শিশুর নাক বন্ধ হলে কী করবেন - কারণ, ঘরোয়া যত্ন ও কখন ডাক্তার দেখাবেন

শিশুর নাক বন্ধ: কারণ, করণীয় ও নিরাপদ চিকিৎসা নির্দেশনা

শিশুর নাক থেকে সামান্য শব্দ হলেই অনেক সময় মনে হয় বুঝি খুব বেশি নাক বন্ধ হয়ে গেছে। নাক টানা, ফোঁসফোঁস শব্দ বা ঘুমের মধ্যে জোরে শ্বাস নেওয়া জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে বেশ স্বাভাবিক, বিশেষ করে দুধ খাওয়ার সময় বা রাতে। তবে নতুন বাবা-মায়ের কাছে শিশুর অস্বস্তি অবশ্যই দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। স্বস্তির কথা হলো, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুর নাক বন্ধ হওয়া সাময়িক, হালকা এবং ঘরেই নিরাপদভাবে সামলানো যায়।

শিশুর নাক বন্ধ: কারণ ও করণীয়

কেন শিশুদের নাক এত সহজে বন্ধ হয়ে যায়

আপনার মনে হতে পারে, “আমার শিশুর নাক সব সময় ভরাট ভরাট লাগে কেন?” এর বড় কারণ তাদের নাকের পথ খুবই সরু হওয়া।

শিশুর নাকের ভেতরে সামান্য শুকনো মিউকাস, শুষ্ক বাতাসের কারণে হালকা ফোলা, এমনকি দুধ খাওয়ার পর গড়িয়ে আসা অল্প দুধও নাক বন্ধের মতো শব্দ তৈরি করতে পারে। বড়রা নাক ঝেড়ে সহজে মিউকাস বের করতে পারেন, কিন্তু শিশুরা তা পারে না। তাই শিশুর নাক পরিষ্কার করার উপায় জানতে হয় অভিভাবককেই।

জীবনের প্রথম কয়েক মাস শিশু মূলত নাক দিয়েই শ্বাস নেয়। দুধ খাওয়ার সময় এটি সুবিধাজনক, কারণ তারা একই সঙ্গে চুষতে ও শ্বাস নিতে পারে। কিন্তু এ কারণেই সামান্য শিশুর নাক বন্ধ থাকলেও দুধ খাওয়াতে কষ্ট হতে পারে, আর ঘুমের মধ্যে শ্বাসের শব্দ বেশি শোনা যায়।

রাতে শিশুর নাক বন্ধের শব্দ আরও বেশি মনে হতে পারে। চিৎ হয়ে শোয়ার সময় নাক ও গলার পেছনে মিউকাস জমে থাকলে ফোঁসফোঁস শব্দ বাড়ে। তবে শব্দের ফাঁকে শিশু স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারলে, দুধ খেলে এবং স্বাভাবিকভাবে জেগে উঠলে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

শিশুর নাক ভরাট হওয়ার সাধারণ কারণ

১. নবজাতকের স্বাভাবিক নাক বন্ধ ভাব

নবজাতকের নাক বন্ধ মনে হওয়া অনেক সময় একেবারেই স্বাভাবিক। জন্মের পর প্রথম কয়েক দিন বা সপ্তাহে শ্বাসনালিতে অ্যামনিওটিক তরল ও মিউকাসের সামান্য অংশ থেকে যেতে পারে। আর নবজাতকের নাক এতটাই ছোট যে অল্প মিউকাসও অনেক বেশি শব্দ করে।

এ সময় আপনি শুনতে পারেন:

  • নাক দিয়ে ঘড়ঘড় বা ফোঁসফোঁস শব্দ
  • ঘুমের মধ্যে হালকা নাক টানা
  • দুধ খাওয়ার সময় জোরে শ্বাসের শব্দ
  • নাক বন্ধের মতো আওয়াজ, কিন্তু বাইরে কোনো মিউকাস দেখা যাচ্ছে না

