জোড়া সন্তানকে নিয়ে বাইরে বের হওয়া মানেই ছোটখাটো লজিস্টিকসের কাজ। একটি সিট, একটি বেল্ট আর একটি ব্যাগের বদলে প্রায় সবকিছুরই দুটো করে দরকার হয়। তার ওপর প্রসবের পর শরীর পুরোপুরি সুস্থ না-ও হতে পারে, সঙ্গে থাকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সরঞ্জাম। ঠিক টুইন স্ট্রোলার থাকলে ডে-কেয়ার, বাজার বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অনেক সহজ হয়। ভুল মডেল আবার বাড়ির দরজায় ঢুকবে না, গাড়ির ডিকিতে জায়গা হবে না, কিংবা বাসে তোলা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
প্রতিটি পরিবারের জন্য একটিমাত্র সেরা ডবল স্ট্রোলার নেই। আপনার যাতায়াতের ধরন, বাড়ির পরিসর, এলাকার রাস্তা এবং সন্তানদের বয়স অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন কীভাবে ব্যবহার করবেন, আগে সেটি ভাবুন। তারপর নিরাপত্তা, আরাম, ভাঁজ করার সুবিধা এবং ওজন মিলিয়ে মডেল তুলনা করুন।
ডবল স্ট্রোলার বনাম ট্যান্ডেম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিষয় দেখতে কেমন তা নয়, বরং কোথায় ব্যবহার করবেন সেটি।
সাইড বাই সাইড স্ট্রোলার-এ দুই শিশু পাশাপাশি বসে। সাধারণত দুজনেরই বাইরের দৃশ্য একই রকম থাকে, অভিভাবকের কাছে পৌঁছানো সহজ হয় এবং দুই সিটে প্রায় একই ধরনের হেলানোর ব্যবস্থা থাকে। শিশুরা বড় হওয়ার সঙ্গে এটি বেশ সুবিধাজনক, কারণ পেছনে বসা নিয়ে কারও বিরক্তি তৈরি হয় না।
চওড়া নকশার কারণে মোড় নেওয়ার সময় ভারসাম্যও ভালো থাকে। অনেক মডেলে প্রশস্ত সিট, পা রাখার পর্যাপ্ত জায়গা এবং তুলনামূলক সহজ ফোল্ডিং থাকে। কিছু মডেল নবজাতকের জন্য ক্যারিকট বা ইনফ্যান্ট কার সিটের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়, আবার কিছু মডেল কেবল নিজে বসতে পারে এমন শিশুদের উপযোগী।
তবে এর অসুবিধাও স্পষ্ট, এটি চওড়া।
কেনার আগে মেপে নিন:
কোনো পণ্যের বিবরণে স্ট্রোলারকে “কমপ্যাক্ট” বলা থাকলেই সেটি ছোট হবে, এমন ধরে নেবেন না। চাকা, পাশের জয়েন্ট এবং ভাঁজের অংশসহ প্রকৃত প্রস্থ মাপুন। মাত্র কয়েক সেন্টিমিটারের ব্যবধানেই ঠিক হতে পারে, স্ট্রোলার না ভাঁজ করেই দরজা দিয়ে ঢোকানো যাবে কি না।
সরু ফুটপাত বা পুরোনো ধরনের গণপরিবহনে সাইড বাই সাইড মডেল চালানো কঠিন হতে পারে। তবে দুই শিশুর কাছেই হাত বাড়ানো, দুই সিটের অবস্থান বদলানো কিংবা একজনের ওপর ঝুঁকে না গিয়ে দুজনকে খাবার দেওয়া সহজ হয়।
ট্যান্ডেম স্ট্রোলার, যাকে ইনলাইন স্ট্রোলারও বলা হয়, সামনে-পেছনে দুটি সিট রাখে। এর সরু গড়ন দরজা, ফুটপাত, লিফট এবং দোকানের আইলের জন্য সাধারণত বেশি সুবিধাজনক। ফ্ল্যাটে থাকা পরিবার বা নিয়মিত বাস-ট্রেন ব্যবহারকারীদের জন্য এই বৈশিষ্ট্যই সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট কারণ হতে পারে।
