টডলার পাশে নবজাতককে নিরাপদে খাওয়ানোর ব্যবহারিক কৌশল ও পরামর্শ
নবজাতককে খাওয়ানোর প্রথম কয়েক সপ্তাহ, বিশেষ করে বাড়িতে আরেকটি ছোট সন্তান থাকলে, বেশ ব্যস্ততার হতে পারে। একদিকে শিশুকে স্তনে ধরানোর চেষ্টা, অন্যদিকে বড় সন্তান মোজার কথা জিজ্ঞেস করছে, নাশতার প্যাকেট খুলে দিতে বলছে, আবার কখনও সোফায় উঠে পড়ছে। এমন পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক। পাশে টডলার থাকলে প্রতিবার শিশু খাওয়ানো শান্ত, গোছানো বা নিখুঁত হবে, এমন প্রত্যাশা করার দরকার নেই।
সামান্য প্রস্তুতি এই সময়টাকে নিরাপদ ও কম অস্থির করে তুলতে পারে। লক্ষ্য বড় সন্তানকে পুরোপুরি চুপ করিয়ে রাখা নয়। বরং তাকে আগে থেকে পরিচিত কোনো কাজে ব্যস্ত রাখা, কোথায় কীভাবে বসবে তা স্পষ্ট করে দেওয়া এবং শিশুকে খাওয়ানোর সময় আপনার পাশে সাহায্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা।
আপনার জন্য কার্যকর একটি স্তনপানের জায়গা তৈরি করুন
স্তনপানের জায়গা বা খাওয়ানোর ব্যবস্থা খুব সাধারণ হতে পারে। একটি আরামদায়ক চেয়ার, পাশে ছোট টেবিল এবং হাতের কাছে একটি ঝুড়িই যথেষ্ট। যেখানে বাস্তবে বসে শিশুকে খাওয়ানোর সম্ভাবনা বেশি, সেখানেই এই ব্যবস্থা করুন। ব্যবহার করাই যদি কঠিন হয়, তাহলে সাজানো সুন্দর কোনো বিশেষ কোণ খুব একটা কাজে আসবে না।
শিশুকে স্তনে ধরানোর বা বোতল খাওয়ানোর আগে যেসব জিনিস পরে হঠাৎ দরকার হয়ে যায়, সেগুলো হাতের কাছে রাখুন:
- বড় বোতল বা গ্লাসভর্তি পানি
- এক হাতে খাওয়া যায় এমন নাস্তা, যেমন কলা, ওট বার, চিজ, বাদাম বা বিস্কুট
- শিশুর ঢেঁকুর তোলানোর কাপড়
- মোবাইল ফোন ও চার্জার
- ডায়াপার ও ওয়াইপস
- পাতলা কাপড় বা ছোট কম্বল
- বড় সন্তান খেলতে থাকলে শোনার জন্য হেডফোন
স্তনপানের সময় পুরো একটি খাবার খেতেই হবে, এমন নয়। তবে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা দীর্ঘ সময়ের শিশু খাওয়ানোকে আরও কষ্টকর করে তুলতে পারে। তাই এমন খাবার রাখুন যা এক হাতেই খাওয়া যায়। খোসা ছাড়ানো, কাটা বা কোলে প্লেট সামলে খাওয়ার মতো খাবার বাস্তব পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ সময়ই ঝামেলা বাড়ায়।
«বড় বাচ্চার ব্যস্ত বাক্স» তৈরি করুন
«বড় বাচ্চার ব্যস্ত বাক্স» হলো এমন কিছু খেলনা বা কাজের ছোট সংগ্রহ, যা শুধু শিশুকে খাওয়ানোর সময় বের করা হয়। সব সময় পাওয়া যায় না বলেই এগুলো টডলারের কাছে আকর্ষণীয় থাকে। লক্ষ্য এক ঘণ্টা তাকে বিনোদন দেওয়া নয়, বরং আপনার জন্য কিছুটা নির্ভরযোগ্য সময় তৈরি করা।
বড় বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখার ধারণাগুলোর মধ্যে থাকতে পারে:
- বারবার ব্যবহার করা যায় এমন স্টিকার ও খাতা
- ছোট ব্যস্ত বোর্ড
- ম্যাগনেটিক ড্রয়িং প্যাড
- বড় টুকরোর পাজল
- পছন্দের অডিও গল্প
