৩ সপ্তাহের শিশুর জন্য সহজ ঘরোয়া খেলাধুলার গাইড - টামি টাইম, কথোপকথন ও সেন্সরি আইডিয়া

মায়ের কোলে শান্ত ৩ সপ্তাহের নবজাতক টামি টাইম

আপনার বাচ্চা এখন ৩ সপ্তাহের, রাত জাগা, দুধ খাওয়ানো, ডায়াপার বদল - এর ভিড়ের মধ্যে একটু একটু করে যেন শ্বাস নেওয়ার সময় বের হচ্ছে। আর হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছে - সারাদিন এই ছোট্ট মানুষটার সাথে আসলে কী করি?

ভালো খবর হলো, এই বয়সে আপনাকে দামী খেলনা, ঝকঝকে প্লে-জিম, বা ইন্সটাগ্রাম-পরফেক্ট সেটআপ কিছুই লাগবে না। ৩ সপ্তাহের নবজাতকের প্রিয় খেলনা হচ্ছে আপনি নিজেই। আপনার গলা, আপনার মুখ, আপনার গায়ের গন্ধ, আপনার স্পর্শ।

বারবার করা কয়েকটি সহজ নবজাতকের খেলা ও কার্যকলাপ ওদের মস্তিষ্ক আর শরীরের জন্য একদম যথেষ্ট।

এই গাইডে থাকছে ৩ সপ্তাহের শিশুর জন্য সহজ, ঘরোয়া খেলাধুলার আইডিয়া - টামি টাইম, কথোপকথন ধরণের খেলা, সেন্সরি ছুঁয়ে দেখা, আয়না খেলা, নাচ আর কীভাবে বুঝবেন, বাচ্চার জন্য ‘আজকের খেলা শেষ’ - সেই সিগন্যালগুলো।


৩ সপ্তাহের বাচ্চার নতুন কী কী হয়?

প্রায় ৩ সপ্তাহের মাথায় অনেক মা-বাবা একটি ছোট্ট বদল টের পান। হ্যাঁ, নবজাতক এখনও বেশিরভাগ সময়ই ঘুমাবে, তবু কিছু পরিবর্তন টের পাওয়া যায় -

  • খাওয়ানোর পর একটু বেশি সময় সজাগ থাকে
  • আপনার মুখ বা গাঢ় কনট্রাস্টের কোন নকশার দিকে একটু তাকিয়ে থাকে
  • আগের চেয়ে একটু বেশি সময় খেলায় মন দিতে পারে, ধরুন ২–৩ মিনিট
  • শুধু কান্না না, মাঝেমধ্যে কু-কু শব্দ, গোঁ গোঁ, ছোট ছোট আওয়াজ করতে শুরু করে

এর মানে এই না যে এখন থেকে সারাদিন ঘড়ি ধরে নবজাতকের কার্যকলাপ সাজাতে হবে। ভাবুন, অল্প অল্প প্লে টাইমের পকেট - ২–৩ মিনিট করে, খাওয়ানো আর ছোট ঘুমের ফাঁকে ফাঁকে।

শিশুর উন্নয়নের জন্য ৩ সপ্তাহে খেলাধুলার সবচেয়ে ভালো সময় সাধারণত:

  • দুধ খাওয়ানোর পর
  • একটু বিশ্রাম নিয়ে ফ্রেশ থাকলে
  • যখন বাচ্চা শান্তভাবে তাকিয়ে থাকে, চোখ খোলা, শরীর ঢিলে, কান্না নেই, ঘুমও আসছে না

বাচ্চা যদি খুব কান্না করে, ক্ষুধার্ত থাকে, বা চোখ রগড়ায়, হাই তুলে বারবার - তখন খেলা বাদ দিন, আগে জড়িয়ে নিন, দুধ দিন, শান্ত করুন। এটাও শিশুর খেলা আর বোন্ডিং-এরই অংশ


আপনার বাচ্চাকে পড়তে শেখা: কখন খেলা বেশি হয়ে যাচ্ছে?

