নতুন সদস্যকে ঘরে আনার আনন্দের সঙ্গে অনেক সময় এক অদ্ভুত ঝড়ও আসে। কাপড়ের স্তূপ, অর্ধেক খাওয়া দুধের বোতল আর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চায়ের কাপের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে মনে হতে পারে, “আমরা কি আগের মতো আছি?” এমন ভাবনা এলে অপরাধবোধে ভুগবেন না। আপনি একা নন।
সন্তানের পর সম্পর্ক বদলে যায়, তারপর ধীরে ধীরে নতুন এক ছন্দ খুঁজে নেয়। এই পরিবর্তন মানেই সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেছে, তা নয়।
বাচ্চা হওয়ার পর অনেক দম্পতিই সম্পর্কে সন্তুষ্টি কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা পান। এর অর্থ এই নয় যে আপনারা ভুল মানুষকে বিয়ে করেছেন বা ভালোবাসা শেষ হয়ে গেছে। শারীরিক ক্লান্তি, আবেগের ওঠানামা, সংসারের খরচ, শিশুর যত্ন এবং অনিদ্রা - সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে দুজনেরই মানিয়ে নিতে সময় লাগে।
আগে হয়তো গল্প করার, বেড়াতে যাওয়ার, বিশ্রাম নেওয়ার বা হঠাৎ করে কোথাও বেরিয়ে পড়ার সুযোগ ছিল। এখন একজন রাত ৩টায় শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছেন, আর অন্যজনকে সকালে অফিস বা কাজ সামলাতে হচ্ছে। ঘর এলোমেলো, শব্দ বেশি, আর প্রতিদিনই মনে হয় অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
অনেকেই ভাবেন, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা দম্পতিকে আরও কাছাকাছি আনবে। কখনও তা হয়ও। আবার কখনও এই চাপ এমন কিছু দুর্বলতা সামনে আনে, যা আগে চোখে পড়েনি।
এটিও স্বাভাবিক।
সন্তান জন্মের পরের প্রথম কয়েক মাস খুবই কাজকেন্দ্রিক হয়ে উঠতে পারে। আপনারা হয়তো একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা হারাচ্ছেন না, বরং টিকে থাকার মোডে আছেন। দুটির মধ্যে বড় পার্থক্য আছে।
বাচ্চা হওয়ার পর ঝগড়া সাধারণত শুধু বাসন ধোয়া বা ডায়াপার কিনতে ভুলে যাওয়া নিয়ে হয় না। এসব ছোট ঘটনার আড়ালে থাকে বড় কিছু অনুভূতি: “সব দায়িত্ব কি আমাকেই নিতে হবে?”, “তুমি আমার চেষ্টাটা দেখো না”, “আমি তোমাকে মিস করি”, “আমার একটু বিরতি দরকার।”
দাম্পত্যে অশান্তির বড় একটি কারণ হলো মানসিক বোঝা। অর্থাৎ এমন সব পরিকল্পনা, খেয়াল রাখা ও সিদ্ধান্তের কাজ, যেগুলো দেখা যায় না কিন্তু মাথার ওপর সারাক্ষণ চাপ হয়ে থাকে।
অদৃশ্য শ্রম কী, তা বুঝতে নিচের কাজগুলো ভাবুন:
একজন হয়তো দৃশ্যমান অনেক কাজ করেন - বাজার করেন, রান্না করেন, আবর্জনা ফেলেন। অন্যজন নীরবে পুরো ঘর ও শিশুর যত্নের পরিকল্পনাটা চালিয়ে যান। দুজনেই ক্লান্ত বোধ করতে পারেন। কিন্তু যিনি মাথায় সব হিসাব রাখছেন, তাঁর একা লাগার সম্ভাবনা বেশি, কারণ সেই পরিশ্রমটি চোখে পড়ে না।
তাই অদৃশ্য শ্রম বিভাজন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায্যতা শুধু কে বেশি ডায়াপার বদলালেন, সেটি নয়। ডায়াপার বদলানোর সময় হয়েছে, সেটি কে মনে রাখছেন - সেটিও সমান জরুরি।
শিশুকে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, কান্না থামানো, অতিথি আসা, রুটিন তৈরি বা মোবাইলের স্ক্রিন দেখানো নিয়ে আপনাদের মত ভিন্ন হতে পারে। একজন হয়তো নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতে চান, অন্যজন শিশুর ইশারাকে অগ্রাধিকার দেন। একজন সামান্য কাশিতেই ভয় পান, আর অন্যজন খুব তাড়াতাড়ি বলে ফেলেন, “কিছু হয়নি।”
