যমজকে খাওয়ানো অনেক সময় পুরো পরিবারের দলগত কাজ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এর জন্য একটাই “সঠিক” পদ্ধতি নেই। কেউ দুজনকেই ব্রেস্টফিডিং করান, কেউ ফর্মুলা দেন, আবার অনেক পরিবার শুরু থেকেই বুকের দুধ ও ফর্মুলা মিলিয়ে দেন। মূল লক্ষ্য তিনটি: দুই শিশুই যেন যথেষ্ট দুধ পেয়ে বড় হয়, ব্রেস্টফিডিং চালু থাকলে মায়ের দুধের সরবরাহ বজায় থাকে, আর অভিভাবক যেন অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে না পড়েন।
যমজ ব্রেস্টফিডিং পরিবারভেদে আলাদা হতে পারে, এমনকি একই পরিবারের ক্ষেত্রেও প্রতিদিনের পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ট্যান্ডেম নার্সিং করলে সময় বাঁচে, আবার একবারে একজনকে খাওয়ালে অনেকের কাছে বিষয়টি শান্ত ও সহজ মনে হয়। বুকের দুধ পাম্প করে বোতলে দেওয়া যেতে পারে, ফর্মুলাও ব্যবহার করা যায়, কিংবা দুটো একসঙ্গে চলতে পারে। যে পদ্ধতিতে দুই শিশুর পুষ্টি ও অভিভাবকের সুস্থতা দুটোই বজায় থাকে, সেটিই আপনাদের জন্য কার্যকর। অন্য কারও আদর্শ পদ্ধতির সঙ্গে মিলতেই হবে এমন নয়।
নবজাতক যমজের ক্ষুধা, স্তনে লেগে দুধ খাওয়ার দক্ষতা, চিকিৎসাগত প্রয়োজন এবং ওজন বাড়ার গতি একরকম নাও হতে পারে। একজন হয়তো দ্রুত ও ভালোভাবে দুধ খায়, অন্যজন কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে। অপরিণত অবস্থায় জন্মালে বা কিছুদিন ওজন ধীরে বাড়লে কোনো শিশুর অতিরিক্ত দুধের প্রয়োজন হতে পারে।
দুজনকে সমান পরিমাণ দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা না করে ওজন, প্রস্রাবের পরিমাণ, সজাগতা এবং খাওয়ার আচরণ দেখুন। ধাত্রী, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, পারিবারিক চিকিৎসক বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মী এই লক্ষণগুলো বুঝতে সাহায্য করতে পারেন।
জন্মের পঞ্চম দিনের পর ২৪ ঘণ্টায় ছয়টির কম ভেজা ডায়াপার হলে দ্রুত খাওয়ানোর পরামর্শ নিন। কোনো শিশু অস্বাভাবিকভাবে ঘুমঘুম থাকলে, খাওয়ানোর জন্য জাগানো কঠিন হলে, পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে বা ওজন না বাড়লে আরও আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
স্তন থেকে নিয়মিত ও কার্যকরভাবে দুধ বের হলে শরীর আরও দুধ তৈরির সংকেত পায়। শিশুরা বুকের দুধ খেলে বা পাম্প করে দুধ বের করলে এই প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। যমজের ক্ষেত্রে মোট চাহিদা বেশি হতে পারে, বিশেষ করে তারা দ্রুত বেড়ে ওঠার সময়।
তাই প্রতিবার বুকের দুধ খাওয়াতেই হবে, এমন নয়। ফর্মুলা বা পাম্প করা দুধ আপনার পরিকল্পনার অংশ হলে, কখন পাম্প করলে দুধের সরবরাহ ভালো থাকবে এবং কখন বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার, তা স্তন্যদান পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
