নবজাতক টিকা: জন্মের দিন কেন BCG ও হেপাটাইটিস বি দেয়া হয়, সময়সূচী ও পরবর্তী যত্ন

নার্স নবজাতককে হাতে টিকা দিচ্ছেন

নবজাতককে বাসায় আনার পর প্রথম কয়েকটা সপ্তাহ কেটে যায় ঘুম, দুধ খাওয়ানো, ন্যাপি বদলানো আর কান্নার মানে বোঝার চেষ্টা করতে করতে। ঠিক যখন মনে হয় কিছুটা গুছিয়ে নিয়েছেন, তখনই কেউ এসে বলে ওঠে নবজাতক টিকা নিয়ে, আর হঠাৎই মাথায় ঢুকে পড়ে একগাদা নতুন প্রশ্ন।

আপনার ভাবনা থাকতে পারে - নবজাতককে কখন টিকা দেয়া হয়, জন্মের প্রথম দিনে টিকা কেন লাগে, হেপাটাইটিস বি প্রথম ডোজ কখন, আর টিকা নেওয়ার পর শিশুর কী কী হওয়া স্বাভাবিক। আপনি একা নন, প্রায় সব বাবা-মায়েরই এমন প্রশ্ন থাকে।

এই লেখায় আমরা মূলত বাংলাদেশ ও আশেপাশের দেশের বাস্তবতা নিয়ে কথা বলব, বিশেষ করে যে টিকাগুলো অনেক ক্ষেত্রে জন্মের দিন বা একদম শুরুর দিনগুলোতে দেওয়া হয় - হেপাটাইটিস বি টিকার প্রথম ডোজ (বেশিরভাগ জায়গায় সিরিজের অংশ হিসেবে) আর যক্ষ্মার BCG টিকা। সাথে থাকছে প্রথম বছর জুড়ে থাকা নবজাতক টিকা সময়সূচী সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত ধারণা।


কেন নবজাতক টিকা এত গুরুত্বপূর্ণ

আপনার বাচ্চা একদম খালি হাতে দুনিয়ায় আসে না। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে মায়ের শরীর থেকে কিছু অ্যান্টিবডি প্লাসেন্টা দিয়ে শিশুর শরীরে যায়, বুকের দুধ খেলেও কিছু সুরক্ষা পায়। তবে এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা:

  • অল্প কিছুদিন থাকে
  • সব রোগ থেকে বাঁচাতে পারে না
  • প্রতিটি মা ও বাচ্চার ক্ষেত্রে আলাদা হয়

কিছু সংক্রমণ আছে, যেগুলো জীবনের একদম শুরুতে বেশি মারাত্মক হয়। এই সময়ে বাচ্চার শরীর ছোট, প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও ঠিকমতো গড়ে ওঠেনি, ফলে খুব তাড়াতাড়ি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

টিকা আসলে বাচ্চার প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এক ধরনের «চিটশীট» দিয়ে দেয়। আসল জীবাণু শরীরে ঢোকার আগে আমরা তাকে জীবাণুর দুর্বল বা নিরীহ অংশ দেখিয়ে দিই, যাতে শরীর শিখে যায় কীভাবে লড়তে হবে। পরে সত্যিকারের জীবাণু এলে শরীর তখন প্রস্তুত থাকে।

বিশ্বজুড়ে, অসংখ্য গবেষণা আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য বলছে টিকা এখনো সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি, যা শিশুকে মারাত্মক রোগ, অক্ষমতা আর অকাল মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়। সংখ্যাটা খুব বড় মনে হলেও, এই সংখ্যার মধ্যেই রয়েছে আমাদের আশেপাশের অগণিত বাস্তব শিশু।