এ ধরনের সমস্যা সাধারণত নিজে থেকেই কমে যায়। শিশু ঠিকমতো দুধ খেলে, নিয়মিত প্রস্রাব করলে, স্বাভাবিকভাবে ঘুমালে এবং খুব অস্বস্তিতে না থাকলে প্রতিটি নাক টানার শব্দের জন্য আলাদা চিকিৎসা দরকার হয় না।

তাই নবজাতকের নাক বন্ধ থাকা কি স্বাভাবিক? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, হ্যাঁ।

২. শুকনো বাতাস

শীতকালে ঘরের হিটার, এসি বা সারাক্ষণ বন্ধ জানালার ঘর শিশুর নাক শুকিয়ে দিতে পারে। শিশুর নাক শুকনো বাতাসের সংস্পর্শে এলে ভেতরের মিউকাস ঘন হয়ে যায়, শুকিয়ে খোসার মতো জমে এবং বের হতে কষ্ট হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নাক শুকনো বা জমাট মিউকাসে ভরা দেখাতে পারে।

ঘর খুব শুষ্ক হলে শিশুর ঘরে কুল-মিস্ট হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। গরম বাষ্পের যন্ত্র ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এতে গরম পানিতে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঘরের আর্দ্রতা সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে থাকলে আরামদায়ক হয়। চাইলে ছোট হিউমিডিটি মিটার ব্যবহার করতে পারেন, তবে সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার প্রয়োজন নেই।

হিউমিডিফায়ার প্রতিদিন খালি করে শুকাতে দিন এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিষ্কার করুন। অপরিষ্কার যন্ত্রে ছত্রাক বা জীবাণু জন্মাতে পারে, যা শিশুর জন্য উল্টো ক্ষতিকর।

৩. আশপাশের উত্তেজক উপাদান

শিশুর নাক খুব সংবেদনশীল। ঘরের ধুলো, পশুর লোম, সিগারেটের ধোঁয়া, ভেপের ধোঁয়া, মশার স্প্রে, এয়ার ফ্রেশনার, সুগন্ধি মোমবাতি, পরিষ্কারক দ্রব্যের গন্ধ কিংবা তীব্র পারফিউমে নাক বন্ধের সমস্যা বাড়তে পারে।

কিছু সহজ অভ্যাস কাজে দেয়:

  • শিশুর কাছাকাছি বা ঘরের ভেতর ধূমপান ও ভেপিং সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন।
  • শিশুর ঘর নিয়মিত ঝাড়ু, মোছা ও ধুলো পরিষ্কার করুন।
  • বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে বিছানার চাদর ও কভার ঘন ঘন ধুয়ে দিন।
  • সুগন্ধি মোমবাতি, রুম স্প্রে ও ডিফিউজার এড়িয়ে চলুন।
  • সম্ভব হলে সুগন্ধিবিহীন কাপড় ধোয়ার পণ্য ব্যবহার করুন।
  • শিশুর সামনে ডিওডোরেন্ট, পারফিউম বা ড্রাই শ্যাম্পু স্প্রে করবেন না।

কখনও কখনও সমাধান খুবই সহজ হয়। সন্ধ্যার পর রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করার কারণেও কোনো কোনো শিশুর নাক প্রতিদিন ভরাট লাগতে পারে।

৪. ভাইরাসজনিত সর্দি

সাধারণ সর্দি শিশুর নাক বন্ধ হওয়ার অন্যতম পরিচিত কারণ। জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির সুরক্ষা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। পরিবারের অন্য শিশু, অতিথি বা বাইরে যাতায়াতের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে।

সর্দি হলে নাক বন্ধের সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে:

  • প্রথমে স্বচ্ছ ও পাতলা নাকের পানি
  • ঘন ঘন হাঁচি
  • হালকা জ্বর
  • বিরক্তি বা কোলে থাকতে চাওয়া
  • ঘুমে ব্যাঘাত
  • অল্প অল্প করে বারবার দুধ খাওয়া
  • গলার পেছনে মিউকাস নামার কারণে হালকা কাশি

