নবজাতক ঘরে আসার পর পরিচিত ঘরটাকেও নতুন চোখে দেখতে হয়। সেন্টার টেবিলের কোণটা হঠাৎ ধারালো মনে হয়, পোষা প্রাণীর বিছানাটি কোথায় রাখা আছে তা নিয়েও ভাবতে হয়। আর কোলে বাচ্চা নিয়ে গরম চা খাওয়া? সেটিও এখন একটু বেশি সতর্কতার বিষয়।
ভালো খবর হলো, নবজাতক নিরাপত্তা মানেই ঘরকে নরম কুশনে মোড়া দুর্গ বানিয়ে ফেলা নয়। আপনার শিশু এখনো হামাগুড়ি দেয় না, আলমারি খোলে না বা দাঁড়িয়ে ওঠে না। তাই পূর্ণাঙ্গ বেবি প্রুফিং ধীরে ধীরে করা যাবে। শুরুতে গুরুত্ব দিন ঘুম, গোসলের পানি, কোলে নেওয়া, পোষা প্রাণী, অতিথি, গাড়িতে যাত্রা এবং শিশুকে যেখানে শোয়ানো বা রাখা হয় সেসব জায়গায়।
শিশু ঘরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সহজ নিয়ম মনে রাখুন: শিশুকে যেখানে ঘুম পাড়ান, গোসল করান, কোলে নেন বা শুইয়ে রাখেন, সেই জায়গাগুলো আগে খুঁটিয়ে দেখুন। প্রতিদিনের অধিকাংশ বেবি নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তগুলোতেই নেওয়া হয়।
শুরুর বেবি প্রুফিং চেকলিস্টে রাখুন:
একদিনেই সব শেষ করার চাপ নেবেন না। আগে একটি ঘর গুছিয়ে নিন, কয়েকটি পরিবর্তন করুন, তারপর পরের অংশে যান। অল্প অল্প করেই শিশুর জন্য নিরাপদ বাড়ি তৈরি হবে।
নবজাতকের ঘুম নিরাপদ কিভাবে, এর উত্তর খুব জটিল নয়। শিশুর জন্য প্রয়োজন সমতল ও শক্ত ম্যাট্রেস, যা শিশুর ঘুমের উপযোগী খাট, ক্রিব, মজেস বাস্কেট বা বেডসাইড ক্রিবে বসানো থাকবে। ম্যাট্রেসটি ঠিকমতো মাপের হওয়া চাই, যাতে কিনারায় কোনো ফাঁক না থাকে এবং শিশু সেখানে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি না তৈরি হয়।
নিরাপদ ঘুমের তিনটি কথা মনে রাখুন: শক্ত, সমতল ও ফাঁকা।
অর্থাৎ ঘুমের জায়গায় বালিশ, লেপ, ভারী কাঁথা, ঢিলা কম্বল, বাম্পার, ওয়েজ, স্লিপ নেস্ট, নরম খেলনা বা আলগা কাপড় রাখবেন না। টানটান করে লাগানো একটি চাদরই যথেষ্ট। কম্বল ব্যবহার করলে সেটি হালকা হতে হবে, শিশুর কাঁধের বেশি ওপরে নয় এবং খাটের নিচের দিকে পায়ের কাছ থেকে গুঁজে দিতে হবে। শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী উপযোগী হলে সঠিক মাপের স্লিপিং ব্যাগও ব্যবহার করা যায়।
দিনে বা রাতে, প্রতিবার ঘুমের সময় শিশুকে চিত করে শোয়ান। বাংলাদেশে শিশুর স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক প্রচলিত নির্দেশনাতেও নবজাতককে একই ঘরে বড়দের কাছাকাছি, তবে আলাদা নিরাপদ শোয়ার জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্তত প্রথম ছয় মাস এটি মেনে চলা ভালো।
খাট বলুন বা ক্রিব, ক্রিব নিরাপত্তা মান যাচাই শুরু হয় পণ্যটি থেকেই। সম্ভব হলে মানসম্মত ও স্বীকৃত নিরাপত্তা মান মেনে তৈরি খাট কিনুন। আমদানি করা ক্রিব হলে BS EN 716 বা সমমানের শিশু খাটের নিরাপত্তা মানের লেবেল দেখতে পারেন। পুরোনো বা কারও কাছ থেকে নেওয়া খাট হলে ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করা দরকার।
খেয়াল করুন:
খাট জানালা, পর্দা এবং ব্লাইন্ডের দড়ি থেকে দূরে রাখুন। শিশুরা খুব দ্রুত বসতে ও দাঁড়াতে শেখে। আপনার ধারণার আগেই সে দড়ি ধরার মতো জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে। জানালার কাছ থেকে এমন আসবাবও সরিয়ে রাখুন, যা পরে উঠতে সাহায্য করতে পারে।
গরম পানিতে গোসল শিশুর ঘুমের আগে আরামদায়ক একটি রুটিন হতে পারে। তবে এ সময় আপনার পুরো মনোযোগ দরকার। অল্প পানিও খুব দ্রুত বিপদের কারণ হতে পারে।
শিশু গোসল পানির তাপমাত্রা প্রায় ৩৭° সেলসিয়াস রাখা ভালো, অর্থাৎ শরীরের তাপমাত্রার কাছাকাছি। বাথ থার্মোমিটার থাকলে সবচেয়ে নির্ভুলভাবে বোঝা যায়। না থাকলে কনুই দিয়ে পানি পরীক্ষা করতে পারেন। পানি আরামদায়ক উষ্ণ লাগবে, গরম নয়। হাতের তালু গরম পানির সঙ্গে অভ্যস্ত থাকায় এটি তুলনামূলক কম নির্ভরযোগ্য।
আগে ঠান্ডা পানি নিন, পরে গরম পানি মেশান এবং ভালোভাবে নাড়ুন। শিশুকে পানিতে নামানোর আগে আবার তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন। গোসলের সময় কল বন্ধ রাখুন, যাতে হঠাৎ গরম পানি পড়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকে।
শিশুর গোসল নিরাপত্তার সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো: পানিতে থাকা অবস্থায় শিশুকে এক সেকেন্ডের জন্যও একা রাখবেন না।
দরজার বেল বাজলেও নয়, ফোন এলেও নয়, তোয়ালে আনতে গেলেও নয়। কিছু দরকার হলে শিশুকে তোয়ালে জড়িয়ে সঙ্গে নিয়ে যান। একটু ঝামেলা মনে হলেও এটিই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
শুরু করার আগেই কাছে গুছিয়ে রাখুন:
শিশু পানিতে থাকলে সব সময় অন্তত এক হাত দিয়ে তাকে ধরে রাখুন। খুব ছোট শিশুও ভেজা পানিতে সহজে পিছলে যেতে পারে।
প্রথমবার মা-বাবা হলে শিশু ধরার সঠিক উপায় নিয়ে অস্বস্তি বা ভয় থাকা স্বাভাবিক। কয়েক দিন নিয়মিত কোলে নিলেই সাধারণত হাত সয়ে যায়।
শিশুকে তুলতে, বহন করতে বা শুইয়ে দেওয়ার সময় মাথা ও ঘাড় অবশ্যই সাপোর্ট দিন। নবজাতকের ঘাড়ের পেশি তখনো মাথা স্থিরভাবে ধরে রাখার মতো শক্ত হয় না। এক হাত মাথা ও ঘাড়ের নিচে রাখুন, অন্য হাত দিয়ে পিঠ ও নিতম্ব ধরে রাখুন। শিশুকে শরীরের কাছাকাছি রাখুন, হাত দূরে প্রসারিত করে বহন করবেন না।
সিঁড়িতে ওঠানামার সময় তাড়াহুড়া নয়। দুই হাত দিয়ে শিশুকে শক্তভাবে ধরে রাখুন, অথবা বয়স ও ওজন উপযোগী, সঠিকভাবে পরানো বেবি ক্যারিয়ার ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে রেলিং ধরার জন্য এক হাত খালি রাখুন।
ওয়াশিং মেশিনের কাজ শেষ হয়েছে বা দরজায় কেউ এসেছে বলে দ্রুত হাঁটার দরকার নেই। এসব অপেক্ষা করতে পারে। শিশু বহনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ধীরস্থির থাকাই ভালো।
কোলে শিশু থাকা অবস্থায় গরম চা, কফি, স্যুপ বা গরম খাবার বহন করবেন না। এক কাপ গরম চা কয়েক সেকেন্ডেই গুরুতর পোড়ার কারণ হতে পারে। আগে কাপটি নামিয়ে রাখুন। পরে চা ঠান্ডা হয়ে গেলেও খাওয়া যাবে, এটাই নতুন মা-বাবার জীবনের পরিচিত দৃশ্য।
