নতুন শিশুকে ঘিরে প্রথম কয়েক সপ্তাহকে অনেকেই জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময় বলে মনে করেন। কিন্তু বহু মায়ের জন্য এই সময়টি একই সঙ্গে ভয়ের, একাকিত্বের এবং ভীষণ ক্লান্তিকরও হতে পারে। আপনি যদি সারাক্ষণ মন খারাপ, আতঙ্ক, রাগ, শূন্যতা বা অসহায়ত্ব অনুভব করেন, তবে নিজেকে ব্যর্থ ভাববেন না। এটি প্রসবোত্তর বিষণ্ণতা হতে পারে, আর এর জন্য কার্যকর সহায়তা আছে।
প্রসবের পর ডিপ্রেশন হওয়া আপনার সন্তানের প্রতি ভালোবাসা বা মা হিসেবে আপনার যোগ্যতার মাপকাঠি নয়। এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং নিজের ও পরিবারের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, সন্তান জন্মের পর প্রায় ১০% থেকে ১৫% মা প্রসবোত্তর বিষণ্ণতায় ভোগেন। বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। লজ্জা, পরিবারের বিচার করার ভয় বা “আমাকেই আরও শক্ত হতে হবে” এমন ভাবনা থেকে অনেকেই কাউকে নিজেদের কষ্টের কথা বলেন না।
গর্ভাবস্থার সময়, সন্তান জন্মের কয়েক দিনের মধ্যে, কিংবা কয়েক মাস পরেও এই সমস্যা শুরু হতে পারে। সব সময় এটি শুধু কান্নাকাটি দিয়ে প্রকাশ পায় না। কেউ সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকেন, কেউ অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়েন, কারও প্রচণ্ড রাগ হয়, আবার কারও মনে হয় তিনি যেন আগের মানুষটি আর নেই।
আপনি হয়তো শিশুকে খাওয়াচ্ছেন, টিকার দিনে হাসপাতালে যাচ্ছেন, অতিথিদের সামনে হাসছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দর ছবি দিচ্ছেন। বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক দেখালেও ভেতরে ভেতরে প্রতিটি ঘণ্টা পার করা কঠিন মনে হতে পারে।
বয়স, আয়, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, পারিবারিক পরিবেশ বা পরিকল্পিত গর্ভধারণ ছিল কি না - কোনো কিছুই কাউকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত রাখে না। সঙ্গী বা দত্তক সন্তানের অভিভাবকেরও এমন সমস্যা হতে পারে, তবে এখানে মূলত মায়েদের নতুন মা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সন্তান জন্মের পর অনেক মায়েরই ‘বেবি ব্লুজ’ হয়। হরমোনের দ্রুত পরিবর্তন, ঘুমের ঘাটতি, শারীরিক দুর্বলতা, সেলাই বা ব্যথা, বুকের দুধ খাওয়ানোর চাপ - সব মিলিয়ে শরীর ও মন দুটোই বিপর্যস্ত লাগতে পারে।
সাধারণত সন্তান জন্মের কয়েক দিন পর বেবি ব্লুজ শুরু হয়। অল্পতেই কান্না পাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অস্থিরতা, ভয় বা সবকিছু সামলাতে না পারার অনুভূতি দেখা দিতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি দুই সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়।
বেবি ব্লুজ ও প্রসবোত্তর বিষণ্ণতার পার্থক্য শুধু কান্নার পরিমাণে নয়। লক্ষণ কত দিন থাকছে, কতটা তীব্র এবং সময়ের সঙ্গে কমার বদলে বাড়ছে কি না - সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার মনে যদি প্রশ্ন আসে, “আমার কষ্টটা কি সত্যিই সাহায্য নেওয়ার মতো?” - সেই প্রশ্নটাই কারও সঙ্গে কথা বলার যথেষ্ট কারণ। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই।