রাত দুটোর সময় দুই শিশু কাঁদছে, আর পাশে সাহায্য করার মতো কেউ নেই, এমন পরিস্থিতিতেও যে পদ্ধতি সামলানো যায়, সেটিই বাস্তবসম্মত। কাগজে-কলমে দ্রুত মনে হলেও কোনো পদ্ধতি যদি শারীরিক বা মানসিকভাবে আপনাকে ভেঙে দেয়, তবে সেটি বদলানো দরকার।
বুকের দুধ, ফর্মুলা এবং মিশ্র খাওয়ানোর মধ্যে ভালো-মন্দের কোনো নৈতিক শ্রেণিবিন্যাস নেই। যমজকে ফর্মুলা দেওয়া ব্যর্থতা নয়, আবার ভালো অভিভাবক হতে একচেটিয়াভাবে ব্রেস্টফিডিং করাতেই হবে এমনও নয়। দুই শিশু যেন খেয়ে বড় হয় এবং তাদের দেখাশোনা করা মানুষটি যেন সহায়তা পান, সেটিই আসল।
ট্যান্ডেম নার্সিং বলতে একই সময়ে দুই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বোঝায়। দুজনের একসঙ্গে ক্ষুধা লাগলে এটি মোট খাওয়ানোর সময় কমাতে পারে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। একসঙ্গে খাওয়ানো অস্বস্তিকর, ব্যথাদায়ক বা খুব চাপের মনে হলে একবারে একজনকে খাওয়ানোও পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য।
দুজন শিশু আলাদাভাবে ভালোভাবে স্তনে লাগতে শিখে গেলে অনেক অভিভাবকের জন্য ট্যান্ডেম নার্সিং সহজ হয়। প্রথম দিকের দিনে পাশে আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক থাকলে শিশুদের অবস্থান ঠিক করা ও শান্ত করা অনেক কম কঠিন লাগে।
যমজকে বুকের দুধ খাওয়ানোর কোনো জাদুকরী পজিশন নেই। এমন ভঙ্গি বেছে নিন যাতে দুই শিশুর শরীর ভালোভাবে সমর্থিত থাকে, নাক খোলা থাকে এবং তাদের মুখ ও ল্যাচ স্পষ্ট দেখা যায়।
কিছু পরিচিত যমজ নার্সিং পজিশন হলো:
বালিশের কাজ হবে শিশুদের একটু ওপরে তুলে ধরা, আপনার কাঁধকে টানটান করে রাখা নয়। সামনে ঝুঁকে যেতে হলে, শরীর মোচড়াতে হলে বা শ্বাস আটকে রাখতে হলে খাওয়ানো থামিয়ে অবস্থানটি ঠিক করুন।
সহায়তা থাকলে বা আত্মবিশ্বাসী বোধ করলে দুজনকেই একই সময়ে স্তনে লাগাতে পারেন। আরেকটি উপায় হলো, প্রথমে একজনকে অবস্থান করিয়ে তারপর দ্বিতীয় শিশুকে স্তনের কাছে আনা।
যে শিশুর ক্ষুধা বেশি, অথবা যার ল্যাচ করাতে বেশি সময় লাগে, তাকে আগে শুরু করান। আপনার মনোযোগ তখন সবচেয়ে সতেজ থাকে। কোনো শিশু আকারে ছোট, বেশি ঘুমকাতুরে বা অতিরিক্ত চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছে হলে, চিকিৎসক হয়তো তাকে আগে খাওয়াতে বা তার দুধ খাওয়ার পরিমাণ আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বলবেন।
ভালো ল্যাচে চেপে ধরার মতো ব্যথা নয়, বরং টান লাগার অনুভূতি হয়। শিশুর মুখ বড় করে খোলা থাকবে, থুতনি স্তনের কাছাকাছি থাকবে এবং নাক খোলা বা সামান্য ছোঁয়া অবস্থায় থাকবে। লাগাতার ব্যথা সহ্য করার দরকার নেই। স্তন্যদান পরামর্শক, ধাত্রী, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা যমজ ব্রেস্টফিডিং সম্পর্কে অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে সরাসরি একটি ফিড দেখিয়ে পরামর্শ নিন।
