৯ সপ্তাহের শিশুর সঙ্গে খেলা ও কার্যক্রম: টামি টাইম, মুখোমুখি খেলা, গান ও ইন্দ্রিয়ভিত্তিক আইডিয়া

৯ সপ্তাহের শিশুর খেলা ও কার্যক্রম - টামি টাইম, গান ও আয়না

৯ সপ্তাহে আপনার শিশুকে হয়তো খেলতে আগ্রহী মনে হতে পারে, আবার কয়েক মিনিট পরেই ক্লান্তও হয়ে যেতে পারে। এটি একেবারেই স্বাভাবিক। এই বয়সে ৯ সপ্তাহের শিশুর খেলা হওয়া উচিত সহজ, বারবার করা যায় এমন এবং দুধ খাওয়ানো ও ঘুমের ফাঁকে করা সম্ভব। দামি খেলনার চেয়ে আপনার মুখ, কণ্ঠস্বর ও কোমল স্পর্শই এখন শিশুর কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

এসব কার্যক্রমকে শেখানোর ক্লাস হিসেবে নয়, শিশুকে খেলার আমন্ত্রণ হিসেবে ভাবুন। শিশু যখন জেগে আছে, শান্ত আছে এবং কিছুক্ষণ আগে দুধ খেয়েছে, তখন একটি খেলা শুরু করতে পারেন। সে মুখ ফিরিয়ে নিলে বা অস্থির হয়ে পড়লে আপাতত থেমে যান। পরে আবার সুযোগ আসবে।

৯ সপ্তাহের শিশুর সঙ্গে খেলা ও কার্যক্রম

সহায়তা দিয়ে টামি টাইম

টামি টাইমে শিশু মাথা তোলা ও ঘোরানোর অনুশীলন করে। এতে ঘাড়, কাঁধ, পিঠ ও হাতের পেশি শক্ত হতে সাহায্য করে। তাই এটি শিশুর মাথা তোলার অনুশীলনের অন্যতম ভালো উপায়। টামি টাইম শিশুর নড়াচড়া ও শরীরের নিয়ন্ত্রণ শেখার ক্ষেত্রেও কাজে আসে।

অনেক শিশু শুরুতে মেঝেতে চিৎ হয়ে শুতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। একটি ছোট তোয়ালে ব্যবহার করলে অবস্থানটি কিছুটা আরামদায়ক হতে পারে।

টাওয়েল ব্যবহার করে টামি টাইম করার নিয়ম

  1. শক্ত ও ফাঁকা মেঝের একটি জায়গা বেছে নিন। সেখানে একটি প্লে ম্যাট বা পরিষ্কার চাদর বিছিয়ে দিন।
  2. একটি ছোট তোয়ালে শক্ত করে নলাকার করে গুটিয়ে নিন।
  3. শিশুকে উপুড় করে শুইয়ে তার বুকের ওপরের অংশ ও বগলের নিচে তোয়ালেটি আলতো করে রাখুন।
  4. তোয়ালেটি যেন শিশুর ঘাড় বা মুখের নিচে না থাকে, তা নিশ্চিত করুন। নাক ও মুখ পুরোপুরি খোলা থাকতে হবে।
  5. কিছুটা উঁচু অবস্থান শিশুর মাথা তোলা সহজ করে এবং হাত নড়ানো ও সামনে বাড়ানোর সুযোগ দেয়।
  6. শিশুর সামনে মেঝেতে শুয়ে পড়ুন। হাসুন, কথা বলুন এবং চোখে চোখ রাখুন।
  7. শুরুতে দুই থেকে পাঁচ মিনিটের মতো অল্প সময় করুন।

দিনে তিন থেকে পাঁচবার টামি টাইম করানোর চেষ্টা করতে পারেন। সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট যথেষ্ট। আপনি জেগে থেকে শিশুকে ভালোভাবে নজরে রাখলে নিজের বুকের ওপর উপুড় করে রাখা সময়ও এই হিসাবের মধ্যে ধরা যায়।

