বুক প্রত্যাখ্যান: কেন শিশুরা বুক নিতে অস্বীকার করে, লক্ষণ ও সহজ সমাধান
হঠাৎ করে বাচ্চা কান্না শুরু করলে, শরীর শক্ত করে ফেললে, পিঠ বাঁকিয়ে দিলে বা একেবারেই বুক খেতে না চাইলে মা-বাবার খুব দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। মনে হতে পারে, “কালও তো ঠিকঠাক বুক খেয়েছে, আজ এমন করছে কেন?” একটু শান্ত থাকুন। বুক প্রত্যাখ্যান খুবই সাধারণ ঘটনা এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক। এর মানে সাধারণত এই নয় যে শিশু আর স্তনপান করবে না, বা আপনি কোনো ভুল করেছেন।
খাওয়ানোর সময় বাচ্চা বিরক্ত হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। দুধ খুব দ্রুত আসছে, খুব ধীরে আসছে, বোতল খাওয়ার অভ্যাস হয়েছে, অথবা কানে ব্যথা করছে। লক্ষণগুলো কখন দেখা দিচ্ছে, সেটা খেয়াল করুন। বুক ধরানোর শুরুতেই কি কান্না করে? শুধু এক পাশের বুক নিতে চায় না? বোতল খাওয়ার পর সমস্যা বেশি হয়? ঘরে অনেক শব্দ বা লোকজন থাকলে কি অস্থির হয়? এই ছোট তথ্যগুলোই বুক প্রত্যাখ্যান কারণ ও সমাধান বুঝতে সাহায্য করে।
বুক প্রত্যাখ্যান দেখতে কেমন হতে পারে
বয়স ও স্বভাবভেদে শিশু বুক নেয় না, এমন আচরণ নানা রকম হতে পারে। যেমন আপনার বাচ্চা হয়তো:
- বুক খাওয়ানোর ভঙ্গিতে নিলেই কাঁদে বা শরীর শক্ত করে ফেলে
- কয়েক সেকেন্ড চুষে বারবার বুক ছেড়ে দেয়
- বুকের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়
- অল্প সময় চুষেই রেগে যায় বা কান্না করে
- দুধ নামার সময় কাশি দেয়, দম আটকে আসে বা হোঁচট খায়
- ঘুমঘুম অবস্থায় ভালো খায়, কিন্তু জেগে থাকলে বুক নিতে চায় না
- বোতল নেয়, কিন্তু স্তনে ঠিকমতো মুখ লাগাতে চায় না
একবার বা দুবার এমন হলে সব সময় সমস্যা বোঝায় না। বড়দের মতো শিশুরও কখনো কখনো অস্বস্তির দিন যায়। তবে নিয়মিত বাচ্চা বুক খায় না হলে সম্ভাব্য কারণগুলো খুঁজে দেখা দরকার।
বোতল শুরু করার পর দুধের গতির প্রতি পছন্দ
বোতল চালুর পর স্তনপান সমস্যা হওয়ার পরিচিত একটি কারণ হলো দুধ দ্রুত পাওয়ার অভ্যাস। বিশেষ করে দ্রুত-ফ্লো টিট থাকলে বা বোতল খাড়া করে ধরা হলে খুব কম পরিশ্রমেই দুধ বের হয়। কিন্তু বুকের দুধ খাওয়ার সময় প্রবাহ একরকম থাকে না। শিশুকে চুষতে হয়, একটু অপেক্ষা করতে হয়, দুধ নামার পর আবার ছন্দ ধরে খেতে হয়।
কল থেকে সরাসরি পানি পাওয়ার পর হঠাৎ স্ট্র দিয়ে পানি খেতে হলে যেমন বিরক্ত লাগতে পারে, শিশুর ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটতে পারে।
বাচ্চা বোতল পছন্দ করে ফেললে সে আগ্রহ নিয়ে বুক ধরতে পারে, কিন্তু দুধ নামতে দেরি হলে রেগে যায়। আবার শুরুতে দুধ দ্রুত আসার পর প্রবাহ কমে গেলে মাঝপথেও বিরক্ত হতে পারে।
বোতল খাওয়ানোর পর বুক খাওয়ানোর উপায়
সব ক্ষেত্রে বোতল পুরোপুরি বন্ধ করতে হয় না। লক্ষ্য হলো বোতল থেকে খাওয়াকে বুক খাওয়ার তুলনায় অতিরিক্ত সহজ না করে তোলা।
এগুলো চেষ্টা করতে পারেন:
- শিশুর বয়স অনুযায়ী সবচেয়ে ধীর গতির টিট বা নিপল বেছে নিন। ব্র্যান্ডভেদে নম্বরের অর্থ আলাদা হতে পারে, তাই শুধু প্যাকেটের নম্বর নয়, শিশুর খাওয়ার ধরনও দেখুন।
