৩ মাসে শিশুর ঘুম কেন ভাঙে: লক্ষণ, স্বাভাবিক ধরণ ও ঘুম উন্নত করার কার্যকর কৌশল
প্রায় তিন মাস বয়সে যে শিশু আগে মোটামুটি নিয়ম মেনে ঘুমাত, সে হঠাৎ ঘন ঘন জেগে উঠতে পারে, অল্প সময়ের জন্য ঘুমাতে পারে, কিংবা ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলেই কান্না করতে পারে। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, “৩ মাসে শিশুর ঘুম কেন ভাঙে?” বেশিরভাগ সময় এর মানে এই নয় যে শিশুর কোনো সমস্যা হয়েছে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক পরিবর্তনের একটি সময়, যাকে ৩ মাসের ঘুমের পরিবর্তন বা ৩ মাসের স্লিপ রিগ্রেশন বলা হয়।
এই সময় শিশুর মস্তিষ্ক ও শরীর দ্রুত বিকশিত হয়। ঘুমের ধরনও বদলাতে থাকে, তাই কয়েক সপ্তাহ সবকিছু বেশ এলোমেলো মনে হতে পারে। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত নিখুঁত সময়সূচি তৈরি করা নয়। বরং কী ঘটছে তা বোঝা, যতটা সম্ভব ঘুম সহজ করা এবং নিজেকে দোষ না দিয়ে এই অস্থির সময় পার হওয়া।
৩ মাসে শিশুর ঘুমে কী পরিবর্তন আসে?
নবজাতকের ঘুম সাধারণত তুলনামূলক সহজ ধাপে বিভক্ত থাকে। মোটামুটি সক্রিয় ঘুম ও শান্ত ঘুম, এই দুই ধরনের ঘুমের মধ্যেই তারা ঘোরাফেরা করে। প্রায় তিন মাসে ঘুম ধীরে ধীরে পরিণত হতে শুরু করে। তখন শিশুর ঘুম বড়দের মতো চারটি ধাপের কাছাকাছি হয়, যেখানে হালকা ও গভীর ঘুমের পর্যায় থাকে।
এটি উন্নতির লক্ষণ, ঠিকই। তবে পরিবর্তনের মাঝের সময়টা বেশ অগোছালো হতে পারে।
এক ঘুমের চক্র থেকে আরেক চক্রে যাওয়ার সময় শিশু একটু নড়েচড়ে উঠতে পারে, চোখ খুলতে পারে, কেঁদে ফেলতে পারে বা অস্থির হতে পারে। নবজাতক হয়তো এসব বুঝে ওঠার আগেই আবার ঘুমিয়ে পড়ত। কিন্তু তিন মাসের শিশু পরিবর্তনটা টের পেয়ে আবার ঘুমাতে সাহায্য চাইতে পারে। ঘুমের এই পুনর্গঠনের কারণে আগে ভালো চলা শিশুর ঘুম হঠাৎ বিঘ্নিত হতে পারে।
তবে এই পরিবর্তন সব শিশুর ক্ষেত্রে ঠিক তিন মাসেই শুরু হয় না, বা সবার মধ্যে একইভাবে দেখা যায় না। কেউ স্পষ্টভাবে ঘন ঘন জাগে, আবার কেউ বেশি সজাগ হয়ে যায় এবং ঘুম পাড়ানো কঠিন হয়। শিশুর স্বভাব, দুধ খাওয়ার প্রয়োজন, দ্রুত বেড়ে ওঠার সময়, অসুস্থতা এবং দিনের ঘুম, সবই এতে ভূমিকা রাখে।
৩ মাসের শিশুর ঘুম সাধারণত কেমন হয়
প্রতিটি শিশুই আলাদা। তবু “৩ মাসে দিনের ও রাতের ঘুম কতটা হওয়া উচিত?” এমন প্রশ্নের জন্য নিচের পরিসরটি একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে।
- ২৪ ঘণ্টায় মোট ঘুম: প্রায় ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা
- রাতের ঘুম: প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা, সাধারণত দুধ খাওয়ার জন্য দুই বা তিনবার জাগতে পারে