৩ সপ্তাহের নবজাতক খুব দ্রুত ওভারস্টিমুলেটেড, মানে অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে যেতে পারে। আপনার চোখে যেটা খুব ছোট্ট খেলা, ওর স্নায়ুতন্ত্রের জন্য সেটা অনেক বেশি লাগতে পারে।

খেয়াল রাখুন অতিরিক্ত উত্তেজনার লক্ষণগুলোর দিকে:

  • বারবার হাই তোলা
  • হেঁচকি ওঠা
  • আপনার মুখের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে ফাঁকা তাকিয়ে থাকা
  • পিঠ বাঁকিয়ে তোলা, শরীর টান টান করা
  • আঙুলগুলো হঠাৎ ছড়িয়ে দেওয়া, হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়া
  • হঠাৎ শান্ত অবস্থা থেকে কেঁদে ওঠা বা খুব অস্থির হয়ে যাওয়া

এর যেকোনোটা দেখলে খেলা থামিয়ে দিন, বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বুকের কাছে টেনে নিন, ঘরের আলো–শব্দ একটু কমিয়ে দিন, শান্ত সময় দিন।

নবজাতকের সাথে খেলাধুলা ভাবুন ঠিক যেমন আইসক্রিম প্রথমবার খাওয়ানো - এক চামচ করে, ধীরে, উপভোগ করে; একসাথে পুরো টব নয়।


১. টামি টাইম ধীরে ধীরে: কোমলভাবে শক্তি বাড়ানো

প্রসবের পর ডাক্তারের চেম্বার, ইউটিউব, সবাই বলছে নবজাতক টামি টাইম খুব দরকার। কিন্তু হাতে যখন ৩ সপ্তাহের ছোট্ট পুঁটুলিটা, তখন মনে হতে পারে, পেটে শুইয়ে রাখব কীভাবে? অনেক বাচ্চাই প্রথম দিকে টামি টাইম পছন্দ করে না, একটু গর্জন–গুমর করে, কান্না করে। এটা পুরোই স্বাভাবিক।

লক্ষ্য কোনো ‘পারফেক্ট এক্সারসাইজ’ না, বরং একটু একটু প্র্যাকটিস, নিয়মিত।

শুরুটা হোক আপনার বুকের ওপর টামি টাইম দিয়ে

নবজাতকের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক আর নিরাপদ টামি টাইম হলো আপনার বুকের ওপর।

যেভাবে করবেন:

  1. সোফা, খাট বা মাদুরে আধশোয়া হয়ে শুয়ে থাকুন, পেছনে বালিশ দিয়ে নিজেকে প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে ঠেকিয়ে রাখুন।
  2. বাচ্চাকে আস্তে করে আপনার বুকের ওপর পেটে ভর দিয়ে শুইয়ে দিন, এমনভাবে যেন মাথা আপনার কলারবোনের কাছে থাকে।
  3. অবস্থান বদলানোর সময় এক হাতে সবসময় ঘাড় আর মাথা ভালো করে সাপোর্ট দিন।
  4. শান্ত গলায় কথা বলুন, গুনগুন করুন, হাম করে গান ধরতে পারেন। ও যাতে আপনার গায়ের গন্ধ, হার্টবিট আর শ্বাস নেওয়ার ওঠানামা টের পায়।

ও নিজে থেকেই একটু মাথা তুলতে বা পাশ ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করবে, কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও। এই ছোট্ট চেষ্টাই ওর ঘাড়, কাঁধ আর পিঠের পেশির জন্য দারুণ ব্যায়াম।

চেষ্টা করুন:

  • প্রথমে ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট করে
  • দিনে কয়েকবার, বিশেষ করে ডায়াপার বদলের পর যখন বাচ্চা টাটকা সজাগ থাকে