- পেসড বোতল খাওয়ানোর পদ্ধতি অনুসরণ করুন। শিশুকে আধা-বসা অবস্থায় রাখুন, বোতল প্রায় আড়াআড়ি ধরে দিন এবং কয়েকবার চোষার পর বিরতি দিন। টিট যেন সব সময় দুধে ভরা না থাকে।
- বাচ্চাকে নিজের গতিতে খেতে দিন। দ্রুত বোতল শেষ করানোর জন্য চাপ দেবেন না।
- খুব বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে কান্না শুরুর আগেই বুক দিন। প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ও রাগান্বিত শিশু দুধ নামার জন্য অপেক্ষা করতে চাইবে না।
- শিশু শান্ত, তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঘুম থেকে সদ্য জাগা অবস্থায় বুক খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। অনেক শিশু দিনে বুক নিতে না চাইলেও আধোঘুমে বেশ ভালো খায়।
যাঁরা বুকের দুধ ও বোতল দুটোই দিচ্ছেন, নিয়মিত দুধ বের করে রাখছেন বা কাজে ফিরেছেন, তাঁদের জন্য পেসড বোতল খাওয়ানোর পদ্ধতি বিশেষ উপকারী। এতে শিশুর খাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকে এবং বোতলের পর বুক খাওয়ানো সহজ হতে পারে।
নিপল বিভ্রান্তি ও চোষার ভিন্ন কৌশল
অনেকে একে নিপল বিভ্রান্তি বলেন। আবার স্তন্যদান পরামর্শকেরা দুধের গতির প্রতি পছন্দ বা বুক-বোতল পছন্দ বলেও উল্লেখ করেন। নাম যাই হোক, কিছু শিশুর ক্ষেত্রে সমস্যাটি বাস্তব।
বুক ও বোতল থেকে দুধ খাওয়ার মুখের কৌশল এক নয়। বুক খাওয়ার সময় শিশুকে মুখ বড় করে খুলতে হয়, স্তনের অনেকটা অংশ মুখে নিতে হয় এবং জিহ্বা ছন্দে নড়াতে হয়। কিছু বোতলের টিটে তুলনামূলক অগভীরভাবে চুষলেও দুধ বের হয়। যে ছোট শিশু এখনো বুক ধরা শিখছে, তার জন্য দুই ধরনের কৌশলের মধ্যে বদলানো কঠিন হতে পারে।
নিপল বিভ্রান্তি কমাতে বুককে শিশুর কাছে আরামদায়ক, শান্ত ও সহজ অভিজ্ঞতা করে তোলাই মূল কথা।
শিশুকে আবার বুক নিতে সাহায্য করার কোমল উপায়
- সম্ভব হলে, বিশেষত জন্মের প্রথম কয়েক সপ্তাহে, বোতলের ব্যবহার সীমিত রাখুন। চিকিৎসার কারণে অতিরিক্ত দুধ দরকার হলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত স্তন্যদান পরামর্শক বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরামর্শ নিন।
- বোতল প্রয়োজন হলে পেসড পদ্ধতি এবং ধীর ফ্লো নিপল ব্যবহার করুন।
- প্রচুর স্কিন টু স্কিন যোগাযোগ রাখুন। শুধু ডায়াপার পরা শিশুকে আপনার খালি বুকের ওপর রাখুন, প্রয়োজন হলে হালকা কাপড় দিয়ে ঢেকে নিন। প্রতিবার বুক খেতেই হবে এমন চাপ দেবেন না। এতে বুকের কাছে থাকার নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসে।
- ক্ষুধার শুরুর ইঙ্গিত দেখলেই বুক দিন। যেমন নড়াচড়া করা, মুখ দিয়ে খোঁজা, হাত চোষা বা ঠোঁট নাড়ানো। কান্না সাধারণত দেরিতে দেখা দেওয়া ক্ষুধার সংকেত।
- অভিজ্ঞ পরামর্শকের সহায়তায় সাময়িকভাবে নিপল শিল্ড ব্যবহার বিবেচনা করা যায়। কিছু শিশুর জন্য এর দৃঢ় অনুভূতি বোতল থেকে আবার বুকের দিকে ফেরার সেতু হিসেবে কাজ করে। তবে সঠিক মাপ জরুরি, কারণ ভুল শিল্ডে দুধ কম যেতে পারে।
- বুক ধরানোর আগে নিপলের ওপর বা নিপল শিল্ডে কয়েক ফোঁটা দুধ লাগিয়ে দিন। পরিচিত স্বাদ অনেক সময় শিশুকে উৎসাহিত করে।