সবার ক্ষেত্রে ডিপ্রেশন একইভাবে প্রকাশ পায় না। কারও গভীর দুঃখ থাকে, আবার কারও প্রধান সমস্যা হয় ভয়, রাগ, অস্থিরতা বা ভেতরে ভেতরে একেবারে ফাঁকা লাগা।
একটি বা অনেকগুলো উপসর্গ আপনার সঙ্গে মিলতে পারে। নিচের প্রসবোত্তর বিষণ্ণতার লক্ষণ তালিকা নিজের অভিজ্ঞতাকে ভাষা দিতে সাহায্য করতে পারে:
অনিচ্ছাকৃত ভয়ংকর চিন্তা আসা মানেই এই নয় যে আপনি শিশুর ক্ষতি করতে চান। প্রসবোত্তর উদ্বেগে শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর চিন্তার কারণেই বারবার ভয়ানক ছবি বা আশঙ্কা মাথায় আসতে পারে। তবু নিজের বা শিশুর ক্ষতি করার চিন্তা এলে দ্রুত পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন। আজই কাউকে জানান।
আপনার মনে হলে আপনি নিজের বা অন্য কারও ক্ষতি করে ফেলতে পারেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করুন অথবা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। ওই চিন্তাগুলো নিয়ে একা থাকবেন না।
কাছের কোনো বিশ্বস্ত মানুষকে এখনই ডাকুন - সঙ্গী, পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী বা বন্ধু। প্রয়োজনে তাকে শিশুর কাছে থাকতে বলুন এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
প্রসবোত্তর সাইকোসিস একটি বিরল কিন্তু গুরুতর অবস্থা। এতে তীব্র বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক উত্তেজনা, অন্যরা যা শুনতে বা দেখতে পাচ্ছেন না তা শোনা বা দেখা, সন্দেহপ্রবণতা, অথবা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই এমন দৃঢ় বিশ্বাস দেখা দিতে পারে। এটি চিকিৎসাগত জরুরি অবস্থা। দেরি না করে ৯৯৯-এ ফোন করুন বা জরুরি হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রসবোত্তর বিষণ্ণতার ঝুঁকি কারণ একটিমাত্র বিষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সন্তান জন্মের পর হরমোনের পরিবর্তন, শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক চাপ, অতীতের অভিজ্ঞতা এবং নবজাতকের দায়িত্ব - সবকিছু মিলেই এটি হতে পারে।
কঠিন বা অস্ত্রোপচারজনিত প্রসব হলেই যে ডিপ্রেশন হবে, এমন নয়। আবার সুস্থ শিশুর জন্ম হলেও কেউ এই সমস্যা থেকে নিশ্চিতভাবে নিরাপদ থাকেন না। তবে কিছু পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ঘুমের অভাব সব উপসর্গকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। একাকিত্বও তাই। কয়েক দিন ধরে অন্য কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঙ্গে মন খুলে কথা না হলে একজন মা ভাবতে পারেন, “শুধু আমিই এত কষ্ট পাচ্ছি।” সত্যি হলো, তিনি একা নন।
বিশেষ করে NICU শিশুর মা বিষণ্ণতা বা উদ্বেগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। শিশুকে ইনকিউবেটরে দেখা, অনিশ্চয়তা, বারবার হাসপাতালে যাওয়া এবং নিজের অসহায়ত্ব - এসব অনুভূতি খুব বাস্তব।
সবচেয়ে বড় বাধা প্রায়ই সামাজিক লজ্জা ও ভুল ধারণা। নতুন মাকে ঘিরে এমন প্রত্যাশা থাকে যে তিনি সব সময় আনন্দে থাকবেন, কৃতজ্ঞ থাকবেন, শিশুর সঙ্গে প্রথম দেখাতেই গভীর বন্ধন তৈরি হবে। বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন হলে অনেকের মনে লজ্জা জন্মায়।
আপনার মনে হতে পারে, “আমার তো খুশি থাকার কথা।” অথবা, “অন্য মায়েরা পারছে, আমি কেন পারছি না?”