ট্যান্ডেমের নকশা একেক মডেলে একেক রকম। কিছু মডেলে পেছনের শিশুর সিট একটু উঁচুতে থাকে। অন্যগুলোতে সামনের সিট নিচে এবং পেছনের সিট অভিভাবকের কাছাকাছি থাকে। নবজাতকের বাসিনেট, কার সিট বা ঘোরানো যায় এমন সিট কোন অবস্থানে বসবে, সেটিও মডেলভেদে বদলে যায়।
সামনে-পেছনে বসানো স্ট্রোলার চালাতে শুরুতে কিছুটা অভ্যাস লাগে। সরু মোড়ে এটি লম্বা মনে হতে পারে। এক শিশুর ওজন বেশি হলে বা একটি সিটে ইনফ্যান্ট কার সিট লাগানো থাকলে ভারসাম্যও বদলে যায়। ফুটপাথের উঁচু-নিচু অংশ পার হতে হ্যান্ডেলে জোর দিয়ে সামনের দিক তুলতে হতে পারে। সম্ভব হলে দোকানে নিয়ে নিজে পরীক্ষা করুন।
ডবল স্ট্রোলার ফোল্ডিং ব্যবস্থাও মডেলভেদে অনেক আলাদা। কিছু একসঙ্গে ভাঁজ হয়, আবার কিছু মডেলে আগে সিট খুলে নিতে হয়। দেখে নিন:
চওড়া কম হলেই স্ট্রোলার হালকা হবে, এমন নয়। অনেক ট্যান্ডেম মডেল দুই সিট বা কার সিট অ্যাডাপ্টার লাগালে বেশ লম্বা ও ভারী হয়ে যায়।
ডবল স্ট্রোলারই সব পরিস্থিতির একমাত্র সমাধান নয়। বিশেষ করে প্রথম কয়েক মাসে সিঙ্গেল স্ট্রোলার প্লাস ক্যারিয়ার কখন দরকার, তা ভেবে দেখা ভালো। একজন শিশুকে সঠিকভাবে পরানো স্লিং বা স্ট্রাকচার্ড ক্যারিয়ারে রেখে অন্যজনকে সিঙ্গেল স্ট্রোলারে নেওয়া যায়। ক্যাফেতে যাওয়া, সরু দোকানে ঢোকা বা চিকিৎসকের অপেক্ষাকক্ষে বসার মতো ছোট যাত্রায় এটি সুবিধাজনক হতে পারে।
কোনো এক শিশু বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকলে, কিংবা বড় শিশুটি কিছুটা পথ নিজে হাঁটতে পারলে এই হালকা ব্যবস্থা কাজে লাগে। কিছু মা-বাবা ডবল স্ট্রোলার গাড়িতে রেখে দেন, আর একজন শিশুর জন্য সিঙ্গেল স্ট্রোলার ব্যবহার করেন। জরুরি প্রয়োজনে অন্য শিশুর জন্য ক্যারিয়ার সঙ্গে থাকে।
ক্যারিয়ার ব্যবহারের সময় প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলুন। নবজাতকের মাথা ও শরীরের যথেষ্ট সাপোর্ট, খোলা শ্বাসনালি এবং এমন ভঙ্গি দরকার যাতে চিবুক বুকের সঙ্গে লেগে না যায়। দীর্ঘ যাত্রার জন্য এটি নিরাপদ ডবল ব্যবস্থার বিকল্প নয়, বরং অতিরিক্ত একটি সুবিধা।
শুধু খালি ফ্রেমের ওজন দেখবেন না। দুই সিট, রেইন কভার, ফুটমাফ, বাজারের ব্যাগ এবং প্রয়োজনে দুটি কার সিটসহ স্ট্রোলার ওজন ও ফোল্ডিং কেমন দাঁড়ায়, সেটিই আসল হিসাব। সবকিছু যোগ হলে মোট ওজন খুব দ্রুত বেড়ে যায়।
দুই সিটে শিশুকে বসিয়ে বা কাছাকাছি ওজনের জিনিস রেখে চালিয়ে দেখুন। খেয়াল করুন, আপনি:
শোরুমের সমতল মেঝেতে ভালো লাগলেও ঢালু রাস্তা বা ভাঙা ফুটপাথে স্ট্রোলারটি কঠিন মনে হতে পারে। একা দুই শিশুকে নিয়ে বের হলে বাড়তি অ্যাকসেসরির চেয়ে সহজে চালানো যায় এমন মডেল বেশি মূল্যবান।
প্রতিদিনের ব্যবহারে সহজ ফোল্ডিং অনেক সময় বাঁচায়। কোনো স্ট্রোলার গুছিয়ে রাখতে যদি দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দশ মিনিট সময় লাগে, তাহলে সেটি হয়তো করিডরেই খোলা অবস্থায় পড়ে থাকবে এবং চলাচলে বাধা দেবে।
দোকানকে ফোল্ড করার পদ্ধতি দেখাতে বলুন। এরপর নিজে করে দেখুন। সিট কোন দিকে থাকতে হবে, বাম্পার বার, বাস্কেট বা অ্যাডাপ্টার খুলতে হবে কি না, সব পরীক্ষা করুন। ভাঁজ করা অবস্থার মাপ গাড়ির ডিকির সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, শুধু ডিকির মোট ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করবেন না।
টুইনদের ক্ষেত্রে বড় স্টোরেজ বাস্কেট খুব কাজে লাগে। তবে বাস্কেট বড় হলেই সেটি সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে না। বাসিনেট বা পেছনের সিটের কারণে নিচের বাস্কেটে হাত ঢোকানো কঠিন হতে পারে। শক্ত পকেট, নিরাপদ জিপযুক্ত অংশ এবং ডায়াপার, শিশুর খাবার ও রেইন কভার রাখার মতো জায়গা দেখুন। ফ্রেমে অতিরিক্ত ভার দেবেন না।
অল-টেরেইন বনাম সিটি হুইল স্ট্রোলার বেছে নেওয়ার বিষয়টি আপনার প্রতিদিনের পথের ওপর নির্ভর করে। মসৃণ ফুটপাথ, শপিং মল, পাকা পার্ক ও ছোট শহুরে যাত্রার জন্য ছোট চাকার হালকা সিটি স্ট্রোলার চালানো ও ভাঁজ করা সহজ হতে পারে।
কাঁকর, ঘাস, বাগানের পথ, গ্রামীণ রাস্তা বা ভাঙাচোরা ফুটপাথে অল-টেরেইন ডবল স্ট্রোলার বেশি উপযোগী। বড় চাকা ও সাসপেনশন ঝাঁকুনি কমায়, কিন্তু ওজন ও আকারও বাড়ায়। অল-টেরেইন মডেল মানেই সব ধরনের জমিতে ব্যবহারযোগ্য নয়। সমুদ্রসৈকত, খাড়া পথ বা খুব অসমান মাটিতে নেওয়ার আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা পড়ুন।
আপনার নিয়মিত রুট যদি গাড়ি ও দোকানকেন্দ্রিক হয়, হালকা সিটি স্ট্রোলারই ভালো পছন্দ হতে পারে। প্রতিদিন অসমান পথে হাঁটলে ভারী হলেও মজবুত মডেলটি বেশি কাজে দেবে।
ঘোরানো বা রিভার্সিবল সিট থাকলে নকশা অনুযায়ী শিশুকে আপনার দিকে, সামনের দিকে কিংবা একে অন্যের ভিন্ন দিকে মুখ করিয়ে বসানো যায়। ছোট শিশুকে নিজের দিকে মুখ করে রাখলে সে নিরাপদ বোধ করতে পারে এবং দুই শিশুকেই নজরে রাখা সহজ হয়। বড় শিশু সামনে মুখ করে বাইরের জগৎ দেখতে বেশি আগ্রহী হতে পারে।
