সন্ধ্যার সময়টা ছোট শিশুকে নিয়ে অনেক সময় দিনের সবচেয়ে দীর্ঘ অংশ বলে মনে হয়। একবার দুধ খাওয়ানো, তারপর ডায়াপার বদল, বাসনের কাজ জমে থাকা, আর মনে হয় সব শান্ত হলো কি হলো না, আবার বাচ্চা দুধ খুঁজছে। সহজ একটি ঘুমের রুটিন সব রাতকে নিখুঁত করে দেবে না। তবে শুরুর মাসগুলোতে এটি কিছুটা ছন্দ এনে দিতে পারে। শিশুর কাছে পরিচিত সংকেত তৈরি হয়, আর নতুন মা-বাবারও দিনের শেষে অনুসরণ করার মতো একটি ছোট বিরতি মেলে।
শিশু ঘড়ি বুঝতে শেখে না, সে আগে বোঝে অভ্যাস ও পুনরাবৃত্তি।
প্রতিদিন একইভাবে শান্ত কিছু কাজ করলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র ধীরে ধীরে স্থির হতে সাহায্য পায়। কুসুম গরম পানিতে গোসল, নরম রাতের পোশাক, দুধ খাওয়া, মৃদু গান আর আদর, এসব মিলিয়ে শিশুর কাছে একটাই বার্তা যায়: এবার ঘুমের সময়। সময়ের সঙ্গে এই ঘুমের রীতিনীতি দিনের নানা শব্দ, আলো ও খেলাধুলা থেকে শিশুকে রাতের শান্ত পরিবেশে আনতে সহায়তা করে।
এর কয়েকটি কারণ আছে।
প্রথমত, একই ধারাবাহিকতা ঘুমে যাওয়ার পরিবর্তনটাকে শিশুর জন্য সহজ করে। জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে নবজাতকের ঘুম রুটিন সাধারণত অনিয়মিত থাকে। শিশু বারবার জেগে উঠতে পারে, দিন-রাত গুলিয়ে ফেলতে পারে বা শুধু কোলে থাকলেই ঘুমাতে চাইতে পারে। এগুলো স্বাভাবিক। তবু সন্ধ্যার কাজগুলো পরিচিত ক্রমে হলে শিশু ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করে, এরপর কী হতে যাচ্ছে।
বাচ্চার ঘুম রুটিন ভালো ঘুমের সঙ্গে পরিচিত সংকেত তৈরিতেও কাজে আসে। যেমন স্লিপ স্যাক, মৃদু সাদা শব্দ, প্রতিদিনের একই লোরি, অথবা মা-বাবার বলা একই শুভরাত্রির কথা। এসব অভ্যাস খারাপ নয়। বরং নিরাপদ, বারবার করা যায় এবং মা ছাড়া বাবা বা অন্য পরিচর্যাকারীও ব্যবহার করতে পারেন বলে বেশ সহায়ক।
আলোরও ভূমিকা আছে। সন্ধ্যায় আলো কমালে শরীর দিন থেকে রাতের ছন্দ ধরতে শেখে। উজ্জ্বল আলো মস্তিষ্ককে দিনের বার্তা দেয়, আর অন্ধকার ঘুমঘুম ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে। নবজাতকের ক্ষেত্রে অবশ্য মেলাটোনিনের স্বাভাবিক ছন্দ শুরু থেকেই পুরোপুরি স্থির থাকে না। তাই এক রাতেই শিশুর জৈবিক ঘড়ি ঠিক হয়ে যাবে, এমন আশা করার দরকার নেই। আপনি শুধু তাকে সহায়ক কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
আর মা-বাবার জন্যও এর মূল্য কম নয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে যখন সারাদিনের ক্লান্তি চেপে বসে, তখন পরের কাজটা কী তা জানা থাকলে অনেকটাই স্বস্তি মেলে।