জন্মের সময় আর প্রথম দিনগুলোতে দেওয়া টিকা: সামগ্রিক চিত্র

বাংলাদেশসহ অনেক দেশে নবজাতক টিকা তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট কিছু রোগের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়, যাতে জীবনের শুরুতেই বড় বিপদগুলো দূরে রাখা যায়। অঞ্চলভেদে আর শিশুর ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে নবজাতক প্রথম মাস টিকা তালিকা কিছুটা এদিক-ওদিক হতে পারে। সাধারণত জন্মের পর প্রথম মাসের ভেতর যেগুলো দেখা যায় সেগুলো হলো:

  • হেপাটাইটিস বি টিকা (নবজাতক সিরিজ)

    • অনেক গাইডলাইনে প্রথম ডোজটি জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়ার সুপারিশ আছে, বিশেষ করে যদি ঝুঁকি বেশি হয়
    • সাধারণত ৩ বা ৪ ডোজের সিরিজ হিসেবে প্রথম বছরের ভেতর সম্পন্ন করা হয়
  • BCG টিকা (যক্ষ্মা)

    • অধিকাংশ দেশে জন্মের পরপরই বা প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে দেওয়া হয়
    • সাধারণত একটাই ডোজ, যা পরে হাতে ছোট্ট BCG দাগ রেখে যায়

হঠাৎ জন্মের পরপরই টিকার কথা শুনে অনেক বাবা-মা অবাক হন, একটু হঠাৎ হঠাৎও লাগতে পারে। তাই আলাদা করে প্রতিটি টিকা, সময়ের যুক্তি আর পরে কী কী দেখবেন, সেগুলো ধীরে ধীরে দেখে নিই।


হেপাটাইটিস বি টিকা: জন্মেই কেন দেওয়া হয়?

হেপাটাইটিস বি আসলে কী?

হেপাটাইটিস বি হচ্ছে এক ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ, যা মূলত লিভারকে আক্রমণ করে। বড়দের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে তীব্র জন্ডিস আর অসুস্থতা দেখা যেতে পারে, তবে নবজাতকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক সংক্রমণ

যদি বাচ্চা জন্মের সময় বা জীবনের একদম শুরুতে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তাহলে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষেত্রে রোগটা শরীরে বহু বছর থেকে যেতে পারে, যাকে বলে ক্রনিক হেপাটাইটিস বি। এতে ধীরে ধীরে লিভারের উপর চাপ পড়ে, আর পরবর্তীতে বাড়িয়ে দেয়:

  • সিরোসিস - লিভার শক্ত ও দাগ পড়ে যাওয়া
  • লিভার ফেইলিওর - লিভার একেবারে কাজ না করা
  • ভবিষ্যতে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি

খালি চোখে দেখে কাউকে দেখে বলা যায় না যে তার হেপাটাইটিস বি আছে কি না। অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো লক্ষণই অনুভব করেন না, তাই নিজেও জানেন না যে তিনি ভাইরাস বহন করছেন।

এতটা তাড়াতাড়ি দেওয়ার কারণ

আপনি হয়তো ডাক্তার বা নার্সের মুখে শুনবেন «ভার্টিকাল ট্রান্সমিশন» কথাটা। মানে হলো মায়ের শরীর থেকে গর্ভকালীন বা প্রসবের সময় শিশুর শরীরে সংক্রমণ চলে যাওয়া।

যদি মা হেপাটাইটিস বি ভাইরাস বহন করেন, আর বাচ্চা কোনো সুরক্ষা ছাড়াই জন্মায়, তাহলে বাচ্চার সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। আমাদের আশেপাশের দেশগুলোর বড় বড় গবেষণা বলছে, জন্মের সময় টিকা না পেলে এমন অনেক শিশুই দীর্ঘমেয়াদে হেপাটাইটিস বি নিয়ে বড় হয়।

এই কারণেই হেপাটাইটিস বি টিকা প্রথম ডোজ দেওয়ার সময়টা এত সংবেদনশীল:

  • সম্ভব হলে জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেওয়া হয়
  • এতে প্রসবের সময় ভাইরাসে এক্সপোজ হওয়া শিশুর সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়
  • যত দ্রুত দেওয়া যায়, তত ভালো ফল, কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে দিলে এ সুরক্ষা ততটা কার্যকর থাকে না

