নতুন বাচ্চা ঘরে আসার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ যেন খাওয়ানো, ডায়াপার বদলানো আর একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মধ্যেই কেটে যায়। এই সব ব্যস্ততার মাঝখানে বেবি মাসাজ বা শিশু মাসাজ হতে পারে এক টুকরো শান্ত রুটিন, যেখানে আপনিও ধীরে যান, শিশুও একটু থেমে যায়, দুজনের মাঝের যোগাযোগটা আরও গভীর হয়।
এ জন্য আপনাকে বিশেষজ্ঞ, ধাত্রী বা যোগ শিক্ষক হতে হবে না। দরকার শুধু আপনার দু’টি হাত, সামান্য তেল আর শিশুর ইশারাগুলোকে সম্মান করার ইচ্ছা, ব্যস।
এই গাইডে থাকছে বেবি মাসাজ কৌশল, শিশুর মাসাজ সুবিধা, বেবি মাসাজ কখন করবেন, কীভাবে প্রস্তুত হবেন, আর শরীরের প্রতিটি অংশের জন্য সহজ নবজাতক মাসাজ কৌশল।
নিয়মিত বেবি মাসাজ বা শিশু মলিশ শুধু মায়া-মমতা বাড়ানোর সুন্দর একটা কাজই না, এর পেছনে ভাল কিছু বৈজ্ঞানিক কারণও আছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় বহু দিন ধরেই দাদি-নানিরা নবজাতক মাসাজ করিয়ে আসছেন, এখন শিশু বিশেষজ্ঞ আর চাইল্ড কেয়ার কোর্সগুলোতেও শিশু মাসাজ শেখানো হয়।
যে কয়েকটি শিশুর মাসাজ সুবিধা বেশি চোখে পড়ে, সেগুলো নিচে দিলাম।
অনেক বাবা-মা প্রথমে শিশুর কলিক কমাতে মাসাজ নিয়ে খোঁজ শুরু করেন, যখন টানা কান্না, পা কুঁচকে ধরা আর অস্থিরতার কয়েকটা সন্ধ্যা পার হয়ে যায়।
পেট আর পায়ে নরম চাপ ও নাড়াচাড়া করতে পারলে:
ঘড়ির কাঁটার দিকে পেট মালিশ আর সাইকেল চালানোর মতো পা চালানো (বিস্তারিত নিচে আছে) খুব কাজে দেয়, বিশেষ করে দুধ খাওয়ানোর পর যদি বাচ্চা বারবার গ্যাসে কষ্ট পায়।
নরম স্পর্শে শরীরে অক্সিটোসিন নামে এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ হয়, অনেকে একে ভালবাসার হরমোনও বলেন। মা-বাচ্চা দুজনের মধ্যেই এটা হয়। এর প্রশান্তি এনে দেওয়া প্রভাব:
অনেক মা-বাবা দেখেছেন, গোসলের পর ছোট্ট বেবি মাসাজ ধীরে ধীরে ঘুমের রুটিনের অংশ হয়ে যায় - যেমন, মলিশ, তারপর গল্প, তারপর দুধ। প্রতিদিন একই ধাপ চলতে থাকলে ওগুলো শিশুর কাছে ইশারা দেয়, এখন ধীরে ধীরে ঘুমানোর সময়।
তাই চাইলে নিশ্চিন্তে শিশুর ঘুমের জন্য মাসাজ চেষ্টা করতে পারেন, দেখে নিন আপনার বাচ্চার ক্ষেত্রে কেমন কাজ করে।
আপনার শিশুর প্রথম ভাষা আসলে স্পর্শ। কথা বোঝার আগেই ও আপনার হাত থেকেই অনেক কিছু শিখে ফেলে।
ইনফ্যান্ট বা শিশু মাসাজে বন্ধনের উপকারিতা যেমন:
যাদের প্রসবটা কঠিন গেছে, বাচ্চা প্রিম্যাচিউর ছিল বা এনআইসিইউতে থাকতে হয়েছে, অনেক সময় ঘরে এসে শিশু মাসাজ ধীরে, নরমভাবে আবার আস্থা আর ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
ছন্দময়, নিয়মিত বেবি মাসাজ কৌশল গুলো:
অবশ্যই এটা কোনো ওষুধ বা মেডিকেল ট্রিটমেন্ট না, তবে প্রতিদিনের যত্নে একটা ভাল টুল হয়ে উঠতে পারে।
আপনার প্রতিটা স্পর্শে ধীরে ধীরে শিশুর মস্তিষ্ক নিজের শরীরের মানচিত্র বানাতে থাকে:
এই প্রথম দিকের বডি অ্যাওয়ারনেস বা শরীরচেতনা ওর মোটর ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করে। পরে হামাগুড়ি, বসা, হাঁটা - এসবের ভিত্তি তৈরি হয় এখন থেকেই।
আমরা সাধারণত ভাবি শিশু মাসাজ মানেই শুধু বাচ্চার উপকার। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে:
এই ১০-১৫ মিনিট প্রায়ই এমন একটা সময় হয়ে দাঁড়ায় যখন ফোন দূরে, টিভি বন্ধ, শুধু আপনি আর আপনার শিশু। খুব চাপের দিনেও এটুকু সময় অনেকটা স্থিরতা এনে দেয়।
সময় ঠিক হলে বাচ্চাও উপভোগ করে, আপনিও। শিশুটি যদি খুব ক্লান্ত, খুব ক্ষুধার্ত বা আগে থেকেই অতিরিক্ত উত্তেজিত থাকে, তখন মাসাজ দুজনের কারোরই ভালো লাগবে না।
এমন সময় বেছে নিন যখন বাচ্চা:
ভালো সময়গুলো সাধারণত:
গোসলের পর
গরম পানি আর মাখন-তেলের অনুভূতির পর শরীর একটু আলগা থাকে, তাই বেবি মাসাজ গোসলের পর অনেকের রুটিনে দারুণ মানিয়ে যায়, বিশেষ করে রাতের ঘুমের আগে।
দুধ খাওয়ানোর মাঝখানে
খুব ক্ষুধার্ত না, আবার একদম পেট ভরেও না। খাওয়ানোর অন্তত ৩০ মিনিট পর করুন, এতে বাচ্চার বমি হওয়ার বা সোজা শুয়ে অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
বাড়ির শান্ত সময়
অনেকে দেরি সকাল বা সন্ধ্যার দিকে চেষ্টা করে ভালো ফল পান, তবে একেক বাচ্চার ছন্দ একেক রকম। আপনার শিশুর টাইমটাইনই আসল।
আর যদি বাচ্চা:
তাহলে সে সময় মাসাজ এড়িয়ে যান, অন্যভাবে কোলে নিয়ে শান্ত করুন। আরেকদিন আবার চেষ্টা করতে পারবেন নিশ্চিন্তে।
কঠোর কোনো নিয়ম নেই। অনেক পরিবারের অভিজ্ঞতা:
সবচেয়ে জরুরি, আপনার শিশুকে পর্যবেক্ষণ করুন। যদি ও আনন্দ পায়, শান্ত থাকে, তাহলে শিশু মাসাজ নিয়মিত রুটিনের অংশ করতে অসুবিধা নেই। আবার মাসাজের পর যদি ওকে খুব উত্তেজিত, অস্থির বা বিরক্ত লাগে, তাহলে সময় কমিয়ে দিন বা দিনের অন্য সময়ে করে দেখুন।
শুরু করার আগে সামান্য গোছগাছ করলে পুরো অভিজ্ঞতা দুজনের জন্যই অনেক আরামদায়ক হয়।
ঘর গরম রাখুন