অনেকের প্রশ্ন, শিশুর রাতের রুটিন কখন শুরু করবেন? এর কোনো একক, জাদুকরি সময় নেই। শিশুর বয়স একটু বেশি হয়ে গেলেও রুটিন শুরু করার সুযোগ চলে যায় না।
তবে প্রায় দুই মাস বয়স থেকে শুরু করা ভালো হতে পারে। আট সপ্তাহের কাছাকাছি অনেক শিশু আশপাশ সম্পর্কে একটু বেশি সচেতন হয় এবং একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে তা চিনতে শুরু করে। এ সময়েও নবজাতকের ঘুম রুটিন অনিশ্চিত থাকতে পারে, রাতে দুধ খাওয়া ও জেগে ওঠা চলবেই। কিন্তু ছোট একটি সন্ধ্যার অভ্যাস তার কাছে অর্থবহ হতে শুরু করে।
দুই মাসের আগে খুব সহজ রাখুন। আলো কমান, পরিষ্কার ডায়াপার ও আরামদায়ক স্লিপস্যুট পরান, দুধ খাওয়ান এবং ঘুমের জায়গায় শুইয়ে দিন। এটুকুই যথেষ্ট। নবজাতকের ঘুম রুটিন মানেই অনেক আয়োজন নয়।
দুই থেকে তিন মাস বয়সে আরও কয়েকটি পরিচিত ধাপ যোগ করতে পারেন। যেমন একদিন পরপর গোসল, হালকা ম্যাসাজ বা ছোট্ট একটি ছড়ার বই দেখা। কঠোরভাবে নির্দিষ্ট ঘড়ির সময় মানতে হবে না। একদিন শিশু সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঘুমের জন্য তৈরি হতে পারে, আবার অন্যদিন রাত ৮টায়। গ্রোথ স্পার্ট বা ঘন ঘন দুধ খাওয়ার সময় এমন হওয়া স্বাভাবিক।
ঘড়ির চেয়ে শিশুর ইশারা দেখুন। হাই তোলা, ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, মুখ ঘষা, বিরক্ত হওয়া বা খেলায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, এগুলো ঘুমের প্রস্তুতির লক্ষণ হতে পারে।
সাধারণভাবে ২০ থেকে ৩০ মিনিট যথেষ্ট। এতে পরিবেশটা শান্ত হয়, আবার আপনি বা শিশু খুব ক্লান্ত থাকলেও রুটিনটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
অতিরিক্ত দীর্ঘ রুটিন উল্টো সমস্যার কারণ হতে পারে। শিশু যদি খুব ক্ষুধার্ত, কান্নাকাটি করছে বা অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে যায়, তাহলে বাড়তি অংশ বাদ দিন। সরাসরি প্রয়োজনীয় ধাপগুলো করুন: ডায়াপার, দুধ, স্লিপ স্যাক, আদর, বিছানা।
সময় নয়, কাজের ক্রমটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর ঘুমের রুটিন কিভাবে তৈরি করবেন ভাবলে চেষ্টা করুন প্রতিদিন মোটামুটি একই ধারাবাহিকতা রাখতে। সময় এদিক-ওদিক হলেও শিশু বুঝতে শেখে, “আগে এটা, তারপর ওটা, তারপর ঘুম।”
নিচে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ব্যবহারিক রুটিন দেওয়া হলো, নিজের পরিবারের সুবিধামতো বদলে নিতে পারেন।
শিশুকে ঘুম পাড়ানোর প্রায় ৩০ মিনিট আগে থেকে ঘরের পরিবেশ শান্ত করতে শুরু করুন।