যেসব মায়ের শরীরে হেপাটাইটিস বি আছে বলে রিপোর্টে জানা থাকে, সেখানে বাচ্চার জন্য চিকিৎসক দল সাধারণত যা করেন:

  1. জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস বি টিকার প্রথম ডোজ দিয়ে দেন
  2. পরের ডোজগুলো ৬, ১০, ১৪ সপ্তাহ বা স্থানীয় নবজাতক টিকা সময়সূচী অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে দেন
  3. অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি সুরক্ষার জন্য হেপাটাইটিস বি ইমিউনোগ্লোবুলিন (HBIG) নামের প্রস্তুত অ্যান্টিবডির ইনজেকশনও দেওয়া হয়, যাতে ঝুঁকি আরও কমে

অনেক দেশ এখন সব শিশুকে জন্মের দিন থেকেই হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ার দিকে যাচ্ছে। আমাদের দেশেও জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (EPI) এর আওতায় হেপাটাইটিস বি টিকা অন্তর্ভুক্ত আছে, যদিও জন্মডোজ সব জায়গায় সমানভাবে চালু নেই। কারণ পরিষ্কার - সব বহনকারীকে চিহ্নিত করা সব সময় সম্ভব হয় না, তাই জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই টিকা দিলে এক ধরনের সেফটি নেট তৈরি হয়।

সিরিজ আকারে টিকা: একবারেই শেষ নয়

হেপাটাইটিস বি টিকা একটি জাবের পর ختم হয়ে যায় না। দীর্ঘমেয়াদি ও ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয় একটি পূর্ণ কোর্স হিসেবে।

আমাদের দেশে বেশি প্রচলিত সূচি অনুযায়ী বাচ্চারা হেপাটাইটিস বি সুরক্ষা পায় সাধারণত:

  • ঝুঁকিপূর্ণ হলে জন্মের দিনে প্রথম ডোজ
  • পরে জাতীয় সূচি অনুযায়ী ৬, ১০, ১৪ সপ্তাহে টিকা (অনেক সময় কম্বিনেশন টিকা হিসেবে, যেমন ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, পারটুসিস ইত্যাদির সাথে)

কিছু বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা শিশুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডোজও লাগতে পারে। আপনার বাচ্চার টিকা কার্ডে বা বইয়ে ডাক্তার সেগুলো পরিষ্কার করে লিখে দেবেন।

মাঝপথে ডোজ মিস হয়ে গেলে বা বারবার দেরি হলে সুরক্ষার মাঝে ফাঁক থেকে যেতে পারে, বিশেষ করে যেসব বাচ্চা জন্ম থেকেই বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

হেপাটাইটিস বি টিকা নেওয়ার পর কী কী দেখা যেতে পারে

বেশিরভাগ নবজাতকই হেপাটাইটিস বি টিকা খুব ভালোভাবে সহ্য করে। সামান্য কিছু অস্থায়ী প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন:

  • ইনজেকশন দেওয়ার জায়গায় হালকা লালচে ভাব বা ফুলে যাওয়া
  • একটু বেশি বিরক্তি, কাঁদা, সেদিন একটু অস্বস্তি লাগা
  • হালকা জ্বর, সাধারণত কম ডিগ্রির

এসব লক্ষণ আসলে প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাজ শুরু করার ইঙ্গিত।

এই টিকা থেকে হেপাটাইটিস বি রোগ হয় না। এতে জীবিত ভাইরাস থাকে না, তাই টিকা নিয়ে সংক্রমণ হওয়ার প্রশ্নই আসে না।


নবজাতকের BCG টিকা: যক্ষ্মা থেকে সুরক্ষা

টিবি বা যক্ষ্মা কী?