দুই স্তনে দুধের পরিমাণ কিছুটা আলাদা হতে পারে। শিশুরাও একটি স্তন বেশি পছন্দ করতে পারে। দুই স্তনকে সমানভাবে উদ্দীপিত করতে প্রতিবার কোন শিশু কোন স্তনে শুরু করছে, তা পালা করে দিন। চাইলে ফোনে বা কাগজে ছোট নোট রাখতে পারেন।
উদাহরণ:
পুরোপুরি সমতা বজায় রাখতেই হবে এমন নয়। কোনো শিশুর নির্দিষ্ট স্তন ব্যবহারের চিকিৎসাগত কারণ থাকলে সেই পরামর্শ অনুসরণ করুন। লক্ষ্য হলো দুই স্তন নিয়মিত উদ্দীপিত হওয়া এবং প্রত্যেক শিশু পর্যাপ্ত দুধ পাওয়া।
দুজনকে একসঙ্গে খাওয়ানো সব সময় দ্রুত হয় না। নতুন করে ল্যাচ শিখছে এমন শিশুর একান্ত মনোযোগ দরকার হতে পারে। প্রসবের পর আপনি নিজেও সেরে উঠছেন, নিপলে ব্যথা আছে, অথবা দুজনকে একসঙ্গে সামলানোর মতো শক্তি নেই, এমনও হতে পারে।
একজনকে খাওয়ানোর সময় অন্যজনকে নিরাপদ জায়গায় শুইয়ে রাখুন, তারপর পালা বদলান। চাইলে দিনে এক-দুবার ট্যান্ডেম নার্সিং করে বাকি সময় একবারে একজনকে খাওয়াতে পারেন। প্রতিবার দুজনকে একসঙ্গে খাওয়ানোর জন্য কোনো পুরস্কার নেই।
যমজ বোতল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে পাম্প করা বুকের দুধ, শিশুর ফর্মুলা বা দুটির সমন্বয় থাকতে পারে। সম্ভব হলে শুরু করার আগেই দুই বোতল প্রস্তুত করুন, বিশেষ করে আপনি একা থাকলে। তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন, কোন বোতল কোন শিশুর তা নিশ্চিত করুন এবং প্রস্তুত করার জায়গা পরিষ্কার রাখুন। ফর্মুলার প্যাকেটের নির্দেশনা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা হুবহু মেনে চলুন। গুঁড়ো ফর্মুলা জীবাণুমুক্ত নয়, তাই সঠিকভাবে তৈরি ও সংরক্ষণ করা জরুরি।
পেসড বোতল ফিডিংয়ে শিশুর হাতে দুধের প্রবাহের ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকে। এতে তাড়াহুড়ো করে গিলে ফেলা, কাশি এবং অতিরিক্ত দুধ খাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। পদ্ধতিটি এমন:
বোতল শেষ করানোর জন্য শিশুকে চাপ দেবেন না। প্রতিবার দুই শিশুর প্রয়োজন একরকম নাও হতে পারে। শেষ কয়েক মিলিলিটার জোর করে খাওয়ালে শিশুর পেট ভরে যাওয়ার সংকেত উপেক্ষা হতে পারে।
সম্ভব হলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক একজন শিশুকে খাওয়ান। একা থাকলে একজনকে খাওয়ানোর সময় অন্য শিশুকে নিরাপদ ঘুমের জায়গায় রাখুন, তারপর পালা বদলান। একই সময়ে দুজনকে খাওয়ানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সহায়ক ব্যবস্থা ব্যবহার করতে চাইলে আগে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন। বালিশে ঠেস দিয়ে বোতল ধরিয়ে দেওয়া কেবল চিকিৎসকের অনুমোদিত নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় এবং ঘনিষ্ঠ নজরদারির মধ্যে করা যেতে পারে। কোলে ধরে খাওয়ানোই নিরাপদ পদ্ধতি।
কখনো বোতল ঠেস দিয়ে রেখে শিশুকে একা খেতে দেবেন না। বালিশ, কুশন বা কম্বলের ওপর বোতল রেখে দেবেন না। এতে দম বন্ধ হওয়া, কানে সংক্রমণ এবং অনিরাপদ ঘুমের ঝুঁকি বাড়ে।
