যমজ নবজাতকের জন্য প্রথম ৬-৮ সপ্তাহের বাস্তবসম্মত যত্ন গাইড, খাওয়ানো - ঘুম - সাহায্য নেওয়া

যমজ নবজাতকের প্রথম ৬-৮ সপ্তাহে বাস্তবসম্মত কেয়ার গাইড

যমজ নবজাতককে হাসপাতাল থেকে বাড়ি আনা একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে ভীষণ চাপের অভিজ্ঞতা হতে পারে। একই দিনে আপনি গভীর ভালোবাসা, ঘুমের অভাব, শরীরের ব্যথা, দুশ্চিন্তা আর “আমি কি ঠিকভাবে সামলাতে পারছি?” ধরনের ভাবনা, সবই অনুভব করতে পারেন। কখনও কখনও এই অনুভূতিগুলো পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বদলে যায়। এটি অস্বাভাবিক নয়।

এই সময় যমজ সন্তানের যত্ন মানে শুরুতেই নিখুঁত রুটিন তৈরি করা নয়। আপাতত লক্ষ্য হলো পরেরবার খাওয়ানো, ডায়াপার বদলানো, একটু ঘুম এবং নিজের খাবারটুকু সামলানো। যতটা সম্ভব সাহায্য নিয়ে একদিন করে এগিয়ে চলাই যথেষ্ট।

প্রথম কয়েক সপ্তাহ আপনার মা-বাবা হিসেবে যোগ্যতার পরীক্ষা নয়। এটি প্রসব-পরবর্তী সুস্থ হয়ে ওঠা, নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং দুই নবজাতকের প্রয়োজন বোঝার সময়। নিচের যমজ নবজাতক গাইড আপনাকে অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে প্রথম দিনগুলো পার হতে সাহায্য করতে পারে।

প্রথম ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের জন্য বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখুন

এই মুহূর্তে পরিবারের কাজের তালিকা খুব ছোট:

  • দুই শিশুকে নিয়মিত খাওয়ানো।
  • তাদের পরিষ্কার, উষ্ণ ও নিরাপদ রাখা।
  • যতটা সম্ভব মা-বাবার ঘুমের সুযোগ তৈরি করা।
  • মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার যত্ন নেওয়া।
  • আবার একই কাজ করা।

এটুকুই যথেষ্ট। ঘর অগোছালো থাকতে পারে, কাপড় ধোয়া হলেও ভাঁজ করা নাও হতে পারে। রাতের খাবার হতে পারে পাউরুটি, খিচুড়ি, সিরিয়াল বা রান্নাঘরের পাশে দাঁড়িয়ে এক হাতে খাওয়া কিছু। নিখুঁত বাড়ি আপনাকে ভালো মা-বাবা বানায় না।

যমজ নবজাতকের জন্য শুরু থেকেই ছকে বাঁধা কোনো “টুইন নিউবর্ন শিডিউল” থাকে না। দুই শিশু আলাদা সময়ে খেতে চাইতে পারে, একজনের কান্নায় অন্যজন জেগে উঠতে পারে, ঘুম কখনও দীর্ঘ, কখনও মাত্র কয়েক মিনিটের হতে পারে। বৃদ্ধি দ্রুত হওয়ার সময় তাদের অভ্যাস হঠাৎ বদলে যেতে পারে। একদিন সবকিছু গোছানো মনে হবে, পরদিন শুধু ডায়াপার আর কান্নার মধ্যেই সময় কেটে যাবে।

সাফল্যকে বড় মাপে বিচার করবেন না। দুজনই খেয়েছে? খুব ভালো। আপনি পানি পান করেছেন? সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। গোসল করতে পেরেছেন? কোনো কোনো দিনে সেটিই বড় অর্জন।

ঘরের কাজের মানদণ্ড কিছুদিন কমিয়ে দিন

শিশুরা আসার আগেই ঠিক করে নিন, কোন কাজগুলো কিছুদিন বন্ধ রাখা যায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে রান্নার জায়গা, বাথরুম এবং নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত অংশগুলো আগে করুন। ঘর সাজানোর কাজ, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এবং সব মেসেজের উত্তর দেওয়া পরে হলেও চলবে।