যক্ষ্মা (TB) মূলত Mycobacterium tuberculosis নামের এক ধরনের জীবাণু দিয়ে হয়। অনেকে মনে করেন যক্ষ্মা নাকি আগের যুগের রোগ, কিন্তু বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই আজও এটি খুবই বাস্তব সমস্যা।

প্রধানত ফুসফুসে আঘাত হানে, তখন দেখা যেতে পারে:

  • দীর্ঘদিন ধরে কাশি
  • ওজন কমে যাওয়া
  • রাতের দিকে ঘেমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি

নবজাতক আর ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ঝামেলাটা আরও বড়, কারণ তাদের শরীরে টিবি অনেক সময় ফুসফুস ছাড়িয়ে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে ভয়ংকর যেসব ধরন দেখা যায়, সেগুলো হলো:

  • TB মেনিনজাইটিস - মস্তিষ্ক ও তার ঝিল্লিতে সংক্রমণ
  • ডিসেমিনেটেড বা মিলিয়ারি টিবি - যেখানে টিবি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে

এইসব অবস্থায় স্থায়ী অক্ষমতা, এমনকি শিশুমৃত্যুও ঘটতে পারে। সেই জন্যই BCG টিকার মূল উদ্দেশ্য বাচ্চার ছোট বেলায় মারাত্মক ধরনের টিবি থেকে রক্ষা করা, বড়দের মতো সাধারণ ফুসফুসের টিবি পুরোপুরি আটকানো নয়।

আমাদের দেশে কারা BCG টিকা পায়?

বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলে প্রায় সব শিশুকেই BCG টিকা দেওয়া হয়, সাধারণত জন্মের পরে যত দ্রুত সম্ভব। কারণ আমাদের দেশে এখনও যক্ষ্মা বেশ বেশি, তাই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে সবারই কিছুটা আছে।

কিছু দেশে আবার ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতি চালু আছে, যেমন:

  • যেসব এলাকায় টিবি রোগীর সংখ্যা বেশি
  • পরিবারে কেউ আগে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ছিলেন
  • অথবা এমন দেশে যাতায়াত আছে, যেখানে টিবি খুব কমন

আমাদের বাস্তবতায়, সরকারিভাবে EPI কর্মসূচির আওতায় জন্মের সময়েই BCG টিকা দেওয়ার কথা। বেশিরভাগ হাসপাতালে বাচ্চা জন্মালেই, হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়ার আগেই হাতের উপরে টিকাটি দিয়ে দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও জন্মের দিন না পেলে পরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে দেওয়া হয়।

প্রথম দিন বা সপ্তাহেই BCG কেন?

মারাত্মক ধরনের টিবির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে জীবনের প্রথম কয়েক বছর, বিশেষ করে ২ বছরের আগ পর্যন্ত। খুব ছোট থাকতে যদি টিবি জীবাণুর সংস্পর্শে আসে, তখন ফলাফল অনেক খারাপ হতে পারে।

তাই জন্মের প্রথম দিকে BCG টিকা দিলে:

  • বাচ্চা আত্মীয়স্বজন, ভিজিটর, বাইরে যাওয়া-আসার আগেই সুরক্ষা পেতে শুরু করে
  • টিবি মেনিনজাইটিসের মতো মারাত্মক জটিলতার ঝুঁকি কমে
  • হাসপাতালেই বা খুব শিগগিরই টিকা দিয়ে ফেলা যায়, আলাদা করে অনেকবার আসা-যাওয়ার ঝামেলাও কম

অনেক অন্য টিকার মতো BCG সাধারণত শুধু একটাই ডোজ। একবার সঠিকভাবে দিলে পরবর্তীতে সাধারণত আর টিবি টিকা লাগে না।

BCG দাগ: স্বাভাবিকটা কেমন?