বাড়ির পোষা বিড়াল বা কুকুর খুব শান্ত ও আদুরে হলেও শিশু এবং প্রাণীকে কখনো একা রাখবেন না। ছবি তোলার সময়ও নয়, রান্নাঘরে এক মিনিট যাওয়ার সময়ও নয়। হঠাৎ শব্দ, নতুন গন্ধ বা পরে শিশুর টানাটানিতে শান্ত প্রাণীও অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
পরিচয় করান ধীরে ধীরে। শিশুকে ঘরে আনার আগে তার ব্যবহৃত একটি কাপড় বা কম্বল প্রাণীকে শুঁকতে দিতে পারেন। প্রথম সাক্ষাতে প্রাণীকে স্বস্তিকর দূরত্বে থেকে শিশুকে দেখতে দিন।
সব যোগাযোগের সময় বড়দের উপস্থিতি দরকার। প্রাণী অস্বস্তিতে আছে কি না লক্ষ করুন। ঘন ঘন হাঁটাহাঁটি, ঠোঁট চাটা, মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, শরীর শক্ত করে রাখা, গরগর করা বা লুকিয়ে পড়া চাপের লক্ষণ হতে পারে। তার জন্য নিরিবিলি একটি জায়গা রাখুন, যেখানে তাকে বিরক্ত করা হবে না।
পোষা প্রাণীর বিছানা, খাঁচা এবং খাবারের জায়গা শিশুর খেলা বা ঘুমের স্থান থেকে আলাদা রাখুন। বিড়াল বা কুকুরকে কখনো শিশুর খাট, ক্রিব বা মজেস বাস্কেটে ঘুমাতে দেবেন না, আগে তারা আপনার বিছানার পাশে ঘুমালেও নয়।
নতুন শিশু আসা বড় সন্তানের জন্য আনন্দের, আবার কিছুটা বিভ্রান্তিরও হতে পারে। এক মুহূর্তে সে ছোট ভাই বা বোনকে খুব আদর করছে, পরের মুহূর্তে নিজেকে অবহেলিত ভাবছে। এ ধরনের অনুভূতি স্বাভাবিক।
তাকে “নরম হাত” ব্যবহার করতে শেখান। শিশুর পায়ে হালকা করে হাত বুলিয়ে দেওয়া বা চুলে আলতো ছোঁয়া দেখিয়ে দিন। বোঝান, নবজাতক এখনো খেলতে পারে না এবং তাকে খুব সাবধানে ধরতে হয়। ছোট শিশুকে বড়দের নিবিড় সাহায্য ছাড়া নবজাতককে কোলে নেওয়া, খাওয়ানো, গোসল করানো বা বহন করতে দেবেন না।
শিশু ঘুমালে, ম্যাটে শুয়ে থাকলে বা বাউন্সারে থাকলে ভাইবোনের সঙ্গে প্রতিটি মেলামেশা নজরে রাখুন। ভালোবেসে দেওয়া খেলনা, কম্বল বা খাবারও নবজাতকের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে।
বড় সন্তানকে ছোট ছোট কাজে যুক্ত করতে পারেন:
বার্তাটি এমন হওয়া উচিত নয় যে, “নতুন বাচ্চা আসায় তোমার জায়গা কমে গেছে।” বরং বলুন, “তুমিও আমাদের পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, আমরা সবাই মিলে শিশুটির যত্ন নেব।”
হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে বাড়ি ফেরাই সাধারণত শিশুর প্রথম গাড়ি ভ্রমণ। তাই কার সিটের বিষয়টি পরে দেখব বলে ফেলে রাখবেন না।
শিশুর ওজন ও উচ্চতার উপযোগী রিয়ার-ফেসিং ইনফ্যান্ট কার সিট ব্যবহার করুন। সামনের দিকে মুখ করে বসানোর তুলনায় পেছনের দিকে মুখ করে বসালে শিশুর মাথা, ঘাড় ও মেরুদণ্ড বেশি সুরক্ষিত থাকে। কার সিট কিনলে বর্তমান নিরাপত্তা মানের লেবেল দেখে নিন, যেমন UN R129। অনেক পুরোনো মডেলে R44 মান দেখা যেতে পারে। R129 মানে উচ্চতা অনুযায়ী সিট বাছাই এবং পার্শ্ব-ধাক্কার পরীক্ষার ব্যবস্থাও থাকে।
প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী সিট বসান। গাড়িতে ISOFIX থাকলে বেসের ইনডিকেটর দেখে নিশ্চিত হোন যে সেটি ঠিকভাবে সংযুক্ত হয়েছে। সিটবেল্ট দিয়ে বসালে বেল্টের নির্ধারিত পথ অনুসরণ করুন এবং সিটটি অতিরিক্ত নড়ছে কি না পরীক্ষা করুন।
