আপনার বাচ্চা রাতে বারবার জেগে ওঠে? কারণ, রুটিন ও কার্যকর সমাধান
আপনার বাচ্চা যদি প্রতি ঘণ্টায় জেগে ওঠে, ঘুম পাড়াতে সাহায্য লাগে, কিংবা রাত ২টায় একেবারে সজাগ হয়ে যায়, তাহলে ধরে নেবেন না যে আপনি কিছু ভুল করছেন। শিশুর জীবনের শুরুর দিকের বাচ্চার ঘুম বেশ অনিয়মিত হতে পারে। কয়েক রাত ভালো ঘুমানোর পরও হঠাৎ ঘন ঘন জেগে ওঠা স্বাভাবিক। তাই “বাচ্চা রাতে ঘুমায় না” সমস্যার একটিমাত্র কারণ সাধারণত থাকে না। ক্ষুধা, দিনের ঘুমের অনিয়ম, অস্বস্তি, কিংবা বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক বিকাশের পরিবর্তন, সবই এর পেছনে থাকতে পারে।
সমস্যা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এক ধাপ করে এগোনো। আগে প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত কি না দেখুন। তারপর রাতের ঘুম ঠিক করার আগে দিনের রুটিনটি খেয়াল করুন।
“সারারাত ঘুমানো” বলতে আসলে কী বোঝায়
তিন মাস বয়সে রাতে দুধ খাওয়ার জন্য দুই বা তিনবার জেগে ওঠা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। বেড়ে ওঠার সময়ে কোনো কোনো শিশু আরও বেশি জাগতে পারে। আবার কেউ কেউ একবার তুলনামূলক লম্বা সময় ঘুমিয়ে পরে ভোরের দিকে কয়েকবার জেগে উঠতে পারে।
তিন মাসের শিশু “সারারাত ঘুমাচ্ছে” বলা হলে সাধারণত টানা ৫-৬ ঘণ্টা ঘুম বোঝানো হয়, ১২ ঘণ্টা একটানা ঘুম নয়। রাত ১০টায় দুধ খেয়ে ভোর ৪টা পর্যন্ত ঘুমালে সেটি বেশ ভালো ঘুম হিসেবেই ধরা যায়, যদিও এরপর শিশুটি সকাল পর্যন্ত আরও একবার বা দুবার জেগে উঠতে পারে। তাই অনেক অভিভাবকের প্রশ্ন, ৫-৬ ঘন্টা ঘুম মানে কি শিশুর জন্য যথেষ্ট? এই বয়সে অনেক সময় এটিই স্বাভাবিক দীর্ঘ ঘুমের পর্ব।
নবজাতক ও ছোট শিশুর ঘুমের চক্র বড়দের চেয়ে ছোট। তারা হালকা ঘুমেও বেশি সময় থাকে। ঘুমের এক চক্র থেকে আরেক চক্রে যাওয়ার সময় গোঁ গোঁ করা, হাত চোষা, নড়াচড়া করা বা অল্প সময়ের জন্য চোখ খোলা স্বাভাবিক। প্রতিটি শব্দের অর্থ এই নয় যে শিশু পুরোপুরি জেগে গেছে বা সঙ্গে সঙ্গে তাকে কোলে নিতে হবে।
“স্লিপ রিগ্রেশন” শব্দটি অনেক সময় স্বাভাবিক পরিবর্তনকেও ভয়ংকর মনে করায়। তিন থেকে চার মাস বয়সের দিকে শিশুর ঘুমের ধরন পরিণত হতে শুরু করে এবং ঘুমের চক্রগুলো আলাদা হয়ে ওঠে। ফলে শিশু রাত জাগে কেন এই প্রশ্নের উত্তর কখনও হতে পারে বয়সজনিত পরিবর্তন। এর অর্থ এই নয় যে শিশু ঘুমাতে ভুলে গেছে।
প্রথমে দিনের রুটিনটি দেখুন
রাতে শিশুর ঘুম অনেক সময় দিনের অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন। দিনে খুব কম ঘুম হলে শিশু অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। আবার দিনে বেশি ঘুম হলে রাতে ঘুমের প্রয়োজন কমে যেতে পারে। তাই শিশুর ঘুমভাঙার কারণ খুঁজতে গিয়ে প্রথমে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন:
- শিশু কি দিনে নিয়মিত দুধ খাচ্ছে?