BCG নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন হয় এই BCG দাগ নিয়েই।

এই টিকা চামড়ার ঠিক নিচে দেওয়া হয়, সাধারণত বাম উপরের বাহুতে। টিকা দেওয়ার পর থেকে দাগের পুরো যাত্রা সাধারণত এমন:

  1. প্রথম কয়েক দিন

    • ইনজেকশনের জায়গায় ছোট্ট একটা লালচে ফোলাভাব হয়
  2. পরের কয়েক সপ্তাহ

    • ওই ফোলাটা একটু বড় হতে পারে
    • মাঝখানে উঠানামা করা ছোট ফোঁড়ার মতো বা ফোস্কার মতো দেখাতে পারে
  3. কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে

    • কখনও সামান্য পানি বা পুঁজের মতো বের হতে পারে, আবার সাটলাও পড়তে পারে
    • ধীরে ধীরে শুকিয়ে গিয়ে সেখানে একটা গোল ছোট্ট দাগ থেকে যায়, সাধারণত ২–১০ মিলিমিটার মতো

এটাই স্বাভাবিক। অনেক ক্ষেত্রে এই স্থায়ী ছোট দাগটাই প্রমাণ, যে BCG টিকা ঠিকমতো কাজ করেছে।

সাধারণত যা করা ঠিক নয়:

  • ফোস্কা বা ফোঁড়ার মতো লাগলে চাপ দেওয়া, ফাটিয়ে দেওয়া
  • খুব টাইট ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার দিয়ে ঢেকে রাখা
  • নিজের ইচ্ছায় ক্রিম, মলম, অ্যান্টিসেপটিক লাগানো

তবে টিকা দেওয়ার জায়গাটা যদি খুব বেশি লাল, গরম আর ফোলা হয়ে যায়, ব্যথা অনেক বেশি হয়, বা প্রচুর পুঁজ বের হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তবে BCG দাগ নিজে নিজেই স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যায়


নবজাতক টিকা সাইড ইফেক্ট: কী কী সাধারণ

জন্মের দিনে টিকা, জন্মের প্রথম মাস টিকা বা পরের মাসগুলোতে নবজাতকের টিকা সময়সূচী অনুযায়ী দেওয়া যেকোনো টিকার পরই শিশুর শরীরে কিছু স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।

যেগুলো সাধারণত স্বাভাবিক ধরা হয়:

  • হালকা জ্বর (প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত), বেশি হলে প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
  • ইনজেকশনের জায়গায় সামান্য লাল ভাব, ফুলে যাওয়া, বা শক্ত গুটি অনুভব হওয়া
  • একটু বেশি কাঁদা, কোলে থাকতে চাওয়া, অস্থিরতা
  • সাময়িকভাবে খানিকটা কম খাওয়া
  • এক-দুদিন ঘুমের ধরনে সামান্য পরিবর্তন

সাধারণত এগুলো ১–২ দিনের মধ্যে আপনাতেই ভালো হয়ে যায়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

আপনি আপনার বাচ্চাকে সবচেয়ে ভালো চেনেন। মনে যদি অস্বস্তি হয়, বা বুঝতে না পারেন কী হচ্ছে, ঢাকার বাইরে হলেও নিকটস্থ হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক বা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ফোন করে জেনে নিতে কোনো সমস্যা নেই।

তবে সাধারণ গাইডলাইন হিসেবে, দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন যদি:

  • বাচ্চার জ্বর ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে এবং ২ দিনের উপর থাকে
  • ইনজেকশনের জায়গাটা খুব লাল, খুব ফুলে গেছে, আর প্রতিদিন যেন আরও খারাপ হচ্ছে
  • বাচ্চা অস্বাভাবিক ভাবে ঢুলুঢুলু, খুবই দুর্বল ও অবসন্ন, কোলে নিলেও সাড়া কম পাওয়া যায়
  • কোনো অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনের লক্ষণ দেখা যায়, যেমন
    • হঠাৎ মুখ, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া
    • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
    • সারা গায়ে লালচে ফুসকুড়ি বা ফুসকুড়ির মতো বসে যাওয়া

টিকা থেকে এমন গুরুতর অ্যালার্জি অত্যন্ত বিরল, আর টিকা দেওয়া কর্মীরা সাধারণত এরকম পরিস্থিতি সামলানোর প্রশিক্ষণ আর প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র আগেই হাতের কাছে রাখেন।