সব ডবল স্ট্রোলারে দুই সিট আলাদাভাবে সামঞ্জস্য করা যায় না। একজন ঘুমিয়ে থাকলে অন্যজন হয়তো উঠে বসতে চাইবে। তাই পৃথক রিক্লাইন পজিশন সুবিধাজনক। প্রতিটি সিটের হারনেস, প্যাডিং, পা রাখার অংশ এবং সর্বোচ্চ ওজনসীমা যাচাই করুন। কাগজে দুই শিশুকে ধারণ করলেও বাস্তবে কোনো সিট প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ছোট হয়ে যেতে পারে।
টুইনদের জন্য বাসিনেট বিকল্প একেক মডেলে একেক রকম। কিছু স্ট্রোলারে একই ধরনের দুটি ক্যারিকট লাগানো যায়। কিছু মডেলে একটি ক্যারিকটের সঙ্গে একটি সিট ব্যবহার করা যায়, আবার কোথাও আলাদা অ্যাডাপ্টার প্রয়োজন হয়। কিছু সিট পুরোপুরি সমতল হয়ে নবজাতকের উপযোগী বলে অনুমোদিত, তবে প্রস্তুতকারক স্পষ্টভাবে অনুমোদন না দিলে তা ধরে নেওয়া যাবে না।
নিচের প্রতিটি অংশের নির্ধারিত বয়স, ওজন ও উচ্চতার সীমা দেখে নিন:
ক্যারিকট থাকলেই সেটি রাতভর ঘুমের জন্য নিরাপদ, এমন নয়। কেবল নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। ঘুমের সময় শিশুকে শক্ত ও সমতল পৃষ্ঠে শোয়ানো উচিত, স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বর্তমান পরামর্শ মেনে। কুশন, বাড়তি গদি বা অনুমোদনহীন ইনসার্ট দিয়ে নিজের মতো করে ব্যবস্থা করবেন না।
প্রতিটি শিশুর জন্য আলাদা পেছনমুখী টুইন কার সিট দরকার। এক সিটে দুই শিশুকে বসানো, একই হারনেস ভাগ করে ব্যবহার করা বা অনুমোদিত ধারণক্ষমতার বেশি ওজন রাখা কখনোই নিরাপদ নয়। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা এবং আপনার দেশের সড়ক নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী সিট বসাতে হবে।
অনেক ইনফ্যান্ট কার সিট ডবল স্ট্রোলারে ক্লিক করে বসে, কিন্তু সব সিটের সঙ্গে সব স্ট্রোলার মেলে না। “ট্রাভেল সিস্টেম রেডি” লেখা থাকলেই আপনার নির্দিষ্ট সিট দুটি বসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। স্ট্রোলার এবং কার সিট একসঙ্গে ব্যবহারের আগে মিলিয়ে নিন:
আপনার কাছে আগে থেকেই কার সিট থাকলে, সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে এমন স্ট্রোলার কিনুন। সবকিছু একসঙ্গে কিনলে টাকা দেওয়ার আগে পুরো সেটটি জোড়া লাগিয়ে পরীক্ষা করুন।
গাড়ির ভেতরের জায়গাটিও গুরুত্বপূর্ণ। পেছনের সিটে দুটি পেছনমুখী টুইন কার সিট পাশাপাশি বসতে পারে কি না, তা গাড়ির সিটের প্রস্থ, বেল্টের অবস্থান, দরজার আকৃতি এবং তৃতীয় সারিতে ওঠানামার সুবিধার ওপর নির্ভর করে। দুটি সিট গাড়িতে লাগিয়ে, যে অবস্থানে ব্যবহার করবেন সেখানেই পরীক্ষা করুন। শুধু ছবি বা “বেশিরভাগ গাড়িতে মানানসই” ধরনের প্রচারণার ওপর নির্ভর করবেন না। কোনো কোনো গাড়িতে সিট দুটি এমনভাবে ঠেকে যেতে পারে যা প্রস্তুতকারক অনুমোদন করেননি, অথবা একটি সিট অন্যটির সঠিকভাবে শক্ত করে বসানোতে বাধা দিতে পারে।