এগুলো আপনার অযোগ্যতার প্রমাণ নয়। বরং আপনি যে মানসিক চাপে আছেন, তারই প্রকাশ।
অনেকে ভয় পান, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী বা সমাজসেবীরা তাঁকে অযোগ্য মা ভাববেন। কারও কারও আশঙ্কা থাকে, শিশু কেড়ে নেওয়া হবে।
প্রসবোত্তর বিষণ্ণতার জন্য সাহায্য চাইলে শিশুকে আপনার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্য হলো মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, অনিচ্ছাকৃত ভয়ংকর চিন্তা বা চরম ক্লান্তির কথা সৎভাবে বললে সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার পথ সহজ হয়। সাহায্য চাওয়া আপনার সচেতনতা এবং শিশুকে নিরাপদ রাখার ইচ্ছারই পরিচয়।
সব সময় এই সমস্যা বিষণ্ণ মুখে ধরা পড়ে না। কেউ হয়তো শুধু বলেন, তিনি খুব ক্লান্ত। কারও মাথাব্যথা থাকে, কেউ শিশুর রুটিন নিয়ে অস্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণপ্রবণ হয়ে পড়েন, কেউ সব সময় টানটান উদ্বেগে থাকেন। এগুলো প্রসবোত্তর উদ্বেগ, ডিপ্রেশন বা দুটোরই লক্ষণ হতে পারে।
সব কথা একবারে গুছিয়ে বলতে হবে না। একটি বাক্য দিয়েই শুরু করা যায়: “বাচ্চা হওয়ার পর আমি আর সামলাতে পারছি না।” অথবা, “আমার মনে হচ্ছে প্রসবের পর ডিপ্রেশন হয়েছে।”
বাংলাদেশে আপনি আপনার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক, নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। যেসব হাসপাতালে প্রসব হয়েছে, সেখানকার গাইনি বিভাগেও পরামর্শ নেওয়া যায়।
চিকিৎসক আপনার উপসর্গ শুনবেন, প্রয়োজন হলে রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক কারণ আছে কি না পরীক্ষা করবেন এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য রেফার করতে পারেন।
সম্ভব হলে বলুন, কত দিন ধরে এমন লাগছে, ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনে কী প্রভাব পড়ছে, আর কোনো ভয়ংকর চিন্তা আসছে কি না। কথা বলতে কষ্ট হলে সঙ্গী, বন্ধু বা পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিন। উপসর্গগুলো কাগজে লিখে নিলেও সুবিধা হবে।
এডিনবরো পোস্টনাটাল ডিপ্রেশন স্কেল, সংক্ষেপে ইপিডিএস বা EPDS, প্রসব-পরবর্তী ডিপ্রেশন ও উদ্বেগের সম্ভাব্য লক্ষণ যাচাইয়ের একটি ছোট প্রশ্নমালা। চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এটি ব্যবহার করতে পারেন। অনলাইনে নিজে বোঝার জন্যও সংস্করণ পাওয়া যায়।
এটি কোনো চূড়ান্ত রোগনির্ণয় নয়। শুধু একটি স্কোর আপনার পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারে না। তবে নিজের কষ্টকে ছোট করে দেখার অভ্যাস থাকলে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন বুঝতে এটি সহায়ক হতে পারে।
প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন এমন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, কাউন্সেলর বা থেরাপিস্টের সহায়তা অনেক পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা বিশ্বস্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই সেবা পাওয়া যেতে পারে।
প্রসবোত্তর থেরাপি ও পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন একজন পেশাদার বেছে নিন, যাঁর সঙ্গে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। মায়েদের সহায়তা গোষ্ঠী, অনলাইন সাপোর্ট গ্রুপ বা পরিচিত অন্য মায়েদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করাও একাকিত্ব কমাতে পারে। আরেকজন মায়ের মুখে “আমারও এমন হয়েছিল” শুনলে বুকের চাপ অনেকটা হালকা লাগতে পারে।
একা একা সব সহ্য করে যাওয়ার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই। প্রসবোত্তর বিষণ্ণতা চিকিৎসা কার্যকর, আর সঠিক সহায়তা পেলে অনেক মা ধীরে ধীরে আগের মতো ভালো বোধ করেন।
কথার মাধ্যমে চিকিৎসা বা সাইকোথেরাপি অনেক সময় প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। কগনিটিভ বিহেভিয়রাল থেরাপি বা CBT ডিপ্রেশন ও প্রসবোত্তর উদ্বেগে কার্যকর বলে প্রমাণিত। এতে নিজের প্রতি কঠোর চিন্তাগুলো চেনা, ক্ষতিকর বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা এবং কঠিন সময় সামলানোর ব্যবহারিক কৌশল শেখা যায়।
