ব্রেস্টফিডিং স্বাভাবিকভাবে আরামদায়ক হওয়ার কথা। ক্লান্ত লাগতে পারে, ঘুম কম হতে পারে, কিন্তু প্রতিবার বাচ্চা স্তন ধরলেই যদি মনে হয় নিপলে আগুন লেগেছে, তাহলে সেখানে সমস্যা আছে। নিপল ফাটা, রক্ত পড়া, তীক্ষ্ণ ব্যথা - এগুলো হলে আপনি দুর্বল নন, আপনি «ভুল করছেন» এমনও না, আর আপনি একা নন।
আপনি যা করতে পারেন, তা হলো যে কারণে ক্ষতি হচ্ছে সেটাকে বদলানো, আর শরীরকে এমনভাবে সাপোর্ট দেওয়া যেন সে দ্রুত সেরে উঠতে পারে। এই গাইডটা ঠিক সেটার জন্যই - ব্রেস্টফিডিং করার সময় স্তন ফাটা প্রতিরোধ এবং দ্রুত নিরাময়ের সহজ, ব্যবহারিক ধাপ, অপরাধবোধ ও জটিল কথা ছাড়া।
অধিকাংশ নিপল ব্যথা আর ফাটার কারণ আপনার নিপল «অতিরিক্ত সেনসিটিভ» বলে না, বা «আপনার স্তন ব্রেস্টফিডিংয়ের জন্য বানানো না» তাইও না। সমস্যাটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেকানিকাল, মানে ধরার ভঙ্গি আর টেকনিকের ভুলো।
ব্রেস্টফিডিং এ নিপল ব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে ভুল ল্যাচ।
বাচ্চা যদি কেবল নিপলটাই মুখে নেয়, পুরো স্তনের তুলনায় খুব কম অংশ নেয়, তাহলে প্রতিবার চোষার সময় নিপল ঘষা, চিপা আর চাপে থাকে। কয়েকদিনের মধ্যে এই ঘর্ষণ থেকে যা হয়:
একটা ভালো ল্যাচ মানে বাচ্চার মুখের কাজটা হবে স্তনের উপর, কেবল নিপলের উপর না।
অনেক সময় বাইরে থেকে ল্যাচ মোটামুটি ভালোই মনে হয়, কিন্তু অন্য কিছু কারণে ব্রেস্টফিডিং সমস্যা আর ব্যথা থেকে যায়।
টং টাই (ankyloglossia) হলে বাচ্চার জিভের নিচের টিস্যু খুব টাইট থাকে, ফলে জিভ ঠিকমতো উপরে বা সামনে তুলতে পারে না। এতে ব্রেস্টফিডিং এ টানা ঠিকমতো ল্যাচ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।
টং টাই থেকে স্তনপানে সমস্যা হলে সাধারণত যা দেখা যায়:
টং টাই থাকলেও শিশুকে ব্রেস্টফিডিং করানো সম্ভব, তবে অনেক সময় শিশুর টং টাই কেটে দেওয়া (frenotomy) দরকার হয়। এটা একজন ল্যাক্টেশন কনসালট্যান্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু সার্জন দেখে সিদ্ধান্ত নেন।
আপনি যদি ব্রেস্ট পাম্প ব্যবহার করেন, ভুল পাম্প ফ্ল্যাঞ্জ সাইজ থেকেও নিপল ফাটা, গভীর ব্যথা আর কলার মতো ক্ষত হতে পারে।
ফ্ল্যাঞ্জ সাইজ ঠিক না হলে যা লক্ষ করেন:
ফ্ল্যাঞ্জ সাইজ আন্দাজে নেওয়ার বিষয় না। এখন বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ অনেক দেশে হাসপাতালের ব্রেস্টফিডিং সাপোর্ট সেন্টার, এনজিওর ল্যাক্টেশন কাউন্সেলর বা প্রাইভেট আইবিসিএলসি (IBCLC) অনলাইন কনসালটেশন দিয়ে মায়েদের পাম্প সাইজ ঠিক করতে সাহায্য করছেন।
নিপল থ্রাশ হলো ইস্ট সংক্রমণ। বাইরে থেকে খুব বেশি ফাটা না দেখালেও ভিতরে প্রবল জ্বালাপোড়া হতে পারে।
সাধারণ নিপল থ্রাশের উপসর্গ:
থ্রাশ হলে মা আর বাচ্চা - দুজনকেই একসঙ্গে ফাঙ্গাল ওষুধ নিতে হয়। শুধু আপনাকে ক্রিম দিলেই পুরোপুরি আরাম হবে না, কারণ আপনারা একে অন্যকে আবার সংক্রমিত করতে থাকেন।
