২ মাসের শিশুর টিকা: কী কী টিকা দেওয়া হয়, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও পরামর্শ

২ মাসের শিশুর টিকা: কোন টিকা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও নির্দেশনা

২ মাস পার হতে না হতেই মনে হয় যেন অনেক কিছু বদলে গেছে। বাচ্চা এখন একটু বেশি জেগে থাকে, চেনা মুখ দেখে হাসে, কখনও আবার কু কু করে সাড়া দেয়। এই সময়ই সাধারণত শুরু হয় নিয়মিত শিশু টিকা নেওয়ার প্রথম বড় ধাপ, অর্থাৎ ২ মাসের টিকা।

অনেক বাবা-মা এই সময়টায় একসঙ্গে স্বস্তি, দুশ্চিন্তা আর একটু ভয় সবই অনুভব করেন। সূচ ফোটানোর কথা ভাবলেই হৃদয় কেঁপে ওঠে। একা নন, প্রায় সবারই এমন হয়। চলুন ধাপে ধাপে দেখি ২ মাসের টিকা বলতে কী কী বোঝায়, কেন টিকা এত দরকারি, ২ মাসের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী হতে পারে, আর কখন ডাক্তারকে ফোন করা ভালো।


কেন ২ মাসের টিকা এত বড় মাইলস্টোন

বাংলাদেশের জাতীয় শিশুর টিকা সময়সূচী অনুযায়ী জন্মের পর ঠিক ৬ সপ্তাহ থেকে (অনেকেই সহজ করে বলেন ২ মাসের টিকা) শুরু হয় প্রথম বড় দফার শিশু টিকা। এই সময়টা বেছে নেওয়ার পেছনে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ আছে।

এই বয়সে সাধারণত তিনটি বিষয় একসঙ্গে ঘটে:

  1. শিশু সংক্রমণে খুবই সংবেদনশীল থাকে
    হুপিং কাশি (পার্টুসিস), মেনিনজাইটিস, পেনিউমোকক সংক্রমণ, ডিপথেরিয়া - এসব রোগ বড়দেরও বেশ খারাপভাবে অসুস্থ করে, কিন্তু ছোট্ট শিশুর জন্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  2. মায়ের অ্যান্টিবডি কমতে থাকে
    গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টার মাধ্যমে কিছু অ্যান্টিবডি (প্রতিরোধী পদার্থ) শিশুর শরীরে যায়। এগুলো প্রথম কয়েক সপ্তাহ কিছুটা সুরক্ষা দেয়, তবে খুব বেশি দিন থাকে না। অনেক রোগের ক্ষেত্রে ২ মাসের মাথায় এগুলোর পরিমাণ এমনিতেই কমে যায়, একা এগুলোর উপর ভরসা করা নিরাপদ থাকে না। তাই অনেকেই জানতে চান: মায়ের অ্যান্টিবডি কতদিন থাকে? সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয় জন্মের পর কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যেই তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

  3. এই রোগগুলোর জীবাণু চুপিসারে ছড়ায়
    অনেক সময় মানুষ নিজেই টের পায় না যে সে অসুস্থ, তার আগেই জীবাণু অন্যের মধ্যে চলে যায়। শুধুই ঘরে আটকে রাখলেই সব ঝুঁকি এড়ানো যায় না। আত্মীয় আসা-যাওয়া, বাজার, হাসপাতাল, এমনকি বড় ভাইবোন স্কুল থেকে ফেরার সময়ও নানা জীবাণু ঘরে ঢুকে যায়।

২ মাসের টিকা আসলে আপনার শিশুর নিজস্ব রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার ভিত গড়ে তোলার শুরু। এই সময়ের প্রতিটি ডোজকে ধরতে পারেন ভবিষ্যতের জন্য ইমিউন মেমোরি তৈরি করার বিনিয়োগ হিসেবে। যাতে পরে এই জীবাণুগুলো শরীরে ঢুকলেও তার শরীর দ্রুত চিনে নিয়ে লড়াই করতে পারে।


২ মাসের টিকায় কী দেওয়া হয়?