সম্পর্কের পরিবর্তন, শোক, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা সহযোগিতার অভাব মন খারাপের পেছনে কাজ করলে ইন্টারপারসোনাল থেরাপিও উপকারী হতে পারে।
থেরাপিতে শুধু শিশুর কথাই বলতে হবে এমন নয়। আপনি একজন পূর্ণ মানুষ। আপনার পরিচয়, শরীর, সম্পর্ক, অতীত, রাগ, ভয় ও ভবিষ্যতের আশা - সবকিছু নিয়ে কথা বলার অধিকার আপনার আছে।
মাঝারি থেকে তীব্র প্রসবোত্তর বিষণ্ণতায় অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসএসআরআই বা সিলেকটিভ সেরোটোনিন রিইউপটেক ইনহিবিটর শ্রেণির ওষুধ অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হয়। এর কিছু ওষুধ স্তন্যপানের সময়ও চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা সম্ভব।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসক ওষুধের উপকারিতা, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, আপনার আগের মানসিক স্বাস্থ্য ইতিহাস এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করে পরামর্শ দেবেন। নিজের সিদ্ধান্তে হঠাৎ ওষুধ শুরু বা বন্ধ করবেন না। চিকিৎসাহীন ডিপ্রেশনেরও ঝুঁকি আছে, আর আপনার সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সাপোর্ট গ্রুপ জরুরি চিকিৎসার বিকল্প নয়, তবে এটি শক্তিশালী সহায়তা হতে পারে। অনেক অনলাইন গ্রুপে ঘরে বসেই অংশ নেওয়া যায়, যা ঘর থেকে বের হতে না পারা, ঘন ঘন শিশুকে দুধ খাওয়ানো বা অতিরিক্ত ক্লান্ত মায়েদের জন্য সুবিধাজনক।
ব্যবহারিক সাহায্যও চিকিৎসার অংশ। প্রতিবেশী একবেলা রান্না করে দিলে, বোন কাপড় ধুয়ে দিলে, বা বন্ধু কিছুক্ষণ শিশুকে কোলে রাখলে যাতে আপনি গোসল করতে পারেন - এগুলো ছোট বিষয় মনে হতে পারে। কিন্তু নিঃশেষ হয়ে যাওয়া একজন মায়ের কাছে এগুলো অনেক বড় ভরসা।
হাঁটা, ঘুম, পুষ্টিকর খাবার ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ শুধু এগুলো দিয়েই ডিপ্রেশন সারিয়ে দিতে পারে না। কেউ যদি বলেন, “একটু হাঁটলেই সব ঠিক হয়ে যাবে”, তাহলে নিজেকে দোষ দেবেন না। তবে থেরাপি ও ওষুধের পাশাপাশি এসব অভ্যাস সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।
খুব ছোট পরিসর থেকে শুরু করুন:
ছোট পদক্ষেপও পদক্ষেপ।
সঙ্গী, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা সাহায্য করতে চান, কিন্তু কী বলবেন বুঝতে পারেন না। প্রথমে কোনো সমাধান চাপিয়ে না দিয়ে মন দিয়ে শুনুন। তাঁর অনুভূতিকে ছোট করবেন না।
সরাসরি জিজ্ঞেস করুন: “তুমি কি সত্যিই ভালো আছ?” তারপর অপেক্ষা করুন। নীরবতা ভাঙার তাড়া দেবেন না।
প্রসবোত্তর সহায়তা দিতে চাইলে নিয়মিত ও ব্যবহারিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিন:
তিনি কাঁদছেন না বলে রাগ, আতঙ্ক, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া বা অনুভূতিশূন্যতাকে হালকা করে দেখবেন না। ডিপ্রেশন সব সময় নীরব বা একই রকম হয় না।
মা হওয়ার অর্থ নিজের অস্তিত্ব মুছে ফেলা নয়। আপনার সাহায্য লাগতেই পারে। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ না করলেও আপনি খারাপ মা নন। প্রসব, বুকের দুধ, শরীরের পরিবর্তন, সম্পর্ক ও নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া নিয়ে জটিল অনুভূতি থাকা স্বাভাবিক।
প্রসবোত্তর বিষণ্ণতা ভবিষ্যৎকে স্থায়ীভাবে অন্ধকার মনে করাতে পারে। কিন্তু সেটি সত্য নয়। সঠিক প্রসবোত্তর সহায়তা, চিকিৎসা, সময় এবং মানুষের পাশে থাকা - এসবের মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
সাহায্য পাওয়ার জন্য আপনাকে আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছাতে হবে না। আজ একজনকে বলুন। আপনার চিকিৎসককে, সঙ্গীকে, বন্ধুকে, পরিবারের কাউকে বা এমন কোনো মাকে, যিনি হয়তো বুঝবেন।
সাহায্য চাওয়া আপনাকে দুর্বল নয়, বরং আরও সচেতন ও ভালো মা করে তোলে।