বোতল খাওয়ার পর আবার বুক খাওয়ার অভ্যাস ফিরতে কয়েক দিন, কখনো আরও বেশি সময় লাগতে পারে। শিশুকে জোর করে স্তনে ধরালে তার ভয় বা অনীহা আরও বাড়তে পারে।
ব্যথা বা অস্বস্তি খাওয়াকে কষ্টকর করে তুলতে পারে
কখনো কখনো বুক প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো, শিশুর কোথাও ব্যথা করছে।
কানের সংক্রমণ
কানের ভেতর সংক্রমণ হলে চোষা ও গিলতে গিয়ে চাপ বাড়ে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে। শিশু এক পাশের বুক খাওয়ার সময় বেশি কাঁদতে পারে, বারবার কান ঘষতে পারে, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অস্থির থাকতে পারে বা জ্বর থাকতে পারে। দাঁত ওঠার সময়ও অনেকে কান টানে, তাই শুধু কান টানলেই সংক্রমণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে অসুস্থতার লক্ষণের সঙ্গে হঠাৎ খাওয়ার পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
চিকিৎসক দেখানোর আগে শিশুকে একটু সোজা ভঙ্গিতে বুক খাওয়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। জ্বর, কান্না বা অস্বস্তি বেশি হলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।
দাঁত ওঠা
সাধারণত একটু বড় বয়সে দাঁত ওঠা শুরু হয়, যদিও সময়ের অনেক তারতম্য থাকতে পারে। মাড়ি ব্যথা করলে বুক ধরা অস্বস্তিকর লাগে, কেউ কেউ কামড় দেয় বা বারবার বুক ছেড়ে দেয়। খাওয়ানোর আগে ঠান্ডা টিথার দিলে কিছুটা আরাম হতে পারে। ব্যথার ওষুধ দেওয়ার কথা ভাবলে শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী শিশু বিশেষজ্ঞ বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
মুখে ছত্রাক সংক্রমণ
মুখে ছত্রাক সংক্রমণ হলে জিহ্বা, গালের ভেতর বা মাড়িতে দুধের সরের মতো সাদা দাগ দেখা যেতে পারে, যা সহজে মুছে যায় না। মায়ের নিপলও ব্যথা, চুলকানি, চকচকে ভাব বা খাওয়ানোর সময় এবং পরে জ্বালাপোড়া করতে পারে।
সংক্রমণ বারবার মা ও শিশুর মধ্যে ছড়ানো ঠেকাতে দুজনেরই চিকিৎসা লাগতে পারে। নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন।
রিফ্লাক্স বা দুধ উঠে আসা
রিফ্লাক্স থাকা শিশু শুরুতে আগ্রহ নিয়ে বুক খেতে পারে, তারপর পিঠ বাঁকায়, মুখ কুঁচকায়, কাশি দেয়, বুক ছেড়ে দেয় বা কাঁদে। বারবার দুধ উগরে দেওয়া, হেঁচকি এবং শুইয়ে রাখলে অস্বস্তি হওয়াও ইঙ্গিত হতে পারে। অল্পবয়সী অনেক শিশুর দুধ উঠে আসা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যথা, ওজন না বাড়া, সবুজ বমি, বমি বা পায়খানায় রক্ত, কিংবা দীর্ঘক্ষণ তীব্র কান্না থাকলে দ্রুত চিকিৎসা দরকার।
এ ক্ষেত্রে জোর করে খাওয়ানো সমাধান নয়। মূল সমস্যার চিকিৎসা করানো দরকার। ব্যথা কমলে অনেক শিশু দ্রুত আবার বুক খেতে শুরু করে।
অতিরিক্ত দুধ ও দ্রুত দুধ নামা
সব সময় দুধ কম থাকার জন্য শিশু বুক নিতে চায় না, এমন নয়। কখনো দুধ এত বেশি এবং এত দ্রুত আসে যে শিশুর জন্য তা সামলানো কঠিন হয়।
দুধ খুব জোরে নামলে ছিটকে বের হতে পারে, শিশু তাড়াহুড়ো করে গিলতে গিয়ে কাশি দিতে পারে বা মুখ দিয়ে দুধ গড়িয়ে বুক ছেড়ে দিতে পারে। এভাবে খাওয়ার শুরুটাকেই সে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলতে পারে।
