কয়েকবার ২ থেকে ৫ মিনিট করলেই ভালো। ডায়াপার বদলানোর সময় হাত নিয়ে খেলা হতে পারে, গোসলের সময় হতে পারে অনুভূতির খেলা, আর দুধ খাওয়ানোর পর কোলে নিয়ে দু-চার কথা বলাও হতে পারে ছোট্ট কথোপকথন।

দামি খেলনা বা নির্দিষ্ট কোনো রুটিনের প্রয়োজন নেই। বেশির ভাগ সময় আপনার মুখটাই শিশুর সবচেয়ে প্রিয় খেলনা।

দুই মাসের শিশুর নড়াচড়ার খেলা

টামি টাইমের বিভিন্ন ধরন

টামি টাইম এ বয়সের সবচেয়ে উপকারী নবজাতকের খেলাগুলোর একটি। উপুড় হয়ে থাকার অভ্যাস শিশুর ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশি শক্ত করে। পরবর্তী সময়ে গড়াগড়ি দেওয়া, বসা, হামাগুড়ি ও দাঁড়ানোর জন্য এ পেশিগুলোই কাজে লাগে। তবে দুই মাসে মূল লক্ষ্য শুধু শিশুকে অল্প সময় পেটের ওপর ভর দিয়ে থাকতে স্বচ্ছন্দ করে তোলা।

দিনে মোট ৩০ মিনিট বা তার বেশি টামি টাইম করার চেষ্টা করুন, তবে তা অনেক ছোট সেশনে ভাগ করে দিন। প্রথমে সময়টা বেশ বেশি মনে হতে পারে, কিন্তু একবারে করতে হবে না। ডায়াপার বদলানোর পর ৫ মিনিট, আপনার বুকের ওপর ৩ মিনিট, মেঝেতে আরও কয়েক মিনিট, এভাবেই সময় জমে যায়।

টামি টাইম কিভাবে করাবেন, তার কয়েকটি সহজ পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

  • বুকের ওপর টামি টাইম: বিছানা বা সোফায় হেলান দিয়ে বসুন এবং শিশুকে আপনার বুকের ওপর উপুড় করে রাখুন। কথা বলুন বা গান করুন, যাতে সে আপনার দিকে তাকাতে মাথা তোলার চেষ্টা করে। মেঝেতে শুলে যেসব শিশু বিরক্ত হয়, তাদের জন্য শুরুতে এটি বেশ আরামদায়ক।
  • মেঝেতে টামি টাইম: মেঝেতে শক্ত ম্যাট বা ভাঁজ করা চাদর বিছিয়ে শিশুকে উপুড় করে শোয়ান। তার পাশে শুয়ে নিজের মুখ কাছে রাখুন, কিংবা সামনে সাদা-কালো কনট্রাস্ট কার্ড রাখুন। বেশি কিছু করার দরকার নেই।
  • ফিডিং পিলোর ওপর টামি টাইম: শক্ত ফিডিং পিলো বা বালিশের ওপর শিশুকে পেটের ভর দিয়ে রাখুন, হাত দুটি যেন সামনে আরাম করে থাকে। সামান্য উঁচু অবস্থান মাথা তুলতে সুবিধা দেয়। তবে সব সময় হাতের কাছেই থাকবেন।
  • এক্সারসাইজ বলের ওপর টামি টাইম: বড় ব্যায়ামের বলের ওপর শিশুর পেট আলতোভাবে রেখে কোমর ও বুকের অংশ শক্ত করে ধরে রাখুন। বলটি খুব অল্প সামনে-পেছনে নড়ান। এখানে ধীর গতি ও নিরাপদ ধরে রাখা সবচেয়ে জরুরি।

শিশু কাঁদলে বা খুব বিরক্ত হলে তাকে কোলে তুলে নিন। একটু পরে আবার চেষ্টা করুন। আজ যে শিশু ৩০ সেকেন্ড উপুড় থাকতে পারছে, কয়েক দিন পর সে হয়তো দুই মিনিট থাকতে পারবে। বাচ্চার ঘাড় শক্ত করা সময়সাপেক্ষ, তাই ছোট অগ্রগতিও গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর রিচিং অনুশীলন

দুই মাস বয়সে বেশির ভাগ শিশু ইচ্ছা করে খেলনা ধরতে পারে না। হাত-পায়ের নড়াচড়া এখনো কিছুটা এলোমেলো ও অনিচ্ছাকৃত। তবে তারা বুঝতে শুরু করে যে হাতের শেষে থাকা নড়তে থাকা জিনিস দুটি আসলে তার নিজের।