শিশুর মুখের সামনে একটি উজ্জ্বল খেলনা, আপনার মুখ বা পরিচিত ঝুনঝুনি রাখুন। মাথা ঘোরাতে উৎসাহ দিতে চাইলে খেলনাটি অল্প অল্প করে সরান। শিশুর মাথা জোর করে কোনো দিকে ঘোরাবেন না। লক্ষ্য হলো ধীরে ধীরে অনুশীলন করা, নিখুঁতভাবে করতে পারা নয়।

এই টামি টাইম কতক্ষণ এবং কীভাবে করাবেন, সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ:

  • শিশু খুব ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার আগে, ঘুম থেকে ওঠার কিছুক্ষণ পর চেষ্টা করুন।
  • পেট ভরা দুধ খাওয়ানোর ঠিক পরপর টামি টাইম করাবেন না।
  • কথা বলে ও হাসিমুখে শিশুকে খেলায় যুক্ত রাখুন।
  • শিশু কাঁদলে তাকে কোলে নিয়ে আদর করুন এবং পরে আবার চেষ্টা করুন।
  • উপুড় অবস্থায় শিশুকে কখনো একা রাখবেন না।

শিশু জেগে থাকা এবং আপনার নজরদারির মধ্যেই টামি টাইম করাতে হবে। ঘুমের সময় শিশুকে চিৎ করে, পরিষ্কার ও নিরাপদ বিছানায় শুইয়ে দিন।

মুখোমুখি খেলা ও অনুকরণ

এই বয়সে শিশু মন দিয়ে মানুষের মুখ দেখতে শুরু করে। তাই মুখোমুখি খেলা শিশুর সঙ্গে করা যায় বিনা খরচে, ঘরের যেকোনো সময়েই। এতে শিশুর যেমন আনন্দ হয়, আপনারও তেমন ভালো লাগবে।

সহজ ইমিটেশন খেলা

  1. শিশুকে নিরাপদে কোলে নিন, অথবা শক্ত ও সমতল জায়গায় চিৎ করে শুইয়ে দিন।
  2. আপনার মুখ শিশুর মুখ থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দূরে রাখুন। দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত যতটা দূরত্ব থাকে, সেটিই উপযুক্ত।
  3. একটি স্পষ্ট মুখভঙ্গি করুন, যেমন বড় করে হাসা, মুখ হাঁ করা বা আলতো করে জিভ বের করা।
  4. কয়েক সেকেন্ড সেই ভঙ্গিটি ধরে রাখুন।
  5. তারপর থামুন এবং চুপচাপ শিশুর দিকে তাকান।
  6. শিশু আগ্রহ দেখালে বা কোনো নড়াচড়া করলে একই মুখভঙ্গি আবার করতে পারেন।

শিশু মুখ হাঁ করতে পারে, জিভ নাড়াতে পারে, চোখ বড় করে তাকাতে পারে বা হাসার চেষ্টা করতে পারে। প্রতিবার সে আপনার ভঙ্গি অনুকরণ করবে না, সেটিই স্বাভাবিক। শুধু মুখভঙ্গি নয়, অপেক্ষা করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিশুর সাড়া দেওয়ার সুযোগ হয়।

এটি পালা করে যোগাযোগ শেখার একেবারে প্রাথমিক ধাপ। পরে এই আদান-প্রদানের ধরনই কথোপকথনের ভিত্তি তৈরি করে। এখন শিশুর উত্তর হতে পারে একটি হাসি, হাত-পা নাড়ানো বা ছোট্ট কোনো শব্দ।

কণ্ঠস্বরেও পরিবর্তন আনুন। বলুন, “হ্যালো, আমি তোমাকে দেখছি।” তারপর একটু অপেক্ষা করুন। শিশু যদি কু কু শব্দ করে, এমনভাবে উত্তর দিন যেন সে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলেছে। তার কাছে সেটিই সত্যি।