বারবার সাবান দিয়ে ধোয়া, খুব গরম পানি ব্যবহার, বা খুব শুকনো ঘরের বাতাস থেকেও শুষ্ক নিপল হয়, তারপর সহজেই চিরে গিয়ে স্তন ফাটা তৈরি হয়।
যা বোঝা যায়:
এখানে খুব অল্প কিছু নরমাল যত্ন আর আর্দ্রতা জোগালেই ভালো উন্নতি হয়, নিচে একটু পরে সেগুলো আছে।
ফাটা হয়ে যাওয়া নিপল সেরে ওঠা সম্ভব, কিন্তু নতুন করে যেন আর ক্ষতি না হয় সেটা রোধ করাই সবচেয়ে সহজ আর দ্রুত সমাধান। ভাবতে পারেন, বাচ্চা যখন ধীরে ধীরে ঠিকভাবে খাওয়া শিখছে, আপনি ততদিন ত্বকটাকে সুরক্ষা দিচ্ছেন।
একটা ভালো ল্যাচ হলো নিপল ব্যথা আর ব্রেস্টফিডিং এ স্তন ফাটা কেন হয় - তার ৮০–৯০ শতাংশ সমাধান।
প্র্যাক্টিক্যাল কিছু টিপস নিচে দিলাম, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন:
শুরু করুন নাক আর নিপল সমান লেভেলে রেখে
বাচ্চাকে এমনভাবে ধরুন, যেন তার নাক আপনার নিপলের সমান লাইনে থাকে। এতে সে মাথা সামান্য পেছনে কাত করে বড় করে মুখ খুলতে উৎসাহ পাবে, সামনে ঝুঁকে শুধু নিপল কামড়ে ধরবে না।
বড় করে মুখ খোলার জন্য অপেক্ষা করুন
আপনার নিপলটা আলতোভাবে বাচ্চার ওপরের ঠোঁটে ছুঁইয়ে দিন। সে যখন হাই তোলার মতো করে একেবারে বড় করে মুখ খুলবে, তখনই দ্রুত বাচ্চাকে স্তনের দিকে আনুন, স্তনকে বাচ্চার দিকে ঠেলে দেবেন না।
ঠোঁট দুটো বাইরের দিকে ফুলে থাকা চাই
দুটো ঠোঁটই বাইরে দিকে মোড়ানো থাকবে, ছোট মাছের মুখের মতো। ভিতরে গুটিয়ে গেলে আলতো করে আঙুল দিয়ে ঠোঁটটা বাইরের দিকে উল্টে দিন।
অ্যাসিমেট্রিক ল্যাচ ব্যবহার করুন
সঠিক ল্যাচে বাচ্চার মুখের ভেতরে এরিওলার নিচের দিকটা উপরের দিকের চেয়ে বেশি থাকবে। এটা পেতে নিপলটা সামান্য করে বাচ্চার তালুর দিকে (উপরের দিকে) তাক করে দিন, আগে চিবুক লাগবে, তারপর মুখের ওপরের দিক ঢুকবে।
চিবুক যেন স্তনে লেগে থাকে, নাক প্রায় ফ্রি থাকে
বাচ্চার চিবুক স্তনে গিয়ে ঠেকবে। নাক খুব কাছাকাছি থাকলেও সাধারণত শ্বাসের জন্য একটু ফাঁক থাকে। যদি নাক ঢুকে গিয়ে চিবুক বরং দূরে থাকে, বেশিরভাগ সময়ই ল্যাচটা অগভীর হয়।
ক্লিক শব্দ যেন না থাকে
আপনি একটা নিয়মিত চোষা - গেলা - বিরতি প্যাটার্ন শুনতে চাইবেন। বাচ্চা যদি বারবার ক্লিক শব্দ করে, সাধারণত বুঝতে হবে সে বারবার সাকশন হারাচ্ছে, মানে ল্যাচ শ্যালো বা টং টাই মতো সমস্যা থাকতে পারে।
দশ সেকেন্ডের মধ্যে ব্যথা হালকা হওয়া উচিত
প্রথম কয়েক সেকেন্ড টান টান একটা টান অনুভব হওয়া স্বাভাবিক, বিশেষ করে একদম শুরুতে। কিন্তু পুরো ফিড জুড়ে ধারালো বা জ্বালাময় ব্যথা থাকা এমন কিছু না, যা «সহ্য করে নিতেই হবে»।
প্রথম ১০ সেকেন্ডের পরেও যদি ব্যথা ১০ এর মধ্যে ৩ এর বেশি মনে হয়, আলতো করে বাচ্চাকে সরিয়ে আবার নতুন করে ল্যাচ দিন। বারবার করতে ঝামেলা লাগতে পারে, কিন্তু প্রথমদিকে এই কষ্টটাই আপনাকে অনেকদিনের ফাটা আর গভীর ক্ষত থেকে বাঁচাবে।
চট করে টেনে বাচ্চাকে স্তন থেকে সরানো ঠিক না। এতে হঠাৎ টান লেগে নরম ত্বক ছিঁড়ে যেতে পারে, আগে থেকে থাকা ফাটা আরও খারাপ হয়।