শুরু করতেই যদি কান্না করে, সময় আরও ছোট করে দিন, ১০–১৫ সেকেন্ড করেই শুরু করতে পারেন, পরে আবার চেষ্টা করুন। প্রতিটা সেকেন্ডই গোনা হয়

ধীরে ধীরে মাটির ওপর টামি টাইমে যাওয়া

বুকের ওপর টামি টাইম আয়ত্ত হলে একটু করে মাটিতে প্র্যাকটিস যোগ করতে পারেন।

যেভাবে সেটআপ করবেন:

  • মাটিতে একটা পরিষ্কার চাদর, মাদুর বা প্লে-ম্যাট বিছিয়ে নিন, যেন শক্ত কিন্তু আরামদায়ক হয়।
  • হালকা তোয়ালে রোল করে বাচ্চার বুকের নিচে রাখুন, যেন কাঁধ একটু উঁচু থাকে, হাত দুটো রোলের দুই পাশে সামনে ঝুলে থাকে।
  • সবসময় একদম পাশে বসে থাকুন, হাতের নাগালের ভেতরে।

তারপর যা করবেন:

  • বাচ্চার চোখের সমান লেভেলে নেমে আসুন।
  • আপনার মুখ, হাত, বা কোনো গাঢ় রঙের কনট্রাস্টযুক্ত খেলনা খুব আস্তে আস্তে ডানে–বামে নাড়াতে পারেন।
  • অনেক সময় কাঁধ বা কোমরে আলতো হাত রেখে রাখলে ওরা বেশি নিরাপদ বোধ করে।

৩ সপ্তাহের শিশুর জন্য টামি টাইম নিয়ে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হতে পারে:

  • দিনে কয়েকবার ৩ থেকে ৫ মিনিট করে,
  • সব মিলিয়ে প্রতিদিন মোট টামি টাইম ধীরে ধীরে ১০–২০ মিনিট এ তুলতে পারেন
  • একবারে লম্বা সময় নয়, ভেঙে ভেঙে ১–২ মিনিট করে করুন

বাচ্চা যদি পেটে শোয়া একদমই সহ্য না করে, তাহলে মিশিয়ে নিন:

  • কিছুটা সময় আপনার বুকের ওপর
  • একটু সময় আপনার কোলে উল্টো করে (বাচ্চার পেট আপনার উরুর ওপর)
  • আর সামান্য সময় ম্যাটের ওপর

অর্থাৎ, টামি টাইম কিভাবে করবেন সেটার ফর্মুলা একটাই না - আপনার আর বাচ্চার জন্য যা আরামদায়ক, সেটাই ঠিক। ফ্যান্সি যন্ত্রপাতির চেয়ে আপনার সৃজনশীলতাই বেশি মূল্যবান।


২. “কথা বলার” খেলা: ভাষার একদম শুরুর ক্লাস

শুরুতে নিজেরই অদ্ভুত লাগতে পারে, এমন ছোট্ট বাচ্চার সাথে এত কথা বলা! কিন্তু বাচ্চার সাথে কথা বলা খেলা হচ্ছে সবচেয়ে জরুরি নবজাতকের সাথে সহজ খেলাধুলাগুলোর একটি। এই ছোট্ট কথোপকথনের ভান করে করা খেলা ওকে শেখায় যোগাযোগের বেসিক রুল: আমি বলি, তুমি শুনো, তুমি বলো, আমি শুনি।