টিকার নামগুলো দেখলে অনেক সময় মনে হয় যেন বর্ণমালার স্যুপ। তবে চিন্তা নেই, একটু গোছালে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায়। বাংলাদেশে ৬ সপ্তাহ / ২ মাসের টিকায় সাধারণত যে যে শিশু টিকা দেওয়া হয়, সেগুলো এবং কীসের বিরুদ্ধে কাজ করে, তা নিচে সহজ করে দেওয়া হল।

এখন বেশির ভাগ জায়গাতেই একাধিক রোগের জন্য একসাথে কম্বিনেশন টিকা দেওয়া হয়, ফলে ইনজেকশন সংখ্যা তুলনামূলক কমে যায়।

1. ৬-ইন-১ ধরনের টিকা (DTaP, IPV, Hib, Hepatitis B একসাথে)

বেশির ভাগ সরকারী কেন্দ্রে EPI সময়সূচী অনুযায়ী পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা দেওয়া হয়, যাতে ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, পার্টুসিস, হেপাটাইটিস বি আর হিব থাকে। অনেক বেসরকারি সেন্টারে আবার ৬-ইন-১ টিকা দেওয়া হয়, যাতে IPV (নিষ্ক্রিয় পোলিও) যুক্ত থাকে। যেটাই হোক, কাজটা একই রকম - এক ইনজেকশনে একসাথে একাধিক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা।

এই টিকায় থাকে:

  • ডিপথেরিয়া (D)
    গলা ফুলে শ্বাসনালী প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে, আবার একধরনের টক্সিন ছাড়ে যা হার্ট আর স্নায়ুতে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

  • টিটেনাস (T)
    মাটির জীবাণু, মরিচা ধরা জিনিসের আঘাত, কাটা-ছেঁড়া - এসবের মাধ্যমে শরীরে ঢোকে। পেশি শক্ত হয়ে খিঁচুনি ধরে, মুখ শক্ত হয়ে যায়, শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

  • পার্টুসিস / হুপিং কাশি (P)
    বড়দের জন্য ভোগান্তি, কিন্তু ছোট্ট শিশুর জন্য খুব বিপজ্জনক। জোরে কাশি, শ্বাস নিতে না পেরে নীল হয়ে যাওয়া, এমনকি আইসিইউ পর্যন্ত যেতে হতে পারে।

  • পোলিও (IPV ২ মাস)
    ভাইরাসজনিত এক ধরনের পক্ষাঘাত, সারা জীবন হুইলচেয়ারে কাটাতে হতে পারে। বাংলাদেশসহ অনেক দেশে পোলিও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে, তবু এখনো ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি, বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পোলিওর উপস্থিতি থাকায় সতর্ক থাকতে হয়।

  • হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি (Hib টিকা)
    ছোট বাচ্চাদের ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস আর গুরুতর গলার সংক্রমণ (ইপিগ্লোটাইটিস, যেখানে গলা ফুলে শ্বাসনালী সরু হয়ে যায়) প্রতিরোধে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

  • হেপাটাইটিস বি (হেপাটাইটিস বি টিকা দ্বিতীয় ডোজ)
    লিভারে সংক্রমণ ঘটায়, দীর্ঘমেয়াদে সিরোসিস আর লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। জন্মের পর সিরিজ আকারে কয়েক ডোজ হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়া হয়, ২ মাসের টিকায় অনেক সময় এই সিরিজের একটি ডোজ পড়ে।

অর্থাৎ DTaP, সঙ্গে IPV, Hib আর হেপাটাইটিস বি একসাথে থাকলে মাত্র এক ইনজেকশনে একসাথে ৬টি গুরুতর রোগ থেকে সুরক্ষার পথ তৈরি হয়।

2. পেনিউমোকক টিকা (PCV13 – ২ মাস)

শিশু টিকা সময়সূচীতে এটি সাধারণত পেনিউমোকক টিকা (PCV13) নামে থাকে।

এটি Streptococcus pneumoniae নামের জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে, যা থেকে হতে পারে:

  • মেনিনজাইটিস
  • সেপসিস (রক্তে ইনফেকশন ছড়িয়ে যাওয়া)
  • নিউমোনিয়া
  • কান আর সাইনাসের গুরুতর সংক্রমণ

এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পেনিউমোকক সংক্রমণ অনেক দ্রুত খারাপের দিকে যেতে পারে, তাই PCV13 খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিশু টিকা হিসেবে ধরা হয়।

3. রোটাভাইরাস টিকা ২ মাস (মুখে খাওয়ার)

রোটাভাইরাস শিশুদের ভয়ংকর এক ধরনের ডায়রিয়া আর বমির কারণ, যা:

  • প্রচণ্ড ডায়রিয়া
  • বমি
  • দ্রুত ডিহাইড্রেশন

করে ফেলে। একটু বড় বাচ্চার ক্ষেত্রেও কষ্টকর, কিন্তু ছোট্ট শিশুর ডিহাইড্রেশন দ্রুত এতটাই খারাপ হতে পারে যে স্যালাইন নিতে হাসপাতালে যেতে হয়।

রোটাভাইরাস টিকা বিশেষ ধরনের, এটি ইনজেকশন নয়। সিরাপের মতো মিষ্টি এক তরল মুখে (জিহ্বার পাশ দিয়ে) দেওয়া হয়। এটি জীবিত কিন্তু দুর্বল করা ভাইরাসের টিকা। দেশের বিভিন্ন গবেষণা আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই টিকাই ডায়রিয়া জনিত ভর্তি অনেক কমিয়ে দেয়।

4. মেনিংকোককাল বি টিকা ২ মাস (MenB)

বাংলাদেশে এখনো সব জায়গায় MenB টিকা জাতীয় কর্মসূচিতে নেই, তবে অনেক বেসরকারি সেন্টার বা কিছু দেশে থাকা অভিভাবকরা মেনিংকোককাল বি টিকা ২ মাস বয়স থেকেই বাচ্চাকে দিতে চান। যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশে রুটিন MenB টিকা আছে, সেখানকার প্রোটোকল অনুযায়ী এটি ছোট শিশুদের ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস আর সেপসিসের বড় এক কারণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।

মেনিংকোককাল বি সংক্রমণ ঘণ্টা কয়েকের মধ্যেই ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। বাচ্চা একটু অস্বস্তি, জ্বর বা খাওয়ায় অনীহা দিয়ে শুরু করে, খুব অল্প সময়েই শকে চলে যেতে পারে। তাই যেসব দেশে এটি জাতীয় সময়সূচীতে আছে, সেখানে খুব অল্প বয়সেই এই টিকা দেওয়া হয়।

আপনার বাচ্চা কোন টিকা পাচ্ছে, কোনটা কম্বিনেশন, কোনটার ব্র্যান্ড কী - এগুলো আপনার শিশু বিশেষজ্ঞ বা টিকা সেন্টারের নার্স সাধারণত বিস্তারিত বলে দেন। না বুঝলে বা মনে না থাকলে নির্দ্বিধায় আবার জিজ্ঞেস করতে পারেন, প্রয়োজনে লিখে নিতে বলুন।


২ মাসের টিকা দেওয়ার দিনে কী কী হবে?

আগে থেকে প্রক্রিয়াটা জানা থাকলে দিনটা তুলনামূলক স্বস্তিতে কাটে।

যাওয়ার আগে কী কী প্রস্তুতি নেবেন

  • টিকার কার্ড / টিকা খাতা সঙ্গে নিন
    সরকারী EPI কার্ড বা ব্যক্তিগত ভ্যাকসিন রেকর্ড যেখানে আছে, সেটা অবশ্যই নিন। যে সব শিশু টিকা সেদিন দেওয়া হবে, সেগুলোর নাম আর তারিখ সেখানে লিখে দেওয়া হবে।

  • সহজে খোলা যায় এমন জামা পরান
    সাধারণত উরুতে ইনজেকশন দেওয়া হয়, তাই এমন জামা ভালো যেটা নিচ থেকে সহজে খোলা যায়। বেশি বোতাম, টাইট জামা, অনেক লেয়ার এড়িয়ে চললে সময় কম লাগবে আর বাচ্চাও কম বিরক্ত হবে।