সোফা বা খাওয়ানোর চেয়ারের পাশে একটি ঝুড়ি রাখুন। সেখানে ডায়াপার, ওয়াইপস, নরম কাপড়, পানির বোতল, হালকা খাবার, ফোনের চার্জার এবং খাওয়ানোর সময় দরকার হয় এমন জিনিস রাখুন। বারবার উঠে অন্য ঘরে যাওয়ার ঝামেলা কমবে। টুইন যত্ন টিপসের মধ্যে এটি খুব সহজ, কিন্তু বেশ কার্যকর: দরকারি জিনিস হাতের নাগালে রাখুন।

সাহায্য পাওয়ার একটি স্পষ্ট ব্যবস্থা তৈরি করুন

পরিবার বা বন্ধুরা প্রায়ই বলেন, “কিছু দরকার হলে জানিও।” কথাটি আন্তরিক হলেও ক্লান্ত মা-বাবার পক্ষে তখন কাজের তালিকা বানানো কঠিন। তাই সাহায্য চাইতে হলে নির্দিষ্ট করে বলুন।

টুইন মায়ের সাহায্য তালিকা

পরিবার ও বন্ধুদের এই ধরনের কাজ দিতে পারেন:

  • রান্নার উপকরণ নয়, তৈরি খাবার নিয়ে আসা।
  • কাপড় ধুয়ে শুকানো, ভাঁজ করা বা আলমারিতে তুলে রাখা।
  • বোতল ও পাম্পের অংশ ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা।
  • আপনি গোসল করার সময় একজন শিশুকে কোলে রাখা।
  • আপনি একজনকে খাওয়ানোর সময় অন্য শিশুকে একটু হাঁটাতে নিয়ে যাওয়া।
  • বাজার, ওষুধ বা বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দেওয়া।
  • ময়লা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিসের বালতি খালি করা।
  • বিছানার চাদর বদলে দেওয়া।
  • হালকা খাবার তৈরি করা এবং পানির বোতল ভরে রাখা।
  • আপনি ঘুমানোর সময় শিশুদের পাশে থাকা।
  • প্রসব-পরবর্তী বা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের অ্যাপয়েন্টমেন্টে গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া।

“মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কি আসতে পারবে? সঙ্গে দুপুরের খাবার আনবে, বোতলগুলো ধুয়ে দেবে এবং আমি গোসল করার সময় একজন শিশুকে কোলে রাখবে?” এই ধরনের বার্তা বেশি কার্যকর। “আমরা খুব কষ্টে আছি, কী দরকার বুঝতে পারছি না” বললে সাহায্য করতে চাইলেও অনেকেই কী করবেন বুঝতে পারেন না। এটিই টুইন সাহায্য কিভাবে চাওয়া যায় তার একটি সহজ উদাহরণ।

কাজ নয়, সাহায্যকারীদেরও পালা করে নিন

পাঁচজন মানুষ যদি ২০ মিনিট করে এসে চলে যান, তার চেয়ে একজন নির্ভরযোগ্য মানুষ প্রতি বুধবার কয়েক ঘণ্টা থাকলে বেশি উপকার হতে পারে। সম্ভব হলে একটি পালার ব্যবস্থা করুন। একজন আত্মীয় বাজার করে দিতে পারেন, একজন বন্ধু কাপড়ের কাজ করতে পারেন, আরেকজন সপ্তাহে দুবার রান্না করে দিতে পারেন।

রাতের দায়িত্ব যতটা সম্ভব মা-বাবার জন্য রাখার বদলে দিনের কাজগুলো সাহায্যকারীদের দিন। যারা রাতে খাওয়ানোর দায়িত্ব পালন করছেন, তারা যেন দিনে বিশ্রাম নিতে পারেন। কোনো বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ক সন্ধ্যা বা ভোরের দিকে নিরাপদে শিশুদের সামলাতে পারলে, আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে সেই সাহায্য নিন।

অতিথিরা এলে আপনার কাজ কমা উচিত, বাড়া নয়। তাদের জন্য রান্না, আপ্যায়ন বা বিনোদনের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব আপনার নয়। কেউ অসুস্থ হলে, বেশি সময় থাকলে, নিজের যত্নের দাবি করলে বা ঘরে অতিরিক্ত কাজ তৈরি করলে না বলুন। “আজ আমরা কাউকে নিতে পারছি না” বলাই যথেষ্ট।

যমজকে খাওয়ানো যতটা সম্ভব সহজ করুন

আপনি বুকের দুধ খাওয়ান, ফর্মুলা দেন বা দুই পদ্ধতি মিলিয়ে চলেন, যমজকে খাওয়ানো আবেগের পাশাপাশি একটি দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার কাজও। সবার জন্য একই পদ্ধতি কার্যকর হবে না। যে পদ্ধতিতে শিশুরা ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং আপনি শারীরিকভাবে টিকে থাকতে পারেন, সেটিই আপনার পরিবারের জন্য উপযুক্ত।