চোখ দিয়ে অনুসরণ করার খেলা

প্রায় নয় সপ্তাহ বয়সে অনেক শিশু ধীরে চলা কোনো বস্তু চোখ দিয়ে অনুসরণ করতে পছন্দ করে। এই খেলা শিশুর দৃষ্টি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে নড়াচড়ার প্রতি সে কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, তা লক্ষ্য করারও সহজ উপায়।

ধীরে অনুসরণ করার কার্যক্রম

  1. শিশুকে চিৎ করে শুইয়ে দিন, অথবা নিজের বুকের সঙ্গে সোজা করে ধরে রাখুন।
  2. শিশুর মুখ থেকে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার দূরে একটি উজ্জ্বল খেলনা বা ঝুনঝুনি ধরুন।
  3. শিশুটি খেলনাটি লক্ষ্য করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  4. বস্তুটি ধীরে ধীরে ডান থেকে বামে সরান।
  5. আবার মাঝখানে এনে ধীরে ওপর-নিচে নড়ান।
  6. নড়াচড়া মসৃণ ও ধীর রাখুন।
  7. শিশু আগ্রহ হারালে তাকে বিশ্রাম দিন।

লাল বা হলুদ রঙের খেলনা শিশুর চোখে তুলনামূলক সহজে ধরা পড়তে পারে, কারণ উজ্জ্বল ও গাঢ় রং আলাদা করে বোঝা যায়। সাধারণ একটি ঝুনঝুনি যথেষ্ট, তবে সেটি সবসময় ঝাঁকাতে হবে না। এখানে মূল বিষয় হলো চোখ দিয়ে খেলনাটি অনুসরণ করা।

খেলনা অনুসরণ করার সময় শিশুর চোখের নড়াচড়া লক্ষ্য করুন। চোখ এদিক-ওদিক চলে যেতে পারে বা কিছুক্ষণের জন্য খেলনাটি হারিয়ে ফেলতে পারে। এই বয়সে এমন হওয়া স্বাভাবিক। আপনার ধারণার চেয়েও ধীরে খেলনাটি সরান। খুব দ্রুত নড়াচড়া শিশুর জন্য অনুসরণ করা কঠিন এবং বিরক্তিকর হতে পারে।

এগুলো ৯ সপ্তাহের শিশুর জন্য কার্যক্রম হিসেবে বেশ উপযোগী। একই ধরনের খেলা দুই মাস বা তিন মাস বয়সী শিশুরাও উপভোগ করতে পারে। খেলনাটি শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন, বিশেষ করে তাতে হাতল, ফিতা বা খুলে যাওয়ার মতো ছোট অংশ থাকলে।

সারাদিন কথা বলা ও গান গাওয়া

শিশুর জন্য আলাদা গানের তালিকা বা ভাষা শেখানোর কার্ডের প্রয়োজন নেই। আপনার স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরই যথেষ্ট। প্রতিদিনের কাজের সময় শিশুর সঙ্গে কথা বললে সে বিভিন্ন শব্দ, ছন্দ ও মুখভঙ্গি লক্ষ্য করার সুযোগ পায়।

দৈনন্দিন কাজকে ভাষার খেলায় বদলে নিন

আপনি কী করছেন, তা শিশুকে বলতে পারেন:

  • “এখন তোমার ডায়াপার বদলাচ্ছি।”
  • “এই যে, গরম পানি।”
  • “তোমাকে পরিষ্কার জামা পরিয়ে দিচ্ছি।”
  • “তোমার পায়ের আঙুলগুলো নড়ছে।”
  • “চলো, জানালার বাইরে দেখি।”

স্বাভাবিকভাবে কথা বলুন এবং মাঝেমধ্যে একটু থামুন। শিশু কু কু শব্দ, পা ছোড়া বা মুখভঙ্গি বদলে সাড়া দিতে পারে। তার উত্তরে আপনিও কথা বলুন। শব্দ শেখার অনেক আগেই এভাবে শিশু যোগাযোগের ছন্দ বুঝতে শুরু করে।