নিরাপদে সাকশন ভাঙার উপায়:
একটু প্র্যাক্টিস হলেই এটা স্বাভাবিক অভ্যাস হয়ে যাবে আর প্রতিবার আপনার নিপলকে সুরক্ষিত রাখবে।
দামী স্কিন কেয়ার রুটিন দরকার নেই, কয়েকটা ছোট অভ্যাসই নিপল ফাটা প্রতিরোধে অনেকখানি কাজ দেয়।
ভেজা ব্রা বা প্যাডের ভেতরে নিপল আর্দ্র হয়ে অনেকক্ষণ থাকলে ত্বক নরম হয়ে গিয়ে সহজে ফেটে যায়।
প্রতিটি ফিডের পর:
অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, নিপলের ওপর পাতলা করে নিজের বুকের দুধ লাগালে:
খাওয়ানোর একদম শেষে হাতে সামান্য দুধ বের করে নিয়ে নিপল আর এরিওলার চারপাশে লাগান, তারপর বাতাসে শুকাতে দিন।
ব্যবহার করতে পারেন:
প্রতিবার খাওয়ানোর বা পাম্পিংয়ের পর মটরদানার সমান পরিমাণ ক্রিম হালকা করে লাগান। উদ্দেশ্য হলো ত্বক নরম, স্যাঁতসেঁতে রাখা, মোটা, চিটচিটে স্তর বানানো না।
সাবান ত্বকের প্রাকৃতিক তেল তুলে ফেলে, ত্বক শুকিয়ে যায়।
প্রতিদিনের কাজে:
আপনার যদি ইতিমধ্যেই নিপল ফাটা থাকে, তারপরও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্রেস্টফিডিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সামান্য রক্ত মিশে গেলেও দুধ বাচ্চার জন্য নিরাপদ।
এখন লক্ষ্য থাকবে: ব্যথা কমানো, ত্বককে সুরক্ষা দেওয়া আর নিরাময়ের সুযোগ করে দেওয়া, একই সঙ্গে বাচ্চার খাওয়াও যেন চলতে থাকে।
অধিকাংশ সময়ই পারবেন। বরং ব্রেস্টফিডিং চালিয়ে গেলে:
যদি ব্যথা এমন হয় যে প্রতিবার খাওয়ানোর কথা ভাবলেই গা কাঁপে, চোখে পানি চলে আসে, এটা স্পষ্ট সিগন্যাল যে আপনার বাড়তি সাপোর্ট দরকার, আপনি ব্যর্থ এমন না।
ত্বক নিরাময় করতে কিছুটা সময় লাগে, তবে নিচের ধাপগুলো স্তন ফাটা দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করে।
মূল কারণ ঠিক না করলে কেবল বাহ্যিক যত্নে লাভ খুব কম। তাই:
খুব ছোট ছোট পরিবর্তনও প্রেশার আর ঘর্ষণ অনেক কমিয়ে দেয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ফাটা ত্বক একেবারে শুকনো না রেখে হালকা স্যাঁতসেঁতে রাখলে দ্রুত সারে আর নতুন করে ফাটে কম।
এই moist wound healing করতে পারেন这样:
অনেকক্ষণ একেবারে খোলা রেখে শুকিয়ে দিলে আবার বাচ্চা ধরার সময় সেই জায়গাটা টেনে ফেটে যেতে পারে।
অনেক মা বলেন হাইড্রোজেল প্যাড লাগালে জ্বালা ও তাপ কম লাগে, একরকম ঠান্ডা আরাম দেয়।
ব্যবহার করতে চাইলে:
এগুলো বাধ্যতামূলক না, তবে খুব ফাটা আর জ্বালা করলে দু–এক সপ্তাহের জন্য ভালো সাপোর্ট হতে পারে।
ল্যাচ যতই ভালো হোক, প্রতিবার একই পজিশনে খাওয়ালে চাপ পড়ে একই জায়গায়, ফলে সেই নির্দিষ্ট অংশটা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই পজিশন বদলালে প্রেশার পয়েন্টও বদলে যায়।
চেষ্টা করতে পারেন:
ভাবুন, পায়ে ফোসকা উঠলে পরেরদিন অন্য জুতো পরেন, যাতে একই জায়গায় ঘষাঘষি কম হয়।
এক পাশের নিপল যদি খুবই ফাটা বা ক্ষত হয় আর খাওয়ানো একদম সহ্য হয় না, তখন আপনি:
এটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না, বরং কয়েকদিনের একটা সাময়িক কৌশল। লক্ষ্য থাকবে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই পাশেও আবার বাচ্চাকে সরাসরি ল্যাচ করানো, তবে ততদিন অন্তত দুধের সরবরাহ যেন কমে না যায়।
ব্যথা থাকলেই যে সবকিছু সহ্য করে থাকতে হবে, এমন না।
আপনার স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ বা ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন:
যদি হঠাৎ জ্বর আসে, সারা গা ব্যথা, কাঁপুনি, স্তনের কোনো অংশ লাল আর গরম লাগে, দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, এটা মাস্টাইটিস হতে পারে।
অনেক সময় ল্যাচ ঠিক করলেন, যত্ন নিচ্ছেন, তারপরও ব্যথা আগুনের মতো থাকে। তখনই থ্রাশ আছে কিনা একটু আলাদা করে খেয়াল করা দরকার।
গুরুত্বপূর্ণ নিপল থ্রাশের লক্ষণ:
বাচ্চার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করুন:
ভালোমতো বসে গেলে থ্রাশ নিজে নিজে সেরে যায় না।
মা আর বাচ্চা দুইজনকেই একসঙ্গে অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা লাগে, সাধারণত:
নিজে থেকে কিছু একটা ক্রিম কিনে লাগানোর চেয়ে ভাল হলো গাইনোকলোজিস্ট, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা ল্যাক্টেশন কনসালট্যান্টের সঙ্গে কথা বলা। অনেক সময় কেবল স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করলে বরং ইস্টের সংক্রমণ বাড়তে পারে।
এক পর্যায়ে ঘরোয়া টিপস যথেষ্ট না। এটা ব্যর্থতার প্রমাণ না, বরং আপনি যে একা লড়াই করছেন না তার ইঙ্গিত। এক–টু–ওয়ান সাপোর্ট অনেক সময় গোটা ছবি বদলে দেয়।
নিম্নের যেকোনোটা হলে একজন আইবিসিএলসি, প্রশিক্ষিত ব্রেস্টফিডিং কাউন্সেলর বা অভিজ্ঞ ডাক্তার/মিডওয়াইফের সাহায্য নিন:
বাংলাদেশে যা করতে পারেন:
ভারত, নেপাল, পাকিস্তানসহ আশপাশের দেশগুলোতেও অনুরূপ চাইল্ড হেলথ ক্লিনিক, মাতৃসদন, এবং হেল্পলাইন থেকে একই ধরনের সাপোর্ট পাওয়া যায়।
স্তনপান যেন শাস্তির মতো কষ্টদায়ক হওয়ার কথা না। একদম প্রথমদিকে সামান্য টান বা অস্বস্তি থাকা স্বাভাবিক, কারণ নতুন জায়গায় নতুন রকম প্রেশার পড়ছে। কিন্তু টানা তীক্ষ্ণ, জ্বালাপোড়া বা গুলি মারা ধরনের ব্যথা চলতেই থাকবে - এমনটা মেনে নেওয়ার দরকার নেই, এটা স্পষ্ট সাইন যে কিছু ঠিকঠাক করার প্রয়োজন আছে।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা পয়েন্ট আবার একসাথে:
আপনি আপনার বাচ্চার জন্য অসাধারণ একটা কাজ করছেন - তাকে নিজের দুধ খাওয়াচ্ছেন। একই সঙ্গে আপনারও অধিকার আছে আরামদায়ক আর নিশ্চিন্ত থাকার। ঠিকভাবে গাইডেন্স আর একটু সাপোর্ট পেলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্তন ফাটা ভালো হয়ে যায়, আর ব্রেস্টফিডিং হয়ে ওঠে যা হওয়ার কথা ছিল: কাছের, শান্ত, আর বেশিরভাগ সময়ই নির্ভার, প্রায় ব্যথামুক্ত একটি অভ্যাস।