সম্ভব হলে দুই শিশুকে একসঙ্গে খাওয়ান

বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে একসঙ্গে দুই শিশুকে খাওয়ানো, অর্থাৎ ট্যান্ডেম ফিডিং, বারবার খাওয়ানোর চক্র কিছুটা কমাতে পারে। প্রথম দিকে প্রশিক্ষিত ল্যাকটেশন কাউন্সেলর বা অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য নিয়ে সঠিক ভঙ্গি শিখুন। দুজনকে একই সময়ে খাওয়াতে পারলে কখনও কখনও পরের বিশ্রামের সময়টি একটু দীর্ঘ হয়।

বোতলে খাওয়ানোর পরিবারেও দুই শিশুর খাওয়ানোর সময় কাছাকাছি আনা যেতে পারে। সহায়ক বালিশ ব্যবহার করুন, আর প্রথম দিকে সম্ভব হলে পাশে আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক রাখুন। তবে বোতল ঠেস দিয়ে রেখে দেবেন না এবং বোতল হাতে দিয়ে শিশুদের একা ছেড়ে যাবেন না।

প্রতিটি খাওয়ানো একসঙ্গে করতেই হবে এমন নয়। একজন শিশু ক্ষুধার্ত, অসুস্থ বা চিকিৎসাগত কারণে আলাদা সময়সূচিতে থাকলে তার প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিন। তবে ধীরে ধীরে সময় কাছাকাছি আনতে পারলে পরে কিছুটা বিরতি পাওয়া যায়। দুই বাচ্চা একসাথে খাওয়ানোর টিপসের মূল কথা হলো, নিয়মের চেয়ে শিশুদের নিরাপত্তা ও আপনার সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া।

সহজভাবে খাওয়ানোর হিসাব রাখুন

ঘুমের অভাবে কোন শিশু কখন খেয়েছে, কতক্ষণ খেয়েছে, তা মনে রাখা কঠিন। কাগজের খাতা, ফোনের নোট বা কোনো ফিডিং অ্যাপ ব্যবহার করে লিখে রাখতে পারেন:

  • কোন শিশু খেয়েছে।
  • কখন খাওয়ানো শুরু ও শেষ হয়েছে।
  • ফর্মুলা বা সংরক্ষিত বুকের দুধ কতটুকু খেয়েছে।
  • বুকের দুধ হলে কোন পাশ থেকে খাওয়ানো হয়েছে।
  • ভেজা ও ময়লা ডায়াপারের সংখ্যা।
  • বমি, দম আটকে আসা বা খেতে অস্বাভাবিক কষ্ট হয়েছে কি না।

হিসাব রাখার ব্যবস্থা খুব সুন্দর বা রঙিন হওয়ার দরকার নেই। উদ্দেশ্য হলো শিশুর খাওয়ার ধরন বোঝা, ডাক্তারের কাছে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং “এই শিশুটি শেষ কবে খেয়েছিল?” এমন দুশ্চিন্তা কমানো।

যমজকে বুকের দুধ খাওয়াতে সমস্যা হলে যমজ শিশুর অভিজ্ঞতা আছে এমন ল্যাকটেশন কাউন্সেলরের সাহায্য নিন। অবস্থান, ল্যাচ, দুধের পরিমাণ, পাম্প ব্যবহার এবং প্রসব-পরবর্তী শারীরিক দুর্বলতা, সব মিলিয়ে বিষয়টি একক শিশুকে খাওয়ানোর চেয়ে আলাদা হতে পারে।

একজন শিশু যদি অন্যজনের তুলনায় ছোট হয়, সময়ের আগে জন্মায় বা বেশি ক্যালরি প্রয়োজন হয়, তাহলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা নবজাতক বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বাড়তি বুকের দুধ বা ফর্মুলা, ভিন্ন বিরতিতে খাওয়ানো অথবা ঘন ঘন ওজন মাপার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। শুধু দুই ভাইবোনের তুলনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শ দেখে বড় পরিবর্তন করবেন না।