মূল ঘরের আলো কমান। টেলিভিশনের শব্দ নিচু করুন, শব্দ হয় এমন কাজ কিছুক্ষণের জন্য থামান এবং ঘুমের ঠিক আগে শিশুকে নিয়ে খুব চঞ্চল খেলাধুলা এড়িয়ে চলুন। বড় সন্তান থাকলে বাড়ি পুরো নীরব রাখা সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। কিন্তু দিনের চেয়ে ঘরটা যে শান্ত হয়েছে, এই পরিবর্তনটুকু শিশুর কাছে রাতের ইঙ্গিত হয়ে ওঠে।
শিশুর ঘর বা শোবার জায়গায় উজ্জ্বল সিলিং লাইটের বদলে কম আলোয় ল্যাম্প ব্যবহার করতে পারেন। ধীরে কথা বলুন। এই ছোট পরিবর্তন শিশুর ঘুম এবং দিন-রাতের প্রাথমিক ছন্দ গঠনে সহায়তা করে।
কুসুম গরম পানিতে গোসল অনেক শিশুকে আরাম দেয়। আবার কেউ কেউ গোসলকে খেলার সময় মনে করে আরও চনমনে হয়ে যায়। কয়েক দিনেই বুঝে যাবেন আপনার শিশুর ক্ষেত্রে কোনটি হয়।
প্রতিদিন গোসল করানোর দরকার নেই। বেশির ভাগ শিশুর জন্য একদিন পরপর গোসল যথেষ্ট, আর এতে রুটিন মেনে চলাও সহজ হয়। যেদিন গোসল করাবেন না, সেদিন কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে মুখ, হাত ও ডায়াপার এলাকার অংশ আলতো করে মুছিয়ে দিন। লক্ষ্য একদম ঝকঝকে পরিষ্কার করা নয়, বরং ধীর ও পরিচিত একটি অভ্যাস তৈরি করা।
ঘর গরম রাখুন, তোয়ালে আগে থেকে হাতের কাছে রাখুন এবং গোসল সংক্ষিপ্ত করুন। ঠান্ডা লাগছে বা খুব ক্ষুধার্ত, এমন শিশুর কাছে দীর্ঘ গোসল সাধারণত আরামদায়ক হয় না।
গোসল বা শরীর মুছিয়ে দেওয়ার পর শিশুর ত্বকের উপযোগী, সুগন্ধিবিহীন বেবি লোশন বা তেল অল্প নিয়ে পাঁচ মিনিট আলতো ম্যাসাজ করতে পারেন।
পা, পায়ের পাতা, পেট, হাত ও পিঠে ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দিন। এ সময় নিচু স্বরে কথা বলতে পারেন বা গুনগুন করে লোরি গাইতে পারেন। কোনো জটিল কৌশল মুখস্থ করার দরকার নেই। ধীর হাত আর শান্ত ভঙ্গিই যথেষ্ট।
ম্যাসাজে পরিচিত স্পর্শের আরাম পেয়ে অনেক শিশু শান্ত হয়। সারাদিন কাজে থাকা বাবা বা পরিবারের অন্য সদস্যের সঙ্গে শিশুর একান্ত সময় কাটানোরও এটি সুন্দর সুযোগ।
তবে শিশু যদি বিরক্ত হয়, বেশি নড়াচড়া করে বা আরও উত্তেজিত হয়ে যায়, তাহলে ম্যাসাজ বাদ দিন। সবচেয়ে ভালো রুটিন সেটিই, যা আপনার শিশু স্বস্তিতে নিতে পারে।
এরপর পরিষ্কার ডায়াপার এবং ঘুমের উপযোগী আরামদায়ক পোশাক পরিয়ে দিন। সম্ভব হলে রাতের জন্য আলাদা কিছু স্লিপস্যুট বা পায়জামা রাখতে পারেন। এটি শিশুর কাছে আরেকটি পরিচিত সংকেত হয়ে উঠবে।
দীর্ঘ দিনের শেষে বড়দের পায়জামা পরার মতোই ভাবতে পারেন। পোশাক নিজে থেকে ঘুম আনবে না, কিন্তু রুটিনের ধারাবাহিকতা তৈরি করবে।