রিচিং অনুশীলন করাতে শিশুকে চিত করে শুইয়ে তার নাগালের সামান্য ওপরে হালকা খেলনা ধরুন। নরম ঝুনঝুনি, খসখসে শব্দ করা কাপড়ের খেলনা বা কনট্রাস্ট রঙের ঝোলানো খেলনা ব্যবহার করা যায়। খেলনাটি এত দূরে রাখবেন না, যাতে হাত নাড়লে ছোঁয়া সম্ভবই না হয়।

হয়তো হাত নাড়তে নাড়তে হঠাৎ খেলনাটিতে লাগবে। তারপর আবার লাগবে। এই ছোট্ট অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুর মনে তৈরি হয়, “আমি নড়লে কিছু একটা ঘটে।”

হাতের কবজি, পায়ের গোড়ালি বা খাটের সঙ্গে খেলনা বেঁধে দেবেন না। নিজে হাতে ধরে খেলান, অথবা নিরাপদভাবে লাগানো খেলনাসহ বয়সোপযোগী অ্যাক্টিভিটি জিম ব্যবহার করুন।

হাত নিয়ে খেলা ও মুখে দেওয়া

এ বয়সে নিজের হাত শিশুর কাছে ভীষণ কৌতূহলের বিষয়। শিশু শান্ত ও জেগে থাকলে তার হাতের তালুতে হালকা একটি খেলনা দিন। সে হয়তো স্বাভাবিকভাবেই শক্ত করে ধরে রাখবে, আবার একটু পরেই ফেলে দেবে। এটি একদম স্বাভাবিক।

নরম কাপড়ের ছোট টুকরা, অল্প বয়সী শিশুর উপযোগী টেক্সচারযুক্ত টিথার বা ছিদ্রযুক্ত হালকা বল ভালো বিকল্প। শিশু বস্তুটি মুখের দিকে নিতে চাইতে পারে। এর মানে সব সময় দাঁত ওঠা নয়। মুখ দিয়ে ছুঁয়ে দেখা শিশুর জগৎ বোঝার একটি স্বাভাবিক উপায়।

খেলনা পরিষ্কার রাখুন, গিলে ফেলার মতো ছোট যেন না হয় এবং কোনো ঢিলা অংশ যেন না থাকে। লম্বা সুতা, বোতাম, পুঁতি বা খুলে যাওয়ার মতো সাজসজ্জা আছে এমন জিনিস এড়িয়ে চলুন।

শিশুর চিন্তা ও বোঝার ক্ষমতা বাড়ানোর খেলা

কারণ ও ফলের পরিচয়

কারণ ও ফল বোঝার শুরু হয় খুব ছোট ছোট আবিষ্কার থেকে। ঝুনঝুনি নাড়ালে শব্দ হয়। হাত নড়লে ঘণ্টা বাজে। পা ছুড়লে অ্যাক্টিভিটি জিমের খেলনা দোলে।

একটি নরম ঝুনঝুনি শিশুর সামনে এমনভাবে নাড়ান, যাতে সে দেখতে ও শুনতে পারে। তারপর একটু থামুন। আবার নড়ান। তাকে তাকানোর, চোখ পিটপিট করার বা হাত-পা নাড়ার সময় দিন। এখানে তাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে না, বরং একটি সহজ ধারা দেখানো হচ্ছে।

নজরদারিতে জেগে থাকার সময় নরম রিস্ট বেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশু হাত নাড়লে টুংটাং মৃদু শব্দ শুনবে। তবে খেলার সময় ছোট রাখুন এবং পরে এটি খুলে দিন। শিশুর কানের কাছে জোরে শব্দ করা খেলনা প্রয়োজন নেই। শান্ত স্বরের শিশুর শ্রবণ উদ্দীপক খেলনাই যথেষ্ট।

এগুলো নবজাতকের সঙ্গেও করা যায়, যদিও দুই মাস বয়সে তাদের আগ্রহ ও প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

একটু ভিন্নভাবে বস্তু অনুসরণ

এ বয়সে অনেক শিশু মুখ বা খেলনা ডান থেকে বামে অনুসরণ করতে পারে, বিশেষত সেটি মুখ থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দূরে থাকলে। সাদা-কালো কার্ড, আপনার মুখ বা উজ্জ্বল রঙের খেলনা, সবই কাজে লাগতে পারে।

পাশাপাশি অনুসরণ করা সহজ হয়ে গেলে খেলাটিতে সামান্য পরিবর্তন আনুন:

  1. বস্তুটি ধীরে ধীরে এক পাশ থেকে অন্য পাশে বাঁকা পথে সরান।
  2. মসৃণভাবে ছোট একটি বৃত্ত আঁকার মতো করে নড়ান।
  3. খেলনাটি অল্প ওপরে-নিচে নিন।
  4. এক বা দুই সেকেন্ডের জন্য খেলনাটি নিজের পেছনে লুকিয়ে রেখে হাসিমুখে বলুন, “আবার এলাম!”