এই টার্ন টেকিং শেখানোই হচ্ছে ভবিষ্যতের ভাষা শেখার ভিত।

নবজাতকের সাথে কথোপকথনের খেলা করবেন যেভাবে

  1. বাচ্চা শান্ত–সজাগ থাকলে শুরু করুন, সাধারণত খাওয়ানোর পর কয়েক মিনিট ভালো সময় হয়।
  2. কোলে নিয়ে সোজা করে বসান, বা হাঁটুর ওপর নিরাপদভাবে ঠেকিয়ে এমন ভাবে রাখুন যেন মুখটা আপনার দিকে থাকে।
  3. ওর চোখের দিকে তাকিয়ে একবার চুপ থাকুন।
  4. বাচ্চা যখন নিজের মতো করে কোনো শব্দ করবে - কু, গোঁ, আহ্, কিচ্ছু একটা - একদম থেমে শুনুন।
  5. তারপর ১–২ সেকেন্ড বিরতি নিয়ে উত্তর দিন, যেন আসলেই কথা বলছেন -
    • «ওহ্, তাই নাকি?»
    • «আজকে অনেক গল্প আছে দেখি!»
    • «আরো বলো দেখি!»

বাচ্চা আবার কোনো শব্দ করলে আবার থামুন, শোনার ভঙ্গি করুন, তারপর জবাব দিন। এতে ও শিখছে:

  • কথার সময় পালা বদল হয়
  • শব্দের মানে আছে
  • ওর আওয়াজে আপনি সাড়া দেন, তাই ওর কথা মূল্যবান

এই খেলাটা করতে পারবেন প্রায় সবসময়ই:

  • ডায়াপার বদলানোর সময়
  • কোলে নিয়ে দোলানোর সময়
  • এমনকি রাতের খাওয়ানোর মধ্যেও, গলা আস্তে রেখে

অনেক মা-বাবা জিজ্ঞেস করেন, «এত ছোট শিশুর সাথে খেলা মানে আসলে কী?» - সেখানেই প্রথম সাজেশন থাকে এই কথোপকথনের খেলা। আলাদা খেলনা লাগে না, শুধু আপনার মনোযোগ আর গলা।


৩. কনট্রাস্ট বইয়ের মজা: চোখের ব্যায়াম

৩ সপ্তাহের বাচ্চার দৃষ্টি এখনও ধোঁয়াটে। ও সবচেয়ে ভালো দেখে যখন বিষয়টা তার মুখ থেকে ২০–৩০ সেন্টিমিটার দূরে থাকে - মানে আপনি কোলে নিলে আপনার বুক থেকে মুখ পর্যন্ত যতটা দূরত্ব।

এই বয়সে সাদা–কালো বা খুব গাঢ় কনট্রাস্টের ছবি সবচেয়ে ভালো ধরে ওদের নজর। তাই একটা হাই কনট্রাস্ট বোর্ড বুক ৩ সপ্তাহের শিশুর খেলা হিসেবে বেশ কাজে লাগে।

৩ সপ্তাহের শিশুর সাথে কনট্রাস্ট বুক ব্যবহার করবেন যেভাবে

  1. মলাট শক্ত, পাতা মোটা, বড় সাদা–কালো ছবি বা গাঢ় এক্সপ্রেশনের সিম্পল নকশা আছে এমন বই বেছে নিন।
  2. বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আধশোয়া করে রাখুন, বা চেয়ারে হেলান দিয়ে নিজের কোলে রাখুন, চাইলে চাদরের ওপর পিঠ দিয়ে শুইয়ে রাখতেও পারেন।
  3. বইটা এমনভাবে ধরুন যেন বাচ্চার মুখ থেকে প্রায় এক হাত দূরে (২০–৩০ সেমি) থাকে, ঠিক খাওয়ানোর সময়ের দূরত্বের মতো।
  4. পাতাগুলো খুব আস্তে আস্তে উল্টান। এক পাতায় কয়েক সেকেন্ড রুকবেন। তাড়াহুড়ো নেই।
  5. সহজ শব্দে বলে যান আপনি কী দেখছেন, যেমন -
    • «এখানে একটা বড় গোল দাগ আছে»
    • «এটা বিড়াল, দেখো কি লম্বা গোঁফ»
    • «এখন আরেকটা পাতা উল্টাচ্ছি»