কম্বিনেশন ফিডিং যমজ বলতে বুকের দুধের সঙ্গে ফর্মুলা, বুকের দুধের সঙ্গে পাম্প করা দুধ, অথবা দুই শিশুর জন্য আলাদা আলাদা খাওয়ানোর পরিকল্পনা বোঝাতে পারে। মায়ের দুধের পরিমাণ বাড়া পর্যন্ত এটি সাময়িক হতে পারে, আবার দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের জন্য উপযোগী ব্যবস্থাও হতে পারে।
স্তনপান বজায় রাখা যমজ পরিবারের অগ্রাধিকার হলে, সুযোগমতো খাওয়ানোর পর বা দুই ফিডের মাঝখানে দুধ পাম্প করুন। ডাবল ইলেকট্রিক পাম্প সময় বাঁচাতে পারে। তবে অল্প পরিমাণ শালদুধ বের করতে বা পাম্প কাছে না থাকলে হাতে দুধ বের করাও কার্যকর। কতবার শিশুরা বুকের দুধ খাচ্ছে, কতটা অতিরিক্ত দুধ পাচ্ছে এবং তারা কার্যকরভাবে দুধ টানতে পারছে কি না, তার ওপর পাম্প করার সময়সূচি নির্ভর করবে।
কিছু অভ্যাস কাজে লাগে:
“যমজের জন্য দুধের পরিমাণ বাড়ানো” নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে মনে হতে পারে সারাক্ষণ পাম্প করতেই হবে। বাস্তবে দুধের সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা ব্যক্তিভেদে আলাদা হওয়া উচিত। নিয়মিত ও কার্যকরভাবে দুধ বের করলে উপকার হতে পারে, কিন্তু ব্যথা, দুর্বল ল্যাচ, গর্ভফুলের কিছু অংশ শরীরে থেকে যাওয়া, থাইরয়েডের সমস্যা, কিছু ওষুধ এবং অতিরিক্ত ক্লান্তিও দুধ তৈরিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্প শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
নবজাতকের প্রথম কয়েক সপ্তাহে একটি সহজ নোট খাওয়ার ধরন বুঝতে এবং দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করতে পারে। আলাদা করে বড় স্প্রেডশিট বানানোর দরকার নেই, যদি না সেটি সত্যিই আপনার কাজে লাগে।
প্রতিটি শিশুর জন্য লিখে রাখতে পারেন:
ফোনের নোট, খাওয়ানোর চেয়ারের পাশে রাখা কাগজ বা যমজ খাওয়ানোর অ্যাপ, যেটি আপনার জন্য সহজ সেটিই ব্যবহার করুন। শুধু সেই তথ্য লিখুন যা আপনার বা চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নিতে কাজে লাগবে।
জন্মের পঞ্চম দিনের পর ২৪ ঘণ্টায় ছয়টির কম ভেজা ডায়াপার, কোনো এক শিশুর ওজন ঠিকমতো না বাড়া বা ল্যাচের সময় লাগাতার ব্যথা থাকলে দ্রুত পরামর্শ নিন। কোনো শিশু বারবার দুধ না খেলে, জোরে বমি করলে, ক্রমশ বেশি ঘুমিয়ে পড়লে বা আগের তুলনায় কম সাড়া দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যমজ হওয়ার কারণে একজনের আচরণ দেখে অন্যজনের সমস্যাটি চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই দুই শিশুকে একে অপরের সঙ্গে নয়, প্রত্যেককে তার নিজের স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে তুলনা করুন।
দুই শিশুর জন্য দুধ তৈরি করতে বেশি শক্তি লাগে। তবে বিশেষ কোনো ডায়েট বা দামি “ল্যাকটেশন” পণ্য দরকার নেই। নিয়মিত খাবার খান এবং খাওয়ানোর জায়গার পাশে সহজ খাবার রাখুন, যেমন দই, স্যান্ডউইচ, ফল, বাদাম, যদি পরিবারের কারও অ্যালার্জি না থাকে, অথবা আগের দিনের রান্না। তৃষ্ণা অনুযায়ী পানি পান করুন এবং কাছে পানির বোতল রাখুন। অতিরিক্ত পরিমাণে পানি খেলেই দুধ বাড়বে, এমন প্রমাণ নেই।