অল্প সময়ের জন্য খেলনা চোখের আড়াল হওয়া শিশুর কাছে বেশ মজার হতে পারে। তবে খেলা দীর্ঘ করবেন না। দুই মাসের শিশুর জন্য লম্বা লুকোচুরি খেলা আনন্দের চেয়ে বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

ঘরের ভেতর দৃশ্য বদলান

শিশুর জন্য সারাদিনের ব্যস্ত সূচি দরকার নেই, তবে ঘরের বিভিন্ন জায়গা দেখা তার ভালো লাগতে পারে। রান্নাঘরে কোলে নিয়ে গিয়ে বলতে পারেন, “আমি কেটলিতে পানি দিচ্ছি, পানির শব্দ শুনতে পাচ্ছ?” জানালার পাশে বসে গাছের পাতা নড়তে দেখান। পর্দার নকশা, বইয়ের তাক, ল্যাম্প বা পরিবারের ছবির দিকেও তাকাতে দিন।

অন্য একটি ঘরে কয়েক মিনিট থাকা মানেই নতুন আকার, শব্দ, আলো ও ছায়ার সঙ্গে পরিচয়। এটুকুই যথেষ্ট মানসিক উদ্দীপনা। স্ক্রিনের ঝলকানি দেখানোর প্রয়োজন নেই।

শিশুর ইন্দ্রিয়ভিত্তিক খেলা

সহজ টেক্সচার বোর্ড তৈরি করুন

ঘরে তৈরি টেক্সচার বোর্ড খুব সহজ একটি সংবেদনশীল খেলা, খরচও প্রায় নেই বললেই চলে। শক্ত কার্ডবোর্ডের ওপর বিভিন্ন ধরনের কাপড় ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। কোনো কিনারা বা ছোট অংশ যেন আলগা না থাকে, তা নিশ্চিত করুন।

ব্যবহার করতে পারেন:

  • মসৃণ সুতির কাপড়
  • নরম ফ্লিস কাপড়
  • খাঁজযুক্ত কর্ডুরয় কাপড়
  • সমান করে শক্তভাবে আটকানো সাটিন ফিতা
  • তোয়ালের কাপড়ের টুকরা
  • শিশুর খেলনার জন্য তৈরি খসখসে শব্দ করা কাপড়

নজরদারিতে টামি টাইমের সময় বোর্ডটি শিশুর সামনে রাখতে পারেন। অথবা চিত হয়ে শোয়া অবস্থায় তার হাত আলতো করে বিভিন্ন অংশে ছোঁয়ান। বলুন, “এটা নরম”, “এটার ওপর ছোট ছোট দাগ আছে।”

বোর্ডটি কখনো খাটে রেখে যাবেন না। নিয়মিত দেখে নেবেন কাপড় বা কার্ডবোর্ডের কোনো অংশ খুলে যাচ্ছে কি না।

উষ্ণ পানিতে পা ছোঁয়ানো

পানিতে খেলা অনেক শিশুকে শান্ত করে। শরীরের তাপমাত্রার কাছাকাছি, আরামদায়ক উষ্ণ পানি একটি অগভীর গামলা বা টবে নিন। শিশুকে শক্ত করে ধরে তার পা পানির ওপর ছোঁয়ান। কয়েকবার ছোট্ট পা ছোড়ার সুযোগ দিন।

কেউ অবাক হয়ে পানির দিকে তাকিয়ে থাকে, কেউ আবার এমন গম্ভীর মুখ করে যেন নতুন কোনো বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে।

পানি অগভীর রাখুন, সব সময় হাতের নাগালে থাকুন এবং শিশু ঠান্ডা, ক্লান্ত বা অস্বস্তিতে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন। কয়েক মিনিটই যথেষ্ট। শেষে পায়ের আঙুলের ফাঁকগুলো ভালোভাবে মুছে দিন।

হালকা ফুঁ দেওয়ার খেলা

শিশুর পেট, পায়ের পাতা বা আঙুলে খুব আলতো করে ফুঁ দিন। সে হয়তো কেঁপে উঠবে, বিস্মিত চোখে তাকাবে অথবা শরীর নড়াবে। দুই মাসে হাসির আওয়াজ নাও আসতে পারে, কিন্তু এ ধরনের অনুভূতি সে বুঝতে শুরু করে।