এই ছোট্ট কাজ একসাথে কয়েকটা কাজ সারছে:

  • চোখের দিকে ভিজ্যুয়াল স্টিমুলেশন
  • আপনার গলার শব্দ আর ভাষার ছন্দ শোনা
  • একই জিনিসের দিকে দুজন মিলে তাকানো - এটা একটা প্রথম দিককার সামাজিক দক্ষতা

এটাকে আপনি একদিকে নবজাতকের সেন্সরি কার্যকলাপ, আরেকদিকে শান্ত বন্ডিং টাইম ধরে নিতে পারেন। কয়েক মিনিটের বেশি দরকার হয় না। বাচ্চা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, চোখ বন্ধ করে, বা অস্থির হয়, সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে দিন।


৪. কোমল নাচ: নড়া–চড়া, গান আর জড়িয়ে ধরার সময়

সারাদিন বাচ্চা কোলে নিয়ে বসে থাকতে থাকতে কোমর, পিঠ সব ব্যথা করতে শুরু করে। সেখানে বাচ্চাকে নিয়ে হালকা নাচ আপনার আর বাচ্চা দুইজনের জন্যই ভালো। নরম সুর, মৃদু দোল আর শরীরঘেঁষা ঘনিষ্ঠতা - এগুলো অনেক সময় ৩ সপ্তাহের কাঁদুক-পুঁটুলিকেও দারুণ শান্ত করে।

শিশুকে কোলে নিয়ে নিরাপদে নাচবেন যেভাবে

  1. বাচ্চাকে সোজা করে আপনার বুকে চেপে ধরুন, ওর পিঠ আপনার বুকে লেগে থাকবে, এক হাত বা হাতে–কনুই দিয়ে ঘাড় আর মাথা ভালোভাবে ধরে রাখুন।
  2. আপনার পছন্দের কোনো নরম গান চালান - লোরি, পুরনো গানের আস্তে কভার ভার্সন, হাম শুনতে ভালো লাগে এমন কিছু। খুব চড়া বিট না হলেই ভালো।
  3. পা দুইটা কোমরের সমান ফাঁক করে দাঁড়ান, হাঁটু সামান্য ভাঁজ করা, যেন ভারসাম্য ভালো থাকে।
  4. খুব হালকা করে ডানে–বামে দুলুন, বা ছোট ছোট বৃত্ত এঁকে হাঁটুন। হঠাৎ লাফ ή ঝাঁকুনি দেবেন না।
  5. ইচ্ছে হলে গুনগুন করে গাইতে পারেন। আপনার গলার কম্পনও বাচ্চাকে অনেক শান্ত করে।

বাচ্চার মুখের দিকে মাঝে মাঝে তাকিয়ে দেখুন। যদি অন্য দিকে তাকাতে থাকে, ভুরু কুঁচকে যায়, হাই তোলে বা কান্নার বেগ আসে, গতি কমিয়ে দিন বা থেমে যান।

অনেক সময় এরকম নাচতে নাচতেই বাচ্চা চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে। কোনো সমস্যা নেই, খেলাটা তখন স্লিপ রুটিনের অংশ হয়ে গেল।

এই ধরনের নবজাতকের খেলা শুধু বাচ্চার উন্নয়নেই না, আপনার শরীর–মনকেও একটু নড়াচড়া, শ্বাস নেওয়ার ফাঁক আর হালকা আরাম দেয়।


৫. সেন্সরি টাচ: ত্বকের মাধ্যমে দুনিয়া চেনা

৩ সপ্তাহ বয়সী বাচ্চা পৃথিবীকে চেনে মূলত স্পর্শ, শব্দ আর গন্ধ দিয়ে। তাই ঘরে বসে করাই যায় এমন কিছু সহজ সেন্সরি কার্যকলাপ ওর জন্য খুব মজার আর উপকারী।