- দিনের ঘুম: সাধারণত চার থেকে পাঁচবার, তবে প্রতিবারের সময় অনেকটা ভিন্ন হতে পারে
- জেগে থাকার সময়: দুই ঘুমের মাঝে প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ মিনিট
রাতে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানো মানেই একটানা ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুম নয়। তিন মাসের বেশিরভাগ শিশুরই রাতে দুধ প্রয়োজন হয়। দ্রুত বেড়ে ওঠার সময় বা দিনে মনোযোগের অভাবে ঠিকমতো দুধ না খেলে কেউ কেউ আরও ঘন ঘন জাগতে পারে।
এই সংখ্যাগুলোকে কঠোর নিয়ম হিসেবে দেখবেন না। কোনো দিন শিশু ১৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ঘুমাতে পারে, আবার পরের দিন ১৫ ঘণ্টা। শুধু এ কারণে সমস্যা হয়েছে ধরে নেওয়ার দরকার নেই। বরং দেখুন, শিশু ঠিকমতো দুধ খাচ্ছে কি না, পর্যাপ্ত ভেজা ডায়াপার হচ্ছে কি না, বয়স অনুযায়ী বেড়ে উঠছে কি না এবং জেগে থাকার সময় শান্ত ও সজাগ থাকে কি না।
কঠোর ৩ মাসের শিশুর ঘুমের রুটিন অনেক সময় উপকারের চেয়ে চাপ বাড়ায়। ঘুম থেকে ওঠার পর কতক্ষণ জেগে থাকে, সেই সময়ের ওপর ভিত্তি করে নমনীয় ছন্দ তৈরি করা সাধারণত বেশি কার্যকর।
তিন মাসে শিশুর ঘুমের সাধারণ সমস্যা
১. অল্প সময়ের ঘুম স্বাভাবিক
তিন মাসের অনেক শিশুর দিনের ঘুম মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। শিশুকে ঘুম পাড়িয়ে মনে হয় সে গভীর ঘুমে আছে, তারপর অল্পক্ষণ পরেই জেগে যায়। কখনো তাকে ঘুম পাড়াতে যতটা সময় লাগে, ঘুমায় তার চেয়েও কম।
সাধারণত এর মানে হলো, শিশু একটি ঘুমের চক্র শেষ করেছে, কিন্তু পরের চক্রের সঙ্গে সেটি জুড়তে পারছে না। এক চক্রের পর আরেক চক্রে যাওয়ার ক্ষমতা সময়ের সঙ্গে তৈরি হয়, প্রায়ই চার থেকে পাঁচ মাসের দিকে। তিন মাসে এই দক্ষতা এখনও পুরোপুরি তৈরি হয় না।
তাই অল্প সময়ের ঘুম স্বাভাবিক এবং শিশুর বিকাশের অংশ। এর মানে এই নয় যে আপনি ভুল অভ্যাস তৈরি করেছেন বা ভুল রুটিন বেছে নিয়েছেন।
ঘুমানোর ৩৫ মিনিট পর শিশু জেগে উঠে যদি হাসিখুশি থাকে, তাহলে পরের জেগে থাকার সময় শুরু করতে পারেন। কিন্তু কান্না করে উঠলে এবং এখনও ক্লান্ত মনে হলে, খাটে রেখেই অল্প সময় আবার ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে পরে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াতে পারেন, যাতে সারাদিন অতিরিক্ত ক্লান্ত না হয়ে পড়ে। বিকেলে একটি তুলনামূলক দীর্ঘ ঘুমও অনেক সময় দিনের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।
২. ঘুমের সময় অস্থিরতা এবং সবকিছু দেখার আগ্রহ