  • ক্ষুধার্ত থাকলে খাওয়ান
    বুকের দুধ কিংবা ফর্মুলা - যে যেভাবে দিচ্ছেন, প্রয়োজনমতো টিকার আগে বা পরে খাওয়াতে পারেন। অনেক মা-বাবা টিকা দেওয়ার সময় বা সাথে সাথেই বুকের দুধ দেন, এতে বাচ্চা দ্রুত শান্ত হয়।

  • প্রশ্ন থাকলে লিখে নিন
    ২ মাসের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ডিপিটি টিকা নিয়ে ভয়, ইন্টারনেটে কোথাও কিছু দেখে দুশ্চিন্তা - সবকিছু লিখে নিয়ে যান। সেখানেই ডাক্তারের সঙ্গে আলাপ করলে মাথা অনেক হালকা লাগে।

সেন্টারে / ক্লিনিকে কী হয়

২ মাসের টিকা দেওয়ার সময় সাধারণত:

  • একাধিক ইনজেকশন দেওয়া হয়, সাধারণত
    • এক উরুতে ১টি
    • অন্য উরুতে ১টি
    • কোনো কোথাও কম্বিনেশন অনুযায়ী আরেকটি ইনজেকশন পড়তে পারে
  • একটি মুখে খাওয়ার টিকা (রোটাভাইরাস টিকা) সিরাপের মতো মুখের এক পাশে দেওয়া হয়

নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী সাধারণত যা যা করেন:

  1. শিশুর নাম, বয়স আর টিকা কার্ড দেখে মিলিয়ে নেন, সেদিন কোন কোন শিশু টিকা দেওয়ার কথা তা আবার বলেন।
  2. আগের কোনো টিকায় মারাত্মক অ্যালার্জি বা রিঅ্যাকশন হয়েছিল কি না জিজ্ঞেস করেন (বেশির ভাগ ২ মাস বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতা থাকে না)।
  3. আপনাকে কোলে শিশুকে ধরে থাকতে বলেন, তারপর দ্রুত একের পর এক ইনজেকশন দিয়ে ফেলেন।
  4. শেষে মুখে রোটাভাইরাস টিকা খাইয়ে দেন।

প্রায় সব বাচ্চাই ইনজেকশন দেওয়ার সময় কেঁদে ওঠে। হালকা তীক্ষ্ণ ব্যথা লাগে, তাই কাঁদা স্বাভাবিক, কিন্তু কয়েক মিনিটের বেশি থাকে না। কোলে তুলে আঁকড়ে ধরা, বুকের দুধ বা বোতল দেওয়া, হালকা দোলানো - এসবেই বেশির ভাগ শিশু দ্রুত শান্ত হয়ে যায়।

অনেক মা-বাবাই বলেন, টিকা দেওয়ার দৃশ্যটা দেখা তাদের জন্য বেশি কষ্টের। এটাও স্বাভাবিক অনুভূতি। চাইলে বাচ্চাকে বুকে জড়িয়ে শুধু তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন, সূচ ফোটানোর জায়গাটা না দেখলেও হবে।


সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও স্বাভাবিক কী কী

২ মাসের টিকার পরে ১-২ দিন শিশুর আচরণে কিছু পরিবর্তন দেখা খুবই সাধারণ বিষয়। আসলে এগুলো অনেক সময় বোঝায় যে শরীরের ভেতরে ইমিউন সিস্টেম কাজ শুরু করেছে।

স্বাভাবিক, প্রায়ই দেখা যায় এমন কিছু লক্ষণ হলো:

  • হালকা জ্বর

    • সাধারণত তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস-এর কম থাকে, ১-২ দিনের মধ্যে কমে যায়
    • শরীর একটু গরম গরম, গাল লালচে, হয়তো বেশি ঘুমাচ্ছে বা একটু বেশি আঁকড়ে আছে
    • অনেক সময় মেনিংকোককাল বি টিকা নিলে জ্বর হবার প্রবণতা বেশি থাকে
  • বেশি কাঁদা বা বিরক্তি

    • স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি চেঁচামেচি, কোলে নিলে শান্ত হয় আবার একটু পর কাঁদে
    • তবে কোলে নেওয়া, দুধ খাওয়ানো বা আদরে সাধারণত থামানো যায়
  • ইনজেকশনের জায়গা লাল হওয়া, ফোলা বা টিপ দিলে শক্ত মনে হওয়া