- আলাদা ঘরযুক্ত পাত্রে রাখা নাস্তা
- কয়েকটি খেলনা পশু বা গাড়ি
- এমন বোর্ড বই, যা সে নিজে উল্টে দেখতে পারে
শিশুর বয়স অনুযায়ী নিরাপদ কাজ বেছে নিন। এমন খেলনা এড়িয়ে চলুন যার ছোট ছোট অংশ বারবার হারিয়ে যায় এবং আপনাকেই খুঁজে দিতে হয়। হাত ব্যস্ত থাকলে ছোট একটি অডিও গল্প বেশ কাজে আসতে পারে। আপনি বলতে পারেন, “শিশু খাওয়ার সময় এই বিশেষ বাক্সটা বের হয়।” খাওয়ানো শেষ হলে বাক্সটি আবার তুলে রাখুন।
বাক্সটি কাছে রাখুন, তবে নবজাতকের ঘুমের জায়গায় নয়। বড় সন্তান হাঁটাচলা করতে পারলে এমন ছোট অংশের খেলনা দেবেন না, যা শিশুর মুখে চলে যেতে পারে। কোন জিনিস আপনার সন্তানের জন্য উপযুক্ত, তা আপনি সবচেয়ে ভালো জানেন। একটি তিন বছরের শিশুর জন্য যে বাক্স দারুণ কাজ করে, অন্য শিশুর জন্য সেটিই অনুপযুক্ত হতে পারে।
সবাই ক্লান্ত হওয়ার আগেই নিয়ম ঠিক করুন
শিশুকে খাওয়ানোর সময় টডলার সাধারণত আপনার কাছাকাছি থাকতে চায়। সেই চাওয়ার মধ্যে আদর, কৌতূহল, ঈর্ষা বা শুধু আপনার মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা, সবই থাকতে পারে। সে আপনার পাশে বসতে পারে, হাত ধরে থাকতে পারে বা আপনার বাহুতে হেলান দিতে পারে। কিন্তু শিশুর গায়ের ওপর উঠে পড়া, স্তন বা বোতল টানা, ব্রা কিংবা পাম্পের নল ধরে টানাটানি করা চলবে না।
কেউ বিরক্ত বা কান্নার মধ্যে না থাকতেই নিয়মগুলো বুঝিয়ে দিন। কথা ছোট ও পরিষ্কার রাখুন:
- “তুমি আমাদের পাশে বসতে পারো। শিশুর ওপর উঠতে পারবে না।”
- “শিশুর মাথার কাছে হাত আলতো রাখতে হবে।”
- “এই জায়গা শিশুর খাওয়ার জন্য। তুমি আমার হাত ধরতে পারো।”
- “বোতলটা শিশুর মুখেই থাকবে। তুমি চাইলে তার পায়ে হাত বুলিয়ে দিতে পারো।”
- “আমি তোমাকে শিশুকে টানতে দেব না।”
টডলার শান্ত করার বাক্য প্রতিবার একইভাবে বললে বেশি কার্যকর হয়। দীর্ঘ বক্তৃতার প্রয়োজন নেই। শিশু ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত বা ঈর্ষান্বিত হলে আপনি একদিকে খাওয়াচ্ছেন, অন্যদিকে অনেক কথা বলছেন, এমন অবস্থায় সে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বুঝতে পারবে না।
বড় সন্তান স্তন বা বোতলের দিকে হাত বাড়ালে আলতো করে তার হাত থামিয়ে বিকল্প দিন। বলুন, “আমি তোমাকে টানতে দেব না। তুমি চাইলে শিশুর পায়ের আঙুল ছুঁতে পারো।” সে আপনার কোলে উঠে শিশুর ওপর দিয়ে যেতে চাইলে বকাঝকা না করে নিচে নামিয়ে বলুন, “তুমি আমার কাছে থাকতে চাও, বুঝতে পারছি। শিশুর ওপর দিয়ে নয়, আমার পাশে উঠে বসো।”
সীমা স্পষ্ট হবে, কিন্তু বার্তাটি যেন প্রত্যাখ্যানের মতো না শোনায়। আপনাকে ভাগ করে নিতে গিয়ে বড় সন্তানের নানা রকম অনুভূতি হতে পারে। অনুভূতি প্রকাশ করা তার অধিকার, তবে শিশুকে আঘাত করা বা খাওয়ানোর কাজে বাধা দেওয়া নয়।
টডলার পাশে থাকলে এমন স্তনপানের পজিশন বেছে নিন, যাতে নজর রাখা সহজ হয়