শিশু এখন চারপাশের জগতের প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী। পর্দার ফাঁক দিয়ে আসা আলো, পাশের ঘর থেকে আপনার কণ্ঠস্বর, ভাইবোনের পায়ের শব্দ, এমনকি সিলিং ফ্যানও তার নজর কাড়তে পারে। ঘুমিয়ে পড়লে এসব কিছু দেখা যাবে না।
এই বয়সে “কিছু মিস হয়ে যাবে” ধরনের আগ্রহ সত্যিই দেখা যায়। চোখ কচলালেও মোবাইলের দিকে তাকিয়ে হাসলে শিশু ইচ্ছা করে দুষ্টুমি করছে না। সে চারপাশ সম্পর্কে বেশি সচেতন হয়েছে এবং সেই জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া এখনও তার জন্য কঠিন।
দিনের ঘুমকে একটু নিরস করে তুলুন:
- ঘর অন্ধকার বা মৃদু আলোয় রাখুন।
- ঘর শান্ত রাখুন, অথবা একটানা হালকা সাদা শব্দ ব্যবহার করুন।
- ঘুম পাড়ানোর সময় চোখে চোখ রাখা ও বেশি কথা বলা কমিয়ে দিন।
- প্রতিবার একই ছোট রুটিন অনুসরণ করুন।
- শিশু খুব বেশি ক্লান্ত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
দিনের ঘুমের জন্য অন্ধকার ঘর বিশেষভাবে কাজে দেয়, কারণ বাইরের আলো সজাগ শিশুকে শান্ত হতে বাধা দিতে পারে। তবে ঘরকে একেবারে নিঃশব্দ বা গুহার মতো অন্ধকার করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক, কম মাত্রার ঘরোয়া শব্দ থাকতেই পারে।
৩. ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়া
ভোর সাড়ে চারটা বা পাঁচটার সময় শিশুর জেগে ওঠা বাবা-মায়ের জন্য খুব ক্লান্তিকর হতে পারে। এই বয়সে এটি অস্বাভাবিকও নয়, কারণ ভোরের দিকে ঘুম তুলনামূলক হালকা থাকে। ক্ষুধা, ঘরের তাপমাত্রা, দিনের আলো, বাইরের শব্দ এবং এখনও পুরোপুরি তৈরি না হওয়া শরীরের ঘড়ি, সবই কারণ হতে পারে।
রাতে অতিরিক্ত দেরিতে ঘুমানোও একটি সাধারণ কারণ। ব্যাপারটি উল্টো মনে হলেও, কোনো শিশু বেশি সময় জেগে থাকলে তার ঘুম অস্থির হয়ে যেতে পারে এবং সে আরও ভোরে জেগে উঠতে পারে। তাই নিয়মিত ভোরে ঘুম ভাঙলে ঘুমানোর সময় আরও পিছিয়ে না দিয়ে কয়েক রাত সামান্য আগে ঘুম পাড়িয়ে দেখুন।
ভোরে শিশুর সঙ্গে আচরণ শান্ত ও নিরস রাখুন। ঘর অন্ধকার রাখুন, প্রয়োজন হলে দুধ খাওয়ান এবং সকাল পাঁচটায় উজ্জ্বল আলো বা উৎসাহভরা কথাবার্তা শুরু করবেন না। প্রতিবার রাতের ঘুম বাড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে, তবে ভোরে জেগে ওঠাকে পুরো সকাল বানিয়ে না তোলার চেষ্টা করতে পারেন।
৪. কোলে, ক্যারিয়ার বা স্ট্রলারে দীর্ঘ ঘুম
কিছু শিশু খাটে মাত্র অল্পক্ষণ ঘুমায়, কিন্তু কোলে, বেবি ক্যারিয়ারে বা স্ট্রলারে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকে। নড়াচড়া হালকা ঘুমের পর্যায় পার হয়ে পরের চক্রে যেতে সাহায্য করতে পারে। শরীরের উষ্ণতা, কাছাকাছি থাকার অনুভূতি এবং নিয়মিত দোলও শিশুকে শান্ত করে।