কোনো জটিল সেন্সরি বিন, আলাদা ঘর সাজানোর দরকার নেই। আপনার ঘরেই যথেষ্ট জিনিস আছে।

সহজ সেন্সরি টাচ আইডিয়া

সময় বেছে নিন যখন বাচ্চা একদম শান্ত–সজাগ। চাইলে মাদুরে বা বিছানায় পিঠ দিয়ে শুইয়ে, না হয় কোলে নিয়েই করতে পারেন। তারপর একে একে আলাদা আলাদা টেক্সচার অনুভব করান।

  • নরম মুসলিন/ওড়না

    • পরিষ্কার একটা মুসলিন কাপড় দিয়ে আলতো করে ওর পা, পেট বা হাতের ওপর দিয়ে বুলিয়ে দিন।
    • হাত–পায়ের আঙুলের গায়ে কাপড়টা হালকা ছুঁইয়ে দিন।
  • মসৃণ র‍্যাটল বা খেলনা

    • কোনো প্লাস্টিক বা কাঠের র‍্যাটলের হাতলটা খুব আস্তে ওর হাতের তালুতে ছোঁয়ান, যেন ও ঠান্ডা–গরম, শক্ত–মোলায়েম বুঝতে পারে।
    • ওর গ্রাস রিফ্লেক্স থাকলে হয়তো নিজে থেকেই আঁকড়ে ধরবে, না ধরলেও কোনো সমস্যা নেই।
  • আপনার আঙুল

    • পরিষ্কার একটা আঙুল ওর তালুতে ঠেকিয়ে ধরুন, দেখবেন সে হাত মুড়িয়ে ধরে ফেলবে।
    • ওর হাত আস্তে আস্তে আপনার আঙুল, গাঁট, হাতের পেছন দিক ঘুরে দেখুক, নিজের মতো করে স্পর্শ করে চিনুক।

এগুলো করতে করতে চলে চলেই বর্ণনা করুন:

  • «এই কাপড়টা খুব নরম, না?»
  • «এই খেলনাটা ঠান্ডা আর পিচকানো না, মসৃণ লাগে»
  • «তুমি কত জোরে আমার আঙুল ধরে আছো!»

এতে কি হয়?

  • স্পর্শের বিভিন্ন অনুভূতি বাচ্চার মস্তিষ্কে রেকর্ড হয়
  • আপনার গলার শব্দ, দৃষ্টিসংযোগ, স্পর্শ - সব মিলেই হয় সুন্দর বন্ডিং

খেয়াল রাখবেন, একসাথে অনেক কিছু না, এক সেশনে ১–২টা টেক্সচার যথেষ্ট। বাচ্চা একটু অস্থির হলেই বিরতি নিন।


৬. আয়না খেলা: মুখ, মুখ আর মুখ

নবজাতকরা স্বভাবগত ভাবেই মুখের দিকে তাকাতে ভালোবাসে। ৩ সপ্তাহে বাচ্চা এখনও বোঝে না, আয়নায় যে বাচ্চাটা দেখছে সেটা সে নিজে, তবু ওই নড়াচড়া করা মুখ, আলো–ছায়া ওর কাছে দারুণ ইন্টারেস্টিং। তাই আয়না খেলা ৩ সপ্তাহের শিশুর কার্যকলাপের মধ্যে খুব সহজ, কিন্তু মজার একটা অপশন।

নবজাতকের সাথে আয়না খেলা করবেন যেভাবে

  1. নিরাপদ, ভাঙে না এমন বেবি মিরর ব্যবহার করুন, বা দেওয়ালে ভালো করে আটকানো বড় আয়নার সামনে দাঁড়াতে পারেন।
  2. বাচ্চাকে কোলে নিয়ে সোজা অবস্থায় ধরে রাখুন, ঘাড় আর মাথা সবসময় ভালোভাবে সাপোর্টে রাখবেন।
  3. আয়নার একেবারে কাছে দাঁড়ান, যেন বাচ্চা আয়নায় আপনার মুখ আর নিজের মুখ দুটোই একসাথে দেখতে পায়।
  4. তারপর বলতে পারেন,
    • «ওই দেখো, মায়ের মুখ»
    • «কি ছোট্ট নাকটা তোমার»
    • «এত বড় বড় চোখ আয়নায় দেখা যাচ্ছে»