নিরাপদ ঘুমের জন্য ঘরের ভেতরে শিশুকে টুপি পরিয়ে শোয়াবেন না এবং খুব বেশি কাপড়ও পরাবেন না। ঘরের তাপমাত্রা দেখে স্তর ঠিক করুন। বাংলাদেশে গরমের সময় পাতলা সুতি পোশাকই যথেষ্ট হতে পারে, আর শীতে প্রয়োজনমতো হালকা স্তর যোগ করুন। স্বাস্থ্যসেবা নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুকে সবসময় চিৎ করে শক্ত, সমতল ও ফাঁকা ঘুমের জায়গায় শোয়ান। বালিশ, ঢিলা কাঁথা, নরম খেলনা, কট বাম্পার বা ভারী বিছানাপত্র রাখবেন না।
সন্ধ্যার রুটিনে দুধ খাওয়ানোই অনেক সময় সবচেয়ে শান্ত ও আবেগঘন অংশ। বুকের দুধ হোক বা ফর্মুলা, এই সময় শিশুর পেট ভরে এবং সে আরাম পায়।
অনেক মা-বাবা শিশুকে শুইয়ে দেওয়ার একেবারে আগে দুধ খাওয়ান। বিশেষ করে প্রথম কয়েক মাসে এটি খুব স্বাভাবিক, কারণ নবজাতকের ঘুম ও ঘন ঘন খাওয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ।
আবার কেউ কেউ গল্প বা গান শোনানোর আগে দুধ খাওয়ান, যাতে শিশু প্রতিবার দুধ খেতে খেতেই পুরোপুরি ঘুমিয়ে না পড়ে। ভবিষ্যতে দুধ খাওয়া ছাড়া ঘুম না আসার অভ্যাস কমাতে চাইলে এটি ধীরে ধীরে কাজে লাগতে পারে।
দুটি পদ্ধতির কোনোটিই সবার জন্য এক নয়। আপনার শিশু ও পরিবারের জন্য যেটা কার্যকর, সেটাই বেছে নিন। ছয় সপ্তাহের শিশু যদি শুধু দুধ খেয়েই শান্ত হয়, সেটি ব্যর্থতা নয়। এত ছোট শিশুর বারবার খাবার ও সান্ত্বনা প্রয়োজন হওয়াটাই স্বাভাবিক।
এ অংশটি সংক্ষিপ্ত রাখুন। একটি বোর্ডবুক, পরিচিত ছড়া, অথবা দুই-তিন মিনিটের লোরিই যথেষ্ট।
দুই মাসের শিশু গল্পের কাহিনি বুঝবে না। কিন্তু সে আপনার কণ্ঠ শুনবে, ধীর গতি অনুভব করবে এবং সেই বই বা গানকে ঘুমের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে শুরু করবে। প্রতিদিন একই লোরি গাওয়া বেশ শক্তিশালী ঘুমের সংকেত হতে পারে। কয়েক বছর পরও হয়তো ঘুমঘুম চোখে সেই গান গাইতে পারবেন।
যেটা করতে আপনার ভালো লাগে, সেটাই বেছে নিন। গান গাইতে অস্বস্তি হলে গল্প পড়ুন। সারাদিনের ক্লান্তিতে পড়তে ইচ্ছে না করলে একই সুর গুনগুন করুন।
সবশেষে শিশুকে তার পরিচিত ঘুমের জায়গায় শুইয়ে দিন। শিশুর বয়স ও বিকাশের জন্য উপযুক্ত হলে তবেই সোয়াডল ব্যবহার করুন। শিশু উল্টে যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন লক্ষণ দেখা দিলেই সোয়াডল বন্ধ করতে হবে। সঠিক মাপের স্লিপ স্যাক অনেকের জন্য সহজ ও নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
সাদা শব্দ ব্যবহার করলে খুব কম ভলিউমে চালান এবং খাট বা দোলনার একেবারে পাশে রাখবেন না। এরপর প্রতিরাতে একই ছোট্ট কথা বলুন, যেমন, “শুভরাত্রি সোনা, ভালো ঘুম দাও, মা তোমাকে ভালোবাসে।”
এই কথাটিও ঘুমের পরিচিত ইঙ্গিত হয়ে যায়। সহজ, আশ্বস্ত করার মতো এবং প্রতিদিন বলা যায়।