বিশ্রামও যমজ খাওয়ানোর যত্নের অংশ। বোতল ধোয়া, রান্না, খাবার গরম করা, ডায়াপার বদলানো বা কিছু সময় শিশুকে কোলে রাখার কাজ অন্য কাউকে করতে বলুন, যাতে আপনি ঘুমাতে পারেন। দুই শিশু ভালোভাবে খেয়ে ওজন বাড়ালেও আপনি যদি ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েন, পরিকল্পনা বদলানো বুদ্ধিমানের কাজ, স্বার্থপরতা নয়।
যমজ নিয়ে নিয়মিত কাজ করেন এমন স্তন্যদান পরামর্শক বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারেন। এমন কাউকে বেছে নিন যিনি সরাসরি খাওয়ানো দেখে দুই শিশুর ল্যাচ ও দুধ টানার ক্ষমতা পরীক্ষা করতে পারেন, চাপ না দিয়ে পাম্পিং নিয়ে কথা বলতে পারেন এবং প্রয়োজনে শিশুর চিকিৎসা দলের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারেন। ধাত্রী, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, পারিবারিক চিকিৎসক বা স্থানীয় শিশু খাওয়ানো সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে এমন পরামর্শকের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
নবজাতক সাধারণত ঘড়ি ধরে নয়, ক্ষুধার সংকেত অনুযায়ী দুধ খায়। শুরুতে যমজ খাওয়ানোর সময়সূচি বলতে এমন একটি নমনীয় ছন্দ বোঝাতে পারে: সংকেত বুঝুন, একজন বা দুজনকে খাওয়ান, কী হলো লিখে রাখুন এবং পরের ওজন মাপার পর আবার পরিকল্পনা দেখুন।
কিছু পরিবার ধীরে ধীরে দুই শিশুর খাওয়ার সময় কাছাকাছি নিয়ে আসে, যাতে একসঙ্গে খাওয়ানো যায়। আবার কোনো কোনো যমজের একজনের অল্প অল্প করে বেশি ঘন ঘন দুধ দরকার হয়, তাই তাদের সময়সূচি আলাদা থাকে। দুটো পদ্ধতিই ঠিকভাবে কাজ করতে পারে।
শিশুর ক্ষুধার প্রাথমিক সংকেত খেয়াল করুন, যেমন নড়াচড়া শুরু করা, হাত মুখে নেওয়া, স্তন খোঁজা এবং ঠোঁট চাটা। কান্না ক্ষুধার দেরিতে দেখা দেওয়া সংকেত, তখন ল্যাচ করানো কঠিন হতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে জোর করে জাগাবেন না বা খাওয়ার ব্যবধান বাড়াবেন না। বিশেষ করে শিশু অপরিণত, জন্ডিসে আক্রান্ত, জন্মের তুলনায় ছোট বা আগে ওজন কম বাড়লে এই সতর্কতা জরুরি।
যমজ খাওয়ানো কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা। ট্যান্ডেম নার্সিং, বোতল, যমজকে ফর্মুলা দেওয়া এবং কম্বিনেশন ফিডিং যমজ, সবই যত্নশীল ও নিরাপদ পছন্দ হতে পারে, যদি শিশুরা যথেষ্ট দুধ পায় এবং খাওয়ানোর ব্যবস্থা নিরাপদ থাকে। তারা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনাও বদলান। দুই শিশুর পাশাপাশি তাদের দেখাশোনা করা মানুষটির প্রয়োজনের জন্যও জায়গা রাখুন। যে পদ্ধতিতে শিশু দুজন এবং অভিভাবক, সবাই টিকে থাকতে পারেন, সেটিই সবচেয়ে ভালো যমজ খাওয়ানোর টিপস এবং কৌশল।