সাধারণ ভাইরাল সর্দি বেশির ভাগ সময় ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। এ সময় লক্ষ্য থাকবে শিশুকে আরাম দেওয়া, পর্যাপ্ত দুধ খাওয়ানো এবং পানিশূন্যতা ঠেকানো। ভাইরাসজনিত সর্দিতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।

৫. টিকা নেওয়ার পর হালকা নাক বন্ধ ভাব

নিয়মিত টিকা দেওয়ার পর কিছু শিশুর সামান্য নাক বন্ধ বা সর্দির মতো অনুভূতি হতে পারে। শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে একটু ঘুমঘুম ভাব, খিটখিটে মেজাজ বা হালকা জ্বরও দেখা দিতে পারে।

এ ধরনের উপসর্গ সাধারণত ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে কমে যায়। শিশুকে বারবার দুধ দিন, আরামদায়ক পোশাক পরান এবং জ্বর বা ব্যথার বিষয়ে টিকা কেন্দ্র, শিশু বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

লক্ষণ তীব্র মনে হলে, নির্ধারিত সময়ের বেশি থাকলে বা কোনো বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

ঘরে শিশুর নাক বন্ধ হলে কী করবেন

শিশুর নাক বন্ধ হলে কি করব - এই প্রশ্নে অনেকেই নানা ওষুধ বা ঘরোয়া উপায় খোঁজেন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জটিল কিছু দরকার হয় না। স্যালাইন, অল্প আর্দ্রতা, প্রয়োজনমতো মিউকাস পরিষ্কার করা এবং বারবার দুধ খাওয়ানোই যথেষ্ট।

স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করুন

শিশুর জন্য তৈরি জীবাণুমুক্ত লবণ-পানির স্যালাইন ড্রপ শুকনো মিউকাস নরম করতে সাহায্য করে। এটি শিশুর নাক বন্ধ চিকিৎসার সবচেয়ে নিরাপদ প্রাথমিক উপায়গুলোর একটি এবং নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া বা দুধ খাওয়াও সহজ করে।

ব্যবহারের নিয়ম:

  1. শিশুকে চিৎ করে শুইয়ে মাথা সামান্য এক পাশে ফেরান।
  2. উপরের দিকের নাকে ১ থেকে ২ ফোঁটা স্যালাইন দিন।
  3. কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
  4. মাথা অন্য পাশে ঘুরিয়ে অন্য নাকেও একইভাবে দিন।
  5. মিউকাস স্বাভাবিকভাবে বের হতে দিন, প্রয়োজন হলে খুব আলতোভাবে সাকশন করুন।

দিনে ২ থেকে ৩ বার স্যালাইন ব্যবহার করা যায়। নাক বন্ধের কারণে দুধ খেতে কষ্ট হলে খাওয়ানোর আগে ব্যবহার করা সুবিধাজনক। রাতে নাক বন্ধ থাকলে ঘুমের আগে স্যালাইনেও কিছুটা আরাম মিলতে পারে।

ড্রপারের মুখ নাকের গভীরে ঢোকাবেন না। নাকের মুখে আলতোভাবে ধরলেই যথেষ্ট।

ন্যাজাল অ্যাসপিরেটর বা বাল্ব সিরিঞ্জ ব্যবহার করুন

স্যালাইন দেওয়ার পর নরম হওয়া শিশুর নাক থেকে মিউকাস বের করতে ন্যাজাল অ্যাসপিরেটর বা বাল্ব সিরিঞ্জ ব্যবহার করা যায়। যন্ত্রটি কাজে দেয়, তবে খুব নরম হাতে ব্যবহার করতে হবে।

বাল্ব সিরিঞ্জ দিয়ে শিশুর নাক পরিষ্কার করার নিয়ম:

  1. নাকের কাছে ধরার আগেই বাল্বটি চেপে বাতাস বের করে নিন।
  2. নাকের ছিদ্রের মুখে আলতোভাবে রাখুন, ভেতরে ঢোকাবেন না।
  3. ধীরে ধীরে চাপ ছেড়ে দিন, যাতে মিউকাস টেনে নেয়।
  4. সিরিঞ্জ সরিয়ে টিস্যুতে মিউকাস বের করুন।
  5. ব্যবহারের পর যন্ত্রটি ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।

অতিরিক্ত সাকশন নাকের ভেতরের নরম পর্দায় জ্বালা ও ফোলা বাড়িয়ে দিতে পারে। দিনে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ বার, তাও শুধু নাকের মিউকাস দুধ খাওয়া বা শ্বাস নিতে সত্যিই বাধা দিলে ব্যবহার করুন।

প্রতিটি ফোঁসফোঁস শব্দের জন্য সাকশন করা দরকার নেই।

বাষ্পভরা বাথরুমে কিছুক্ষণ বসুন

ঘন ও শক্ত মিউকাস থাকলে হালকা উষ্ণ বাষ্প কিছুটা উপকার করতে পারে। বাথরুমের দরজা বন্ধ রেখে গরম পানির শাওয়ার চালান। এরপর শিশুকে সম্পূর্ণ পোশাক পরানো অবস্থায় কোলে নিয়ে প্রায় ১০ মিনিট বাষ্পভরা ঘরে বসতে পারেন।

শিশুকে গরম পানির কাছে, শাওয়ারের নিচে বা সরাসরি বাষ্পের সামনে নেবেন না। ঘরটি আরামদায়ক উষ্ণ থাকবে, দমবন্ধ গরম নয়। আপনার গরম বেশি লাগলে শিশুরও অস্বস্তি লাগছে ধরে নিন।

খাওয়ানোর আগে বা ঘুমের আগে, যখন সাকশন যন্ত্র বেশি ব্যবহার না করে নাকের আরাম দিতে চান, তখন এই পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে।

ঘুমের জায়গা নিরাপদ ও সমতল রাখুন

নাক বন্ধ হলে শিশুকে মাথা উঁচু করে শোয়ানোর ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু শিশুর খাট, দোলনা বা বিছানার গদি ঢালু করা নিরাপদ নয়। ঘুমের সময় শিশুকে সব সময় শক্ত, সমতল এবং ফাঁকা বিছানায় চিৎ করে শোয়ান।

বালিশ, তোয়ালে, ওয়েজ, নরম খেলনা বা ভাঁজ করা কম্বল দিয়ে মাথা উঁচু করবেন না। এগুলো শ্বাসরোধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নাক বন্ধের সময় শিশুকে কোলে নিয়ে কিছুক্ষণ সোজা করে রাখলে আরাম পেতে পারে, কিন্তু ঘুমের জন্য তাকে সমতল বিছানাতেই শুইয়ে দিন।

বারবার বুকের দুধ দিন

শিশুর সর্দি বা নাক বন্ধ থাকলে বুকের দুধ খুব উপকারী। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় তরল ও রোগপ্রতিরোধী উপাদান থাকে। কোলে আধা-সোজা ভঙ্গিতে দুধ খাওয়ালে মিউকাস নিচে নামতেও কিছুটা সুবিধা হতে পারে।

নাক বন্ধ থাকলে একই সঙ্গে শ্বাস নেওয়া ও দুধ টানা কষ্টকর হয়। তাই শিশু অল্প সময় করে দুধ খেতে পারে। এতে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। বারবার দুধ অফার করুন, মাঝখানে বিরতি দিন এবং নাক বেশি বন্ধ থাকলে খাওয়ানোর আগে স্যালাইন ব্যবহার করুন।

ফর্মুলা বা বোতলে দুধ খাওয়া শিশুকেও অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ান। প্রস্রাবের ডায়াপারের সংখ্যা খেয়াল রাখুন, কারণ এটি শিশুর পর্যাপ্ত তরল পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