- দিনের ঘুম কি মোটামুটি অনুমানযোগ্য সময়ে হচ্ছে?
- দুই দফা ঘুমের মাঝের জেগে থাকার সময় কি বয়স অনুযায়ী ঠিক আছে?
- শেষ দিনের ঘুম কি এত দেরিতে শেষ হচ্ছে যে রাতে শোয়ানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে?
- রাতে শোয়ানোর সময় শিশু কি এত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে যে শান্ত হওয়ার বদলে কাঁদতে শুরু করছে?
একেবারে কড়াকড়ি সময়সূচি দরকার নেই। খাওয়ানো ও বেড়ে ওঠার ধরন যখন প্রতিদিন বদলাতে পারে, তখন নমনীয় শিশু ঘুমের রুটিন বেশিরভাগ পরিবারের জন্য ভালো কাজ করে। শুধু ঘড়ির দিকে না তাকিয়ে শিশুর সংকেত দেখুন, তবে সময়কে একটি সহায়ক নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
১. দিন-রাতের বিভ্রান্তি এখনও কাটেনি
কিছু নবজাতকের কাছে দিন মানে অল্প অল্প করে ঘুমানো, আর রাত মানে জেগে থাকা ও নড়াচড়া করা। এই দিন ও রাত বিভ্রান্তি শিশুদের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক সপ্তাহের পরও সমস্যা থাকতে পারে। বিশেষ করে দিনে যদি অন্ধকার, নীরব ঘরে ঘুম হয়, আর রাতে দুধ খাওয়ানোর সময় উজ্জ্বল আলো ও বেশি কথাবার্তা থাকে, তাহলে বিভ্রান্তি আরও দীর্ঘ হতে পারে।
যা করতে পারেন
দিন ও রাতের পরিবেশে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করুন:
- সকালে পর্দা সরিয়ে ঘরে প্রাকৃতিক আলো ঢুকতে দিন।
- শিশু জেগে থাকলে কথা বলুন, গান গাইুন ও খেলুন।
- দিনে ঘুমের সময় ঘরের স্বাভাবিক শব্দ একেবারে বন্ধ করার দরকার নেই।
- দিনে নিয়মিত দুধ খাওয়ান। খুব দীর্ঘ সময় না খেয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেবেন না, যদি না চিকিৎসক অন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
- সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে ঘরের আলো কমিয়ে আনুন।
রাতে দুধ খাওয়ানোর সময় পরিবেশ যতটা সম্ভব একঘেয়ে রাখুন। মৃদু আলো ব্যবহার করুন, বেশি কথা বলা বা চোখে চোখ রাখার চেষ্টা এড়িয়ে চলুন এবং ধীরে নড়াচড়া করুন। ডায়াপার খুব ভেজা, নোংরা বা ত্বকে অস্বস্তি তৈরি না করলে প্রতিবার বদলানোর প্রয়োজন নেই। অল্প সময়ে দুধ খাইয়ে আবার শুইয়ে দিন। এতে শিশু বুঝতে শেখে, রাত খেলার সময় নয়, ঘুমের সময়।
২. অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ঘুম বারবার ভেঙে যাচ্ছে
অনেক অভিভাবক এই কারণটি শুরুতে বুঝতে পারেন না। শিশু দিনের ঘুম মিস করলে বা দীর্ঘ সময় জেগে থাকলে শরীরে কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন বাড়তে পারে। তখন শান্তভাবে ঘুমিয়ে পড়ার বদলে শিশু অস্থির, কান্নাকাটি করা, অতিরিক্ত চঞ্চল এবং ঘুম পাড়ানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। রাতের ঘুমও বারবার ভেঙে যেতে পারে।