    • সাধারণত উরুতে হয়
    • হাত দিয়ে ধরলে একটু গরম মনে হতে পারে, হালকা ব্যথা থাকতে পারে
    • ২-৩ দিনের মধ্যে কমে যায়, অনেক সময় ছোট শক্ত গুটি কয়েক সপ্তাহ ধরে টের পাওয়া যায়, কিন্তু ধীরে ধীরে নরম হয়ে মিলিয়ে যায়
  • ঘুম বেশি বা কম হওয়া

    • কেউ কেউ সেদিন একটু বেশি ঘুমায়
    • আবার কেউ অস্বস্তির কারণে বারবার উঠে কাঁদে, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যেতে পারে
  • খাবার কিছুটা কম খাওয়া

    • একেকবার ফিডে একটু কম খেতে পারে
    • কিন্তু সারাদিনের হিসাবে কিছু না কিছু খাচ্ছে, ভেজা ডায়াপার হচ্ছে এবং একেবারে দুধ ছাড়ছে না - এগুলো ভালো লক্ষণ

এসব সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশির ভাগ সময় খুব হালকা, আর ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চলে যায়।

শিশু যদি একটু বিমর্ষ থাকে, তবু মাঝে মাঝে দুধ খায়, প্রস্রাব হচ্ছে, কোলে নিলে বা বুকের দুধ দিলে অন্তত কিছু সময়ের জন্য শান্ত হয়, সাধারণত তা আশ্বস্ত হওয়ার মত লক্ষণ।


টিকা দেওয়ার পর শিশুকে কীভাবে স্বস্তি দেবেন

ইনজেকশন নেওয়ার সত্যিটা বদলানো যাবে না, কিন্তু পরে তাকে আরাম দিতে অনেক কিছুই করা যায়।

কিছু ব্যবহারিক উপায়:

  • অতিরিক্ত কোলে রাখা আর স্কিন-টু-স্কিন কন্ট্যাক্ট
    টিকা নেওয়ার পর অনেক বাচ্চাই বেশি আঁকড়ে থাকতে চায়, কোলে থাকলেই নিজেকে নিরাপদ মনে করে। বেবি ক্যারিয়ার বা স্লিং ব্যবহার করলে আপনার হাতও ফাঁকা থাকবে, বাচ্চাও আপনার গায়ের গরম পাবে।

  • চাইলে ঘন ঘন ফিড দিন
    ছোট ছোট ফিড অনেক সময় তার জন্য আরামদায়ক হয়। বুকের দুধ হোক বা ফর্মুলা, শিশুর ইঙ্গিতের উপর ভরসা করুন, জোর করে বেশি বা কম খাওয়ানোর দরকার নেই।

  • ডাক্তারের পরামর্শ থাকলে শিশুদের প্যারাসিটামল

    • মেনিংকোককাল বি টিকা নেওয়া ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অনেক গাইডলাইনে আগে থেকেই শিশুদের প্যারাসিটামল দেওয়া পরামর্শ থাকে, যাতে জ্বর আর অস্বস্তি কম হয়।
    • অবশ্যই শিশুদের জন্য নির্ধারিত ড্রপ বা সিরাপ ব্যবহার করতে হবে, আর বয়স ও ওজন অনুযায়ী সঠিক ডোজ মেনে চলতে হবে। লেবেলে লেখা ডোজ আর ডাক্তার / নার্সের পরামর্শ দুটোই ভালো করে পড়ে নিন।
    • ইবুপ্রোফেন সাধারণত এত ছোট বয়সে নিজে নিজে শুরু করা হয় না, কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ সরাসরি পরামর্শ দিলে তবেই দিন।
  • ইনজেকশনের জায়গায় হালকা ঠান্ডা ভেজা কাপড়
    পরিষ্কার, ঠান্ডা (বরফ ঠান্ডা নয়) পানিতে ভেজানো কাপড় হালকা করে চেপে ধরলে সাময়িক আরাম পেতে পারে, বিশেষ করে জায়গাটা যদি গরম বা ব্যথা লাগে। জোরে ঘষা বা মালিশ করবেন না।