হারনেস শিশুর শরীরের সঙ্গে সমতলভাবে বসবে:
কার সিট ভ্রমণের জন্য, ঘরে নিয়মিত ঘুমের জন্য নয়। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সুযোগমতো শিশুকে সমতল ও শক্ত ঘুমের জায়গায় শুইয়ে দিন।
বাড়ির স্মোক অ্যালার্ম নিয়মিত পরীক্ষা করুন, অন্তত মাসে একবার। বাসার প্রতিটি তলায় কার্যকর ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র থাকা ভালো এবং সেটির শব্দ ঘুমন্ত বড়দেরও জাগানোর মতো হওয়া দরকার। ব্যাটারি বদলানো ও পুরো ইউনিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
ঘর ধূমপানমুক্ত রাখুন। বাসার ভেতরে, খোলা জানালার পাশে বা গাড়িতে ধূমপান করবেন না। বাইরে ধূমপান করলেও ধোঁয়ার ক্ষতিকর কণা জামাকাপড়, চুল ও আসবাবে লেগে থাকতে পারে। তাই শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে হাত ধোয়া এবং সম্ভব হলে বাইরের পোশাক বদলে নেওয়া ভালো।
শিশুকে ডায়াপার বদলানোর ম্যাট, সোফা, বিছানা, খেলার ম্যাট বা কোলে রাখা হয়। শোয়ানোর আগে জায়গাটি একবার চোখ বুলিয়ে নিন। কয়েন, কলমের ঢাকনা, বোতাম, ব্যাটারি, গয়না, চুলের ক্লিপ বা প্যাকেটের ছোট অংশ সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়।
শিশু এখনো গড়াগড়ি না দিলেও এই সতর্কতা দরকার। বড়রা জিনিসপত্র সরান, ভাইবোন খেলনা রেখে যায়, আর শিশুর বিকাশ অনেক সময় ধারণার চেয়েও দ্রুত হয়।
খেলনাও পরীক্ষা করুন। বয়স উপযোগী খেলনা দিন, যাতে আলগা অংশ, খসে পড়া রং, বাটন ব্যাটারি বা লম্বা দড়ি না থাকে। খেলনা ফেটে গেলে, ভেঙে গেলে বা কোনো অংশ ঢিলা হলে পরে ঠিক করব ভেবে রেখে দেবেন না, সরিয়ে ফেলুন।
ডায়াপার বদলানোর টেবিল সুবিধাজনক হলেও সেখানে শিশুকে রেখে কখনো হাত মুক্ত করবেন না। সেফটি স্ট্র্যাপ থাকলে ব্যবহার করুন, তবে মনে রাখবেন স্ট্র্যাপ আপনার হাতের বিকল্প নয়। শুরু করার আগে ডায়াপার, ওয়াইপস ও জামাকাপড় কাছে রাখুন। মাঝপথে সরে যেতে হলে শিশুকে সঙ্গে নিন, অথবা পরিষ্কার ম্যাটে নিরাপদভাবে মেঝেতে শুইয়ে দিন।
লম্বা ড্রয়ার, বুকশেলফ ও টেলিভিশন দেয়ালের সঙ্গে শক্ত করে আটকান। আপনার নবজাতক আজ উঠতে পারছে না, কিন্তু চলাফেরা শুরু করার আগেই বেবি প্রুফিং করে রাখা অনেক সহজ।
নতুন মা-বাবার জন্য শিশু নিরাপত্তার পরামর্শ কখনো কখনো দুশ্চিন্তার বড় তালিকা মনে হতে পারে। আসলে এগুলো এমন কিছু ছোট অভ্যাস, যা অল্পদিনেই স্বাভাবিক হয়ে যায়। খাট দেখে নেওয়া, গোসলের পানি মাপা, সিঁড়িতে শিশুকে কাছে ধরে রাখা, কার সিটের হারনেস ঠিক করা।
শিশুর জন্মের কয়েক দিনের মধ্যেই সব বেবি প্রুফিং শেষ করতে হবে না। শুরু করুন ঘুম, পানি, কোলে নেওয়া এবং তত্ত্বাবধান দিয়ে। তারপর শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘর ধরে ধরে বেবি প্রুফিং করুন। এই ধীর কিন্তু নিয়মিত প্রস্তুতিই শিশুকে নিরাপদ রাখবে, আর আপনাদের জন্য থাকবে আদর, ঘুম, প্রথম হাসি এবং ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এক কাপ চায়েরও জায়গা।