প্রায় তিন মাস বয়সী অনেক শিশুর জেগে থাকার সময় মোটামুটি ৭৫ থেকে ৯০ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে দুধ খাওয়া, ঢেঁকুর তোলা, কোলে থাকা এবং ঘুমের প্রস্তুতিও পড়ে। খারাপ ঘুমের পর বা বেড়ে ওঠার সময়ে কোনো শিশুর এর চেয়েও কম সময় জেগে থাকা প্রয়োজন হতে পারে। আবার কেউ সামান্য বেশি সময়ও জেগে থাকতে পারে।
ঘুম পাওয়ার শুরুর সংকেতগুলো লক্ষ্য করুন। যেমন, একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা, হাই তোলা, নড়াচড়া কমে যাওয়া, মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বা হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়া। খুব জোরে কান্না শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে জেগে থাকার সময় শেষ হওয়ার কিছু আগেই ঘুমের প্রস্তুতি শুরু করুন। এতে অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়া ঠেকানো যায়।
দিনে শিশু মোট কতক্ষণ ঘুমাচ্ছে, সেটিও দেখুন। সবার প্রয়োজন এক নয়। তবে বারবার ২০-৩০ মিনিটের ছোট ঘুম এবং দিনের শেষভাগে খুব দীর্ঘ সময় জেগে থাকা, এই দুটিই রাতে বাচ্চার ঘুম সমস্যা তৈরি করতে পারে। রাতের শোওয়ার সময় যদি প্রতিদিন খুব অশান্ত হয়, কয়েক দিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে শুইয়ে দেখে নিতে পারেন।
৩. শিশুর হয়তো যথেষ্ট ঘুমের চাপ তৈরি হচ্ছে না
সমস্যাটি উল্টোটাও হতে পারে। শিশু যদি দিনে খুব লম্বা সময় ঘুমায় বা একাধিকবার বেশ ভালো ঘুমায়, তাহলে রাতে শোওয়ার সময় তার ঘুমের চাপ যথেষ্ট নাও থাকতে পারে। সে বিছানায় শুয়ে হাসতে, শব্দ করতে বা খেলতে চাইতে পারে। ঘুমাতে অনেক সময় লাগতে পারে, কিংবা ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর জেগে উঠে মনে হতে পারে দিনের শুরু হয়ে গেছে।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি পরিবর্তন চেষ্টা করতে পারেন:
- একবারের দিনের ঘুম দুই ঘণ্টার মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন।
- দুই দফা ঘুমের মাঝে শিশুকে বয়স অনুযায়ী কিছুটা সময় জেগে থাকতে দিন।
- বিকেলের শেষভাগে অতিরিক্ত ঘুম যোগ করবেন না, যদি শিশুর সত্যিই তার প্রয়োজন না থাকে।
- রাতের শোওয়ার সময় মোটামুটি একই রাখুন, তবে শিশু স্পষ্টতই ঘুম না পেলে জোর করে শোয়াবেন না।
- রাতের প্রথম অংশে সমস্যা হলে পুরো রুটিন বদলানোর আগে শেষ দিনের ঘুমটি পর্যালোচনা করুন।
দুই ঘণ্টা ঘুমানো নিজে থেকে কোনো সমস্যা নয়। আসল বিষয় হলো, সেই ঘুম দিনের বাকি সময় ও রাতের ঘুমকে কীভাবে প্রভাবিত করছে। কিছু শিশুর দিনে অন্যদের তুলনায় বেশি ঘুম দরকার হয়। তাই দিনের ঘুম হঠাৎ খুব কমিয়ে দিলে উল্টো অতিরিক্ত ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।
৪. ক্ষুধা ও বেড়ে ওঠার সময়
নবজাতকের রাতে জেগে ওঠার সহজ একটি কারণ হলো ক্ষুধা। দ্রুত বেড়ে ওঠার সময়ে শিশুর ক্ষুধা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তিন মাসের কাছাকাছি সময়ে কয়েক দিন ধরে ঘন ঘন দুধ চাওয়া, দুধ খাওয়ার পরও অশান্ত থাকা বা আগের চেয়ে আগে জেগে ওঠা দেখা যায়।