দুধের গতি কমানোর উপায়
খাওয়ানোর ভঙ্গি বদলালে অনেক পার্থক্য হতে পারে:
- হেলান দিয়ে বুক খাওয়ানো চেষ্টা করুন। আরাম করে হেলান দিয়ে বসুন বা শুয়ে থাকুন, শিশুকে আপনার বুকের ওপর পেটের দিকে রেখে দিন। এতে মাধ্যাকর্ষণের কারণে দুধের গতি কিছুটা কমে।
- বুক খুব টানটান থাকলে ধরানোর আগে হাতে অল্প দুধ বের করে নিন। পরিষ্কার কাপড় বা পাত্রে রাখতে পারেন।
- শিশু দ্রুত দ্রুত গিলতে থাকলে মাঝখানে বিরতি দিয়ে ঢেকুর তুলতে সাহায্য করুন।
- আপনার আরাম থাকলে এবং শিশুর ওজন ঠিকমতো বাড়লে একবারের খাওয়ায় এক পাশের বুকই দিতে পারেন।
দুধের অতিরিক্ত উৎপাদন কমাতে কেউ কেউ নির্দিষ্ট সময় ধরে একই বুক দেওয়ার পদ্ধতির পরামর্শ দেন। এতে উপকার হতে পারে, তবে অভিজ্ঞ স্তন্যদান পরামর্শক বা চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়া করা ভালো নয়। বেশি করলে দুধ কমে যাওয়া বা দুধ জমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
দুধ কম হওয়া বা দুধ নামতে দেরি হওয়া
অন্যদিকে, দুধ নামতে সময় লাগলে শিশুর ধৈর্যচ্যুতি হতে পারে। সে বুক ধরে কয়েকবার চুষে কান্না শুরু করে। এতে আপনার খারাপ লাগলেও এটি ব্যক্তিগত কোনো প্রত্যাখ্যান নয়।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ঘুমের অভাব, ব্যথা, ক্লান্তি বা চারপাশে অনেক ব্যস্ততা থাকলে দুধ নামার প্রতিক্রিয়া ধীর হতে পারে। হরমোনের ওপর এসবের প্রভাব পড়ে।
দ্রুত দুধ নামাতে সহায়তা করুন
- শিশু চুষছে কিন্তু গিলছে না মনে হলে ব্রেস্ট কমপ্রেশন করুন। বুক আলতো করে চেপে ধরলে দুধের প্রবাহ বাড়তে পারে।
- খাওয়ানোর আগে ও খাওয়ানোর মাঝে বুক ম্যাসাজ করুন।
- শিশু খুব অস্থির হলে বুক দেওয়ার আগে ১-২ মিনিট হাতে বা পাম্পে দুধ বের করে নিতে পারেন।
- ল্যাচ ঠিক আছে কি না দেখুন। অগভীরভাবে মুখ লাগালে দুধ পর্যাপ্ত না-ও যেতে পারে, যদিও দুধের সরবরাহ ঠিক থাকে।
- শিশুর চাহিদামতো ও ঘন ঘন বুক দিন। বারবার দুধ বের হলে শরীর আরও দুধ তৈরির সংকেত পায়।
দুধ কম হচ্ছে কি না বুঝতে শুধু বুক নরম লাগছে কি না, সেটি দেখবেন না। ভেজা ডায়াপারের সংখ্যা, শিশুর ওজন বাড়া এবং খাওয়ার সময় গিলতে পারা বেশি নির্ভরযোগ্য লক্ষণ। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে ওজন মাপাতে পারেন। অভিজ্ঞ পরামর্শক পুরো একটি ফিড পর্যবেক্ষণ করলে স্তনপান সমস্যার কারণ দ্রুত ধরা পড়ে।
৬ থেকে ৮ সপ্তাহে চারপাশে মনোযোগ বেড়ে যাওয়া
প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ বয়সে অনেক শিশু চারপাশের পৃথিবী নতুনভাবে খেয়াল করতে শুরু করে। দরজার শব্দ, রান্নাঘরের আওয়াজ, জানালার আলো, কারও কথা বলা, সবকিছুই তখন ভীষণ আকর্ষণীয়।
এই বিকাশের সময় দিনে বুক খাওয়ানোর সময় বাচ্চা বিরক্ত বা অমনোযোগী হতে পারে। সামান্য শব্দেই মাথা ঘুরিয়ে দেয়, বারবার বুক ধরে আবার ছেড়ে দেয়, যেন খাওয়ার চেয়ে আশপাশ দেখাই বেশি জরুরি। অথচ রাতে শান্ত পরিবেশে সে ঠিকই ভালো খেতে পারে।
চেষ্টা করুন:
- কম আলো ও শান্ত ঘরে খাওয়াতে
- টেলিভিশন বন্ধ রাখতে এবং ফোন সরিয়ে রাখতে