টডলার সঙ্গে স্তনপান করানোর সময় কিছু পজিশনে দুজন শিশুর ওপর নজর রাখা তুলনামূলক সহজ হয়। সবার জন্য একই পজিশন সেরা নয়। প্রসবের পর আপনার শরীরের অবস্থা, শিশুর বয়স, আপনার আরাম এবং বড় সন্তানের আচরণ, সবকিছু বিবেচনায় রাখুন।
হেলান দিয়ে স্তনপান করানো কাজে লাগতে পারে, যদি আপনি জেগে থাকেন, শরীর ভালোভাবে ঠেস দিয়ে বসেন এবং দুজন শিশুকেই দেখতে পান। পিঠের পেছনে বালিশ দিয়ে কিছুটা হেলান নিন, শিশুকে নিজের শরীরের কাছে আনুন এবং টডলারকে শিশুর ওপর নয়, পাশে বসান। শিশুর শরীর ভালোভাবে সমর্থিত থাকবে এবং নাক-মুখ খোলা আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
সাইড-লায়িং স্তনপান রাতে বা দিনের বেলায় বিশ্রামের সময় সুবিধাজনক হতে পারে, তবে কেবল তখনই যখন আপনি জেগে থেকে নজর রাখতে পারবেন। বিছানা, সোফা বা অন্য কোনো জায়গায় নবজাতককে একা রেখে যাবেন না। খাওয়ানো শেষ হলে শিশুকে চিৎ করে তার নিজস্ব নিরাপদ ঘুমের জায়গায় রাখুন। আশপাশে ঢিলেঢালা চাদর, বালিশ বা অন্য কোনো জিনিস রাখবেন না।
কিছু পরিবারের জন্য শিশুকে শরীরের ওপর তুলনামূলক সোজা করে ধরে বা কোলে নিয়ে খাওয়ানো সহজ হয়। এতে শিশুটি কোলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থাকে এবং বড় সন্তানকে সামলানো সুবিধা হতে পারে। চাপের মুহূর্তের বাইরে বিভিন্ন পজিশন চেষ্টা করুন। স্তনপান করানোর পরামর্শদাতা, ধাত্রী, স্বাস্থ্যকর্মী বা ল্যাকটেশন কনসালট্যান্ট আপনার পিঠের ওপর চাপ কমিয়ে শিশুকে ভালোভাবে স্তনে ধরানোর উপায় দেখাতে পারেন।
খাওয়ানোর প্রথম ১০ মিনিট কাজে লাগান
খাওয়ানোর শুরুটাই অনেক সময় সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে। শিশুকে স্তনে ধরাতে সাহায্য লাগতে পারে, আর ঠিক তখনই টডলারের টয়লেটে যাওয়া, অন্য কাপ চাওয়া বা আপনার পুরো মনোযোগ পাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
সম্ভব হলে সঙ্গীকে খাওয়ানোর প্রথম ১০ মিনিট বড় সন্তানকে সামলাতে বলুন। মেঝেতে বসে ব্লক দিয়ে খেলা, তাকে বাগানে নিয়ে যাওয়া বা রান্নাঘরের টেবিলে নাস্তা দেওয়া, কাজটি এমন সাধারণও হতে পারে। এই প্রথম কয়েক মিনিটে আপনি শিশুকে ঠিকমতো ধরাতে, তার অবস্থান পরীক্ষা করতে এবং নিজের কাঁধ-ঘাড় একটু ঢিলে করতে পারবেন।
সঙ্গীর সহায়তায় খাওয়ানো মানে তাকে পুরো সংসারের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া নয়। সঙ্গী আপনার পানির বোতল ভরে দিতে পারেন, নাস্তার প্যাকেট খুলে দিতে পারেন, ঢেঁকুর তোলানোর কাপড় এনে দিতে পারেন বা টডলারকে চেয়ারে উঠে পড়া থেকে আটকাতে পারেন। বাড়িতে অন্য কোনো বিশ্বস্ত বড় মানুষ থাকলে “আমার সাহায্য দরকার” বলার বদলে নির্দিষ্ট কাজ বলুন। যেমন, “আমি শিশুকে স্তনে ধরাচ্ছি, তুমি কি প্রথম ১০ মিনিট রাহাকে নিজের কাছে রাখতে পারবে?”