এই প্যারেন্টিং স্টাইলের ভিন্নতা থাকলেই কেউ ভুল বাবা বা মা হয়ে যান না। কিন্তু ক্লান্তি আর উদ্বেগের সময়ে ছোট মতভেদও অভিযোগের মতো শোনাতে পারে।
মনে রাখুন, আপনারা দুজনেই শিখছেন। নিজের এই শিশুটিকে কীভাবে বড় করতে হয়, তা কেউ জন্মগতভাবে জানে না।
ঘুমের অভাব ও সম্পর্ক খুব সহজ সমীকরণ নয়। টানা কয়েক রাত ভাঙা ভাঙা তিন-চার ঘণ্টা ঘুম হলে সাধারণ কথাও খোঁচা বলে মনে হতে পারে। ভুলে যাওয়া একটি কাজও ব্যক্তিগত অবহেলার মতো লাগতে পারে। যে বিষয়ে এক বছর আগে আপনার মন খারাপ হতো না, সেটি নিয়েই হয়তো এখন কান্না চলে আসছে।
এতে আপনি অতিরিক্ত আবেগী নন। আপনার শরীর ও স্নায়ুতন্ত্র বিশ্রামের অভাবে চাপে আছে।
রাত ২টায়, সারাদিনের ক্লান্তির পর আবার বাচ্চাকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে ঝগড়া শুরু হলে তখনই সব সমস্যার সমাধান করতে যাবেন না। সহজ করে বলুন, “আমরা দুজনেই খুব ক্লান্ত। কাল একটু শান্ত হয়ে কথা বলি।”
অনেক দম্পতির কাছেই বাচ্চা পর ঘরবাড়ি সম্পর্ক এমন হয়ে যায় যে তারা যেন একই বাড়ির দুই সহবাসী। রান্নাঘরে দেখা হয়, কথা হয় দুধ খাওয়ানো, ঘুম, বিল, বাজার আর কাপড় ধোয়া নিয়ে। দায়িত্ব ভাগ করে কাজও হয়, কিন্তু প্রেমের সঙ্গী হিসেবে দূরত্ব তৈরি হয়।
এটা কষ্টের, বিশেষ করে যখন আগের হাসি-ঠাট্টা আর সহজ সময়গুলোর কথা মনে পড়ে।
তবু এই সময়টা স্থায়ী হওয়ার কথা নয়। সম্পর্কের উষ্ণতা অনেক সময় বড় কোনো আয়োজন থেকে নয়, বরং ছোট ছোট নিয়মিত মুহূর্ত থেকে ফিরে আসে।
সন্তান পর রাগ এবং রিসেন্টমেন্ট শুরুতে খুব জোরে প্রকাশ পায় না। মনের মধ্যে এমন কিছু কথা ঘুরতে পারে:
এই অনুভূতিগুলো অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দীর্ঘদিন না বললে এগুলো শক্ত ক্ষোভে পরিণত হয়। আপনার সঙ্গী এমন প্রয়োজনের উত্তর দিতে পারবেন না, যার কথা তিনি জানেনই না। আবার আপনাকেও সব হতাশা একা বয়ে বেড়াতে হবে না।
প্রসব-পরবর্তী সময়ে ভালো যোগাযোগের অর্থ এই নয় যে কখনও মতবিরোধ হবে না। বরং মতভেদ হলেও কীভাবে কম আঘাত দিয়ে কথা বলা যায় এবং পরে আবার কাছে আসা যায়, সেটাই শেখা দরকার।
প্রতিদিন কথা বলার জন্য মোমবাতি জ্বালিয়ে এক ঘণ্টা নিরিবিলি সময় সব নতুন বাবা-মা পান না। পাঁচ মিনিটই যথেষ্ট হতে পারে।
একে অন্যকে জিজ্ঞেস করুন:
চা বানানোর সময়, শিশুকে প্র্যামে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়ে বা বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়ার পরে কথা বলতে পারেন। লক্ষ্য নিখুঁত আলোচনা নয়। লক্ষ্য হলো, দুজনের ভেতরের অবস্থাটা জানা।
চাপে থাকলে বলা সহজ, “তুমি কখনও সাহায্য করো না” বা “তোমার কোনো খেয়ালই নেই।” কিন্তু এ ধরনের কথা শুনে অন্যজন সাধারণত আত্মরক্ষামূলক হয়ে পড়েন, আসল সমস্যাটি থাকলেও।
তার বদলে নিজের অভিজ্ঞতাটা বলুন:
এতে সত্য লুকিয়ে ফেলার কথা বলা হচ্ছে না। বরং এমনভাবে বলা, যাতে আপনার সঙ্গী আক্রমণ মনে না করে কথাটা শুনতে পারেন। এটাই কার্যকর বাচ্চা পর যোগাযোগ কৌশল।