নবজাতকরা খুব দ্রুত ঠান্ডা ধরে। সাধারণভাবে ২৬–২৮ °সে এর মধ্যের হালকা গরম ঘর অনেকের জন্য আরামদায়ক থাকে, যাতে বাচ্চা বেশিক্ষণ কাপড় খুলে থাকলেও ঠান্ডা না লাগে।
আলো নরম করুন
খুব উজ্জ্বল সিলিং লাইট শিশুর জন্য কষ্টকর লাগতে পারে। চাইলে কোমল লাইটের ল্যাম্প, নাইট লাইট বা জানালা দিয়ে আসা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করুন।
বিক্ষেপ কমিয়ে দিন
টিভি বন্ধ, মোবাইল সাইলেন্টে, চাইলে আস্তে সুরের গান বা হোয়াইট নয়েজ চালাতে পারেন, যদি তাতে আপনার বাচ্চা স্বস্তি পায়।
বাচ্চাকে শুইয়ে রাখুন:
বাচ্চা যদি একদম ছোট বা খুব বেশিই নড়াচড়া করে, সব সময় একটা হাত ওর গায়ে রাখুন, আর এমন জায়গায় রাখুন যেখান থেকে গড়িয়ে পড়ার সুযোগ নেই।
হাতে একটু বেবি মাসাজ তেল নিলে হাতের গ্লাইডিংটা নরম হয়, বাচ্চার গায়ে টান পড়ে না।
আমাদের দেশে অনেকেই ব্যবহার করেন:
ঠান্ডা প্রেসড নারকেল তেল
হালকা গন্ধ, গরম করলে সহজে গলে যায়, অনেক বাড়িতে আগে থেকেই থাকে।
সরিষার তেল (পরিশোধিত)
গ্রামে বিশেষ করে প্রচলিত, তবে সব বাচ্চার ত্বকে মানায় না, গন্ধও কারও কারও কাছে বেশি তীব্র লাগে। প্রথমে অল্প করে দেখে নিন মানায় কি না। ঠান্ডা মৌসুমে কেউ কেউ একটু রসুন দিয়ে গরম করে ব্যবহার করেন, তবে শিশুর গায়ে দেওয়ার আগে অবশ্যই তেল ঠান্ডা করে নিতে হবে।
খাঁটি তিলের তেল বা অলিভ অয়েল (এক্সট্রা ভার্জিন)
হালকা আর সাধারণত ভালভাবে সহ্য হয়, অনেক বেবি মাসাজ ক্লাসেও এসব তেলই ব্যবহার হয়।
সেরা বেবি মাসাজ তেল বাছাইয়ের কিছু টিপস:
শুরু করার আগে দুই হাতের তালুতে সামান্য তেল নিয়ে ঘষে গরম করে নিন। হঠাৎ ঠান্ডা হাত দিয়ে গরম গায়ে হাত পড়লে বাচ্চার খারাপ লাগতে পারে।
একটু থামুন, শ্বাস নিন।
ধরুন আজ প্রথম দিন করছেন, পারফেক্ট হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। শিশুর কাছে আপনার নরম, মমতাভরা অপূর্ণ স্পর্শও অনেক বেশি দামি, যে কোনো বইয়ের নিখুঁত ডেমোনস্ট্রেশনের চেয়ে।
নবজাতক মাসাজ কৌশল গুলো আলাদা আলাদা দেখার আগে, কয়েকটা গোল্ডেন রুল জেনে নিন।
যতটা সম্ভব চোখে চোখ রেখে করুন
মাঝেমাঝে শিশুর মুখের দিকে তাকান, ও কীভাবে রিয়্যাক্ট করছে দেখুন। মুখ শান্ত, আগ্রহী, না অস্বস্তি হচ্ছে, এগুলোই আপনার গাইড।
শিশুর সঙ্গে কথা বলুন
নরম কণ্ঠে বলুন আপনি কী করছেন, বা হালকা গান/হুমহুম করতে পারেন। যেমন,
«মা এখন তোমার পা মালিশ করছে, আরাম লাগছে তো?»