এটি কোনো খারাপ অভ্যাস নয়। শিশুর ঘুমের ক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করার একটি বাস্তব উপায় হতে পারে। কোলে ঘুম পাড়ানোও তাই ব্যর্থতার লক্ষণ নয়, বরং প্রয়োজনে ব্যবহার করার মতো একটি সহায়তা।
নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই মনে রাখুন। ক্যারিয়ারে শিশু ঘুমিয়ে পড়লে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলুন এবং তার শ্বাসনালি খোলা আছে কি না নিশ্চিত করুন। স্ট্রলার, গাড়ির সিট বা বসা অবস্থার অন্য কোনো ডিভাইসে ঘুমন্ত শিশুকে একা রেখে যাবেন না। নিয়মিত এবং নজরদারিহীন ঘুমের জন্য শিশুকে চিৎ করে, শক্ত ও সমতল বিছানায় শুইয়ে রাখুন।
৩ মাসে শিশুর ঘুম উন্নত করার উপায়
ঘুমের পরিবেশ ঠিক করুন
পরিবেশে ছোট কিছু পরিবর্তন ঘুম পাড়ানোর ঝামেলা কমাতে পারে:
- বিশেষ করে দিনের ঘুম ও ভোরের সময় ঘর অন্ধকার রাখুন।
- ঘর আরামদায়ক ও সামান্য ঠান্ডা রাখুন, অতিরিক্ত গরম নয়।
- নিরাপদ মাত্রায় একটানা সাদা শব্দ চালাতে পারেন, তবে সেটি শিশুর খাট থেকে দূরে রাখুন।
- ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী শিশুকে পোশাক পরান।
- খাটে বালিশ, আলগা কম্বল, খেলনা বা শরীরের অবস্থান ঠিক রাখার কোনো পজিশনার রাখবেন না।
নিরাপদ ঘুম সবার আগে। প্রতিবার শিশুকে চিৎ করে শোয়ান এবং বিশেষ করে রাতে নিজের খাটটি আপনার বিছানার কাছাকাছি রাখুন। নিরাপদ ঘুম নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, অথবা শিশু নিয়মিত নাক ডাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় কিংবা অস্বাভাবিকভাবে জাগানো কঠিন হলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা কাছের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
জেগে থাকার সময় মোটামুটি মেনে চলুন
তিন মাসে জেগে থাকার সময় সাধারণত ৭৫ থেকে ৯০ মিনিট হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কোনো শিশু ৬০ থেকে ৭৫ মিনিটের বেশি জেগে থাকতে পারে না। আবার দিনের পরের দিকে কেউ ৯০ মিনিট পর্যন্ত জেগে থাকতে পারে।
ঘড়ির দিকে নজর রাখুন, তবে শিশুর সংকেতও দেখুন। ঘুম পাওয়ার শুরুর লক্ষণ হতে পারে:
- শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা
- খেলনা বা মানুষের মুখের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া
- নড়াচড়া ধীর হয়ে আসা
- হাই তোলা
- চোখ কচলানো
- খিটখিটে বা অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ হয়ে যাওয়া
শিশু অতিরিক্ত বিরক্ত বা কান্নাকাটি শুরু করার আগেই ঘুম পাড়ানোর প্রস্তুতি নিন। অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে গেলে ঘুমিয়ে পড়া আরও কঠিন হতে পারে।