গানও ভালো কাজ করে, কারণ গানে পুনরাবৃত্তি ও পরিচিত ছন্দ থাকে। সহজ ছড়া গাইতে পারেন, গোসলের সময় নিজের মতো গান বানাতে পারেন বা মোজা পরানোর সময় একই ছোট সুর গাইতে পারেন। আপনার গলার স্বর খুব ভালো না হলেও সমস্যা নেই। শিশুর কাছে আপনার কণ্ঠস্বরটাই পরিচিত, সুরের নিখুঁততা নয়।

একটি লাইন গেয়ে থামুন। শিশুকে শব্দ করার সময় দিন। এই ছোট ছোট আদান-প্রদানে সে শোনা, অপেক্ষা করা ও উত্তর দেওয়ার অর্থ বুঝতে শুরু করে।

কথা বলা ও গান গাওয়া সবচেয়ে সহজ শিশুর যত্ন-এর কার্যক্রমগুলোর মধ্যে পড়ে। এতে কোনো অতিরিক্ত সরঞ্জাম বা প্রস্তুতির দরকার নেই। নতুন মায়ের জন্য এগুলো দৈনন্দিন রুটিনের সঙ্গেই করা সম্ভব।

আলতো করে সাইকেলের মতো পা নাড়ানো

যেসব শিশু কোলে নেওয়া বা শরীর নাড়ানো উপভোগ করে, তাদের জন্য সাইকেলের মতো পা নাড়ানো শান্ত একটি খেলা হতে পারে। ধীর গতির এই নড়াচড়া পেটের ভেতরে আটকে থাকা গ্যাস বের হতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি পা ও পেটের পেশিও হালকা অনুশীলন পায়।

শিশুর পা সাইকেলের মতো নাড়ানোর নিয়ম

  1. শক্ত ও নিরাপদ জায়গায় শিশুকে চিৎ করে শুইয়ে দিন।
  2. দুই হাতে শিশুর দুই পায়ের নিচের অংশ আলতো করে ধরুন।
  3. এক পা সামনে ও অন্য পা পেছনে নিয়ে ধীরে ধীরে সাইকেল চালানোর মতো নড়ান।
  4. গোল করে নড়ানোর সময় খুব ছোট ও কোমল ভঙ্গি রাখুন।
  5. ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট করুন, তারপর থামুন।
  6. নড়ানোর সময় শিশুর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলুন।

কিছু শিশু শুরু থেকেই এটি পছন্দ করে, আবার কেউ মাত্র কয়েকবার নড়াচড়া সহ্য করতে পারে। শিশুর পা জোর করে সোজা করবেন না, হাঁটু বুকের দিকে চাপ দেবেন না এবং অস্বস্তি বোঝা গেলে চালিয়ে যাবেন না।

দুই হাঁটু আলতো করে ভাঁজ করে কিছুক্ষণ ধরে রেখে আবার ছেড়ে দিতে পারেন। শিশু কাঁদলে, শরীর শক্ত করে ফেললে বা ব্যথায় আছে বলে মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন। দীর্ঘদিন পেটের অস্বস্তি, বারবার বমি, পেট ফুলে থাকা বা দুধ খেতে সমস্যা হলে এই খেলা চিকিৎসার বিকল্প নয়। সেক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আয়না নিয়ে খেলা

মানুষের মুখ শিশুর কাছে খুবই আকর্ষণীয়। শিশুর জন্য তৈরি নিরাপদ আয়নায় নয় সপ্তাহের শিশু আরেকটি মুখ দেখতে পায়, যদিও সে এখনও প্রতিবিম্বটিকে নিজের মুখ হিসেবে চিনতে পারে না।