কথার মানে ও এখন বুঝবে না, কিন্তু আপনার গলার স্বর, শান্ত ভাব সব ও টের পায়।
স্টপ সিগন্যালগুলোর প্রতি সম্মান দেখান
এসব লক্ষণ দেখলে থামুন:
তখন একটু কোলে নিন, দুধ দিন, হাঁটুন, পরে আবার চেষ্টা করতে পারেন। জোর করে কখনোই মাসাজ চালিয়ে যাবেন না।
চাপের পরিমাণ
খুব হালকা, গুলকুলে স্পর্শে টিকটিক লাগতে পারে, বাচ্চা বিরক্তও হতে পারে। আবার খুব বেশি জোরে দিলে কষ্ট পাবে। নিজের চোখের পাতায় ময়েশ্চারাইজার ঘষার মতো মজবুত, কিন্তু নরম চাপ সাধারণত ঠিক হয়।
মোট সময়
প্রথম প্রথম ১০–১৫ মিনিটের মধ্যে রাখাই ভালো। শিশুর সহ্যশক্তি অনুযায়ী এর কমবেশি করতে পারেন। মনে রাখবেন, ও ক্লান্ত হলে আপনাকেই থামতে হবে।
চাইলে নিচের ধারাবাহিকতাটা ফলো করতে পারেন, আবার ধীরে ধীরে নিজের মতো সাজিয়েও নিতে পারবেন। অনেকেই পা থেকে শুরু করতে পছন্দ করেন, ওটা সাধারণত সব বাচ্চাই সহজে নিতে পারে।
বেবি মাসাজ কিভাবে করবেন শিখতে চাইলে পা দিয়ে শুরু করা নিরাপদ আর সহজ।
উরু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা স্ট্রোক
নরমভাবে পায়ের তলা প্রেস করা
আঙুলে ছোট ছোট গোল ঘোরা
যাদের শিশুর কলিক কমাতে মাসাজ দরকার, পা দিয়ে শুরু করলে পেটের দিকে চলে যাওয়াটা খুবই প্রাকৃতিক আর আরামদায়ক হয়।
পেটের অংশে মাসাজ করবেন কেবল তখনই যখন:
এই অংশ শিশুর গ্যাসের জন্য মাসাজ আর হজমের আরামের ক্ষেত্রে অনেক উপকারী।
ঘড়ির কাঁটার দিকে গোল গোল মালিশ
«I Love U» প্যাটার্ন
অনেক বেবি ম্যাসাজ ক্লাসে শেখানো হয়, হজমের জন্য জনপ্রিয় কৌশল:
সাইকেল চালানোর মতো পা চালানো
পেট আর পায়ের এই অংশগুলো নবজাতক মাসাজ কৌশল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত, বিশেষ করে গ্যাসের সমস্যা থাকলে।
প্রক্রিয়াটা পায়ের মতোই, তবে আকারে ছোট আর একটু বেশি নরম।
কাঁধ থেকে কবজি পর্যন্ত লম্বা স্ট্রোক
হাতের তালু ধীরে খুলে দেওয়া
আলতো আঙুল মাসাজ
এগুলো নিয়মিত করলে শিশু মলিশ এর অংশ হিসেবে আপনার বাচ্চা হাত ধরা, নখ কাটাসহ ভবিষ্যতের যত কাজই হোক, সবকিছুর প্রতি একটু বেশি স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠে।
বুকের অংশ খুব সংবেদনশীল, তাই সব নড়াচড়াই হবে ধীরে আর নরমভাবে।
বুকের এই শিশুর মাসাজটা ঠিক মতো হলে শ্বাস-প্রশ্বাসও অনেক রিল্যাক্সড মনে হয়, আর ধীরে করতে পারলে বাচ্চা বেশ শান্ত হয়ে পড়ে।
পিঠের মাসাজ করতে পারেন কোলে বা মাটির ওপর মাদুরে।
সব সময় মনে রাখবেন: কখনোই সোজা মেরুদণ্ডের ওপর চাপ দিয়ে না, সব নড়াচড়া যাবে দুই পাশ দিয়ে।
শিশুকে পজিশন করানো
ঘাড় থেকে নিতম্ব পর্যন্ত লম্বা স্ট্রোক
মেরুদণ্ডের দুপাশে ছোট গোল গোল ঘোরানো
অনেক বাচ্চার জন্য পিঠের মাসাজ বেবি মাসাজ গোসলের পর অংশ হিসেবে প্রিয় হয়ে ওঠে, বিশেষত যখন ওরা একটু বড় হয়ে পেটের ওপর শুয়ে খেলতে পছন্দ করা শুরু করে।