দিনের বেলায় সম্ভব হলে শিশুকে ভালোভাবে পেট ভরে দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। বারবার অল্প অল্প করে “স্বল্প ফিড” নেওয়ার বদলে শিশুর প্রয়োজন ও আপনার খাওয়ানোর পদ্ধতি অনুযায়ী পূর্ণ ফিড দিন। ভেজা ডায়াপারের সংখ্যা, দুধ খাওয়ার মান এবং ওজন বাড়ার দিকে খেয়াল রাখুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশু যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে কি না নিয়ে সন্দেহ থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত স্তন্যদান পরামর্শদাতা, স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
কিছু পরিবার রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ড্রিম ফিড বা আধোঘুমে দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। শিশুকে পুরোপুরি না জাগিয়ে হালকা ঘুমের মধ্যেই দুধ খাইয়ে আবার শুইয়ে দেওয়া হয়। এতে কারও কারও রাতের প্রথম ঘুমের পর্ব দীর্ঘ হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে এটি কাজ করে না। এতে শিশু পুরোপুরি জেগে গেলে বা রাতের পরের অংশ আরও খারাপ হলে এই পদ্ধতি বাদ দিন।
শুধু সময়সূচি ঠিক রাখার জন্য দুধ খাওয়ানোর সময় কমাবেন না বা ইচ্ছা করে অনেকক্ষণ পিছিয়ে দেবেন না। শিশুর পুষ্টির প্রয়োজন একেকজনের একেক রকম। রাতের ফিডিং কমানোর উপায় নিয়ে ভাবলে আগে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন।
৫. ঘুমের সঙ্গে নির্দিষ্ট অভ্যাস জুড়ে যাচ্ছে
শিশু যে অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে, সেটিই তার কাছে ঘুমের পরিচিত সংকেত হয়ে উঠতে পারে। যেমন, দুধ খেতে খেতে ঘুমানো, কোলে দোলানো, হাঁটাহাঁটি করে ঘুম পাড়ানো, ঝাঁকানো, কোলে নিয়ে থাকা বা চুষনি ব্যবহার করা। এগুলো কোনো খারাপ অভ্যাস নয়। ছোট শিশুকে শান্ত করার স্বাভাবিক উপায় এগুলো।
সমস্যা তৈরি হতে পারে যখন শিশু এক অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে, কিন্তু ঘুমের মাঝখানে জেগে উঠে নিজেকে অন্য অবস্থায় দেখতে পায়। উদাহরণস্বরূপ, কোলে দুধ খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়ার পর ৪৫ মিনিট পরে বিছানায় জেগে উঠে সে পরিচিত অবস্থাটি না পেয়ে কাঁদতে পারে। ক্ষুধা না থাকলেও এ কারণেই শিশু রাত জাগে কেন এমন প্রশ্ন উঠতে পারে।
তিন মাস বয়সে প্রতিটি ঘুমের অভ্যাস বাদ দেওয়ার দরকার নেই। বরং ধীরে ধীরে কিছু বৈচিত্র্য আনুন:
- কখনও ঘুমের রুটিনের একেবারে শেষে না রেখে একটু আগে দুধ খাওয়ান।
- কোলে নিয়ে শান্ত করুন, তারপর পুরোপুরি ঘুমিয়ে পড়ার আগেই আধোঘুমে বিছানায় রাখুন।
- কোনো কোনো রাতে কোলে নেওয়া, হালকা পিঠ চাপড়ানো বা শান্ত গান গেয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুন।
- সম্ভব হলে শিশুকে বিছানাতেই ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগ দিন।