মজার কোনো কথা জুড়ে দিন, যেমন “উফ, ছোট্ট পায়ে বাতাস!” বা “এই যে হাওয়া এল!” আপনার কণ্ঠও এই খেলাটির অংশ।

দুই মাসের শিশুর সামাজিক ও ভাষার খেলা

সত্যিকারের কথোপকথন, একটু অন্য রকম

মুখোমুখি কথা বলা ২ মাসের শিশুর খেলার অন্যতম সেরা অংশ। শিশুকে এমন দূরত্বে ধরুন, যাতে আপনার মুখ স্পষ্ট দেখতে পারে, সাধারণত প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার। ধীরে ধীরে কথা বলুন, কণ্ঠে উষ্ণতা রাখুন এবং মুখের অভিব্যক্তি একটু স্পষ্ট করুন।

তারপর থামুন।

এই বিরতিটুকু খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিশু গুঁগুঁ করতে পারে, মুখ খুলতে পারে, হাত নাড়তে পারে, কিংবা শুধু চুপ করে তাকিয়ে থাকতে পারে। তার প্রতিক্রিয়াকে কথার মতোই গুরুত্ব দিন। বলুন, “তাই নাকি? তারপর কী বলবে?”

শুরুর দিকে একটু অদ্ভুত লাগলেও এভাবেই পালা করে যোগাযোগের অভ্যাস তৈরি হয়। দুধ খাওয়ার পর শিশু শান্ত ও সজাগ থাকলে এই খেলা ভালো হয়। বারবার অন্যদিকে তাকানো, হাই তোলা, বিরক্ত হওয়া বা চোখ বন্ধ করে ফেলা মানে সে আপাতত একটু বিরতি চায়।

অঙ্গভঙ্গিসহ গান

গানের মধ্যে ছন্দ, ভাষা, স্পর্শ ও চোখের যোগাযোগ একসঙ্গে থাকে। আপনার গলার সুর একদম নিখুঁত হওয়া জরুরি নয়, শিশুও আপনার গানকে নম্বর দেবে না।

“আয় আয় চাঁদ মামা” বা “ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি”র মতো পরিচিত ছড়া ধীরে ধীরে গাইতে পারেন। আঙুল দিয়ে মাকড়সা হাঁটার ভঙ্গি করে শিশুর হাতের ওপর আলতোভাবে চালাতে পারেন, কিংবা পোশাক পরানো ও গোসল করানোর সময় নিজের মতো করে ছোট গান বানিয়ে নিতে পারেন।

একই গান বা ছড়ার পুনরাবৃত্তি শিশুকে নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। কিছুদিন পর পরিচিত সুর শুনলেই সে চুপ করে মন দিয়ে শুনতে পারে।

বোর্ড বুক একসঙ্গে দেখা

এ বয়সে বোর্ড বুক বেশ উপযোগী, কারণ লালা, ভাঁজ করার চেষ্টা বা হঠাৎ টানাটানি সহজে সহ্য করতে পারে। বড় ও সহজ ছবি, স্পষ্ট মুখ, মোটা রেখা এবং তীব্র রঙের বই বেছে নিন।

একবারে একটি ছবির দিকে ইশারা করে বলুন, “বিড়াল। বড় বিড়াল। মিঁউ।” পাতার সব লেখা পড়ে শোনানো জরুরি নয়। দুই মাস বয়সে বই দেখা মানে মূলত আপনার কণ্ঠ শোনা এবং পাশাপাশি ছবি দেখা।

সাদা-কালো প্রাণীর বই অনেক সময় অতিরিক্ত ছোটখাটো ছবিতে ভরা বইয়ের চেয়ে বেশি মনোযোগ ধরে রাখতে পারে। পরে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল ও নানা রঙের বই যোগ করতে পারেন।

দুই মাস বয়সের জন্য ভালো খেলনা

খেলনায় ভর্তি বড় বাক্সের প্রয়োজন নেই। কয়েকটি নিরাপদ ও কাজে লাগে এমন জিনিসই বেশির ভাগ ২ মাসের বাচ্চার গেমস আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট।