টডলার পাশে থাকলে বোতল খাওয়ানোর উপায়
বোতল খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও একই রকম প্রস্তুতি কাজে দেয়। শুরু করার আগে পানি, নাস্তা, ঢেঁকুর তোলানোর কাপড় এবং বড় বাচ্চার ব্যস্ত বাক্স কাছে রাখুন। ফর্মুলা দুধ তৈরি করলে প্যাকেটের নির্দেশনা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে চলুন। টডলারকে সামলাতে গিয়ে বোতল গরম করার জন্য ফেলে রাখবেন না। কোনোভাবেই বোতল ঠেস দিয়ে শিশুকে একা খাওয়াবেন না।
বোতলে বুকের দুধ বা ফর্মুলা যাই থাকুক, ধীরে ধীরে খাওয়ানো জরুরি। শিশুকে আধা-বসা অবস্থায় ধরে বোতলটি খুব বেশি উঁচু না করে কিছুটা সমান্তরালভাবে রাখুন এবং মাঝেমধ্যে বিরতি দিন। দ্রুত বোতল শেষ করানোর চেষ্টা না করে শিশুর সংকেত দেখুন। মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া, দুধ পড়ে যাওয়া, গোগ্রাসে গেলা, শরীর শক্ত করে ফেলা বা নিপল মুখ থেকে ঠেলে বের করে দেওয়া, বিরতি দরকার হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
বড় সন্তান “সাহায্য” করতে চাইতে পারে। তাকে নিরাপদ কোনো কাজ দিন, যেমন অডিও গল্প বেছে নেওয়া, পাতলা কাপড় এনে দেওয়া বা আপনার পাশে বসা। প্রাপ্তবয়স্ক কেউ শিশুকে ধরে সতর্কভাবে নজর না রাখলে টডলারকে বোতল ধরতে দেবেন না। সে বোতল ফেলে দিতে পারে, শিশুর মুখের ভেতর নিপল বেশি ঢুকিয়ে দিতে পারে বা অসাবধানতায় শিশুর মুখে চাপ দিতে পারে।
বোতল খাওয়ানোর সময়ও নবজাতকের আপনার মনোযোগ দরকার। বড় সন্তানকে এই সময়ের অংশ করা যায়, তবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
টডলার কান্নায় ভেঙে পড়লে কী করবেন
কোনো এক সময় খাওয়ানোর মাঝখানে টডলার কান্না, চিৎকার বা কোলে ওঠার দাবি করবেই। এর মানে আপনার রুটিন ব্যর্থ হয়েছে, তা নয়। সে এখনও ছোট, আর পরিস্থিতি হয়তো তার সামলানোর ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
প্রথমে দেখুন শিশুকে নিরাপদে সাময়িক থামানো যায় কি না। নবজাতক শান্ত থাকলে এবং বড় সন্তানের আপনার সঙ্গে দ্রুত সংযোগ দরকার হলে দুই মিনিটের জন্য থামতে পারেন। শিশুকে নিরাপদ জায়গায় রাখুন বা শক্তভাবে সমর্থন দিয়ে ধরে রাখুন। তারপর বড় সন্তানকে জড়িয়ে ধরুন, চোখে চোখ রাখুন এবং সহজ করে বলুন, “তোমার আমাকে দরকার ছিল। আমি এখানে আছি। আমরা শিশুকে খাওয়ানো শেষ করব।”
দুই মিনিটেই কখনও পরিস্থিতি সামলে যায়। তারপর আবার খাওয়ানো শুরু করুন।
আবার কখনও তা যথেষ্ট হয় না। বড় সন্তান মারতে চাইলে, শিশুর ওপর উঠতে গেলে বা আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়লে সঙ্গীকে তাকে অন্য ঘরে নিয়ে যেতে বলুন। এটি দুষ্টুমি করার শাস্তি নয়। “তুমি দুষ্টুমি করেছ বলে তোমাকে দূরে পাঠানো হচ্ছে” না বলে বলুন, “তোমার মনটা খুব অস্থির লাগছে। আমি সবাইকে নিরাপদ রাখছি। আমি শিশুকে খাওয়ানো শেষ করা পর্যন্ত বাবা তোমার সঙ্গে অন্য ঘরে থাকবে।”
আপনি একা থাকলে প্রয়োজনে নবজাতককে কয়েক মিনিটের জন্য তার নিরাপদ খাটে চিৎ করে শুইয়ে রাখুন, তারপর টডলারকে শান্ত হতে সাহায্য করুন। দুজনকে একসঙ্গে ধরে শারীরিক টানাটানির মধ্যে থাকার চেয়ে নিরাপদ খাটে কয়েক মিনিট কান্না করা কম ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি স্থির হলে যত দ্রুত সম্ভব খাওয়ানোতে ফিরে যান।