- ঘুমের রুটিনে একটি পরিচিত অংশ রাখুন, যেমন স্লিপ স্যাক বা ছোট একটি গান।
একসঙ্গে অনেক পরিবর্তন করবেন না। শিশু অস্বস্তিতে পড়লে আবার বেশি সহায়তা দিন এবং অন্য রাতে ধীরে চেষ্টা করুন। লক্ষ্য শিশুকে পরীক্ষা করা নয়, বরং তাকে বিভিন্নভাবে ঘুমিয়ে পড়ায় অভ্যস্ত করা।
৬. ঘুমের পরিবেশে অস্বস্তি হচ্ছে
ঘর অতিরিক্ত গরম, বেশি আলোযুক্ত বা কোলাহলপূর্ণ হলে শিশুর ঘুম বারবার ভেঙে যেতে পারে। বেশিরভাগ শিশু অন্ধকার, আরামদায়ক ও স্থির পরিবেশে ভালো ঘুমায়।
নিচের বিষয়গুলো দেখুন:
- ঘর আরামদায়ক ঠান্ডা রাখুন, অতিরিক্ত গরম নয়। শিশুর ঘুমের জন্য সাধারণত ১৬ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আরামদায়ক ধরা হয়, তবে ঘরের বাতাস ও শিশুর পোশাক অনুযায়ী সামঞ্জস্য করুন।
- আলগা চাদরের বদলে সঠিক মাপের স্লিপ স্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
- শিশুর বিছানায় বালিশ, ভারী কাঁথা, খেলনা, বাম্পার বা নরম অতিরিক্ত জিনিস রাখবেন না।
- বাতি, মোবাইল বা টেলিভিশনের আলো এবং জানালা দিয়ে আসা বাইরের আলো কমান।
- ঘরের স্বাভাবিক শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে কম শব্দে স্থির ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ ব্যবহার করা যেতে পারে। যন্ত্রটি বিছানা থেকে দূরে রাখুন এবং শব্দ কম রাখুন।
- হাত ঠান্ডা কি না দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। শিশুর বুক বা পিঠ ছুঁয়ে শরীরের তাপমাত্রা বোঝার চেষ্টা করুন। হাত-পা ঠান্ডা থাকা অনেক সময় স্বাভাবিক।
শিশুর জন্য শক্ত, সমতল এবং আলাদা ঘুমের জায়গাই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রতিবার শিশুকে চিৎ করে শোয়ান। আপনি খুব ক্লান্ত থাকলে রাতের দুধ খাওয়ানোর আগে থেকেই নিরাপদ ব্যবস্থা ঠিক করে রাখুন, যাতে সোফা বা হাতলওয়ালা চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
৭. অস্বস্তি, অসুস্থতা, রিফ্লাক্স, একজিমা বা দাঁত ওঠা
কখনও কখনও ঘুমের সমস্যা আসলে শারীরিক অস্বস্তির লক্ষণ। ভেজা বা নোংরা ডায়াপার, পেটে গ্যাস, দুধ উঠে আসা, একজিমার চুলকানি, নাক বন্ধ থাকা কিংবা কোনো অসুস্থতা শিশুকে ঘুমাতে বাধা দিতে পারে।
দাঁত ওঠা ও ঘুম নিয়ে অনেক কথা শোনা গেলেও প্রতিটি অশান্ত রাতের কারণ দাঁত ওঠা নয়। দাঁত ওঠার কয়েক সপ্তাহ আগেও লালা পড়া ও কিছু কামড়াতে চাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শিশুর জ্বর থাকলে, অস্বাভাবিক অসুস্থ মনে হলে, দুধ কম খেলে, ভেজা ডায়াপার কমে গেলে, শ্বাস নিতে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে বা কোনোভাবেই শান্ত না হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রিফ্লাক্স বা দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। নিজে থেকে বিছানার মাথার দিক উঁচু করবেন না এবং চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া কোনো ওষুধ বা ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করবেন না। সবুজ বা রক্তমিশ্রিত বমি, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঝিমুনি বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