  • জ্বর থাকলে পাতলা কাপড় পরান
    হালকা জ্বর থাকলে খুব বেশি কাপড় চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এক লেয়ার পাতলা জামা আর পাতলা চাদর যথেষ্ট। উদ্দেশ্য হলো আরাম দেয়া, শিশুকে কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো ঠান্ডাও রাখা যাবে না, আবার গরমে ঘেমে অস্বস্তিও হতে দেওয়া যাবে না।

আপনার নিজের ইন্সটিংক্টও গুরুত্বপূর্ণ। মনে হলে পরের দিন কোনো বাইরে যাওয়ার প্ল্যান ক্যানসেল করে ঘরেই ধীরে-সুস্থে থাকতে চান, সেটাই ভালো।


কখন ডাক্তারকে ফোন করবেন বা তড়িঘড়ি সাহায্য নেবেন

২ মাসের টিকা থেকে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া খুবই বিরল, তবু কী কী লক্ষণে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, তা জেনে রাখা নিরাপদ।

যদি এমন কিছু হয়, তাহলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ, নিকটস্থ হাসপাতাল বা সরকারি স্বাস্থ্য সেবা নম্বর (যেমন ১৬২৬৩, ১৬২৪৭, ৩৩৩ ইত্যাদি) তে যোগাযোগ করুন:

  • জ্বর ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে যায় আর ৪৮ ঘণ্টার পরও কমে না
    অল্প সময়ের সামান্য জ্বর স্বাভাবিক, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী, বেশি জ্বর হলে পরীক্ষা করানো দরকার।

  • অবিরাম কান্না ৩ ঘণ্টার বেশি ধরে চলতে থাকে
    বাচ্চারা তো কাঁদবেই, কিন্তু যদি কান্না খুব তীক্ষ্ণ স্বরের হয়, টানা, মাঝখানে একটু-ও শান্ত হচ্ছে না, কোলে নিলেও বা দুধ দিলেও কিছুতেই থামছে না, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

  • অস্বাভাবিক ঢুলুঢুলু ভাব, খুব ফ্লপি লাগা, ডাক দিলে সাড়া না দেওয়া
    স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘুমাচ্ছে, কিন্তু জাগাতে কষ্ট হচ্ছে, চোখে-মুখে „আগের মতো নেই“ এমন অস্বস্তিকর পরিবর্তন মনে হলে দেরি করবেন না।

  • শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে
    খুব দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুক ভেতরে ঢুকে যাওয়া (ribs এর নিচে টান পড়া), নাকের পাখা ফুলে যাওয়া, হাঁফ ধরা, ঠোঁট বা মুখ নীলচে হওয়া - এক্ষুণি ইমার্জেন্সি সেবা লাগবে।

  • অস্বাভাবিক দাগ বা র‍্যাশ ওঠা
    বিশেষ করে:

    • গ্লাস চাপলেও না মিলিয়ে যাওয়া র‍্যাশ
    • ছোট ছোট বেগুনি বা নীলচে দাগ, যেন আঘাতের দাগের মতো
    • দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, সঙ্গে জ্বর, ঘুম ঘুম ভাব বা খুব অসুস্থ লাগছে
  • খিঁচুনি (সিজার)
    টিকার পর খিঁচুনি অত্যন্ত বিরল, কিন্তু যদি শিশুর শরীর হঠাৎ কেঁপে ওঠে, শক্ত হয়ে যায়, বা কিছু সময়ের জন্য অজ্ঞান হয়ে যায়, একদম অপেক্ষা না করে ইমার্জেন্সি নম্বরে (বাংলাদেশে ৯৯৯) ফোন করুন।

টিকার অ্যালার্জি সাধারণত টিকা দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেখা দেয়, তাই অনেক সেন্টারে টিকা দেওয়ার পর কয়েক মিনিট বসে থাকতে বলা হয়। হঠাৎ মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়া, জিহ্বা বড় হয়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে সমস্যা, বা একেবারে ঢলে পড়া - এগুলো মারাত্মক অ্যালার্জির লক্ষণ, তবে এমন ঘটনা খুবই কম দেখা যায়।