টিকা নেওয়ার পর বাচ্চাকে কীভাবে শান্ত করবেন

কোনো বাবা-মাই চান না টিকা দেওয়ার সময় নিজের বাচ্চাকে কাঁদতে দেখতে। কয়েকটা সহজ কৌশল অনেকটাই স্বস্তি দিতে পারে, আপনার আর বাচ্চা দুজনেরই।

যা করতে পারেন:

  • স্কিন-টু-স্কিন কন্টাক্ট

    • টিকা দেওয়ার পরপরই বাচ্চাকে আপনার বুকের সাথে লাগিয়ে ধরে রাখুন
    • এতে তার শ্বাস-প্রশ্বাস, হার্টবিট আর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে
  • দুধ খাওয়ানো (বুকের দুধ বা ফর্মুলা)

    • অনেক বাচ্চা টিকা দেওয়ার সময় বা পরেই দুধ খেতে নিয়ে দিলে শান্ত হয়ে যায়
    • বিশেষ করে বুকের দুধে প্রাকৃতিকভাবে কিছুটা ব্যথা কমানোর আর মানসিক শান্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকে
  • হালকা দোলানো বা হাঁটাহাঁটি করা

    • কোলে নিয়ে আস্তে আস্তে দোলান, বা ঘরের ভেতর হাঁটেন
    • এমন নড়াচড়া শিশুদের স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা শান্ত করে
  • নরম গলায় কথা বলা বা গান গাওয়া

    • আপনার গলার আওয়াজটাই বাচ্চার জন্য সবচেয়ে পরিচিত ও ভরসার

হালকা জ্বর বা অস্বস্তি থাকলে, অনেক সময় ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মী বাচ্চার জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ সাজেস্ট করতে পারেন, বিশেষ করে কিছু ভ্যাকসিন (যেমন মেনিনজোককস বি, যদিও এটি আমাদের সূচিতে আলাদা ভাবে নাও থাকতে পারে) নেওয়ার পর। তবে সব অবস্থায়ই ডোজ ও ব্যবহার নিয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।


শিশুর টিকা নিয়ে কিছু সাধারণ দুশ্চিন্তা

«এত টিকা একসাথে, বাচ্চার শরীর সহ্য করতে পারবে তো?»

এই প্রশ্নটি প্রায়ই শোনা যায়, আর বাবা-মার দুশ্চিন্তাও একদমই স্বাভাবিক। বাইরে থেকে শুনলে মনে হয় ছোট্ট শরীরের ওপর যেন অনেক চাপ পড়ছে। কিন্তু আসলে প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাজকর্ম অন্য রকম।

প্রতিদিনই আপনার বাচ্চার শরীর হাজার হাজার অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে আসে। অ্যান্টিজেন মানে হলো যে-কোনো বাইরের উপাদান, যেমন জীবাণুর অংশ, খাবারের প্রোটিন, ধুলাবালি, পরাগ কণা ইত্যাদি, যেগুলো দেখে শরীর চিনে নেয় বন্ধুর নাকি শত্রু। জন্মের পর থেকেই চারপাশে থাকা অসংখ্য জীবাণু, বায়ু, পানি, দুধ - সব থেকেই সে নিরন্তর নতুন নতুন অ্যান্টিজেনের মুখোমুখি হচ্ছে।

তার তুলনায় টিকার ভেতর থাকা অ্যান্টিজেনের সংখ্যা খুবই কম। আগের যুগের তুলনায় এখনকার টিকা আরও পরিশোধিত, আগের চেয়ে অনেক কম অ্যান্টিজেন দিয়েই ভালো সুরক্ষা দেয়। তাই টিকার সংখ্যা বাড়লেও মোট অ্যান্টিজেনের চাপ বরং কমে এসেছে।

একটি সুস্থ পূর্ণ-মেয়াদে জন্ম নেওয়া শিশুর প্রতিরোধ ব্যবস্থা একই সঙ্গে টিকা আর পরিবেশী জীবাণু - দুটোই সহজেই সামলাতে সক্ষম।

টিকার উপাদান নিয়ে ভয়: এগুলো কি নিরাপদ?