কনট্রাস্ট কার্ড, তারপর রঙিন কার্ড

সাদা-কালো কার্ড ছোট শিশুর জন্য খুব ভালো, কারণ তীব্র বৈপরীত্য তাদের চোখে সহজে ধরা পড়ে। টামি টাইমের সময় সামনে রাখুন বা কথা বলার সময় নিজের মুখের পাশে ধরুন। শিশুর দৃষ্টি উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাল, হলুদ, নীল ও সবুজের মতো গাঢ় রঙের কার্ডও দেখাতে পারেন।

এ ধরনের কার্ড কার্যকর শিশুর দৃষ্টি উদ্দীপক খেলনা হিসেবে কাজ করে।

ও-বল

ও-বলে অনেক খোলা ছিদ্র থাকে, তাই ছোট হাতের জন্য ধরার চেষ্টা করা সহজ হয়। শিশু হয়তো বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারবে না, তবে অনুশীলন শুরু হবে। এটি হালকা, ধোয়া সহজ এবং নজরদারিতে মুখে নেওয়ার জন্যও উপযোগী।

নরম ঝুনঝুনি

মৃদু শব্দ হয় এমন হালকা নরম ঝুনঝুনি বেছে নিন। এটি কারণ-ফল বোঝা, শব্দ শোনা এবং হাত বাড়ানোর প্রাথমিক অনুশীলনে সাহায্য করে। জোরে বাজে এমন ইলেকট্রনিক খেলনা দরকার নেই। সাধারণ একটি ঝুনঝুনিই যথেষ্ট।

খসখসে শব্দের কাপড়

খসখসে শব্দ করা কাপড়ে শব্দ, স্পর্শ ও নড়াচড়া একসঙ্গে পাওয়া যায়। হাতের চাপে হঠাৎ কচমচ শব্দ হলে অনেক শিশুই আগ্রহী হয়। শিশুর জন্য তৈরি, চারপাশ ভালোভাবে সেলাই করা কাপড় বেছে নিন।

ভাঙবে না এমন আয়না

শিশুরা মুখ দেখতে ভালোবাসে, নিজের প্রতিচ্ছবিও এর ব্যতিক্রম নয়। শিশু-নিরাপদ, ভাঙবে না এমন আয়না টামি টাইমকে আরও আগ্রহের করে তুলতে পারে। শিশুর সামনে আয়নাটি রাখুন, সে অন্য এক কৌতূহলী শিশুকে তাকিয়ে থাকতে দেখবে।

এটি দারুণ শিশুর সামাজিক যোগাযোগ খেলনাও হতে পারে।

অ্যাক্টিভিটি জিম

সাধারণ একটি অ্যাক্টিভিটি জিম শিশুকে নিরাপদে শুয়ে পা ছোড়া, হাত বাড়ানো এবং ঝোলানো খেলনা দেখার জায়গা দেয়। খুলে রাখা যায় এমন খেলনাসহ জিম নিন, যাতে অতিরিক্ত উদ্দীপনা এড়ানো যায়। একসঙ্গে দুই বা তিনটি আকর্ষণীয় খেলনাই সাধারণত যথেষ্ট।

শিশুর ইশারা বুঝে খেলুন

দুই মাস বয়সী শিশুর জন্য সেরা খেলা সব সময় ছবিতে সুন্দর দেখাবে এমন নয়। কখনো জানালার পাশে চুপচাপ কোলে বসে থাকাই খেলা। কখনো আপনি কাপড় গুছাচ্ছেন আর শিশু সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছে, সেটিও তার শেখার সময়।

শিশুর ইশারা লক্ষ্য করুন। সতর্ক চোখে তাকানো, শরীর ঢিলে থাকা, গুঁগুঁ শব্দ করা এবং হাত-পা নাড়ানো সাধারণত বোঝায় যে সে খেলতে আগ্রহী। অন্যদিকে বারবার মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, কান্না করা, চোখ ঘষা বা শরীর শক্ত করে ফেলা মানে সে একটু বিশ্রাম চায়।

খেলা ছোট, নিরাপদ ও শিশুর প্রতিক্রিয়াভিত্তিক রাখুন। টামি টাইম, গান, হাত বাড়ানো, পানিতে পা ছোঁয়ানো আর গল্প করার মতো সাধারণ মুহূর্তগুলোই তার শরীর ও মনের বিকাশের ভিত্তি গড়ে দেয়। আর নবজাতকের সাথে খেলাধুলা আপনাকেও ধীরে ধীরে আপনার ছোট্ট মানুষটিকে চিনে নেওয়ার সুন্দর সুযোগ দেয়।


এই বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং এটি আপনার ডাক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের পরামর্শের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে আপনাকে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

Erby — নবজাতক ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য বেবি ট্র্যাকার

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।
Erby

Erby

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।