দুজনেই যখন দিন পার করার জন্য ন্যূনতম কাজগুলো করছেন, তখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে অস্বস্তি বা অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। তবু বলুন।
“বাসনগুলো ধুয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”
“আজ রাতে বাচ্চাকে সামলানোর জন্য ধন্যবাদ।”
“দেখলাম তুমি কাপড়গুলো গুছিয়ে রেখেছ।”
“গোসল করানোর সময় তুমি খুব ধৈর্য ধরেছ।”
ছোট স্বীকৃতিও ঘরের আবহ বদলে দিতে পারে। মানুষ যখন নিজের চেষ্টাকে দেখা হচ্ছে বলে অনুভব করেন, তখন তিনি আরও আন্তরিকভাবে পাশে থাকতে পারেন। দুজনেরই এই স্বীকৃতি প্রাপ্য।
সপ্তাহে মাত্র ১৫ মিনিটের আলোচনা অনেক খুঁটিনাটি বিরক্তি জমতে দেয় না। সময় বেঁধে রাখুন, শান্তভাবে কথা বলুন। মঙ্গলবার রাতের কষ্টের ঝগড়া আবার টেনে আনার জায়গা এটি নয়।
১৫ মিনিটে এসব নিয়ে কথা বলুন:
এটিকে হিসাব মেলানোর কাজ ভাববেন না। ঘর ও সন্তানকে একসঙ্গে সামলানোর পরিকল্পনা ভাবুন। সব সময় এমন না লাগলেও, আপনারা একই দলের মানুষ।
শিশুর দায়িত্ব ভাগ করার ক্ষেত্রে সমান মানেই একরকম নয়। যেমন, মা যদি বুকের দুধ খাওয়ান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সময় বেশি লাগতে পারে। তবে অন্যজন শিশুর ঢেকুর তোলানো, ডায়াপার বদলানো, ঘুম পাড়ানো, পাম্পের যন্ত্রাংশ ধোয়া, পানি ও খাবার এগিয়ে দেওয়া বা ভোরের দায়িত্ব নিতে পারেন।
লক্ষ্য কোনো নিখুঁত তালিকা বানানো নয়। দুজনের সময়, বিশ্রাম ও সুস্থতা যে সমান মূল্যবান, সেই অনুভূতি তৈরি করাই আসল।
একসঙ্গে বসে সব কাজ লিখুন। শুধু চোখে দেখা কাজ নয়।
তালিকায় রাখতে পারেন:
পুরো তালিকাটি দেখলে অনেকেরই চমক লাগে। অস্পষ্ট বিরক্তি তখন বাস্তব সমস্যায় রূপ নেয়, যার সমাধান করা সম্ভব।
হয়তো একজন রান্না ভালোবাসেন, অন্যজন কাগজপত্র বা অনলাইন বিলের কাজ ভালো পারেন। সেটি কাজে লাগান। কিন্তু “আমি এসব পারি না” যেন অপছন্দের কাজ থেকে সারাজীবনের ছাড়পত্র না হয়ে যায়।
যদি একজনকেই সব সময় বমি লাগা চাদর ধুতে হয়, ভোর ৪টার কান্না সামলাতে হয় বা ডাক্তার দেখানোর সব প্রশাসনিক কাজ করতে হয়, তাহলে ক্ষোভ জমবেই। অপছন্দের কাজগুলো পালা করে করুন। কঠিন অংশগুলোও ভাগাভাগি করুন।
ন্যায্য অদৃশ্য শ্রম বিভাজন মানে প্রত্যেকে কিছু কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের দায়িত্বে নেবেন। শুধু “আমাকে বলে দাও কী করব” নয়, বরং “এটি আমি দেখছি।” কখন কাজটি করার সময় হয়েছে, সেটিও খেয়াল রাখার দায়িত্বের অংশ।
ডেট নাইট ভালো লাগতেই পারে, যদি শিশুকে দেখার কেউ থাকে, শরীরে শক্তি থাকে, খরচের সামর্থ্য থাকে এবং বাচ্চাও সহযোগিতা করে। কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতা শুধু মাসে একবার বাইরে যাওয়ার ওপর নির্ভর করতে পারে না।
ছোট ছোট মুহূর্ত খুঁজুন।
এসব খুব ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু তা নয়। এগুলো মনে করিয়ে দেয় যে আপনারা শুধু একটি শিশুর দায়িত্ব ভাগ করা দুই মানুষ নন।
সন্তান পরে সংযোগ বজায় রাখার উপায় খুঁজলে এখান থেকেই শুরু করুন। কোনো চাপ নয়, নিখুঁত পরিকল্পনাও নয়। অল্প একটু উষ্ণতা দিয়ে শুরু করুন।