- ঘরের শব্দ এড়ানো না গেলে হালকা সাদা শব্দ চালাতে
- অল্প অল্প করে বারবার বুক দিতে
- নিরাপদ ও আরামদায়ক হলে স্লিং বা ক্যারিয়ারে ধরে খাওয়াতে
- ঘুমের আগে, ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থার সুযোগ নিতে
এটি বিরক্তিকর হলেও সাধারণত সাময়িক পর্যায়, স্তনপান শেষ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ নয়।
বুক ধর্মঘট বনাম স্বাভাবিকভাবে বুক ছাড়ানো
হঠাৎ বুক খেতে না চাওয়াকে অনেক সময় বুক ধর্মঘট বলা হয়। অসুস্থতা, দাঁত ওঠা, দৈনন্দিন রুটিন বদল, খাওয়ানোর সময় হঠাৎ জোরে শব্দ, বোতলের টিট পরিবর্তন, মায়ের নতুন পারফিউম বা কখনো কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি হতে পারে।
বুক ধর্মঘট আর শিশুর স্বাভাবিকভাবে বুক ছাড়ার বিষয় এক নয়। স্বাভাবিকভাবে বুক ছাড়ার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে হয় এবং সাধারণত বড় শিশু বা টডলারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যখন সে খাবার ও অন্যান্য পানীয় বেশি নিতে শুরু করে। অল্পবয়সী শিশু হঠাৎ বুক প্রত্যাখ্যান করলে প্রায় কখনোই তা স্তনপান ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত নয়।
ধর্মঘটের সময়:
- বুক দিতে থাকুন, কিন্তু জোর করবেন না। কান্নারত শিশুকে আগে শান্ত করা দরকার হতে পারে।
- শিশু ঘুমঘুম থাকলে, গোসলের সময়, আদর করার পর বা আস্তে হাঁটতে হাঁটতে বুক দেওয়ার চেষ্টা করুন।
- অনেক স্কিন টু স্কিন যোগাযোগ রাখুন। প্রতিটি আদর যে খাওয়াতেই গড়াবে, এমন প্রত্যাশা রাখবেন না।
- দুধের সরবরাহ ধরে রাখতে এবং বুক ভারী হওয়া এড়াতে নিয়মিত হাতে বা পাম্পে দুধ বের করুন।
- প্রয়োজন হলে বের করা দুধ ধীর ফ্লো নিপল ব্যবহার করে ও পেসড পদ্ধতিতে বোতলে দিন।
- এক দিনের বেশি বুক ধর্মঘট চললে দ্রুত সরাসরি সহায়তা নিন।
বেশির ভাগ বুক ধর্মঘট কেটে যায়। অনেক সময় গভীর রাতে, শান্ত অন্ধকার ঘরে, কোনো চাপ না থাকলে শিশুই আবার সহজে বুক ধরে ফেলে।
কখন সাহায্য নেবেন
শিশু ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় নিয়মিত বুক নিতে না চাইলে, আগের চেয়ে কম প্রস্রাবের ডায়াপার ভেজালে, ওজন ঠিকমতো না বাড়লে বা আপনার দুধের পরিমাণ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত স্তন্যদান পরামর্শক বা নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
অল্পবয়সী শিশুর জ্বর, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, শ্বাস নিতে কষ্ট, পানিশূন্যতার লক্ষণ, বারবার বমি, সবুজ বমি বা জাগাতে কষ্ট হওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। বাংলাদেশে জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা যায় বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।
বুক প্রত্যাখ্যান খুব বড় ধাক্কার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ সময় এটি স্তনপানের গল্পের শেষ নয়, সাময়িক একটি অধ্যায় মাত্র। শিশুর সংকেত দেখুন, দুধের সরবরাহ বজায় রাখুন, চাপ কমান এবং শুরুতেই সহায়তা নিন। একা একা সব সামলাতে হবে না।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।