শেষে আসতে পারেন মুখে, অনেকটা ছোট্ট স্পা সেশনের মতো। এতে আপনার আর শিশুর চোখে চোখ রাখার সুযোগও বেশি থাকে।
এখানে খুব কম তেল নিন, বা একদম না নিলেও চলে, বিশেষ করে চোখ-মুখের আশপাশে।
কপালের স্ট্রোক
গালে ছোট ছোট গোল
চোয়াল বরাবর নরম স্ট্রোক
মুখের মাসাজ দিয়ে শেষ করলে আপনার আর বাচ্চার চোখে চোখ রেখে এক ধরনের গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়, রুটিনটার একটা নরম, ভালো লাগার ক্লোজিংও হয়।
অনেক সময় নবজাতককে কীভাবে মাসাজ করবেন জানার মতোই জরুরি হয় আজকে মাসাজ না করাই কি ভালো হবে কি না, সেটা বোঝা। আপনার এই বোঝাপড়াটাও ভালো প্যারেন্টিংয়ের অংশ।
এই পরিস্থিতিগুলোতে মাসাজ এড়িয়ে চলুন, বা আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন:
আপনি যদি কখনো দ্বিধায় পড়েন, কাছের শিশু বিশেষজ্ঞ, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের ডাক্তার বা কোনো প্রশিক্ষিত ইনফ্যান্ট মাসাজ থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলুন।
দু’একবার প্র্যাকটিস করলেই দেখবেন, বেবি মাসাজ আর মুখস্থ স্ক্রিপ্টের মতো লাগবে না, বরং আপনার আর শিশুর শরীরের মাঝে একরকম আলাপের মতো হয়ে যাবে।
আপনি চাইলে:
ধীরে ধীরে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে, চাপের পরিমাণ কেমন হবে, গতি কেমন হবে, দিনের কোন সময় ভালো লাগে - সবই আপনি আর আপনার বাচ্চা মিলে ঠিক করে নেবেন। বেবি মাসাজ কিভাবে করবেন তার আসল কৌশলই হলো - বইয়ের নিখুঁত ডায়াগ্রামের চেয়ে আপনার সামনে থাকা বাচ্চাটার সিগন্যালকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
যদি কখনো মনে হয় হাতে-কলমে দেখে শিখলে ভালো হতো, দেশে এখন অনেক হাসপাতালে, মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, বেবি কেয়ার ওয়ার্কশপে আর বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছোট ছোট ইনফ্যান্ট বা শিশু মাসাজ কোর্স হয়। সেখানে প্রশিক্ষক সরাসরি নবজাতক মাসাজ কৌশল দেখিয়ে দেন, আপনি নিজের বাচ্চার ওপর প্র্যাকটিসও করতে পারেন, প্রশ্নও করতে পারবেন।
এই মুহূর্তে আপনার যা দরকার:
এই ছোট্ট দৈনন্দিন রুটিনই হজমে সহায়তা, গ্যাস-কলিকের কষ্ট কিছুটা কমানো, ঘুম কিছুটা ভাল করা, আপনাদের বন্ধন গভীর করা আর দুজনের স্ট্রেস কমাতে বেশ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রায় কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই, দৈনন্দিন জীবনের ভেতরেই সহজভাবে মিশিয়ে নেওয়া যায় বলে তো আরও সুবিধা।
এখন সিদ্ধান্ত আপনার - কখন শুরু করবেন, কীভাবে নিজের মত করে সাজিয়ে নেবেন, সেটাই দেখার বিষয়।