আগে নিরাপদ ঘুম, তারপর সুবিধাজনক ঘুমের ব্যবস্থা

যমজ নিয়ে ঘুমের বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। প্রথম শর্ত নিরাপত্তা। প্রতিটি শিশুর জন্য আলাদা শক্ত ও সমতল ঘুমের জায়গা, যেমন সঠিকভাবে বসানো খাট বা বাসিনেট, ব্যবহার করুন। বালিশ, ঢিলেঢালা কম্বল, বাম্পার, নরম খেলনা, বেবি নেস্ট বা অতিরিক্ত নরম বিছানা রাখবেন না। ঘরে বাবা-মায়ের সঙ্গে রাখা যেতে পারে, তবে শিশুদের আলাদা ঘুমের জায়গা থাকা নিরাপদ। আপনার দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সর্বশেষ নিরাপদ ঘুমের নির্দেশনা মেনে চলুন।

প্রতিবার ঘুমের সময় শিশুকে চিত করে শুইয়ে দিন, যদি চিকিৎসক অন্য নির্দেশ না দেন। ঘুমের জায়গা খালি রাখুন। সোফা, বড়দের বিছানা বা হাতলওয়ালা চেয়ার পরিকল্পিত ঘুমের জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে ক্লান্ত অবস্থায় কোলে থাকা শিশুকে নিয়ে বড়দের ঘুমিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

রাতের দায়িত্ব ভাগ করে নিন

সব পরিবারের জন্য একই ব্যবস্থা কাজ করবে না। তবে পালা করে রাত জাগলে মোট ক্লান্তি কিছুটা কমানো যায়। যেমন:

  • একজন প্রাপ্তবয়স্ক আগে ঘুমিয়ে পড়বেন, অন্যজন রাতের প্রথম ভাগ সামলাবেন।
  • রাতকে দুই বা তিনটি পালায় ভাগ করা।
  • একজন খাওয়াবেন, অন্যজন ডায়াপার বদলানো, ঢেঁকুর তোলানো ও ঘুম পাড়ানোর কাজ করবেন।
  • মা বুকের দুধ খাওয়ালে অন্যজন ডায়াপার বদলে শিশুকে মায়ের কাছে এনে দিতে পারেন।

প্রসব, অস্ত্রোপচার বা কঠিন গর্ভাবস্থার পর মায়ের শরীরের বিশ্রামের প্রয়োজনকে ছোট করে দেখবেন না। মা বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন বলেই রাতের সব কাজ একা করতে হবে, এমন নয়। সংরক্ষিত বুকের দুধ, ফর্মুলা বা পরিবারের বিশ্বস্ত কারও সহায়তা কিছু পরিবারের জন্য উপকারী হতে পারে। খাওয়ানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চাইলে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন।

দুই শিশুর ঘুম একসঙ্গে মিলতে সময় লাগতে পারে, আবার পুরোপুরি মিলবেও না। একজন ঘুমালে সবসময় ঘরের কাজ ধরতে হবে এমন নয়। সম্ভব হলে আপনিও বিশ্রাম নিন। পরিষ্কার রান্নাঘর আপনার হয়ে শিশুকে কোলে নিতে পারবে না। টুইন রাতে ঘুম রক্ষা করতে কাজের চেয়ে বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়া অনেক সময় বেশি বুদ্ধিমানের।

প্রতিদিনের জন্য একটি সহজ টিকে থাকার ব্যবস্থা বানান

যে রুটিনে কম সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেটিই সবচেয়ে সহজে অনুসরণ করা যায়।

একই ধরনের কাজ একসঙ্গে করুন

দুই শিশুকে শান্ত অবস্থায় খাওয়ানোর আগে ডায়াপার বদলাতে পারেন। আবার খাওয়ানোর পর বদলালে যদি তাদের সুবিধা হয়, সেটিই করুন। কাছে অতিরিক্ত জামা, ডায়াপার ও নরম কাপড় রাখুন।

বাইরে যাওয়ার সময় দুই শিশুর জন্য আলাদা জটিল ব্যাগ না নিয়ে একটি বড় ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। ব্যাগের ভেতরে আলাদা পকেট বা ছোট থলি রাখলে জিনিস খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।

বাড়ির যে তলাগুলোতে বেশি সময় কাটান, সেখানে আলাদা করে ডায়াপার ও খাওয়ানোর স্টেশন রাখুন। সেখানে থাকতে পারে:

  • ডায়াপার ও ওয়াইপস।
  • ডায়াপার র‍্যাশের ক্রিম।
  • নরম কাপড় বা মসলিন।
  • অতিরিক্ত জামা ও স্লিপস্যুট।
  • হ্যান্ড স্যানিটাইজার।
  • মা-বাবার জন্য পানি ও হালকা খাবার।
  • ব্যবহৃত ডায়াপার ও কাপড় রাখার বালতি বা ব্যাগ।