আর যদি মনে হয় „কিছু একটা ঠিক লাগছে না“ - স্পষ্ট কোনো বড় লক্ষণ না থাকলেও - তাহলে দেরি না করে ফোনে হেল্পলাইন বা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই ভালো। নিজের অনুভূতিটাকে গুরুত্ব দিন।


২ মাসের টিকা নিয়ে বাবা-মায়েদের সাধারণ দুশ্চিন্তা

প্রশ্ন করা মানেই আপনি নেতিবাচক বা „অযথা চিন্তিত“ - তা নয়। বরং সচেতন বাবা-মা সাধারণত প্রশ্ন করেই থাকেন। বিশেষ করে ২ মাসের টিকা নিয়ে কিছু প্রশ্ন বারবার শোনা যায়।

চলুন কয়েকটা আলোচিত প্রশ্ন নিয়ে কথা বলি।

„এত টিকা একসাথে, এত ছোট বাচ্চার জন্য বেশি হয়ে যাচ্ছে না তো?“

এটা অনেকের মনেই ঘোরে। উত্তর হলো, শিশুর ইমিউন সিস্টেমের দিক থেকে এ পরিমাণ শিশু টিকা সে খুব সহজেই সামাল দিতে পারে।

কিছু তথ্য হয়তো আপনাকে আশ্বস্ত করবে:

  • জন্মের পর থেকেই বাচ্চা প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন জীবাণুর সংস্পর্শে আসে - মায়ের গা, বাতাস, দুধ, কাপড়, ঘরের বাতি-ফ্যান, আমাদের হাত - সবই তার জন্য নতুন।
  • আগেকার দিনের তুলনায় এখন টিকার মধ্যে যে পরিমাণ অ্যান্টিজেন (যা শরীরকে প্রতিরোধ তৈরি করতে শেখায়) থাকে, তা মোটেও বেশি নয়। বরং এখন আমরা অনেক বেশি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিচ্ছি, কিন্তু প্রতিটা টিকায় অ্যান্টিজেনের পরিমাণ আগের অনেক পুরোনো টিকা ফর্মুলেশনের তুলনায় কম।
  • বিভিন্ন দেশে (বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য ইত্যাদি) বড় বড় গবেষণায় দেখা গেছে, একসাথে একাধিক টিকা নিলেও শিশুর ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায় না, অন্য সংক্রমণে আক্রান্ত হবার প্রবণতাও বাড়ে না।

শিশুর টিকা সময়সূচীটা এমনভাবে সাজানো হয় যাতে যে বয়সে যেই রোগের ঝুঁকি বেশি, সেই বয়সেই টিকাটি দেওয়া হয়। টিকা পিছিয়ে দিলে মাঝের সময়টায় বাচ্চা অরক্ষিত থেকে যায়, আর ওই সময়টাই সাধারণত ঝুঁকির দিক থেকে সবচেয়ে স্পর্শকাতর।

„টিকা কি অটিজমের কারণ হয়?“

এই ভয়ের সূত্র অনেক পুরোনো, ৯০ এর দশকের শেষের দিকের একটি ভুয়া গবেষণা থেকে। সেখানে এমএমআর টিকা আর অটিজমের মধ্যে সম্পর্ক আছে বলে দাবি করা হয়েছিল।

এরপর যা হয়েছে:

  • সেই গবেষণাটি যে জার্নাল ছেপেছিল, তারা পরে সম্পূর্ণভাবে গবেষণাটি বাতিল করেছে।
  • নানা তদন্তে জানা গেছে, গবেষণায় গুরুতর অনিয়ম আর স্বার্থের দ্বন্দ্ব ছিল, বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তিও নেই।
  • মূল লেখককে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা পেশা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে

এরপর ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া - বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার শিশুকে নিয়ে বড় বড় গবেষণা হয়েছে, যেখানে পরিষ্কার দেখা গেছে: টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক নেই

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অটিজমের সূত্রপাত গর্ভাবস্থার অনেক আগেই, শিশুর মস্তিষ্কের খুব প্রাথমিক বিকাশ আর জেনেটিক বা বংশগত কিছু কারণে। শিশুর টিকা, টিকার উপাদান বা ২ মাসের টিকার কোনো অংশই অটিজম তৈরি করে না।