প্রায় সব ভ্যাকসিনেই মূল সক্রিয় অংশ ছাড়াও আরও কিছু উপাদান থাকে, যেমন:

  • অল্প পরিমাণে প্রিজারভেটিভ বা স্টেবলাইজার
  • কিছু ধরনের লবণ আর চিনি, যাতে টিকার পিএইচ ও গুণাগুণ ঠিক থাকে
  • উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় ব্যবহৃত কিছু উপাদানের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ

এসবই থাকে অত্যন্ত কম মাত্রায়, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আর আমাদের দেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরাপত্তা সীমার অনেক নিচে। শিশুর বেড়ে ওঠার পথে খাবার, পানি বা পরিবেশ থেকে সে প্রায়ই এর চেয়ে বেশি পরিমাণে বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গেই পরিচিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, ভবিষ্যতে এক গ্লাস ট্যাপের পানি, বা ফর্মুলা দুধের বোতলে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান একেকটা টিকার ডোজের চেয়েও বেশি হতে পারে।

জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় যে সব টিকা দেওয়া হয়, সেগুলো হাজার হাজার শিশুর ওপর পরীক্ষিত, তারপর অনুমোদিত, আর পরে নিয়মিত নজরদারির মধ্যে থাকে, কোনো বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

টিকা দেরি করে দিলে কি নিরাপদ?

অনেকে ভাবেন, «বাদ নয়, একটু দেরি করে দিই, তাইলে ঝুঁকিও কম, মনও শান্ত থাকবে»। পরিমিত ভাবনা মনে হলেও বাস্তবে এতে শিশুর ঝুঁকি বরং বাড়ে, কারণ কিছু সংক্রমণ একদম ছোটবেলায়ই বেশি মারাত্মক

উদাহরণ হিসেবে:

  • হেপাটাইটিস বি - যেসব বাচ্চা হেপাটাইটিস বি পজিটিভ মায়ের গর্ভ থেকে জন্মায়, জন্মের পর টিকা যত দেরিতে পায়, সংক্রমিত হওয়ার আর ভবিষ্যতে ক্রনিক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়ে।
  • টিবি বা যক্ষ্মা (BCG) - টিবি মেনিনজাইটিসের মতো গুরুতর অবস্থা সাধারণত খুব ছোট বাচ্চাদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। তাই জন্মের পরপরই BCG টিকা দিয়ে রাখলে ভয়াবহ জটিলতার সম্ভাবনা অনেক কমে।

বিভিন্ন «অল্টারনেটিভ» বা টিকা দেরি করে দেওয়ার সূচি নিয়ে ইন্টারনেটে অনেক কথা থাকলেও, এগুলোর কার্যকারিতা বা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং অযথা সময় বাড়িয়ে শিশুকে বেশি দিন অসুরক্ষিত রাখে।

আপনার যদি দোটানায় লাগে, মনে মনে দেরি করানোর বদলে সরাসরি ডাক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে খোলামেলা কথা বলুন। আপনার বাচ্চার ঝুঁকি, আপনার প্রশ্ন আর উদ্বেগ - সবকিছু মাথায় রেখে তারা আলাদা করে ব্যাখ্যা করতে পারবেন।


প্রথম বছরের টিকা সময়সূচী: নবজাতক টিকা কোথায় ফিট হয়?