কিছু দিনে খাওয়ানো বারবার থামতে পারে। আবার শুরু করতে হতে পারে। এটিই বাস্তব parenting, ব্যর্থতা নয়।
কিছু নিরাপত্তার নিয়ম কখনও শিথিল করবেন না
বড় সন্তান উপস্থিতে খাওয়ানো নিরাপদ রাখার বিষয়টি নিখুঁত পরিবেশ তৈরির চেয়ে বেশি নির্ভর করে আপনি দুজন শিশুর সামর্থ্য ও অবস্থার ওপর কতটা নজর রাখছেন তার ওপর। চলাফেরা করতে পারে এমন টডলার খুব দ্রুত নড়াচড়া করতে পারে এবং নবজাতক কতটা নাজুক, তা বুঝতে নাও পারে।
এই নিয়মগুলো পরিষ্কার রাখুন:
- টডলার চলাফেরা করতে পারলে নবজাতক ও তাকে কখনও একা রেখে যাবেন না, এমনকি অল্প সময়ের জন্য বাথরুমে গেলেও নয়।
- টডলারকে শিশুর ওপর উঠে, শুয়ে বা শরীরের পুরো ওজন দিয়ে হেলান দিতে দেবেন না।
- স্তনপান বা বোতল খাওয়ানোর সময় শিশুর মুখ ও শ্বাসনালি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে এবং খোলা আছে কি না, নিশ্চিত করুন।
- বড় সন্তানকে সামলাতে গিয়ে নবজাতককে সোফা, বড়দের বিছানা, চেঞ্জিং টেবিল বা চেয়ারে একা রেখে যাবেন না।
- বোতল, পাম্পের যন্ত্রাংশ, ওষুধ, গরম পানীয় এবং ব্যস্ত বাক্সের ছোট জিনিস শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন।
- ঘুম পেতে থাকলে এমন অবস্থায় খাওয়ানো চালিয়ে যাবেন না যেখানে আপনার ঘুমিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। শিশুকে তার নিজস্ব নিরাপদ ঘুমের জায়গায় সরিয়ে রাখুন।
দুই বাচ্চা খাওয়ানো বা একই সময়ে দুজনকে স্তনপান করানোর পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিরাপত্তা নিয়ম প্রযোজ্য। নবজাতক কাছে থাকলে বড় সন্তান স্তনে খেতে পারে, তবে নবজাতকের অবস্থান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। অনেক মা-বাবা আগে নবজাতককে খাওয়ান, বড় সন্তানের জন্য খাওয়ানোর সময় সীমা নির্ধারণ করেন, অথবা অন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক উপস্থিত থাকলেই একসঙ্গে খাওয়ান। দুজনকে একই সময়ে স্তনপান করাতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
বাস্তব জীবনের জন্য রুটিনে নমনীয়তা রাখুন
বড় সন্তান যদি আগে থেকেই জানে এরপর কী হবে, তাহলে টডলার সঙ্গে স্তনপান বা শিশু খাওয়ানো কিছুটা সহজ হয়। যেমন, হাত ধোয়া, ব্যস্ত বাক্স আনা, গল্প বেছে নেওয়া, খাওয়ানোর জায়গার পাশে বসা এবং খাওয়ানো শেষ হলে মায়ের কাছ থেকে আদর নেওয়া। পরিচিত এই রুটিন তাকে একটি ভূমিকা দেয়, কিন্তু শিশুর দায়িত্ব তার ওপর চাপায় না।
কিছুবার খাওয়ানো শান্ত হবে। আবার কোনো কোনো সময় সোফায় স্টিকার লেগে থাকবে, নাস্তার পাত্র খালি হয়ে যাবে এবং টডলার একই গান ছয়বার শোনার জন্য জোর করবে। লক্ষ্য হবে নিরাপদ ও সামলানো যায় এমন একটি ব্যবস্থা, রূপকথার মতো নিখুঁত মুহূর্ত নয়।
শিশুর খাওয়া দরকার। বড় সন্তানের আপনার সঙ্গে সংযোগ দরকার। আপনারও পানি, খাবার ও সহায়তা দরকার। আগে থেকে করা খাওয়ানোর ব্যবস্থা, স্পষ্ট সীমা, টডলার পাশে থাকার উপযোগী খাওয়ানোর নিরাপদ পজিশন এবং সঙ্গীর সহায়তায় খাওয়ানো, এই সবকিছু মিললে বড় সন্তানের ঈর্ষা স্তনপান নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব। প্রতিদিন সবকিছু সুন্দরভাবে হবে না, তবে ব্যস্ত দিনগুলোতেও নিরাপদভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।