বাংলাদেশের DGHS, WHO, ইউনিসেফ - সবার ওয়েবসাইটেই টিকা ও অটিজম নিয়ে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা আছে, চাইলে সেগুলোও পড়ে দেখতে পারেন।


ঝুঁকি আর সুরক্ষা - দুই দিকের হিসাব

আজকাল ফেসবুক, ইউটিউব, নানা ব্লগ - সব মিলিয়ে টিকা নিয়ে মতামতের অভাব নেই। কিছু তথ্য সহায়ক, কিছু আবার অর্ধেক সত্য বা পুরো ভুল। শেষ পর্যন্ত আসল কথাটা খুব সোজা:

  • যেসব রোগের বিরুদ্ধে ২ মাসের টিকা দেওয়া হয় - হুপিং কাশি, মেনিনজাইটিস, পোলিও, রোটাভাইরাস, পেনিউমোকক সংক্রমণ - এগুলো ছোট বাচ্চার জন্য ভয়ংকর হতে পারে।
  • বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শিশু টিকা নিরাপদ কি না তা সবসময় পর্যবেক্ষণ করা হয়, নতুন তথ্য এলেই গাইডলাইন আপডেট হয়।
  • বেশির ভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই হালকা আর কিছু দিনের মধ্যে সেরে যায়। মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিরল।

টিকা নেওয়া মানে শুধু সময়সূচী মেনে একটা কাজ সেরে ফেলা নয়। আপনি ইচ্ছে করেই সন্তানের জন্য এমন একটা সুরক্ষার দেয়াল গড়ে তুলছেন যা আগের প্রজন্মের বাবা-মায়েরা চাইলেও পেতেন না।


শেষ কথা: আপনি আর আপনার বাচ্চা একই টিমের

২ মাসের টিকা দেওয়ার দিনটাকে চাইলে টিমওয়ার্ক হিসেবেও ভাবতে পারেন।

  • টিকা নিজের কাজটা করে - আপনার শিশুর ইমিউন সিস্টেমকে বিপজ্জনক জীবাণু চিনতে আর ঠেকাতে শেখায়।
  • আপনি করেন আপনার কাজ - কোলে নিয়ে সান্ত্বনা দেওয়া, সময় মতো খাওয়ানো, টিকা দেওয়ার পর কয়েক দিন একটু বাড়তি খেয়াল রাখা।
  • ডাক্তার আর নার্স তাদের কাজ করেন - সঠিক সময়সূচী মেনে টিকা দেওয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বোঝানো এবং প্রয়োজনের সময় গাইড করা।

আপনি যদি আগে থেকেই জেনে রাখেন ২ মাসের টিকা বলতে কোন কোন শিশু টিকা (DTaP ২ মাস, IPV ২ মাস, Hib টিকা, পেনিউমোকক টিকা PCV13, রোটাভাইরাস টিকা ২ মাস, হেপাটাইটিস বি টিকা দ্বিতীয় ডোজ, মেনিংকোককাল বি টিকা ২ মাস) দেওয়া হয়, টিকা দেওয়ার পরে কী আশা করা উচিত, আর ২ মাসের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত কেমন হয়, তাহলে অজানা ভয়ের অংশটা অনেকটাই কমে যায়।

দিনের শেষে, আপনার শিশুকে আপনি ছাড়া আর কেউ এত ভালো চেনে না। টিকার পরে কিছু দেখে মনে হলে „এটা আমার মতে স্বাভাবিক না“ - তাহলে সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না। আর আপনি যদি একটু কাঁপা মন নিয়েই সেদিন টিকা সেন্টারে যান, তবু যান, সেটাও ছোট কোনো কাজ নয়। খুব চুপচাপ, প্রতিদিনের মতোই দেখতে হলেও, এটাই ভবিষ্যতে আপনার সন্তানের সুস্থ জীবনের জন্য বড় এক নিরাপদ পদক্ষেপ।


এই বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং এটি আপনার ডাক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের পরামর্শের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে আপনাকে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই প্রবন্ধগুলি আপনার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে

Erby — নবজাতক ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য বেবি ট্র্যাকার

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।
Erby

Erby

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।