আয়নার সময় শিশুকে যুক্ত রাখুন

  1. ভালোভাবে আটকানো শিশুবান্ধব আয়না বেছে নিন, অথবা ভাঙে না এমন আয়না শক্ত করে ধরে রাখুন।
  2. শিশুর মাথা ও শরীর সামলে তাকে আয়নার সামনে রাখুন।
  3. প্রতিবিম্বের দিকে ইশারা করে বলুন, “ওই বাচ্চাটি কে?”
  4. শিশু যা দেখছে তার নাম বলুন, যেমন “ওই যে তোমার চোখ” বা “আমি তোমার হাসি দেখতে পাচ্ছি।”
  5. নিজের মুখটি আয়নার সামনে আনুন এবং আবার একটু সরিয়ে নিন।
  6. শিশুকে তাকাতে, পা নাড়াতে ও শব্দ করতে দিন।

মেঝেতে খেলার সময় বা শিশুকে কোলে সোজা করে ধরেও আয়না ব্যবহার করা যায়। আয়নাটি জানালার ধারে, আসবাবের কিনারায় বা শিশুর টেনে ফেলার মতো কোনো কিছুর কাছে রাখবেন না। কাচের আয়না ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ তা ভেঙে যেতে পারে।

শিশু নিজের প্রতিবিম্বের চেয়ে আয়নায় আপনার প্রতিবিম্বের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। সে মুখ, নড়াচড়া এবং কণ্ঠস্বরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বুঝতে শিখছে।

ইন্দ্রিয়ের পরিচিতি

ছোট শিশুরা শুধু দেখা ও শোনার মাধ্যমে নয়, স্পর্শের মাধ্যমেও শেখে। ঘুম থেকে ওঠার পর, শান্তভাবে কোলে নেওয়ার সময় বা ম্যাটে শুইয়ে রেখে সহজ শিশুর ইন্দ্রিয়ভিত্তিক খেলা করানো যায়।

একবারে একটি অনুভূতি দিন

কয়েকটি বড়, পরিষ্কার ও নিরাপদ জিনিস সংগ্রহ করতে পারেন:

  • নরম সুতি বা মসলিন কাপড়
  • শক্ত সেলাই করা খসখসে শব্দ হয় এমন কাপড়ের বই বা স্কয়ার
  • শিশুদের জন্য তৈরি মসৃণ কাঠের রিং
  • ঠান্ডা ধাতব চামচ, তবে কেবল খুব কাছ থেকে নজর রেখে

একবারে একটি জিনিস শিশুকে ছুঁতে দিন। বস্তুটি তার তালু বা হাতের পেছনে আলতো করে ছোঁয়ান, তারপর তাকে অনুভব করতে দিন। মসলিন কাপড়টি পা বা বাহুর ওপর ধীরে বুলিয়ে বলতে পারেন, “কাপড়টি কত নরম।” খসখসে কাপড় হলে বলুন, “এতে শব্দ হচ্ছে, শুনতে পাচ্ছ?”

কাঠের রিংয়ে কোনো কাঁটা, উঠে আসা রং বা আলগা অংশ আছে কি না ভালোভাবে দেখুন। ধাতব চামচ পরিষ্কার ও অক্ষত হতে হবে এবং সেটি আপনার হাতেই রাখুন। শিশুর মুখে চামচ রেখে যাবেন না বা সেটি নিয়ে তাকে হাত-পা ছুড়তে দেবেন না। ধাতু ঠান্ডা লাগতে পারে, কিন্তু ছোট শিশুর জন্য এটি শক্ত ও ভারীও হতে পারে।

আপনার কথায় অভিজ্ঞতাটি আরও সমৃদ্ধ হয়। “মসৃণ”, “নরম”, “ঠান্ডা” বা “খসখসে” শব্দগুলো বলুন। শব্দের অর্থ এখনই শিশু বুঝবে না, কিন্তু সে ধ্বনিগুলো শুনছে এবং আপনার কণ্ঠস্বরের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার সম্পর্ক তৈরি করছে।