স্পষ্ট লেবেল, ব্যবহারযোগ্য হারনেস এবং বারবার সঠিকভাবে বসানো যায় এমন ইনস্টলেশন পদ্ধতির সিট বেছে নিন। টুইনদের জন্য কার সিট কিভাবে নির্বাচন করবেন, তার উত্তর সবসময় একই ধরনের দুটি সিট নয়। তবে একই মডেলের সিট হলে ইনস্টলেশন ও স্ট্রোলারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা সহজ হতে পারে।
মেয়াদোত্তীর্ণ বা দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত কার সিট কিনবেন না, বাইরে থেকে একেবারে ঠিক দেখালেও নয়। আগের ইতিহাস জানা না থাকলে সেটি বাদ দিন। রিকল বা নিরাপত্তা প্রত্যাহারের তথ্য, নিবন্ধন এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা পরীক্ষা করুন। যেসব সিটে অংশ অনুপস্থিত, খোলস ক্ষতিগ্রস্ত, হারনেস ছেঁড়া বা লেবেল পড়া যায় না, সেগুলো নেবেন না।
দুটি কার সিট, একটি ডবল স্ট্রোলার ও আনুষঙ্গিক জিনিস কিনতে খরচ কম হয় না। কেনাকাটার আগে সত্যিই কী কী দরকার, তার তালিকা তৈরি করুন। দুটি ইনফ্যান্ট সিট প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু দুটি কাপ হোল্ডার, দুটি চেঞ্জিং ব্যাগ, দুটি অর্গানাইজার এবং একক শিশুর জন্য তৈরি প্রতিটি গ্যাজেটের জোড়া দরকার নাও হতে পারে।
স্ট্রোলার ফ্রেম পুরোনো কিনলে অনেক সময় খরচ বাঁচে, তবে ভালোভাবে পরীক্ষা করে কিনতে হবে। দেখে নিন:
ছত্রাক ধরা, অতিরিক্ত ছেঁড়া বা পরিষ্কার করা যায় না এমন কাপড়ের অংশ নিয়ে সতর্ক থাকুন। বদলি যন্ত্রাংশের দাম অনেক সময় এত বেশি হয় যে ব্যবহৃত পণ্য কেনার সাশ্রয় আর থাকে না।
কার সিটের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। ব্যবহৃত সিট কেবল তখনই নিন, যখন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল কি না, কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সব অংশ আসল কি না, এসব সম্পূর্ণ জানা থাকে। পরিচিত ও বিশ্বস্ত কারও কাছ থেকে নেওয়া সিট গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি মেয়াদ, ইতিহাস ও অবস্থা স্পষ্ট থাকে। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে “মাত্র কয়েকবার ব্যবহার করা হয়েছে” লেখা থাকাই যথেষ্ট প্রমাণ নয়।
হ্যান্ডেলের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত যাতে স্ট্রোলার ঠেলার সময় আপনার কাঁধ স্বাভাবিক থাকে এবং সামনে ঝুঁকতে না হয়। দুই অভিভাবকের উচ্চতা আলাদা হলে অ্যাডজাস্টেবল হ্যান্ডেল খুঁজুন এবং দুজনের উচ্চতায় সেটি ব্যবহার করে দেখুন।