একটি সহজ ছন্দ হতে পারে, দুধ খাওয়ানো, কোলে নেওয়া ও একটু খেলা, তারপর প্রায় এক ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে ঘুমের প্রস্তুতি শুরু করা। খুব জোরে হাই তোলার অপেক্ষা করবেন না। তখন হয়তো ঘুমের সবচেয়ে ভালো সময়টি ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গেছে।
ঘুমের আগে একই ধরনের ছোট রুটিন রাখুন
রুটিন দীর্ঘ হওয়ার দরকার নেই। পরিচিত ও বারবার করা যায়, এমন হওয়াই যথেষ্ট।
দিনের ঘুমের আগে দুই বা তিন ধাপের ছোট রুটিন করতে পারেন:
- পর্দা টেনে ঘর অন্ধকার করুন।
- সাদা শব্দ চালু করুন।
- স্লিপ স্যাক বা আরামদায়ক ঘুমের পোশাক পরিয়ে একটু কোলে নিন, তারপর ঘুম পাড়ান।
রাতের ঘুমের আগে রুটিনটি একটু বড় হতে পারে:
- দুধ খাওয়ান।
- রাতের পোশাক পরান।
- আলো কমিয়ে দিন।
- শিশু উপভোগ করলে গোসল করান।
- ধীরে গল্প পড়ুন বা গান গেয়ে শোনান।
- কোলে নিয়ে শান্ত করুন এবং ঘুম পাড়ান।
এই রুটিন শিশুকে বুঝতে সাহায্য করে যে ঘুমের সময় হয়ে এসেছে। এতে প্রতিটি জাগরণ বন্ধ হবে না, তবে জেগে থাকা থেকে ঘুমে যাওয়ার পরিবর্তনটি সহজ হতে পারে। বাড়ির বাইরে থাকলেও যেন রুটিনের সংক্ষিপ্ত রূপটি করা যায়, সেটি মাথায় রাখুন। এটিই শিশুর ঘুম রুটিন তৈরির একটি কার্যকর পরামর্শ।
চাপ না দিয়ে “ঘুমঘুম অবস্থায়, কিন্তু পুরোপুরি ঘুম নয়” চেষ্টা করুন
অনেকে বলেন, শিশুকে পুরোপুরি ঘুমিয়ে পড়ার আগে ঘুমঘুম অবস্থায় খাটে রাখলে সে নিজে ঘুমাতে শেখে। মাঝে মাঝে এটি চেষ্টা করা যায়, বিশেষ করে রাতের প্রথম ঘুমের সময়। তবে এটি কোনো পরীক্ষা নয়, সফল বা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়ও নয়।
শিশু নিজে শান্ত হয়ে ঘুমালে ভালো। আবার সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠে আপনার হাত, কণ্ঠস্বর বা দুধ চাইলে সেটিও স্বাভাবিক। তিন মাসে অনেক শিশুরই ঘুমানোর জন্য যথেষ্ট সাহায্য লাগে। দোলানো, দুধ খাওয়ানো, কোলে নেওয়া বা পিঠে হাত বুলিয়ে দেওয়া ভবিষ্যতের ঘুম নষ্ট করে না।
এটিকে নিয়ম নয়, ধীরে ধীরে শেখার একটি সুযোগ হিসেবে দেখুন। শিশু শান্ত থাকলে দিনে একবার চেষ্টা করতে পারেন। এতে সবাই অস্থির হয়ে পড়লে চেষ্টা বন্ধ করুন।
এখন যে কাজগুলো করার দরকার নেই
তাড়াহুড়ো করে আনুষ্ঠানিক স্লিপ ট্রেনিং শুরু করবেন না
আনুষ্ঠানিক ঘুম শেখানোর পদ্ধতি সাধারণত চার থেকে ছয় মাসের পর আলোচনা করা ভালো। তবে শিশুর বিকাশ, স্বাস্থ্য এবং দুধ খাওয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী সময় আলাদা হতে পারে। তিন মাসের শিশুর এখনও রাতে দুধ এবং হাতে-কলমে ঘুম পাড়ানোর সহায়তা দরকার হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
আগে শুরু করার জন্য কোনো পুরস্কার নেই। ঘুম মোটামুটি সামলানো গেলে যে পদ্ধতিগুলো কাজ করছে, সেগুলোই চালিয়ে যান।
শিশুকে কাঁদতে দিয়ে একা রাখবেন না