একজিমার চুলকানিতে ঘুম বারবার ভেঙে গেলে চিকিৎসকের দেওয়া চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করুন। শিশুর নখ ছোট রাখুন, সংবেদনশীল ত্বকের জন্য উপযোগী পণ্য ব্যবহার করুন এবং চুলকানি বা ত্বক ফেটে যাওয়ার সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভালো রাতের ঘুমের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা
আপনি যদি ভাবেন কীভাবে শিশুকে রাতে ঘুম পাড়াব, তাহলে কয়েক দিন নিচের চারটি ধাপ মেনে চলার চেষ্টা করুন:
- আগে দিনের ছন্দ ঠিক করুন। নিয়মিত দুধ খাওয়ান, দিনের ঘুমের সুযোগ দিন এবং জেগে থাকার সময় মোটামুটি ৭৫ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন।
- দুই চরম অবস্থা এড়িয়ে চলুন। দিনের ঘুম বাদ দেবেন না, আবার একবারের ঘুম দুই ঘণ্টার বেশি হতে দেবেন না। দুই ঘুমের মাঝে পর্যাপ্ত জেগে থাকার সময় রাখুন।
- ছোট ও একই রকম রাতের রুটিন রাখুন। যেমন, দুধ, ডায়াপার, ঘুমের পোশাক, আলো কমানো, গান, কোলে নেওয়া, তারপর বিছানা।
- রাতে একইভাবে শান্তভাবে সাড়া দিন। ক্ষুধা লাগলে দুধ খাওয়ান, ঘর অন্ধকার রাখুন এবং জেগে ওঠাকে খেলার সময়ে পরিণত করবেন না।
সম্ভব হলে একবারে একটি পরিবর্তন করুন। একসঙ্গে অনেক কিছু বদলালে কোনটি কাজে এসেছে বোঝা কঠিন হয়। তিন দিনের জন্য দুধ খাওয়ানোর সময়, দিনের ঘুম, রাতে শোওয়ার সময় এবং কখন কখন জেগেছে, তা লিখে রাখুন। প্রতিটি রাত যখন একসঙ্গে মিশে যায়, তখন কাগজে লেখা তথ্য থেকে অনেক সময় আসল ধরণটি পরিষ্কার হয়।
তিন মাস বয়সী শিশুকে ১২ ঘণ্টা একটানা ঘুম পাড়িয়ে রাখার কোনো জাদুকরী উপায় নেই। বাস্তব প্রত্যাশা, সুশৃঙ্খল দিনের রুটিন, দিনে পর্যাপ্ত দুধ, শান্ত ঘুমের প্রস্তুতি এবং আরামদায়ক নিরাপদ ঘুমের জায়গা থাকলে অনেক পরিবার রাতের প্রথম ঘুম কিছুটা দীর্ঘ হতে দেখে। পরিবর্তন শুরুতে ছোট মনে হতে পারে, যেমন একদিন সহজে ঘুমিয়ে পড়া, রাতে একবার কম জেগে ওঠা বা টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুম। এটিও অগ্রগতি।
ঘুম ট্রেনিং কখন শুরু করব বা কবে শিশু রাতে ঘুমাবে, এই প্রশ্নের উত্তর প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে এক নয়। তিন মাস বয়সে লক্ষ্য হওয়া উচিত নিরাপদ অভ্যাস ও নিয়মিত রুটিন তৈরি করা, শিশুকে দীর্ঘ সময় কাঁদিয়ে রাখা নয়। নতুন অভিভাবকদের জন্য নতুন মা ঘুম সমস্যা খুবই বাস্তব। তাই নিজের বিশ্রামের ব্যবস্থাও করুন এবং প্রয়োজন হলে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিন।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।