দুই শিশুকে একসঙ্গে ঠেলা যথেষ্ট পরিশ্রমের কাজ। তার সঙ্গে ফুটপাথের কার্ব, ঢালু রাস্তা বা ভর্তি বাজারের বাস্কেট যোগ হলে ভারসাম্যপূর্ণ স্ট্রোলার আর ভারী, অসুবিধাজনক স্ট্রোলারের পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যায়। দোকানের ভেতর এক চক্কর নয়, সম্ভব হলে কিছুক্ষণ বাইরে নিয়ে চালিয়ে দেখুন।
সিঁড়ির জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন। দুই শিশুকে বসানো অবস্থায় ডবল স্ট্রোলার বহন করা অনেক সময় অতিরিক্ত ভারী হয়। স্ট্রোলার তুলতে গিয়ে শিশুদের একা রেখে যাবেন না। বাড়িতে সিঁড়ি থাকলে পথের প্রস্থ মাপুন এবং সিদ্ধান্ত নিন, স্ট্রোলার নিচতলায় থাকবে, অংশ খুলে বহন করবেন, নাকি নির্দিষ্ট যাত্রায় ক্যারিয়ার ব্যবহার করবেন।
গণপরিবহনে পরিস্থিতি সবসময় এক রকম থাকে না। চওড়া সাইড বাই সাইড মডেল বাসের দরজা বা টিকিট গেট দিয়ে নাও ঢুকতে পারে। আবার লম্বা ট্যান্ডেম ভিড়ের ট্রেন বা বাসে ঠিকভাবে দাঁড় করানো কঠিন হতে পারে। স্থানীয় বাস ও রেল কর্তৃপক্ষের নিয়ম জেনে নিন। প্রথম ব্যস্ত যাত্রার আগে ব্রেক ব্যবহার, স্ট্রোলার ভাঁজ করা এবং নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপদে আটকে রাখার অনুশীলন করুন।
টুইন সন্তান থাকলে সবকিছুই জোড়ায় কেনার প্রবণতা তৈরি হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই অভ্যাস থামানো ভালো।
দুটি কাপ হোল্ডার, দুটি স্ন্যাক ট্রে, দুটি অভিভাবক অর্গানাইজার বা প্রতিটি সিটের জন্য আলাদা গ্যাজেট আপনার প্রয়োজন নাও হতে পারে। একটি ভালোভাবে বসানো স্টোরেজ ব্যাগই যথেষ্ট। দুটি আলাদা সাজসজ্জার অ্যাকসেসরির বদলে অনুমোদিত একটি ইউনিভার্সাল রেইন কভার বেশি কাজে আসতে পারে, তবে সেটি যেন বাতাস চলাচলে বাধা না দেয়।
নিরাপত্তা, সঠিক মাপ এবং প্রতিদিন সহজে চালানো যায় কি না, এগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। বাকি সবই অতিরিক্ত সুবিধা।
টুইনদের জন্য স্ট্রোলার বেছে নেওয়ার ভালো পদ্ধতি হলো নিজের দরজা, গাড়ি, প্রতিদিনের পথ এবং শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া। সম্ভব হলে সাইড বাই সাইড ও ট্যান্ডেম দুই ধরনের মডেলই হাতে নিয়ে দেখুন। ভাঁজ করে দেখুন। দুটি কার সিট বসিয়ে পরীক্ষা করুন। ফুটপাথের কার্ব পার হয়ে চালান।
কাগজে ভালো মনে হওয়া কোনো স্ট্রোলার আপনার বাড়ির করিডরে ব্যর্থ হতে পারে। আপনার জন্য সেরা ডবল স্ট্রোলার হলো সেটিই, যেটি নিরাপদে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবং নিয়মিত ব্যবহার করতে পারবেন। সবসময় স্ট্রোলার ও কার সিট প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন, নির্ধারিত বয়স ও স্ট্রোলার নিরাপত্তা ও ওজন সীমা মেনে চলুন এবং আপনার এলাকায় প্রযোজ্য সড়ক নিরাপত্তা আইন অনুসরণ করুন।