বোতাম, পুঁতি, ফিতা, ব্যাটারি, চুম্বক বা খুলে যাওয়ার মতো অংশ থাকা কোনো জিনিস দেবেন না। কোনো বস্তু যদি টয়লেট রোলের ভেতর দিয়ে ঢুকে যায়, সেটি শিশুর জন্য খুব ছোট।

বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিশুর খেলা মিলিয়ে নিন

ভালো বাচ্চার খেলা মানেই পুরো বিকেল ধরে আয়োজন করতে হবে, এমন নয়। ডায়াপার বদলানোর সময় এক মিনিট চোখে চোখ রাখাও খেলা। কাপড় ভাঁজ করার সময় একটি গান গাওয়াও খেলা। মেঝেতে শিশুর পাশে শুয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে ছোট ছোট শব্দ শোনাও যথেষ্ট।

শিশুর মেজাজ অনুযায়ী কার্যক্রম বদলান:

  • শিশু সজাগ ও শান্ত থাকলে: চোখ দিয়ে অনুসরণ, আয়না নিয়ে খেলা বা ইমিটেশন খেলা চেষ্টা করুন।
  • ঘুম থেকে ওঠার পর: টামি টাইম করাতে পারেন।
  • গ্যাসের অস্বস্তি থাকলে: আলতো করে সাইকেলের মতো পা নাড়ান।
  • শিশু শান্ত ও আদরপ্রার্থী হলে: কথা বলুন, গান গাইুন বা একটি নরম জিনিস ছুঁতে দিন।
  • শিশু ক্লান্ত বা অতিরিক্ত উত্তেজিত হলে: খেলা বন্ধ করে কোলে নিন।

প্রতিটি কার্যক্রমের নিরাপত্তা নির্দেশনা

খেলার সময় শিশুর হাতের নাগালের মধ্যেই থাকুন। টামি টাইম, ইন্দ্রিয়ভিত্তিক খেলা ও আয়না ব্যবহারের সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। উঁচু কোনো জায়গায় শিশুকে কখনো একা রাখবেন না, যেমন বিছানা, সোফা, ডায়াপার বদলানোর টেবিল বা বড়দের খাট। আগে গড়াতে না পারলেও শিশু হঠাৎ গড়িয়ে বা শরীর নেড়ে নিচে পড়ে যেতে পারে।

ছোট অংশ, দড়ি, প্লাস্টিকের মোড়ক ও আলগা কাপড় শিশুর কাছ থেকে দূরে রাখুন। খেলনায় ফাটল, ছেঁড়া অংশ বা আলগা টুকরো আছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন। শিশু যে কোনো জিনিস হাতে নিলে বা মুখে দিলে তাকে নজরের বাইরে রাখবেন না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুর সংকেত বোঝা। সে মুখ ফিরিয়ে নিলে, পিঠ বাঁকালে, বারবার হাই তুললে, অস্থির হলে, কাঁদলে, শরীর শক্ত করলে বা অস্বস্তি প্রকাশ করলে খেলা থামিয়ে দিন। বিরতি দেওয়া ব্যর্থতা নয়। এভাবেই শিশু আপনাকে জানাচ্ছে তার এখন আর ভালো লাগছে না।

৯ সপ্তাহ বয়সে খেলার উদ্দেশ্য শিশুকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখা নয়। বরং একসঙ্গে কিছু ছোট, আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া। আপনার মুখ, কণ্ঠস্বর ও শান্ত উপস্থিতিই এই বয়সে শিশুর সবচেয়ে পরিচিত এবং প্রিয় খেলা। নতুন মা হিসেবে শিশুর বিকাশ নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে এই সহজ কাজগুলোই প্রতিদিনের শিশুর যত্নের সুন্দর অংশ হয়ে উঠতে পারে।


এই বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং এটি আপনার ডাক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের পরামর্শের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে আপনাকে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

Erby — নবজাতক ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য বেবি ট্র্যাকার

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।
Erby

Erby — মোবাইল অ্যাপ

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।