শিশুর নাক বন্ধে যা করবেন না

শিশুর নাক ভরাট শুনলে বড়দের সর্দির ওষুধ বা পরিচিত ঘরোয়া উপায় প্রয়োগ করার ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু ছোট শিশুর ক্ষেত্রে এসবের অনেকটাই অনিরাপদ।

ব্যবহার করবেন না:

  • মেনথল, ইউক্যালিপটাস বাম, এসেনশিয়াল অয়েল বা ভ্যাপার রাব। এগুলো শিশুর সংবেদনশীল শ্বাসনালিতে জ্বালা করতে পারে।
  • বড়দের বা বড় শিশুদের জন্য তৈরি নাক খোলার ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে। চিকিৎসক বিশেষভাবে না বললে এগুলো শিশুর জন্য নয়।
  • নাকের ভেতরে কটন বাড। এতে মিউকাস আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে, নাকের ভেতর আঁচড় লাগতে বা রক্তপাত হতে পারে।
  • বারবার বা জোরে নাক সাকশন করা।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কাশি-সর্দির সিরাপ বা দোকান থেকে কেনা ওষুধ।

সাধারণ স্যালাইন, পরিষ্কার বাতাস এবং ধৈর্যই বেশির ভাগ সময় সবচেয়ে নিরাপদ সহায়তা।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন

বেশির ভাগ সময় নাক বন্ধ নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে শিশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, তাই অভিভাবকের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিন। নিচের যেকোনো শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাস সমস্যা দেখা গেলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন:

  • শ্বাস নেওয়ার সময় নাকের পাখা ফুলে ওঠা
  • শ্বাসের সঙ্গে পাঁজরের ফাঁক বা পাঁজরের নিচের চামড়া ভেতরে ঢুকে যাওয়া
  • খুব দ্রুত শ্বাস, গোঁ গোঁ শব্দ, বা প্রতিটি শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • ঠোঁট বা ত্বক নীলচে, ধূসর বা অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
  • শ্বাসের মধ্যে বিরতি পড়া

শিশু দুধ একেবারেই না খেলে, স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম প্রস্রাব করলে, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম থাকলে বা জাগাতে কষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর ৩৮° সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশে শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, নীলচে হয়ে গেলে বা খুব অসুস্থ মনে হলে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করুন অথবা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।

নাক বন্ধ ১০ দিনের বেশি থাকলে, কিছুদিন ভালো হওয়ার পর আবার বেড়ে গেলে, অথবা ঘন সবুজ মিউকাসের সঙ্গে অন্য উপসর্গ চলতে থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখান। শুধু সবুজ মিউকাস মানেই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নয়, তবে দীর্ঘদিনের সমস্যা পরীক্ষা করানো ভালো।

রাত ৩টায় শিশুর নাকের শব্দ যে কাউকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে। তবু যত্নটা সহজ রাখুন: স্যালাইন দিন, ঘরের বাতাস পরিষ্কার ও আরামদায়ক রাখুন, প্রয়োজন ছাড়া সাকশন করবেন না এবং শিশুকে বারবার দুধ খাওয়ান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কয়েক দিনের মধ্যে আপনার ছোট্ট শিশুটি আবার আগের মতোই শান্ত ঘুমে ফিরবে।


এই বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং এটি আপনার ডাক্তার, শিশু বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের পরামর্শের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে আপনাকে একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
আমরা, Erby অ্যাপের ডেভেলপাররা, এই তথ্যের ভিত্তিতে আপনার নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কোনো দায়িত্ব স্বীকার করি না, যা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

Erby — নবজাতক ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য বেবি ট্র্যাকার

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।
Erby

Erby

বুকের দুধ খাওয়ানো, পাম্পিং, ঘুম, ডায়াপার এবং বিকাশের মাইলফলক ট্র্যাক করুন।