কাঁদছে এমন শিশুর সাড়া পাওয়া দরকার। এই বয়সে কান্নার কারণ ক্ষুধা, অস্বস্তি, ক্লান্তি, অতিরিক্ত উত্তেজনা বা আশ্বাসের প্রয়োজন, যেকোনো কিছু হতে পারে। আপনি শিশুকে কোলে নিতে পারেন, দুধ খাওয়াতে পারেন, দোলাতে পারেন অথবা কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করতে পারেন।
সাড়া দিলে শিশু নষ্ট হয়ে যায় না। বরং তার স্নায়ুতন্ত্র এখনও পরিণত হওয়ার পথে থাকায় আপনার সাড়া নিরাপত্তা ও ভরসার অনুভূতি তৈরি করে।
নিখুঁত সময়সূচির পেছনে ছুটবেন না
ইন্টারনেটে ৩ মাসের শিশুর ঘুমের রুটিন অনেক সময় সামরিক প্রশিক্ষণের মতো মনে হয়। সকাল সাতটায় ওঠা, ৮টা ১৫ মিনিটে ঘুম, ১০টায় দুধ, তারপর দুপুর পর্যন্ত ঘুম, বাস্তব জীবন সাধারণত এতটা গোছানো নয়।
কখনো চারবার, কখনো পাঁচবার দিনের ঘুম হতে পারে। কোনো দিন স্ট্রলারে ঘুমিয়েই বিকেলটা সামলাতে হতে পারে। আবার কোলে না নিলে হয়তো শিশুর ঘুমই হবে না।
৩ মাসের ঘুমের সময়সীমাকে নির্দেশ নয়, পথনির্দেশ হিসেবে ব্যবহার করুন। মোট কতক্ষণ ঘুমাচ্ছে, শিশুর সংকেত কী বলছে এবং আপনার নিজের শক্তি কতটা আছে, সেদিকে নজর দিন।
৩ মাসের শিশুর রাত জাগা সামলানোর উপায়
ভালো ৩ মাসে ঘুম স্থির করার কৌশল সাধারণত সহজ, নিয়মিত এবং বাস্তবসম্মত হয়। শিশুকে ঘুম পাড়ানোর আগে ঘর প্রস্তুত করে রাখুন। পাশে পানির বোতল রাখুন। রান্না বা ঘরের কাজে সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। শিশু যদি ক্যারিয়ারে দীর্ঘক্ষণ ঘুমায়, সেই সময় ঘরের কাজ না করে আপনিও বিশ্রাম নিন। এগুলোই নতুন মায়ের ঘুম টিপস হিসেবে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।
সম্ভব হলে রাতের দায়িত্ব ভাগ করে নিন। সঙ্গী থাকলে আগে থেকেই ঠিক করুন, কে প্রথমে শিশুর কাছে যাবে। রাত তিনটায় আধঘুমের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে আগেই পরিকল্পনা করে রাখা সহজ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, এই সময়টা ভবিষ্যতের প্রতিটি রাতের পূর্বাভাস নয়। তিন মাসে শিশুর ঘুম চক্র এখনও পুরোপুরি পরিণত হয়নি। ঘুমের ধরন বদলাচ্ছে, দিনের ঘুম অল্প হতে পারে এবং শিশুর চারপাশে আবিষ্কার করার মতো এত কিছু আছে যে সবকিছু ফেলে একটানা ঘুমিয়ে থাকা তার পক্ষে কঠিন।
আপনি কোনো ভুল করছেন না। ঘুমের জায়গা নিরাপদ রাখুন, শিশুর জেগে থাকার সময়ের দিকে খেয়াল করুন, ছোট রুটিনগুলো নিয়মিত করুন এবং যে সহায়তায় শিশু বিশ্রাম পায় তা গ্রহণ করুন। শিশুর ঘুম চক্র সম্পর্কে তথ্য জানা এবং ধৈর্য রাখা এই পর্যায়ে খুব উপকারী। আগামী কয়েক মাসে ধীরে ধীরে ঘুম আরও গোছানো হয়ে আসার সম্ভাবনাই বেশি।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।