বোতল ব্যবহার করলে যেখানে খাওয়ানো হয়, সেখানেই ধোয়ার সামগ্রী রাখুন। আপনি বিশ্রাম নেওয়ার সময় কেউ বোতল ধুয়ে দিলে সেটি সত্যিকারের টুইন সন্তানের যত্নে সহায়তা।

প্রতিদিনের তিনটি অগ্রাধিকার ঠিক করুন

অনেক পরিবারের জন্য তিনটি লক্ষ্য হতে পারে:

  1. একবার গোসল করা।
  2. একটি গরম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।
  3. নির্দিষ্ট সময় একটু নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রাম নেওয়া।

এগুলো পূরণ হলে দিনটি ভালোই গেছে। গরম খাবার বলতে ফ্রিজে রাখা স্যুপ, ডাল-ভাত, খিচুড়ি, পাস্তা, আলু বা বন্ধুর পাঠানো খাবারও হতে পারে। সম্ভব হলে বসে খান। যে চেয়ারে শিশুদের খাওয়ান, তার পাশে ফল, বাদাম, বিস্কুট, মুড়ি বা অন্য সহজ খাবার রাখুন।

প্রতিদিন বাইরে বেরোতে হবে না। তবে কয়েক মিনিট বারান্দায় দাঁড়ানো, রোদে বসা, ধীরে হাঁটা বা এক কাপ চা নিয়ে বাইরে থাকা মনকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। দুই শিশুকে একা নিয়ে বেরোতে অস্বস্তি হলে কাউকে সঙ্গে যেতে বলুন।

আপনার যমজ সন্তান যদি সময়ের আগে জন্মায়

অনেক যমজ নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্মায়। তাই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরা মানেই চিকিৎসা-সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ওজন বাড়ছে কি না, ওষুধের সময়, খাওয়ানোর পরিকল্পনা বা নবজাতক ইউনিট থেকে বাড়ির জীবনে মানিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে।

অনেক শিশুর বিকাশ সংশোধিত বয়স বা corrected age অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়। এর অর্থ শুধু জন্মের তারিখ নয়, সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ থেকে হিসাব করা। আপনার শিশু বিশেষজ্ঞ, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী বা নবজাতক বিভাগের চিকিৎসক বুঝিয়ে বলতে পারবেন, সংশোধিত বয়স কীভাবে বিকাশ ও নিয়মিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সময়ের আগে জন্মানো যমজের প্রয়োজন হতে পারে:

  • অতিরিক্ত ওজন পরীক্ষা।
  • নবজাতক বা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের ফলো-আপ।
  • খাওয়ার সময় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়লে সহায়তা।
  • বুকের দুধ ঠিকমতো পাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ।
  • শরীরের তাপমাত্রা, শ্বাসপ্রশ্বাস বা সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ে নির্দেশনা।
  • হাসপাতালের নিয়ম থেকে ঘরের রুটিনে ধীরে ধীরে যাওয়ার সাহায্য।

হাসপাতাল থেকে ছাড়ার নির্দেশনা লিখে রাখুন এবং জরুরি ফোন নম্বর সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখুন। কিছু অস্বাভাবিক মনে হলে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। শ্বাস নিতে কষ্ট, ঠোঁট বা শরীর নীলচে কিংবা ধূসর হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা, জাগাতে কষ্ট হওয়া বা চিকিৎসক আগে থেকে যে লক্ষণগুলোকে জরুরি বলেছেন, সেগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। প্রয়োজনে বাংলাদেশে ৯৯৯, ভারতে ১১২ বা আপনার এলাকার নির্ধারিত জরুরি নম্বরে ফোন করুন।

টুইন মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন

যমজ সন্তানের মা-বাবার ঘুম বারবার ভাঙে, শরীর প্রসবের পর সেরে ওঠে, খাওয়ানোর চাপ থাকে এবং একই সঙ্গে দুজনের দায়িত্ব সামলাতে হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা, উদ্বেগ, অযাচিত ভয় বা অন্য মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এতে আপনি অকৃতজ্ঞ বা অযোগ্য মা হয়ে যান না।

প্রসবের পর মন খারাপ, কান্না বা আবেগের দ্রুত ওঠানামা, যাকে অনেক সময় baby blues বলা হয়, সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে কমে আসে। তবে দুঃখ, ভয়, বিরক্তি, শূন্যতা বা হতাশা দীর্ঘস্থায়ী হলে, খুব তীব্র হলে বা দৈনন্দিন কাজ অসম্ভব মনে হলে গাইনি চিকিৎসক, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, নার্স, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী বা মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল করুন:

  • দীর্ঘ সময় ধরে আশাহীন, আতঙ্কিত বা ভেতর থেকে ফাঁকা লাগা।
  • শিশুরা ঘুমালেও আপনার ঘুম না আসা।
  • শিশুদের থেকে বিচ্ছিন্ন লাগা বা কোনো কিছুতেই আনন্দ না পাওয়া।
  • সবসময় মনে হওয়া যে ভয়াবহ কিছু ঘটতে চলেছে।
  • নিজেকে বা শিশুকে আঘাত করার বারবার অনিচ্ছাকৃত চিন্তা আসা।
  • মনে হওয়া, আপনি আর পারছেন না বা সবার কাছ থেকে অদৃশ্য হয়ে যেতে চান।
  • অন্যরা যা শুনছে বা দেখছে না, আপনি তা শুনতে বা দেখতে পাওয়া।

নিজেকে বা কোনো শিশুকে আঘাত করার আশঙ্কা হলে শিশুদের আলাদা নিরাপদ ঘুমের জায়গায় শুইয়ে দিন এবং সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য নিন। কাছের কাউকে এখনই জানান। বাংলাদেশে ৯৯৯, ভারতে ১১২ বা আপনার এলাকার জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করুন। প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যার চিকিৎসা হয়, আর দ্রুত সাহায্য পাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার সঙ্গীরও সহায়তা দরকার হতে পারে। বাইরে থেকে শান্ত দেখালেও তিনি প্রচণ্ড ক্লান্ত বা ভেঙে পড়া অবস্থায় থাকতে পারেন। একে অপরকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, “আজ সত্যি করে বলো, কেমন আছ?” উত্তর দেওয়ার সময় সঙ্গে সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করতে যাবেন না। মন দিয়ে শুনুন। যমজ সন্তানের পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থায় সম্ভব হলে দুই মা-বাবাকেই অন্তর্ভুক্ত করুন।

কী করবেন না

কিছু অভ্যাস প্রথম কয়েক সপ্তাহকে অকারণে আরও কঠিন করে তোলে।

দুই শিশুর তুলনা সবসময় করবেন না। একজন দ্রুত খেতে পারে, অন্যজন বেশি সময় নিতে পারে। একজন বেশি ঘুমাতে পারে, ওজনও আগে বাড়তে পারে বা কোনো মাইলস্টোন আগে অর্জন করতে পারে। প্রতিটি শিশুর নিজের বৃদ্ধি ও চিকিৎসকের পরামর্শকে গুরুত্ব দিন, প্রতি ঘণ্টায় ভাই বা বোনের সঙ্গে তুলনা নয়।

আত্মসম্মানের কারণে সব সাহায্য ফিরিয়ে দেবেন না। রান্না করা খাবার, কাপড় ধোয়া বা এক ঘণ্টা শিশুকে কোলে রাখার প্রস্তাব গ্রহণ করা দুর্বলতা নয়। এটি বাস্তবসম্মত যমজ সন্তানের যত্ন।

একটি শিশুর মতো একই রুটিন রাতারাতি তৈরি করতে যাবেন না। যমজ হলেও তারা দুজন আলাদা মানুষ, তাদের ক্ষুধা, ঘুম ও স্বভাব আলাদা হতে পারে। কঠোর সময়সূচির বদলে নমনীয় ছন্দ বেশি বাস্তবসম্মত। নিখুঁত পূর্বানুমানের বদলে কাজে লাগে এমন কিছু অভ্যাস তৈরি করুন।

কিছু দিন খুব অগোছালো যাবে। কোনো কোনো দিন আরও কঠিন লাগবে। শিশুদের নিরাপদ রাখুন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়ান, সুযোগ পেলেই বিশ্রাম নিন এবং কিছুদিন ঘরের দায়িত্ব অন্যদের হাতে তুলে দিন। যমজ নবজাতকের যত্নের প্রথম সপ্তাহগুলো সত্যিই পরিশ্রমের, তবে এই সময় চিরকাল থাকবে না। সবকিছু একা সামলানোর জন্য আপনি তৈরি নন, আর একা সামলাতেও হবে না।


এই বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং এটি আপনার ডাক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের পরামর্শের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে আপনাকে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

Erby — নবজাতক ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য বেবি ট্র্যাকার

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।
Erby

Erby

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।