নিয়মিততা কাজে দেয়, কিন্তু একদম নিখুঁত হওয়া জরুরি নয়।
প্রতিদিন একই মানুষকে রুটিন করাতে হবে এমনও নয়। বরং বাবা-মা ভাগাভাগি করে করলে বন্ধন তৈরি হয়। একজন গোসল ও ম্যাসাজ করাতে পারেন, অন্যজন দুধ খাওয়ানো ও গান শোনানোর দায়িত্ব নিতে পারেন। দাদা-দাদি, নানা-নানি বা বিশ্বস্ত পরিচর্যাকারীও একই ধাপ অনুসরণ করতে পারেন।
ঠিক সময় নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে কাজের ক্রম বজায় রাখার চেষ্টা করুন। একদিন সন্ধ্যা ৭টায়, আরেকদিন ৭টা ৪৫ মিনিটে শুরু হলেও শিশুর উপকার হবে, যদি ধাপগুলো পরিচিত থাকে।
কিছু সন্ধ্যা এলোমেলো হবেই। দাঁত ওঠার অস্বস্তি, জ্বর-সর্দি, অতিথি আসা, বাইরে থেকে ফিরতে দেরি, টিকা দেওয়া, বড় সন্তানের স্কুলের অনুষ্ঠান বা দিনের ঘুম মিস করা, সবই হতে পারে। সেদিন শুধু একটি ছোট রুটিন করুন:
এটুকুই যথেষ্ট।
ভ্রমণে গেলে অনেক মা-বাবার ভয় হয়, এত কষ্টে তৈরি করা বাচ্চার ঘুম রুটিন বুঝি নষ্ট হয়ে যাবে। বেশির ভাগ সময় পরিচিত সংকেতগুলো সঙ্গে নিলে পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।
স্লিপ স্যাক, প্রিয় বই, সাদা শব্দের যন্ত্র বা ফোনের অ্যাপ সঙ্গে রাখুন। একই গান ও শুভরাত্রির কথাও বজায় রাখুন। নানাবাড়ি, দাদাবাড়ি, হোটেল বা গ্রামের বাড়ির ঘর দেখতে আলাদা হতে পারে, কিন্তু রুটিনের ধাপগুলো পরিচিতই থাকবে।
যেখানেই থাকুন, নিরাপদ ঘুমের ব্যবস্থা আগে নিশ্চিত করুন। শিশুর জন্য শক্ত, সমতল ও ফাঁকা ঘুমের জায়গা দরকার। ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ থাকলে উপযুক্ত ট্রাভেল কট সঙ্গে নেওয়া বা ভাড়া করার কথা ভাবুন।
দুই-এক রাত ঘুমের সময় বদলে গেলে রুটিন ভেঙে যায় না। বাড়ি ফিরে আবার মায়ের রাতের রুটিন ও শিশুর পরিচিত সন্ধ্যার ছন্দে ফিরে যান।
ঘুমের রুটিনের সুফল ধীরে ধীরে আসে। বিশেষ করে নবজাতকের ঘুমের অনিয়ম চললে তিন রাতেই নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যাবে, এমন আশা না করাই ভালো। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
শিশুর জন্য শান্ত সন্ধ্যার রুটিন মানে আনুষ্ঠানিক ঘুম শেখানো নয়, আর শিশুকে কাঁদতে রেখে দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। এটি কেবল কয়েকটি কোমল ইঙ্গিত, যা শিশুকে বলে: “দিন শেষ হচ্ছে, তুমি নিরাপদ, এবার ঘুমের পালা।”
ছোট থেকে শুরু করুন। বাস্তবসম্মত রাখুন। যতটা সম্ভব একই কয়েকটি ধাপ বারবার করুন।
রাতের পর রাত এই পরিচিত ছন্দই একসময় পরিবারের দিনের সবচেয়ে শান্ত ও স্নেহের সময়গুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।