করতে পারেন আরও কিছু:

  • মুখে বড় করে হাসি দিন, একটু এক্সপ্রেশন বাড়িয়ে করুন
  • আস্তে আস্তে মাথা ডানে–বামে নাড়ান
  • বাচ্চাকে পুরো সাপোর্ট দিয়ে সামান্য কাত করে ধরুন, যেন একটু অন্য অ্যাঙ্গেল থেকেও দেখতে পায়

এই খেলা খুব ছোট রাখাই ভালো, সাধারণত ১–২ মিনিটের বেশি দরকার হয় না। ও যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, চোখ বন্ধ করে, কান্না পায় - তখনই থামিয়ে দিন।


সব মিলিয়ে: ৩ সপ্তাহের বাচ্চার সাথে সাধারণ একদিন

নবজাতকের জন্য কোনো কড়া টাইম টেবিল বানানোর দরকার নেই। ৩ সপ্তাহের শিশুর খেলা মানে হচ্ছে আপনার কাছে কয়েকটা হালকা অপশন প্রস্তুত রাখা, পরিস্থিতি আর মুড দেখে যেটা মানায় সেটা বেছে নেওয়া।

একটা সাধারণ সজাগ সময় এমন হতে পারে:

  • ডায়াপার বদলের সময় ১–২ মিনিটের কথা বলার খেলা
  • তারপর একটু টামি টাইম আপনার বুকের ওপর
  • পরের সজাগ সময়ে কনট্রাস্ট বইয়ের ২–৩টা পাতা দেখা
  • তারপর সামান্য সেন্সরি টাচ – একটা মুসলিন, একটা খেলনা
  • এরপর ১ মিনিটের আয়না খেলা
  • যদি অস্থির হয়, কোলে নিয়ে ধীরে ধীরে নাচ

একদিনে হয়তো যা পারবেন:

  • ছোট ছোট টামি টাইম মিলিয়ে মোট ১০–২০ মিনিটের মতো
  • এমন ৫–৬টা ক্ষুদ্র প্লে সেশন, প্রতিটা ২–৫ মিনিটের বেশি নয়

এইটুকুই একটা নবজাতকের জন্য বেশ সমৃদ্ধ নবজাতকের কার্যকলাপ আর খেলার প্যাকেজ

মাঝে মাঝে মনে হতে পারে, “শিশুর উন্নয়নের জন্য আমাকে আরও কিছু করা উচিত?” মনে রাখবেন, ৩ সপ্তাহের বাচ্চার সবচেয়ে দরকারি জিনিস হল:

  • আপনার কোলে নিরাপত্তা
  • আপনার মুখ আর চোখে চোখ রাখা, নবজাতকের সাথে চোখে যোগাযোগ
  • আপনার গলার শব্দ, গল্প
  • তার কান্না বা সিগনালে আপনার সাড়া দেওয়া

অর্থাৎ, আড়ম্বরপূর্ণ প্ল্যান না, দরকার ছোট ছোট কিন্তু নিয়মিত সাড়া আর ভালোবাসা

আপনি, আপনার মুখ, আপনার হাত, আপনার গলা - আর আপনার পাশে থাকা -
৩ সপ্তাহ বয়সী শিশুর জন্য ঠিক এতটাই যথেষ্ট না, বরং ঠিক পারফেক্ট


এই বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং এটি আপনার ডাক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের পরামর্শের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে আপনাকে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই প্রবন্ধগুলি আপনার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে

Erby — নবজাতক ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য বেবি ট্র্যাকার

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।