জন্মের প্রথম মাস টিকা আসলে পুরো একটা পরিকল্পনার শুরু। প্রথম বছরের রুটিন নবজাতক টিকা সময়সূচী সাধারণভাবে (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী) এমন হয়:

  • জন্মের সময় বা খুব শিগগির

    • BCG টিকা (যক্ষ্মা থেকে সুরক্ষা)
    • কিছু ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস বি টিকার প্রথম ডোজ (যদি জন্মডোজ প্রোগ্রাম চালু থাকে বা শিশুর ঝুঁকি বেশি থাকে)
  • ৬ সপ্তাহ (বা প্রায় দেড় মাস)

    • ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, পারটুসিস, হেপাটাইটিস বি, Hib ইত্যাদি সমন্বিত প্রথম ডোজ (দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে)
    • পোলিও টিকা (IPV বা OPV)
  • ১০ সপ্তাহ

    • একই কম্বিনেশন টিকার দ্বিতীয় ডোজ
    • পোলিওর দ্বিতীয় ডোজ
  • ১৪ সপ্তাহ

    • একই কম্বিনেশন টিকার তৃতীয় ডোজ
    • পোলিওর তৃতীয় ডোজ
  • প্রায় ৯ মাস বা ১ বছর (দেশীয় সূচি অনুযায়ী)

    • হাম/রুবেলা (MR বা MMR)
    • কিছু দেশে বা প্রোগ্রামে নিউমোকোকাল, রোটাভাইরাস, মেনিনজোককাস ইত্যাদির ডোজও থাকে

হেপাটাইটিস বি সুরক্ষার অনেকটাই এই কম্বিনেশন টিকার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই যেসব বাচ্চা হেপাটাইটিস বি প্রথম ডোজ কখন পেয়েছে, সেটি পরে এই ডোজগুলো দিয়ে শক্তভাবে «টপ-আপ» হয়ে যায়।

আপনার শিশুর টিকা কার্ড বা স্বাস্থ্যবইতে সবশেষ ও অফিসিয়াল সূচি থাকে, আর প্রতিটি টিকা দেওয়ার তারিখ নথিবদ্ধ করা হয়। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, অথবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও EPI প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটেও সর্বশেষ সূচি সাধারণত আপডেট থাকে।


শেষ কথা

নবজাতকের টিকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ কাজ না। আপনাকে একদিকে দেখছেন কয়েক সেকেন্ডের কাঁটা, সামান্য কান্না আর কিছু স্বল্পমেয়াদি অস্বস্তি; অন্যদিকে একটা এমন রোগ প্রতিরোধ, যেটা আপনি কখনো সামনে না-ও দেখেতে পারেন।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঝামেলাটা ঠিক এখানেই - যখন ভালোভাবে কাজ করে, তখন কোনো নাটকীয় ঘটনা ঘটে না। হেপাটাইটিস বি হয় না যে নিঃশব্দে বছরের পর বছর লিভার নষ্ট করবে। টিবি মেনিনজাইটিস হয় না যে হঠাৎ করে হাঁটতে-দেখতে-শুনতে সমস্যা তৈরি করবে। জরুরি বিভাগে দৌড়াতে হয় না এমন একটা রোগ নিয়ে, যেটা প্রথমেই এড়ানো যেত।

BCG টিকা, হেপাটাইটিস বি সহ নবজাতকের প্রথম মাস টিকা তালিকা আর পরের মাসগুলোর টিকাগুলো কোনো কাগজে সাইন দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা না, এগুলো আপনার বাচ্চার দীর্ঘ, সুস্থ জীবনের পক্ষে দাঁড় করানো কিছু শক্ত প্রমাণ-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত।

প্রশ্ন থাকলে বারবার করুন, বুঝে নিন, সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। আর মনে রাখুন, জন্মের প্রথম দিন থেকে শুরু করে পুরো প্রথম বছর জুড়ে সঠিক নবজাতক টিকা সময়সূচী মানা হচ্ছে আপনার শিশুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাসগুলোতে তাকে সুরক্ষিত রাখার অন্যতম সবচেয়ে শক্ত, পরীক্ষিত উপায়।


এই বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং এটি আপনার ডাক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের পরামর্শের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে আপনাকে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই প্রবন্ধগুলি আপনার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে

Erby — নবজাতক ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য বেবি ট্র্যাকার

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।