অনেক নতুন মা ছয় সপ্তাহের প্রসব-পরবর্তী চেকআপের কথা শুনে ভাবেন, এরপর থেকেই যৌনসম্পর্কে ফিরতে হবে। আসলে তা নয়। চিকিৎসক বললে শরীরের ক্ষত সেরে উঠছে বোঝাতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি এখনই যৌনমিলন, যৌন ইচ্ছা বা যেকোনো ধরনের ঘনিষ্ঠতার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।
সন্তান জন্মের পর যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়ার অনেক স্বাভাবিক কারণ আছে:
সঙ্গীরও দ্বিধা থাকতে পারে। তিনি হয়তো প্রত্যাখ্যাত বোধ করছেন, আপনাকে কষ্ট দেওয়ার ভয় পাচ্ছেন বা মানসিক দূরত্ব অনুভব করছেন। দুজনের অনুভূতিকেই যত্নের সঙ্গে জায়গা দিতে হবে।
শুরু করুন এমন শারীরিক স্নেহ দিয়ে, যার সঙ্গে কোনো প্রত্যাশা জুড়ে নেই। হাত ধরুন, জড়িয়ে বসুন, কয়েক সেকেন্ড বেশি সময় নিয়ে চুমু খান। কাঁধে হাত বুলিয়ে দেওয়া শুধু কাঁধে হাত বুলিয়ে দেওয়াই থাকুক। প্রতিটি স্পর্শকে যদি যৌনতার দিকে যেতে হয়, তাহলে স্পর্শও চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
খোলাখুলি কথা বলুন, অস্বস্তি হলেও। বলতে পারেন, “তোমার কাছাকাছি থাকতে চাই, কিন্তু আমাকে ধীরে এগোতে হবে” অথবা “আমি আদর চাই, তবে যেন সেটা অন্য কিছুর বাধ্যবাধকতা না হয়।” এই সততাই নিরাপদ অনুভূতি তৈরি করে।
যৌনমিলনে ব্যথা হলে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলুন। প্রসবের পরে ব্যথা হতে পারে, কিন্তু নীরবে সহ্য করতেই হবে এমন নয়।
সব দম্পতির জীবনেই কঠিন সময় আসে। কিন্তু কিছু লক্ষণ বলছে, সাপ্তাহিক আলোচনা বা কাজের তালিকার বাইরে আরও সহায়তা দরকার হতে পারে।
নিচের বিষয়গুলো থাকলে দম্পতি কাউন্সেলিং বিবেচনা করতে পারেন:
কাউন্সেলিং ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। ছোট ফাটল বড় ক্ষতি হওয়ার আগে মেরামতের মতোই এটি সহায়তা নেওয়া। একজন প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর পুরোনো ঝগড়ার চক্রে না ঘুরে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে সাহায্য করতে পারেন।
আর নতুন মা বা বাবা - যেকোনো একজনের যদি তীব্র মন খারাপ, বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত ভয়ংকর চিন্তা, প্যানিক, নিজেকে আঘাত করার চিন্তা বা শিশুকে নিয়ে নিরাপত্তার আশঙ্কা হয়, তাহলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, কাউন্সেলর বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন। বাংলাদেশে জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে সহায়তা চাওয়া যায়।
আপনাদের সম্পর্ক এখন আগের মতো দেখাবে না, সেটাই স্বাভাবিক। আপনারা দুজনেই বদলেছেন, আর ছোট্ট একজন মানুষ এমনভাবে আপনাদের সময় ও শক্তি চাইছে, যা আগে কল্পনাও করা কঠিন ছিল। তবু পোস্টপার্টাম সম্পর্ক সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব - আন্তরিক কথা, দায়িত্বের ন্যায্য ভাগ, চাপহীন স্নেহ এবং প্রতিদিন ছোট ছোটভাবে একে অন্যকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে।
কোনো দিন হয়তো লম্বা করে কথা বলবেন। কোনো দিন শুধু না বলতেই সঙ্গীর পাশে এক কাপ গরম চা রেখে দেবেন।
সেটাও ভালোবাসারই প্রকাশ।